উচ্ছে সকলের পরিচিত একটি সবজি।সাধারণত উচ্ছে ভাজি খেতে আমরা সকলেই পছন্দ করি।তাছাড়া যেহেতু উচ্ছে তেতো তাই সবাই ঝাল ছাড়া উচ্ছে রান্না করেন।আমি অবশ্য উচ্ছে ঝোল খেতাম না তেতোর জন্য কিন্তু এই উচ্ছের ঝাল রেসিপি খেয়ে ফ্যান হয়ে গেছি।অনেকে উচ্ছে মাছ দিয়েও ঝোল করে খান ।যাইহোক আমি এই উচ্ছে এমনভাবে রান্না করেছি যাতে কোনো তেতো না লাগে এবং বাচ্চা থেকে শুরু করে যারা উচ্ছেপ্রেমি নয় তারাও উচ্ছে খেতে ইচ্ছুক হবেন।আমি নিজেই তো একথালা ভাত খেয়ে নিয়েছি চেটেপুটে,হি হি।কারন এই রেসিপিটি কোনো তেতো লাগবে না ,তাই আপনারা এভাবে ট্রাই করতে পারেন।তো চলুন রেসিপিটা শুরু করা যাক---
উপকরণসমূহ:


আমি আলুগুলো গ্রেটার দিয়ে গ্রেট করে নিয়েছি।
| উপকরণ | পরিমাণ |
| উচ্ছে | 6 টি |
| আলু | 2 টি |
| পেঁয়াজ কুচি | 2 টি |
| রসুন কুচি | 1 টি |
| কাঁচা মরিচ | 6 টি |
| আদা বাটা | 1 টেবিল চামচ |
| লবণ | 1 টেবিল চামচ |
| হলুদ | 1/2 টেবিল চামচ |
| জিরা গুঁড়া | 1 টেবিল চামচ |
| লাল মরিচ গুঁড়া | 1 টেবিল চামচ |
| সরিষার তেল | 80 গ্রাম |
| জল |
প্রস্তুতপ্রণালি:
ধাপঃ 1

প্রথমে আমি কড়াইতে জল নিয়ে নেব পরিমাণ মতো।
ধাপঃ 2

এরপর জলের মধ্যে সামান্য লবণ দিয়ে গোল গোল করে কেটে রাখা উচ্ছে দিয়ে দেব।
ধাপঃ 3

2-3 মিনিট মিডিয়াম আঁচে জ্বাল করে উচ্ছে সেদ্ধ করে নেব।এতে করে উচ্ছের তেতোভাব সম্পূর্ণ চলে যাবে।
ধাপঃ 4

এরপর জল ঝরিয়ে উচ্ছে তুলে নেব কড়াই থেকে।
ধাপঃ 5

এবারে উচ্ছের গায়ে লবণ ও হলুদ মিশিয়ে নেব সামান্য পরিমাণ।
ধাপঃ 6

এরপর কড়াইতে তেল দিয়ে হালকা গরম করে নেব।
ধাপঃ 7

উচ্ছেগুলি নেড়েচেড়ে ভেঁজে নেব।
ধাপঃ 8

এবারে ভাজা উচ্ছে নামিয়ে নিলাম একটি পাত্রে।
ধাপঃ 9

আবারো কড়াইতে তেল দিয়ে গ্রেট করে রাখা আলু দিয়ে দেব এবং নেড়েচেড়ে ভেঁজে নেব।
ধাপঃ 10

তো আমি আলুগুলো ভেঁজে তুলে নিলাম।
ধাপঃ 11

সবশেষে আবারো পুনরায় কড়াইতে তেল দিয়ে দিলাম।
ধাপঃ 12

এরপর পেঁয়াজ,রসুন,লংকা কুচি,আদা বাটা ও সমস্ত লবন,হলুদসহ গুঁড়া মসলা দিয়ে দেব।
ধাপঃ 13

এবারে সামান্য পরিমাণ জল দিয়ে মসলাগুলি নেড়েচেড়ে একত্রে ভেঁজে কষিয়ে নেব।
ধাপঃ 14

মসলাগুলি কষিয়ে নেওয়া হয়ে গেলে ভেঁজে রাখা আলুগুলো দিয়ে দেব।
ধাপঃ 15

আলুগুলো মসলার সঙ্গে নেড়েচেড়ে ভেঁজে নিয়ে জল দিয়ে দেব অল্প পরিমাণে।
ধাপঃ 16

তরকারীটি ফুটে উঠলে ভেঁজে রাখা উচ্ছে দিয়ে আবারো 3-4 মিনিট ফুটিয়ে নেব।
ধাপঃ 17

তো তৈরি করা হয়ে গেল আমার "উচ্ছের ঝাল রেসিপিটা"। এবারে একটি পাত্রে নামিয়ে নিলাম রেসিপিটা।
পরিবেশন:

এবারে এটি পরিবেশন করতে হবে গরম গরম ভাতের সঙ্গে।এটি খুবই সুস্বাদু ও মজাদার খেতে।আশা করি আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের উচ্ছের রেসিপিটা অনেক ভালো লাগবে।সকলে ভালো থাকবেন ও সুস্থ থাকবেন।
🌸ধন্যবাদ সকলকে🌸
ক্যামেরা: poco m2
টুইটার লিংক
আমিও বেশিরভাগ সময় উচ্ছে ভাজি খাই ভাইয়া, এই প্রথম এভাবে খেলাম।যারা মোটেই খেতে চান না তাদের জন্য এটা বেস্ট রেসিপি হবে,গুনাগুন একটু চলে যাবেই।ধন্যবাদ ভাইয়া।
একদম ইউনিক একটি রেসিপি দেখতে পেলাম আপু আপনার পোস্টের মাধ্যমে।মনে হচ্ছে সত্যিই তেতো ছাড়াই।খেতে নিশ্চয় দারুন হয়েছিল।এভাবে একদিন বাসায় ট্রাই করে দেখবো।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য আপু।
অসাধারণ হয়েছিল খেতে আপু,অবশ্যই ট্রাই করে দেখবেন।ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি সবজি খুব একটা খাই না। তবে করলা আমার সবচেয়ে প্রিয় সবজি। করলা ভাজি করে খেতে যেমন ভালো লাগে তেমনি সবজি রান্না করে খেতেও ভালো লাগে। তবে এভাবে কখন রান্না করা হয়নি। আজকে আপনার কাছে নতুন রেসিপি শিখতে পাইলাম আপু। এই রেসিপি শিখে আমার বেশ ভালো লেগেছে। আমি অবশ্যই ট্রাই করে দেখব। ধন্যবাদ আপু এই রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আমার রেসিপি দেখে আপনি যে কিছুটা হলেও শিখতে পেরেছেন এতেই আমার রেসিপি তৈরির সার্থকতা আপু।ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য পেয়ে,ধন্যবাদ।
ইউনিক একটি রেসিপি আপনার কাছ থেকে শিখে নিলাম আপু। উচ্ছে আমার কাছেও খেতে অনেক ভালো লাগে তবে আমি সব সময় ভাজি করি। এভাবে কখনো তৈরি করে খাওয়া হয়নি। আজ আপনার রেসিপি দেখে ইচ্ছে করছে বাসায় একদিন তৈরি করতে খেতে অবশ্যই ভালো লাগবে। ধন্যবাদ আপনাকে ইউনিক রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
অবশ্যই তৈরি করে দেখবেন আপু,খুবই সুস্বাদু খেতে।ধন্যবাদ আপনাকে।
উচ্ছে তেতো হলে সেই ভাজি খাওয়া যায় না। উচ্ছে সবসময় ভাজি করে খাই। এভাবে ঝোল কখনো খায়নি এবং দেখিওনি। আপনি যেভাবে উচ্ছেগুলোকে সিদ্ধ করে নিয়েছেন এবং পানি ফেলে দিয়ে ভেজে নিয়েছেন তাতেই বোঝা যাচ্ছে যে একটুও তেতো ছিল না। তাছাড়া আলু গ্রেট করার কারণে ঝোল মনে হয় গাঢ় হয়েছিল। আপনার মসলা কষানো দেখে মনে হচ্ছে যে খুবই মজা হয়েছিল উচ্ছের ঝোল।
আপু এখানে কি ঝোল হবে নাকি?
না আপু,ঝালই হবে ।কারণ আমি এটি ঝাল দিয়ে রান্না করেছি কিন্তু আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ উচ্ছে রান্নায় ঝাল ব্যবহার করেন না সেটা বোঝাতে চেয়েছি।ধন্যবাদ আপনাকে।
উচ্ছে আমার অনেক পছন্দের আপু। আপনার রেসিপিটি দেখে জিভে জল চলে এসেছে। আপনার রেসিপির কালারটা অনেক আকর্ষণীয় হয়েছে। লোভ আর সামলাতে পারছি না। আপনি অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।
উচ্ছে আপনার পছন্দ জেনে ভালো লাগলো আপু,ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মতামত তুলে ধরার জন্য।
Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.
Thank you.
আপু উচ্ছে আমার অনেক প্রিয় একটি খাবার। আমি এই উচ্ছ ভাজি ছাড়া অন্য কোন ভাবে কোনদিন খায়নি। আপনি উচ্ছেকে যেভাবে ঝোল দিয়ে ঝাল ঝাল করে রান্না করেছেন,সেভাবে কখনো দেখি নাই,আর খাওয়া তো কল্পনাও করা যায় না। আপনার রান্না করার সিস্টেমটা ভাল লেগেছে। আমাদের দিকে উচ্ছেকে করলাও বলা হয়ে থাকে। ধন্যবাদ আপু।
ভাইয়া আমরা বড়ো ও লম্বাটে সাইজের উচ্ছেকে করলা বলি আর ছোট সাইজের উচ্ছেকে দেশী উচ্ছে বলি।যাইহোক এটি খুবই সুস্বাদু রেসিপি,খেয়ে দেখবেন একদিন।ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি তেতো স্বাদ একদমই খেযে পারি না। আমায় তেতো খেতে দিলে পাশে জল রাখতে হয় যাতে মুখে দিয়েই গিলে ফেলতে পারি। এই আইডিয়াটা মোন ছুঁয়ে নিলো যে সেদ্ধ করলে তেতো ভাব পুরোই কেটে যায়। এবার খাওয়া যাবে। উচ্ছের মত একটা খাবারকেও এত সুস্বাদু বানানোর জন্য ধন্যবাদ বোন।
অবশ্যই এভাবে আপনি তেতো ছাড়াই নিঃসন্দেহে খেতে পারবেন দিদি।তারপর উচ্ছের ফ্যান হয়ে যাবেন,ধন্যবাদ আপনাকে।