জেনারেল রাইটিং :- বিপদে পড়লে মানুষ চেনা যায়
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকলকে শুভেচ্ছা ও জানিয়ে শুরু করছি আজকের পোস্ট ।
জেনারেল রাইটিং :- বিপদে পড়লে মানুষ চেনা যায়
বরাবরের মতো আজও আমি আপনাদের মাঝে এসেছি নতুন একটা পোস্ট নিয়ে। আসলে আজ এসেছি একটা জেনারেল রাইটিং নিয়ে। সত্যি বলতে সপ্তাহে একটি করে জেনারেল রাইটিং লেখার চেষ্টা করি । আসলে আমার বাংলা ব্লগ এমন একটা জায়গা যেখানে আমরা আমাদের সকল বিষয় সম্পর্কে লেখতে পারি। আসলে আমাদের চারপাশে এমন কিছু ঘটনা ঘটে চোখের সামনে দেখলে সত্যি অনেক খারাপ লাগে। আর এমন কিছু সুবিধাবাদী লোকজন আছে যারা সারাজীবন শুধু নিজেদের নিয়ে ভেবে থাকে। আর এরা সব সময় কোথায় নিজের লাভ আছে তাই খুঁজে বেড়ায়। যদিও এসব লোকজন চেনা অনেক কঠিন। কারণ এরা সহজে মানুষকে ভুলাতে পারে।তারপরেও আমাদের সবার উচিত এই সব মানুষ থেকে যতটা পারা যায় দূরে থাকা। আর এই এসকল মানুষ তখনি চেনা যায় যখন তাদের স্বার্থে আঘাত লাগে। এমনি এক বাস্তব ঘটনা আমার নিজের সাথে ঘটে গিয়েছে। তাহলে চলুন শুরু করি আজকের পোস্ট।
আমাদের এক প্রতিবেশি। এখানে আমি তার আসল নাম বলছি না। নাম ছিল সিমা , আসলে সিমা বাবার বাড়িতে থাকে। তারপর স্বামী রিক্সা চালিয়ে খায়, তবে তিন ছেলে মেয়ে বেশ বড় বড়।তবে তার ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা বা অন্য কিছু করে না। কিছু দিন আগে সিমার স্বামী তার অটো বিক্রি করে দিয়েছে। এখন তারা পাঁচজন মানুষ বসে আছে।এদিকে সব কিছু কিনে খেতে হয়। আসলে বর্তমান যুগে কাজ করেই মানুষ ভাত পায় না আর তো বসে বসে কিভাবে পাবে।তবে সিমাকে আমাদের পরিবারের সবাই অনেক ভালোবাসে।ধরতে গেলে আমাদের আশেপাশে সবার কাছ থেকে চেয়ে নিয়েই সিমার সংসার চলে।যদিও তারা অনেক কষ্ট দিন কাটায়।আসলে বর্তমান সব কিছুর যেহারে দাম তারপর বসে খেলে কিভাবে চলবে।
যাইহোক সিমা কোন কিছুর জন্য আমাদের বাড়িতে আসে প্রতি নিয়ত।যদিও ওদের স্বভাব তেমন ভালো না শুধু সুযোগ খোঁজে। তবে আমার কাছে কখনো কোন কিছু চাইলে থাকলে আমি কখনো না করি না।সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত প্রতি দিন তার কিছু না কিছুর প্রয়োজন হয়। একটা কাঁচামরিচ থেকে শুরু করে তেল এমন রান্নার জন্য অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। আসলে প্রতি নিয়ত একজন মানুষ যখন এসে কিছুর জন্য তখন সত্যি অনেক খারাপ লাগে। আর কতোই বা দেওয়া যায় বর্তমান সব কিছুর যেহারে দাম। যাইহোক তারপরও যতটা পারি দেওয়ার চেষ্টা করি আর কি। তবে কয়েক দিন আগে আমাদের পরিবারের সবাই অসুস্থ ছিলাম। আসলে এতোটা অসুস্থ যে বলার মতো নয়।
সকাল বেলা উঠে যখন নাস্তা বানাবো তখন উঠে দাঁড়াতে পারছিলাম না।এদিকে সবাই অসুস্থ তাই নিজে কোন রকম চারটি রুটি বসে বসে বানিয়েছিলাম। বানানোর পরে যখন রুটি ভাজতে যাব তখন আর দাঁড়িয়ে ভাজতে পারছিলাম না।তারপর আমার বড় মেয়েকে দিয়ে সিমাকে ডেকে আনতে বললাম। ডাকার সাথে সিমা চলে আসলো।তারপর আমি বললাম আমরা সবাই অসুস্থ তাই ফ্রিজে যা খাবার আছে তুই নিয়ে যা। আর সব কিছু একটু পরিষ্কার করে দিয়ে যা।সবচেয়ে আগে আমার রুটি চারটি ভেজে দে।সিমা বললো কাকি আমার চুলার ওপর রান্না রেখে এসেছি তাই একটু গুছিয়ে আসি।এই বলে চলে গেল। গেল তো গেল আর এক সপ্তাহ সিমার দেখা নেই। তারপর আমার মা এসে দুদিন রান্না করে দিয়ে গেল।এক সপ্তাহে অনেক কষ্ট চলছিলাম।
প্রায় দশদিন পরে সিমা আবার এসেছে আমার কাছে। এসে প্রথমে বলছে কাকি তোমার কাছে আলু আছে তারপর কাঁচামরিচ, সয়াবিন তেল ইত্যাদি। প্রথমে আমি কিছু সময় সিমার কথা শোনলাম কোন কথা বলিনি।আসলে আমার অনেক রাগ হচ্ছিল সিমার ওপর। আমার মনে হয়েছে ওকে কিছুই দেব না।তারপর দুটি আলু আর কিছু কাঁচামরিচ দিলাম।দিয়ে বললাম সিমা তোর রান্না আজ শেষ হলো।আমি দুটি রুটি ভেজে দিতে বললাম আর তুই আজ এলি।আসলে এই সব মানুষ এমনি। এদের প্রয়োজন হলে চলে আসবে একটু লজ্জা পাবে না।আসলে যেসব মানুষকে বিপদের সময় পাওয়া যায় না, কোন উপকারে লাগে না। আপনারাই বলুন তাদের সব সময় দেখে কিলাভ। তাই আমাদের সবার উচিত এসব মানুষ থেকে দূরে থাকা। এখন আমার কাছে এলে আর আগের মতো সব কিছু দেয় না,যদিও না দিয়ে পারা যায় না ।আশাকরি আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে।
| প্রয়োজনীয় | তথ্য |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @parul19 |
| ডিভাইস | redmi note 12 |
| লোকেসন | ফরিদ পুর |
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগে অন্য কোন লেখা নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্ম নিয়ে নিজেকে ধন্যবাদ মনে করি।
অনেক সুন্দর একটি টপিক্স নিয়ে আজ আপনি আমাদের মাঝে জেনারেল রাইটিং শেয়ার করলেন। আপনি যখন একটু ভালো থাকবেন সুখে থাকবেন তখন দেখবেন আপনার আশে পাশে মানুষের অভাব নেই। কিন্তু কথনও বিপদে পরেন তখন দেখবেন আশে পাশে কেউ নেই। এজন্যই বলে সুসময়ের বন্ধু সবাই। বিপদের বন্ধু কেউ নাই।
জি আপু সুসময়ে বন্ধু অনেকেই হয় ধন্যবাদ আপু।
https://x.com/MimiRimi1683671/status/1825470201422544903?t=dCdQCJDZppoJxgsu-6xzFA&s=19
আমরা আমাদের চারপাশের মানুষগুলো কে দেখেই সবসময় মানুষ চিনতে শিখি আপু। উপর থেকে কাউকে কখনো চেনা যায় না। বিপদে পড়লে সেই মানুষের আসল রূপ চেনা যায় আপু। অসাধারণ লিখেছেন আপনি। ধন্যবাদ আপনাকে।
জি ভাইয়া ওপর থেকে কাউকে চেনা যায় না, ধন্যবাদ আপনাকে।
ঠিক বলেছেন আপু বিপদে পড়লে মানুষ চেনা যায়।বিপদের সময় আমাদের অনেক চেনা মানুষগুলো যেন অচেনা হয়ে যায়। যে সীমাকে আপনি আপনাকে সাহায্য করার জন্য বললেন সে আরো খাবার নিয়ে বাসায় চলে গিয়ে আর আসেনি। চেনা মানুষগুলো এতটা স্বার্থপর হয় মাঝে মাঝে যা ভাবতেও কষ্ট লাগে। ধন্যবাদ আপু পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
আসলে আপু এই সব মানুষ গুলো সব সময় সুবিধা খুঁজে বেড়ায়। ধন্যবাদ আপু।
খুব সুন্দর লিখেছেন আপু আপনার লেখাগুলো পড়ে আমার অনেক ভালো লেগেছে ,আসলে বিপদ আসে মানুষকে চেনার জন্য। প্রকৃত মানুষ চেনা যায় বিপদে পড়লে । আসলে এটা আমি নিজে থেকে উপলব্ধি করেছি যারা প্রকৃত বন্ধু তারা বিপদে কাছ থেকে দূরে সরে যায় না আর যারা ফর্মালিটি মেনটেন করে তারা বিপদ দেখলেই দূরে সরে যায়। তবে মানুষ তো চেনা যায় । ভালো লাগলো সুন্দর একটি পোস্ট দেখে।
আপনার ভালো লেগেছে জেনে অনেক ভালো লাগলো, ধন্যবাদ আপু।
কিছু মানুষ আছে শুধু নিতেই জানে দিতে জানেনা। আপনি সীমার ঘটনা বর্ণনা করে সেই সব মানুষের চরিত্র সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আপু। আপনার লেখাটি বেশ ভালো লেগেছে আমার।আর একদম ঠিক বলেছেন বিপদে পড়লে মানুষ চেনা যায়। পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আসলে আপু এই ধরনের মানুষ থেকে সব সময় দূরে থাকা উচিত ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে।
একদম ঠিক কথা বলেছেন আপনি। বিপদে পড়লে মানুষ চেনা যায় খুব সহজে। তাই বিপদ আমাদের জীবনে বয়ে আনে সজাগ অনুভূতি। আর আপন মানুষ।
জি ভাইয়া বিপদে না পড়লে সহজে মানুষ চেনা যায় না, ধন্যবাদ আপনাকে।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সীমার মতো মানুষদের উপকার করাটাও ঠিক না। আপনি তো সীমাকে প্রায় সবসময়ই বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। তো সীমার উচিত ছিলো আপনার অসুস্থতার সময় আপনাকে যথাসম্ভব সহযোগিতা করা। তবে সীমা হচ্ছে অকৃতজ্ঞ প্রকৃতির মানুষ, আর এমন মানুষ প্রতিটি সমাজে দেখা যায়। যাইহোক ঠিক বলেছেন আপু, বিপদে পড়লেই মানুষ চেনা যায়। পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আসলে ভাইয়া এদের উপকার করা ঠিক না কিন্তু এমন ভাবে বলে না করে পারা যায় না। ধন্যবাদ ভাইয়া।
বর্তমান সময়ে এসব মানুষের ছড়াছড়ি সবদিকে। উনিতো নিজের অভাবের কারণে হয়তো সবার কাছে চায় তবে তাকে সামান্য কাজ করার জন্য বলায় সে আপনার বাড়িতে আসাই বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে আবারও এসেছে ১০ দিন পর আসলো। এসব মানুষরা একদম স্বার্থপর। স্বার্থ বাদী মানুষ নিজের স্বার্থ ছাড়া কোন কিছুই বোঝেনা। আর যারা স্বার্থবাদী তাদের কোন লজ্জা থাকে না। এদের মতো অকৃতজ্ঞদের উপকার না করাই ভালো।কারণ যারা বিপদে পাশে থাকে না তারা কখনো বন্ধু নয়।যারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের অঢেল সাহায্য দিলেও গায়ে লাগে না।
ঠিক বলেছেন আপু স্বার্থবাজী মানুষের কোন লজ্জাবোধ থাকে না। ধন্যবাদ আপু পোস্ট পড়ে মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।