ক্যাফে থেকে অভিমান করে ফিরে আসার মূহুর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলের ভালো লাগবে।
গতকালকে আপনাদের মাঝে বাপের বাড়িতে যাওয়ার সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছিলাম। বাপের বাড়িতে গিয়ে কোথাও কোথাও ঘুরতে যাব না এমনটা তো হতে পারে না ।এক দিন যাবার নাম করে সাত দিন থাকা হয়ে যায়।সাত দিন থাকার পরও সময় টা খুব অল্প মনে হয়। আসলে প্রত্যেকটা মেয়েদের ক্ষেত্রে বাপের বাড়ি থেকে ফেরার সময় এমনটাই মনে হয়। কিন্তু আমাদের কিছুই করার থাকে না। দিন শেষে আমাদের গন্তব্য স্থলে ফিরতে হবে।সব বোনেরা এক জায়গাতে হলে কোথাও না কোথাও আমরা বেরিয়ে পড়ি ঘোরার জন্য। আমার বর পৌঁছেছিল সন্ধ্যা বেলায়। তখন আমরা সকলে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলাম ।ওই মুহূর্তে ও পৌঁছে ছিল তাই আমার বোনেরা ওকে আর ছাড়েনি। চলো দাদা ভাই আমাদের নিয়ে ঘুরতে যাবে।ও তো শুনেই রাজি হয়ে গিয়েছিল। এদিকে আমাকে কখনো কিন্তু একা একা ঘুরতে নিয়ে যায় না।সকলকে দেখে ঘুরতে যাওয়ার নাম শুনে খুব সহজেই রাজি হয়ে গিয়েছিল। যাইহোক আমরা যখনই বেরোবো তখনই অল্প বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিল ।কিন্তু আকাশে ছিল ঘন কালো মেঘ। তাই আমরা বেরোতে সাহস পাচ্ছিলাম না।
এদিকে বৃষ্টি কমতে আমার ছোট বোনের বর সে জোর করেই বলেছিল চলো কোন অসুবিধা হবে না। ইচ্ছে ছিল কাছেই একটি ক্যাফেতে যাওয়ার ।যাই হোক অনেক জন মিলেই বেরিয়ে পড়েছিলাম ক্যাফেতে। খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম। ক্যাফেতে ঢুকেই সকলে যে যার মত ছবি তুলতে মত্ত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু খাবার যে অর্ডার দিতে হবে সেটা কারোর মনে ছিল না। এদিকে আমার বর বকাবকি করতে শুরু করে ছিল। খাবার অর্ডার দেওয়ার জন্য বর প্রথমেই সকলের জন্য স্ন্যাক্স অর্ডার করেছিল ।কিন্তু ওই ক্যাফেতে স্ন্যাক্স দিতে একেবারেই রাজি হয়নি। অনেক বার রিকোয়েস্ট করেছিলাম তাতে ও রাজি হননি। স্ন্যাক্স ছাড়া অন্যান্য খাবার ভালো লাগে না।তাই আমার বর স্ন্যাক্স না পেয়ে রেগে গিয়েছিল । সকলকে বলেছিল এই ক্যাপেতে খাব না অন্য ক্যাফেতে চলো।
অন্য ক্যাফে গুলি আমাদের গ্রাম থেকে অনেকটাই দূরে ।এদিকে যে ক্যাফেতে গিয়েছিলাম সেই ক্যাফের খাবারের দাম প্রচুর। আমাদের কৃষ্ণনগরের খাবারের তুলনায় অনেকটাই বেশি। যাইহোক টোটো করে কাছে আরেকটা ক্যাফেতে গিয়েছিলাম সেটাও বন্ধ। এই করে করে প্রায় দুটো থেকে তিনটি ক্যাফে বন্ধ হয়েছিল । জামাই ষষ্ঠীর দিনে এমন টা হবে ভাবতেই পারিনি।তখন কি করব সকলেই ভেবে পাচ্ছিল না
এদিকে সকলেই সাজুগুজু করেছে ক্যাফেতে যাবে খাবে ছবি তুলবে। কিন্তু কারো কোনো আশায় সাকসেসফুল হয়নি। সকলের একটু অভিমান হয়েছিল।তাই একটা আইসক্রিমের দোকানে দাঁড়িয়ে সকলে মিলে একটা করে আইসক্রিম খেয়ে নিয়েছিলাম। আর আমার বর , বোনের বর দুজনে মিলে চা খেয়ে নিয়েছিল।
সকলের আনন্দ সেদিনকে ভেস্তে গিয়েছিল বলে সকলের মনটা একটু খারাপই ছিল। যাইহোক আইসক্রিম খেয়ে একটু হলেও আনন্দ পেয়েছিল। তাই আবার তাড়াতাড়ি বাড়িও ফিরে আসতে পেরেছিলাম ।প্রথম দিন সকলে মিলে দাদাভাইয়ের সাথে ঘুরে বেড়াবে এই পরিকল্পনাই করেছিল ।কিন্তু ওদের প্ল্যান একেবারেই ভেস্তে গিয়েছিল। সকলে মিলে মিশে একসাথে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ একেবারে আলাদা। বোনেদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো যেন একেবারে অন্যরকম হয়। তবে কোনো ক্যাফে তে এমন টা হয় বলে আমার জানা নেই।মেনু কার্ডে স্ন্যাকস লেখা থাকার শর্তে দিতে রাজি হননি। আমার কাছে এই অভিজ্ঞতা এই প্রথমবার।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল । সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
Thank you 🙏
Thank you 🙏