শক্তের ভক্ত নরমের যম। (জেনারেল রাইটিং)
♥️আসসালামুআলাইকুম♥️
আমি @bristy1, আমার বাংলা ব্লগ এর একজন সদস্য। আর আমার এই প্রিয় কমিউনিটির প্রিয় বন্ধুগণ, আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি৷সবার সুস্থতা কামনা করেই আজকের পোস্টটি শুরু করতে যাচ্ছি।
অহংকার, যদিও একটি শব্দ মাত্র। কিন্তু এর গভীরতা বা বিশালতা অনেক।এই অহংকার কখনো দৃশ্যমান নয়।এটি মানুষের অন্তরে ধীরে ধীরে প্রতীয়মান হয়। আমাদের সমাজে অহংকারকারী অনেক মানুষ আছে, কেউ টাকা পয়সা নিয়ে অহংকার করে আবার কেউ আছে রূপের অহংকার করে।এমন প্রত্যেক ধরনের মানুষের সাথে আমার দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে।আসলে মাঝে মাঝে হাসি পায়,তারা কি আসলেই সেই অহংকার করার যোগ্য?
সমাজটা একদম বিষিয়ে গেছে,টাকা-পয়সা, জমিজমা, বাড়িঘর বা রূপ গুণের অহংকারে।অহংকারী মানুষরা মনে করে এটা তাদের জন্য প্রযোজ্য, কিন্তু আসলেই কি তাই?আমার প্রশ্ন তাদের কাছে, রঙ -রূপ সৌন্দর্য, টাকা-পয়সা এসব কি আসলেই চিরস্থায়ী? এসব কিছু কি তাদের একান্তই নিজের ছিল? আমি জানতে চাই অহংকার করে হিংসা দেখিয়ে তারা কোন স্বর্গীয় সুখের সন্ধান পেয়েছে।জানা নেই আমার,এমনকি কেউই জানে না হয়ত।আসলে আজ কথাগুলো বলছি নিজের মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো থেকে।সেদিন উইঙ্কলেস দাদার পোস্টে পড়েছিলাম কিছু সুবিধাবাদী মানুষের বিষয়ে।যারা প্রয়োজনে আসে সাধু সাজে আর প্রয়োজন ফুরালেই হাওয়া।এসব মানুষদের স্বার্থবাদী ছাড়া আর কি বলা যায়?
বিবেকবান লোক যখন অসৎ আর বিবেকহীন লোকের চক্করে পড়ে নিজেই বিবেকহীন হয় তখন কারো কিছু করার থাকে না।সত্য মিথ্যা, উচিত অনুচিত সবকিছু তখন তার কাছে একইরকম।কথায় আছে সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।এর প্রমাণ আমি হাড়ে হাড়ে পেয়েছি।কেনইবা পাবো না,যাদের আমি পদে পদে চিনি যাদের স্বভাব কাজকর্ম আমি জানি পরবর্তীতে তাদের ব্যতিক্রমধর্মী কার্যকলাপ আমার চোখে পড়বে না তা কিভাবে হয়।একটা সময় ন্যায় অন্যায় ভুলে যায় মানুষ,শুধুমাত্র নিজের প্রাপ্তিটাই তাদের মুখ্য বিষয় হয়ে উঠে।নিজের ষোলআনা পূরণ হলেই হলো অন্যের দু-চার আনা হলো কিনা তার খেয়াল নেই।পারলে তার সেই দু আনাও কেড়ে নিয়ে নিজের করতে পারলে খুশি।
ন্যায় আর অন্যায়ের তফাৎ কখন হয়? আদৌ কি এই দুটো শব্দের মধ্যে তফাৎ করা যায়?ভাবি,মাঝে মাঝেই ভাবনায় আসে অন্যায়টা কি শুধু চুপ করে থাকা মানুষের সাথেই করতে মজা লাগে?যে কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রতিবাদ করবে না শুধু ভদ্রতার খাতিরে, সেই কি শুধু অন্যায়ের বেড়াজালে বন্ধী হতে হয়?কেন, কেন?বারবার প্রশ্ন জাগে, কই বাকিদের সাথে তো এই একই নিয়ম চলে না। নিয়মটা কি শুধু একজনের জন্যই বরাদ্ধ,যে মেনে চলে তাকেই সব কষ্ট ভোগ করতে হয় কেন? কেন বারবার কোণঠাসা হতে হয় তাকে?সবদিক ঠিক থাকুক সেই চেষ্টা করে যাওয়ার পরও যখন বিপরীত দিক থেকে সব নষ্ট হয় তখন কেন দোষটা শুধু ঐ একজনের ঘাড়েই পড়তে হবে?
অন্যায়টা অনেক হয়েছে,নিয়ম সেটা নিয়ম হওয়া উচিত।একজনের জন্য নয়,সবার জন্য।কিন্তু কে করবে তার প্রতিবাদ, যে দায়িত্ব পালন করতেই ব্যস্ত সে কখনো অন্যায় চোখে দেখে না,থাক তো ব্যবস্থা নেয়া।তার কাছে অন্যায়গুলো ভিত্তিহীন, সে কখনো দেখে না।না, এটা সত্যি নয়,সে দেখেও দেখে না, জেনেও জানে না। ঐ যে বললাম দায়িত্বের আর ভদ্রতার বেড়াজালে বন্ধী সে।জানিনা কবে হবে এর সমাপ্তি।নিয়মটা কবে এক হবে সবার জন্য,কবে অপ্রাপ্তির খাতার হিসেব হবে, কেউ তো সম্পূর্ণ প্রাপ্তির পরও শূন্য প্রাপ্তির হিসেব দেখাতে খাতা নিয়ে বসে।তবে পরিশেষে এটাই চাই,অন্যায় যেন না হোক,আর সকল অন্যায়ের সুপ্ত বিচার হোক। অহংকারীরা অন্তত অহংকার করাটা ভুলে যাক,আল্লাহ তাদের হেদায়াত দান করুক।
সবাই অনেক অনেক ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন। সবার জন্য আন্তরিক ভালোবাসা রইল। সম্পূর্ণ পোস্টে আমার ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। |
|---|
♥️আল্লাহ হাফেজ♥️ |
|---|
মোবাইল ও পোস্টের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | আবোল তাবোল কিছু কথা |
| লোকেশন | ফেনী |
আমি তাহমিনা আক্তার বৃষ্টি। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি বাংলায় কথা বলি,আমি বাংলায় নিজের মনোভাব প্রকাশ করি। আমি নিজের মত করে সবকিছু করার চেষ্টা করি। আমি অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। পড়ালেখার পাশাপাশি আমি বিভিন্ন জিনিস আঁকতে পছন্দ করি। বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকা, রঙ করা, নতুন নতুন কিছু তৈরি করা আমার পছন্দের কাজ। তবে রান্নাবান্না আমার ভালোলাগা, চেষ্টা করি সবসময় নিজে নতুনভাবে কিছু রান্না করার। ভ্রমণপ্রেমীদের মত আমিও ঘুরতে পছন্দ করি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
ভালো থাকবেন।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
অনেক ধন্যবাদ ্
🌱🌹🌱🌹💗
দারুন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন আসলে মানুষের সততা তখনই ধ্বংস হয় যখন তার মধ্যে অহংকার চলে আসে। অতীতের সকল দুঃখ কষ্ট ভুলে যায় এবং বিবেকহীন কর্মকাণ্ডের সাথে লিপ্ত হয়। এটাই বাস্তবতা বর্তমান সমাজে দেখা যায়।
ঠিক ভাইয়া আসলে মানুষের সততা তখনই ধ্বংস হয় যখন তার মধ্যে অহংকার চলে আসে।
টাইটেল পড়ে পোস্টের মধ্যে না ঢুকে পারলামনা। একেবারে ঠিক। আর পৃথিবীটা এখন চলছেও এভাবেই। মানুষের অহংকারের কারনে আজ মানুষের এত অধপতন। মানুষ যখন বিবেক বুদ্ধিহীন হয়ে পড়ে তখন ভুলে যায় সব। হারিয়ে ফেলে হিতাহিত জ্ঞান। দারুন লিখেছেন আপু।
জি আপু মানুষের অহংকারের কারনে আজ মানুষের এত অধপতন।
আমাদের চারপাশের মানুষরাই তো সবচেয়ে বেশি বড় ভুল কাজগুলো করে। এবং কি আমরাও সঠিক কাজটা ঠিকভাবে বেছে নিতে না পেরে ভুল কাজের দিকে এগিয়ে যাই। যখন সঠিক বিষয় না বুঝতে পারি তখনই পতন আমাদের ঘটে যায়। তাইতো সবাই বলতেই বোঝাই শক্তের ভক্ত নরমের যম। আপনার পুরো লেখা পড়ে অনেক অনেক কিছু শিক্ষা নিতে পারলাম। বাস্তবে কিছু দারুন লেখা আমাদের মাঝে তুলে ধরলেন।
ভালো লাগলো মন্তব্যটি পড়ে ধন্যবাদ।
ব্যাপারটা মিথ্যা নয় খুবই সত্যি ঘটনা আপু। আসলে যারা নরম তাদেরকে সবাই আঘাত করতে চায়। আর যারা শক্ত কিংবা সবল এবং আঘাত দিয়ে কথা বলে মানুষকে তাদেরকে সবাই ভয় পায়। এটাই হচ্ছে দুনিয়ার পরিস্থিতি। আসলেই এত সরল কিংবা নরম হয়ে চলাফেরা করলে মানুষ একদম চোখে দেখে না। খুব সুন্দর বাস্তবিক কিছু লেখা আমাদের সাথে তুলে ধরলেন বেশ ভালো লাগলো।
জি আপু বুঝতে পেরেছেন।
আসলে যে চাপ সহ্য করে তার উপরে ছাপ আরও বাড়ে।হয়তো কিছু মানুষ ভালো বা সহজ সরল যার কারণে তার উপরে অত্যাচার একটু বেশিই হয়। আর যারা কুলুষিত এবং হিংসুটে মনের মানুষ তাদের উপরে অত্যাচার কমই হয়। পরিশেষে একটা কথাই বলার রয়েছে সেটা হচ্ছে যে যেমন করবে সে তেমন পাবে।
ঠিকই বলেছেন।