জেনারেল রাইটিং- সুখে থাকাই জীবনের সার্থকতা নয় , কাউকে সুখে রাখতে পারাটাই হলো জীবনের সার্থকতা
ABB ০৬ আগস্ট ২০২৩ রবিবার ❤️
আসসালামু আলাইকুম। সবাই কেমন আছেন? আশা করি আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সবাই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো সুস্থ আছি। আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে নতুন ব্লগ শুরু করলাম। আমি প্রতি সপ্তাহে একটি করে রাইটিং পোস্ট লেখার চেষ্টা করি। আজ আমি খুবই সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে পোস্ট লিখতেছি। আমি আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগবে।
সুখে থাকাই জীবনের চরম সার্থকতা নয় বরং কাউকে সুখে রাখতে পারাটাই হলো জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। – রেদোয়ান মাসুদ
পৃথিবীর সকল মানুষ সুখে থাকতে চায়। নিজের সুখের জন্য পৃথিবীর সব কিছু কোরবান করে হলেও সুখ চায়। সুখী হওয়ার জন্য সব ধরনের কাজ করতে প্রস্তুত থাকে সবাই। যেকোনো ধরনের পরিশ্রম করতে পারে। এবং নিজের সুখে থাকার জন্য অন্যের সুখ বিসর্জন দিয়ে হলেও, নিজে সুখে থাকতে চায়। ১০০ ভাগের মধ্যে প্রায় 95 পার্সেন্ট মানুষ নিজের সুখের । কথাই চিন্তা করে। এবং নিজের সুখের জন্য চেষ্টা করে থাকে। জনাব রেদোয়ান মাসুদ সাহেব খুবই সুন্দর একটি কথা বলেছেন। তার কথার সাথে আমি শতভাগ ইচ্ছে পোষণ করতেছি।
জীবনের শুধু নিজের কথা ভেবে সামনের দিকে এগিয়ে গেলে সে সুখী হতে পারে না। আর সুখী হলেও তার জীবনের সার্থকতা নেই। কিন্তু আমরা যদি নিজের সুখের পাশাপাশি অন্য কাউকে সুখী করতে পারি তাহলে, সে সুখের সার্থকতা রয়েছে। আর এই মনোভাবের মানুষের বর্তমানে খুব অভাব রয়েছে। আমি মনে করি যদি কেউ নিজের পাশাপাশি অন্য কারো সুখ অর্জন করে দিতে পারে তাহলে তার জীবনে সুখের অভাব হবে না। আর বিশেষ করে নিজের জীবনের সার্থকতার মধ্যে অনেক বড় একটি অধ্যায় থাকবে।
বর্তমান পৃথিবীতে আমিত্ব মানুষের অভাব নেই। আমিত্ব বলতে শুধু নিজের কথা ছাড়া আর অন্য কারো কথা ভাবে না। বর্তমান পৃথিবীতে এই ধরনের মানুষ সবচেয়ে বেশি রয়েছে। এজন্য মানুষের সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। একটা সময় এসে জীবনের সব কিছু বিসর্জন দিয়ে আবার দুঃখী হয়ে যায়। আর জীবনের শেষ মুহূর্তে তার পাশে কেউই থাকেনা। তখন বুঝতে পারে অন্য কাউকে যদি সুখী করে দিতাম অর্থাৎ অন্য কাউকে সফল করে দিতাম, তাহলে আজ সে ব্যক্তি আমার সাথে থাকতো। এবং আমাকে সহযোগিতা করত।
পৃথিবীতে প্রত্যেকটি কাজের ক্ষেত্রে, নিজের পাশাপাশি অন্যকে সহযোগিতা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর যে কোন মানুষকে নিজের আর্থিক শারীরিক মানসিক সবকিছু দিয়ে সফলতা অর্জন করে দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমন ভাবে যদি আমি একাধিক মানুষকে সফল করে দিই তাহলে, জীবনের শেষ মুহূর্তে যদি আমি বিপদে পড়ি তারাই আমাকে পুনরায় টেনে উপরের দিকে তুলবে। মানুষ উপকারের কথা বলে না কখনোই। কিন্তু পৃথিবীতে স্বার্থপর মানুষ রয়েছে তা ঠিক। স্বার্থপর মানুষ যেমন রয়েছে তেমনি ভালো মানুষ রয়েছে অনেক বেশি।
এজন্য খুঁজে খুঁজে ভালো মানুষগুলোকে সফল করে দেওয়া আমাদের সবারই দায়িত্ব। দায়িত্ব বলতে কিছু মানুষকে যদি আমি সহযোগিতা করে তাহলে তারা অন্য আরও কিছু মানুষকে সহযোগিতা করে উপরে তুলে দিবে। আর সবাই যদি এভাবে একজন অপরজনকে সহযোগিতা করে উপরে তুলে তাহলে, একটা সময় সকল মানুষের অভাব থাকবে না। দুঃখে মানুষের অভাব থাকবে। সবাই সবদিকে সুখী মানুষ হিসেবে থাকবে। আর যখন সব মানুষ সুখ খুঁজে পাবে তখন দুনিয়াতে বিশ্বমানবতার জয় হবে।
আর যখন বিশ্বমানবতার জয় হবে তখন, পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশে মানবিক মানুষ গড়ে উঠবে। আর তখন দুনিয়াটা সত্য সুবিচার মানবতা অধিকারভিত্তিক হয়ে গড়ে উঠবে। আর পৃথিবীতে সব মানুষই সুখী হবে। তখন অন্যায় অবিচার জুলুম শোষণ থাকবে না। সব মানুষ সব মানুষকে ভালবাসবে। এবং সব সময় সহযোগিতা করে উপরের দিকে তুলে নেবে। অর্থাৎ হিংসা অহংকার আমিত্য থাকবে না। তাহলেই মানুষ সুখী হবে। নিজের যেভাবে সুখী হব তেমনি পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষ সুখের সন্ধান পাবে। এজন্য আমাদের সবার উচিত একজন অপরজনকে সাহায্য সহযোগিতা করে উপরের দিকে তোলা। অর্থাৎ সফলতা অর্জন করে দেওয়া। এভাবে সারা বিশ্বে সুখে মানুষ থাকবে। আর তখনই মনে হবে আমের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সার্থক মানুষ।
নিজেকে নিয়ে কিছু কথা
আমার নাম নুরুল আলম রকি। আমার steemit I'd narocky71। আমি বাংলাদেশী নাগরিক । বাংলাদেশে বসবাস করি। তার সাথে সাথে আমি বিশ্বনাগরিক। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি। বাংলা ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করি। আমি বাংলা ভাষাকে ভালবাসি। আমি ফটোগ্রাফি করতে ও ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে জল রং দিয়ে পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। যখনই আমার সময় এবং হাতে টাকা থাকে তখন ভ্রমণ করতে বেরিয়ে পড়ি। বিশেষ করে আমি ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি অনেক বছর আগ থেকে ফটোগ্রাফি করে থাকি। কিন্তু বিশেষ করে ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি বেশি করা হয়। বর্তমানে তার সাথে আর্ট করতে অনেক ভালোবাসি। বর্তমানে আমি বেশি সময় কাটাই আর্ট শিখতে। বর্তমানে আমার স্বপ্ন, আমি একজন ভালো ফটোগ্রাফার, ও একজন ভালো আর্টিস্ট হব। ( ফি আমানিল্লাহ)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy

ভাইয়া আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগল। সত্যি ভাইয়া বর্তমান পৃথিবীতে আমিত্ব মানুষের অভাব নেই। সত্যি বর্তমান মানুষ সব সময় নিজে ভালো থাকার চেষ্টা করে।আসলে নিজে ভালো থাকার মধ্যে যতটা সুখ নাই অন্যকে ভালো রাখাতে হলে তার চেয়ে বেশি সুখ অনুভব করা যায়। আমাদের সবারই উচিত অন্যকে সাহায্য সহযোগিতা করে পাশে থাকা। ধন্যবাদ ভাই সুন্দর লিখেছেন।
সবাই যদি নিজের পাশাপাশি অন্য মানুষগুলোকেও সুখে রাখার কথা চিন্তা করত তাহলে খুব ভালো হতো। ধন্যবাদ
https://twitter.com/NARocky4/status/1687998181521661952?t=RJGqjsYHgsnHLUb0pB7yvg&s=19
বর্তমান সমাজে এমন প্রেক্ষাপট দাঁড়িয়েছে যেখানে উপকারীর উপকার স্বীকার করা তো দূরের কথা, বরং উল্টা উপকারীর অপকার করে। সত্যি বলতে সবাই তো আর সমান নয় যারা কু-প্রকৃতির লোক তাদের দ্বারাই এমন ঘটনা ঘটে। ধন্যবাদ বাস্তবিক একটি বিষয় শেয়ার করার জন্য।
আপনার মন্তব্য পেয়ে আনন্দিত হলাম ভাই। আপনি একদম ঠিক বলেছেন। ধন্যবাদ
হ্যাঁ ভাই বর্তমান মানুষের আসলে আমিত্ব মানুষের অভাব নেই কারণ সবাই তো শুধু নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করে অন্যকে নিয়ে সুখে থাকার চিন্তা কয়জন মানুষ করে বলুন। আসলে ভাই সবাই যদি আপনার মত চিন্তা করত তাহলে তো এই পৃথিবীতে দুঃখী মানুষ থাকত না।
সবাই ব্যক্তিগতভাবে কমপক্ষে একজন অথবা দুইজনকে সহযোগিতা করে উপরে তোলা খুব প্রয়োজন। প্রত্যেকটা ব্যক্তি যদি কমপক্ষে দুইজনকে সফল করে দেয় তাহলে দুনিয়াটা একদিন বিশ্ব মানবতা লাভ করবে।
যথার্থ বলেছেন ভাইয়া। যে একা সুখী হতে চায় যে ভোগী,আর যে সবাইকে নিয়ে সুখী হতে চায় সে ত্যাগী। কথায় আছে ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ। সমাজ ও মানুষের কল্যানে আমাদের মনোযোগী হতে হবে। আপনার পোস্ট টি পড়ে অনেক ভাল লাগল। ধন্যবাদ ভাইয়া এমন বাস্তবতাভিত্তিক পোস্ট লেখার জন্য।
আপনার সাথে সহমত তবে এখন ৯০% আপনে এরকম বিনিময় প্রথা অর্থাৎ পাশে থাকা মানুষ পাবেন না।আশে পাশে যে মানুষ গুলো আছে তারা কেউ আপনার ভাল দেখবে না উপকার করা দূরে থাক।নিযে সুখে থাকলেই সেটা কে সুখ বলে না।অন্যকে সুখে রাখা যে কতো আনন্দের তা কেবল তিনিই জানেন।ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ট্রপিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
কেউ যদি একা একা সুখে থাকতে চায় তাহলে কিন্তু এটা কখনোই সম্ভব নয় ।হয়তো থাকতে পারবে কিন্তু পূর্ণ তৃপ্তি টা পাবে না।
আর পরিবার-পরিজন আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীকে নিয়ে যদি ভালো থাকা যায় তাহলে এর মধ্যে অন্যরকম একটি তৃপ্তি পাওয়া যায়।
একজন মানুষ তখনই পূর্ণভাবে সুখী হতে পারে যখন তার দ্বারা আর দশজন মানুষ সুখে থাকার ব্যবস্থা পায়।
আপনি একদম ঠিক বলেছেন ভাই। নিজের আত্মীয়-স্বজন পরিবারের সবার কথা যদি সব সময় ভাবে সবাই তাহলে পৃথিবীটা খুবই সুখী হবে।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করে আমাদের মধ্যে যদি মানবিকতা না থাকে তাহলে সেই জীবনের সার্থকতা নেই কোনো। আমরা যদি স্বার্থপরের মত শুধু নিজেদের সুখের কথা ভেবে যায় তাহলে সে জীবনের অর্থই বৃথা। আমরা নিজেদের সুখী রাখবো, সেই পাশাপাশি আমাদের আশেপাশের লোকদেরও ভালো রাখার ব্যবস্থা করতে হবে তার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা । আপনি আজ দারুন একটি বিষয়ের উপর সুন্দর করে কথাগুলো লিখেছেন ভাই, পড়ে বেশ ভালো লাগলো।
আমাদের সবার হৃদয়ের মানবতার রয়েছে কিন্তু তা প্রকাশ করি না কখনো। এজন্য সব সময় অন্যের কথা ভাবা বেশি প্রয়োজন। ধন্যবাদ
শুধু নিজেকে নিয়ে সুখ খুঁজে নেওয়া হচ্ছে এক ধরনের স্বার্থপরতার পরিচয়। এই পৃথিবীতে সেই মানুষই সবচেয়ে বেশি সুখী যে তার চারপাশের মানুষকে নিয়ে সুখী থাকতে চাই। আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিবার পরিজন যদি সুখে না থাকে তাহলে নিজেকে সুখে রাখা যায় না। এভাবে যদি সবাইকে মিলে হাসি খুশি ভাবে দিন যাপন করা যায় তাহলে জীবনটাই সুখী। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া খুব সুন্দর একটি বিষয় তুলে ধরার জন্য।
বর্তমানে এমন স্বার্থপরতার মানুষের অভাব নেই। এর জন্য সবাই পরিবারের কথা চিন্তা করা প্রয়োজন। ধন্যবাদ আপনাকে