চা মামা।☕
"নমস্কার বন্ধুরা!"
আশা করি সবাই ঈশ্বরের কৃপায় ভালো আছেন। আজকে আপনাদের মাঝে আমি আবারও নতুন একটি গল্প নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। চলুন আর বেশি দেরি না করে শুরু করে দেই.......
চা সবার কাছে প্রিয় হলেও আমার কাছে অতোটা পচ্ছন্দের না। তারপরও চায়ের দোকানে না গেলে সারাদিনটা যেন ভালো যায় না। চা ছাড়া আমাদের অনেকর দিনটাই শুরু হয় না। চা শুধু একটি শব্দ নয়, চা মানে কারো কারো কাছে ভালোবাসা। চা একটি আবেগ। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ৷ "EVERY TIME IS A TEA TIME"। চা ছাড়া আমাদের যেমন দিনের শুরু হয় না, ঠিক তেমনি চা ছাড়া আমাদের দিনও চলে না। নিত্যদিনের সবকিছুর ভিতর চা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেউ কেউ আছে যখন তাদের কোনো কিছুই ভালো লাগে না তখনও তারা চা খায়। আবার কোনো কিছু নিয়ে খুশি হলেও তারা চা খায়। চা যে সবাই শীতের সময় খায় এমনটা নয়। চা যে কোনো সময় খাওয়া যায়।
রাস্তার পাশে টঙ দোকানের চায়েরতো কোনো তুলনাই নেই। টঙ দোকানে যে শুধু চা পাওয়া যায় এমনটাও নয়। চায়ের দোকানে চায়ের সাথে সাথে পুরো দুনিয়ারও খবর পাওয়া যায়। হোক সে কোনো রাজনৈতিক খবর অথবা কোনো পাড়া মহল্লার খবর, সব খবরই পাওয়া যায় এই চায়ের দোকানে। কারোর কারোর ঘুম আসলেও চা খায় আবার ঘুম না আসলেও চা খায়৷ আমাদের সকালবেলা চা দিয়ে শুরু হলেও সেই টঙ দোকানের মামার মতো করে শুরু হয় না।
এখন আমরা সকালে উঠে হাতের কাছেই চা পেয়ে যাই তবে, চায়ের দোকানের মামা আমাদের সবার হাতে চায়ের কাপ তুলে দেয়। আমরা আমাদের সারাদিনের সব ক্লান্তি দূর করতে চায়ের দোকানে যাই। এককাপ কড়া লিকারের চা পাইলেই আমাদের সবার সারাদিনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। যাকে আজ অফিসের বস অনর্থক ঝাড় দিয়েছে আবার যাকে আজ রাস্তার কোনো বকাটে ছেলেটা কি বলেছে সেই সব কথাই আমরা খুব সহজেই চায়ের কাপের উপরে উঠা ধোয়ার সাথে উড়িয়ে দিতে পারি।
তবে সেই মামাকি পারে চায়ের সাথে তার সব ক্লান্তি দূর করতে। তার সকল ক্লান্তি তো সেই চাকেই ঘিরে। আমরা কি কখনোই চা মামার কথা ভেবেছি। বন্ধুদের সাথে আড্ডাটা যেভাবে মামার চায়ের দোকানে জমে সেভবে কিন্তু কোথাও জমানো সম্ভব না। বন্ধুদের সব গল্প সব ক্লান্তির অংশ যেমন এক কাপ চা ঠিক তেমন মামাও অংশীদার। বন্ধুদের আড্ডায় ঘটে যাওয়া সব রাগ-অভিমানের সাক্ষি চায়ের দোকানের মামা হলেও আমরা কয়জন খবর নেই চা মামার অভিমানের কথা।আমাদের মতো সেও তো পারতো আমাদের সাক্ষী করতে।
কিন্তু আমাদের কয় জনের কাছে আছে সময় আছে যে আমরা মামার সকল অভিমানের কথা শুনবো! আমরা সবাই নিজেদের কথা বলতেই ব্যস্ত। অন্যদের কথা শোনার কথা আমরা ভুলেই যাই। আমাদের সকল ক্লান্তি খুব সহজেই দূর করে দেওয়ার ক্ষমতা চায়ের দোকানের মামারই আছে একমাত্র। তবে আমাদের কি সেই ক্ষমতা আছে?
দেওয়া নেওয়াটা একপাক্ষিক হলে কি করে হয় বলুনতো! চায়ের দোকানের মামার খোজ রাখা আমাদেরও উচিত। তার কথা শোনার সময় এবং সক্ষমতাও রাখতে হবে আমাদের। সম্পর্কটা দুপক্ষের তরফ থেকে হলে বেশ সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠা সম্ভব। ভালো থাকুক আমাদের সকল ক্লান্তি দূর কার সকল মানুষ গুলো।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সত্যি অসাধারণ গল্প! চায়ের দোকানের মামার প্রতি ভালোবাসা এবং তার অবদান আমাদের অনেক সময় অনুধাবন করতে হয় না। আমরা যখন নিজেদের ক্লান্তি ও গল্প নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তখন মামার গল্প বা তার কষ্টের কথা শুনে নেওয়া প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। তারাও আমাদের মতোই একদম সাধারণ মানুষ, যারা মানুষের ক্লান্তি দূর করার জন্য নিজের কষ্টগুলো চেপে রাখে। আপনার গল্পটি আমাদের সম্পর্কের মানে এবং মানুষের প্রতি সহানুভূতির গুরুত্ব আবারো মনে করিয়ে দিয়েছে। খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
চা আমাদের সবারই কম বেশি পছন্দের একটি জিনিস। আমরা সময় পাইলেই চায়ের দোকানে চলে যাই আমাদের ক্লান্তি দূর করতে। আমরা আমাদের ক্লান্তি ঠিকই দূর করি কিন্তু ক্লান্তি দূর করতে যে লোকটার বেশি অবদান তার খোজ আমরা অনেকে রাখি না। সেই মানুষটির খোজ আমাদের সবার নেওয়া দরকার আমি মনে করি।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য। ভালো থাকবেন আপু আপনি।
যারা প্রতিনিয়ত চা খেয়ে থাকে তাদের কাছে চা খাওয়া একটা নেশা আপনারা বেশ কয়েকজন মিলে চা খাওয়ার জন্য দোকানে গিয়েছেন আসলে বন্ধুরা মিলে যখন চা খাওয়ার জন্য দোকানে যায় তখন নিজেদের গল্প আড্ডা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায় অন্যের অভিমান কিংবা অভিযোগ কোন কিছু শোনার মত সময় হয়ে ওঠে না অসংখ্য ধন্যবাদ চা খাওয়ার আনন্দঘন মুহূর্তটা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ভালো থাকবেন।
আপু আপনি ঠিক কথায় বলেছেন, চা অনেকের কাছে একটা আবেগের জায়গা। চা খাওয়াটা সত্যি একটা নেশার মতো। আর বন্ধুদের সাথে একসাথে চায়ের আড্ডা অনেক ভালোই লাগে। নিজেদের গল্প, আড্ডায় সবাই মেতে থাকে, কিন্তু তাদের জন্য যে মানুষটা এতো কষ্ট করে তার কথা আমারা কেউই ভাবি না।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য। ভালো থাকবেন আপু আপনি।
বাহ কত চমৎকারভাবে চা নিয়ে এত বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।। চা যেন আমাদের জীবনসঙ্গী ঘুম থেকে উঠে চা না খেলে যেন দিনটাই শুরু হয় না।। আপনার সাথে আমারও কিছুটা মিল আছে আমারও চা খুব বেশি পছন্দ না তারপরও চায়ের দোকানে গেলে খাওয়া হয় মাঝেমধ্যে।। খুবই ভালো লাগলো আপনার আজকের পোস্টটি পড়ে ভাল থাকবেন।।
দাদা আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার লেখাটি সম্পূর্ণ পড়ে এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য। আমাদের সবারই কমবেশি চা পছন্দের। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা চা না খেয়ে একটা মুহূর্ত কাটাতে পারে না। চাই যেন তাদের জন্য সবকিছু। কেউ খুশি হলে চা খায় আবার কেউ কষ্ট পেলেও চা খায় চা ছাড়া যেন তাদের জীবনই চলে না।
দাদা আপনি ভালো থাকবেন।
চায়ের দোকানের মামার কথা তুলে ধরে আপনি সত্যিই এক গভীর ভাবনার সৃষ্টি করেছেন। আমরা চা খাওয়ার মাধ্যমে নিজেদের ক্লান্তি দূর করি, কিন্তু মামাদের কষ্টের কথা আমরা ভাবি না। আপনার লেখায় মানবিক সম্পর্কের একটি সুন্দর দিক ফুটে উঠেছে। খুব ভালো লাগলো, আপনার পোস্টটি পড়ে। সুন্দর একটি বিষয়বস্তু নিয়ে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।