অপেক্ষায় কাটানো কিছুটা সময়...
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
বোনের বিয়ের দিন যখন ওরা রেজিস্ট্রি করতে চলে গিয়েছিল ।তখন আমি, মা ,বড় মামা, বড় মামার মেয়ে, ছোট বোন আরো বেশ কয়েকজন রেজিস্ট্রার এর বাড়িতে যায়নি। মন্দিরের সামনেই বাজারের মধ্যে অপেক্ষা করছিলাম। তখন আশেপাশে সমস্ত দোকান বন্ধ। তাই আশেপাশে বাজারের চারিদিকে ঘুরে দেখছিলাম। ইতিমধ্যেই বাচ্চাগুলোর সকলের খিদে পেয়ে গিয়েছিল। কারণ সেই দুপুর বেলায় বাড়ি থেকে খেয়ে বেরোনো হয়েছিল। তারপরে অনেকটা সময় কেটে গিয়েছিল। আসলে রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে অনেক সই স্বাক্ষরের ব্যাপার থাকে। এছাড়াও শুধু যে বোনের বিয়ে হচ্ছিল এমনটা নয়। আরো অনেকেই ছিল রেজিস্ট্রি করার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম যাব হয়তো সাথে সাথেই সবকিছু হয়ে যাবে। এই ভেবে আমাদের যাওয়া।
দুপুরবেলায় সমস্ত দোকান পাট চুকিয়ে বাজারের মানুষ জন দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে গেছে।এদিকে বর বাচ্চাগুলোকে নিয়ে গিয়ে পাশের মিষ্টির দোকানে নিয়ে গিয়ে আইসক্রিম কোল্ডড্রিংকস এইসব কিছু খাওয়ানো হয়েছিল। এসব কিছু খেয়ে কি আর পেট ভরে। আশেপাশে কোন ভাতের হোটেল ছিল না ।খানিকক্ষণ পর আবার ওদের কিছু বিস্কুটের প্যাকেট কিনে দেওয়া হয়েছিল ।আর বড়দের জন্য চা নিয়ে আসা হলো। বেশ খানিকটা খেয়ে আবারও দাঁড়িয়েই ছিলাম। আর সকলে মিলে বিভিন্ন রকমের গল্প আর নিজেরই রাগ প্রকাশ করছিলাম। এই করতে করতে আরো অনেকটা সময় কেটে গিয়েছিল। এদিকে ওখানে তেমন কোন বসার জায়গাও ছিল না। প্রচন্ড রোদ গরমে মাথা যন্ত্রণা শুরু হয়ে গিয়েছিল।তাই দোকানের সামনে সকলে মিলে বসে ছিলাম ।বিকেলের দিকে দোকানটা যখন খুলেছিল তখন দেখলাম ওই দোকানেও অনেক কিছু খাবার পাওয়া যাচ্ছিল।আগে দোকান থেকে জল নিয়ে চোখে মুখে দিয়ে খানিকক্ষণ স্বস্তি পেয়েছিলাম।
ওই দোকানটিও খোলার সাথে সাথে প্রচুর লোকের ভিড় হয়ে যাচ্ছিল ।আসলে বাজারের মধ্যে সমস্ত দোকান। বিকেলবেলার দিকে বয়স্ক মানুষ বাজারে চা খেতে ঘুরতে কিংবা গল্প করতে সময় কাটাতে আসে।ওই সময় টা ওদের আড্ডা মেরে সময় কাটায়।ভাবলাম দোকানে লোক গুলো হয়তো আমাদের উঠে যেতে বলবে। কিন্তু না ওরা তেমন কিছু বলিনি। দোকান খোলা মাত্রই বর সকলকেই একগ্লাস করে দই কিনে খাওয়ালো। আমি দই খেতে পছন্দ করি না। তাই আমি দই খাইনি। সকলে মিলে খেয়ে আবারো খানিকক্ষণ বসে ছিল। আর বারবার ফোন করা হচ্ছিল কখন রেজিস্ট্রি সেরে ফিরবে। ওরা বলছিল এই দশ মিনিট কুড়ি মিনিট বলে কাটিয়ে দিচ্ছিল।এই করতে করতে সকলেই বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল ।কেউ বলছে না আসলেই হয়তো ভালো হতো। বিশেষ করে আমার বর তো বেশি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল । কারণ উনি তো বেশিরভাগ সময় বাড়িতে থাকলে সব সময় শুয়ে থাকতে পছন্দ করে।
এই করতে করতে অবশেষে বিকেল পাঁচটা কুড়ি নাগাদ ওরা ফিরে আসলো মন্দিরে । অবশেষে সেদিন অপেক্ষার অবসান ঘটে ছিল।এরপরে মন্দিরও কিছু কাগজপত্র সই-স্বাক্ষরের ব্যাপার থাকে আসলে সব জায়গাতেই সব নিয়ম মেনে তবেই বিয়ে হয়। অনেকেই বাড়ির অমতে পালিয়ে এসে বিয়ে করে। শেষে মন্দির কমিটিকে ধরে। তাই ওখানে আধার কার্ড জমা নিয়ে সই- স্বাক্ষর করে এরপর মন্দিরে সমস্ত জোগাড় শুরু হয়েছিল। এদিকে ঠাকুরমশাই ও নেই ।ঠাকুর মশায়ের উধাও। আরেকটি মন্দিরে ঠাকুর মশাই পুজো করতে পালিয়ে ছিল। সেদিন বেশি ছবি তোলা হয়নি তাই আগেকার দুটো ছবি আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
আজ এইখানেই শেষ করলাম ।আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। সকালে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
Thank you 🙏