"অভিমান যতটা গভীর "জন্মদিনের ভালোবাসা ঠিক ততটাই খাঁটি
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত দুদিন ধরে আপনাদের মাঝে জন্মদিনের মিষ্টি মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছিলাম। তবে আজকে জন্মদিনের একটু অন্য মুহূর্ত শেয়ার করে নেব। আপনারা হয়তো টাইটেল দেখে বুঝেই গেছে। জন্মদিনে আবার অভিমান। কিছু কিছু নিজের নিজের মানুষের সাথে অভিমান করাই যায়। কথাই বলে যারা অভিমানের ভাষা বোঝে তাদেরই কাছে অভিমান করা সাজে। আসলে ওরা আমার অভিমানের মূল্য দেয়। এ বছরে জন্মদিনটা একেবারেই অন্যরকম ভাবে কেটেছে। তিনদিন ধরে আমার জন্মদিন পালন করা হয়েছে। কোনোটা রাগ করে ,কোনটা অভিমান করে, কোনটা আবার ভালোবাসায় ভরা। তবে আমি তিনটে তেই খুব খুশি হয়েছিলাম।ওই তিন দিন ছিল আমার কাছে ভীষণ স্পেশাল। আসলে নিজের কাছের মানুষদের সাথেই রাগ ,অভিমান সমস্ত কিছুই করা যায়। এ বছরে মে মাস জুড়ে সকলেই ভীষণ ব্যস্ত ছিল।মানে আমার কাছের মানুষগুলো খুবই ব্যস্ত মানুষ। তাই আমার জন্মদিন একেবারেই ভুলে গিয়ে ছিল।
সকলের জন্মদিনের তারিখটা মনে রাখা সম্ভব নয়। তবুও আমি আমার কাছের মানুষদের জন্মদিনের তারিখটা ঠিকই মনে রাখি।শত ব্যস্ততার মাঝেও কখনো ভুলি না।যখন আমার কাছের মানুষগুলো আমার জন্মদিন ভুলে যায় তখন তো অভিমান হবে।আর আমি কাউকে জোর করে কিছু মনে করাতে চায় না।আমার ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই হয়েছিল। আপনারা সকলেই জানেন ঈশা আমার খুব কাছের একজন মানুষ। তার কাছে থেকে আমি একেবারে এইটা আশা করিনি।যার কাছে আমি আমার সমস্ত কিছু শেয়ার করি সেই মানুষটা যদি জন্মদিনের তারিখটা ভুলে যায় তাহলে কতটা পরিমাণে অভিমান হতে পারে সেটা আপনারাই বুঝবেন। যাইহোক দিদা আর আমার বরের তরফ থেকে জন্মদিন পালন করা হয়েছিল ।আমি কাউকে জানায়নি ।ভাবছিলাম কাউকে জানাবোও না ।কিন্তু সেদিন হঠাৎ করে মনে হয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপে স্টোরি দিয়।
প্রথমে ভেবেছিলাম এক মাস পরে দেব। কিন্তু জন্মদিন কেটে যাওয়ার তিনদিন পরেই যখন স্টোরি দিয়েছিলাম ।তখন আমার স্টোরি দেখে ওদের মাথায় হাত। স্টোরি দেখেই আমাকে রীতিমতো ফোন করতে থাকে ।আমি তখনই বুঝে নিয়েছিলাম যে ও আমার জন্মদিনের ব্যাপারটা জেনে গেছে। তাই আমি ফোন বন্ধ রেখে দিয়েছিলাম ।আমার ফোন বন্ধ পেয়ে তখন ছুটতে ছুটতে আমার বাড়িতে চলে এসেছিল। যাইহোক এসে নিজের ভুল স্বীকার করেছিল। যে ও নিজে ভীষণ ভুল করে ফেলেছে। এদিকে ওর মা ওকে ভীষণ বকাবকি করছিল ।আবার ওর যে বিশেষ বন্ধু সেও ওকে বকাঝকা করেছে। আমার বাড়িতে এসে বেশ খানিকক্ষণ বসে থেকে নিজের ভুল স্বীকার করে বাড়ি চলে গিয়েছিল।
এরপর রাতের বেলায় হঠাৎ আমাকে ফোন করে ওদের বাড়িতে ডেকেছিল। ওরা নিজেরা আমার জন্মদিনের জন্য ছোট্ট একটি আয়োজন করেছিল। আমি তো গিয়ে ভীষণ অবাক হয়েছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম চলে আসব। কিন্তু যখন কাছের মানুষরা ছোট্ট আয়োজন করে আমাকে আনন্দিত করতে চায় তখন ওদের সমস্ত কিছুতে আমি জল ঢেলে দিতে পারি না। তাই সকলে মিলে আবারো কেক কেটে জন্মদিন সেলিব্রেশন করেছিলাম। শেষে অভিমান ভেঙে কেক কেটে সেলিব্রেশন করে একটু আনন্দ পেয়েছিলাম। তবে এই প্রথমবার তিন দিন ধরে শুধু জন্মদিন উদযাপন হয়েছে। তবে এখন ও খাওয়া দাওয়া বাকি রয়েছে।
আজ এই পর্যন্তই ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।