নতুন মেহমান জিনুর গল্প
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন। আমি বেশ চাপে আছি আরে চাপে মানে সেই চাপে না, আপনারা খালি খালি উল্টা বুঝেন হা হা হা। মানে একটু কাজের চাপে তবে অফিসে না এটা বাড়িতে। আমার ছেলে এবং মেয়ের খুব পছন্দ, প্রাণীদের মাঝে দুটো প্রাণী, এটকা হলো খরগোস আর দ্বিতীয়টা হলো বিড়াল। যেহেতু আমার আম্মু বিড়াল পোষে, সেহেতু গ্রামের বাড়িতে গেলেই দারুণ কিছু মুহুর্ত তারা ব্যয় করার সুযোগ পায়। আমাদের বাড়ির বিড়ালের নাম হলো মিনু, আমার ছেলে আগেই তার দাদুকে বলে রেখেছিলো বিড়ালের বাচ্চা হলে তার জন্য যেন একটা রাখে। কিন্তু সমস্যা হলো বিড়ালটা দেখতে সুন্দর এবং তার বাচ্চাগুলোও দেখতে সুন্দর হয়, তাই আশে পাশের মানুষরা আগেই এসে নিয়ে নেয় আর আম্মু তাদের নাও করতে পারে না।
কিন্তু এবার রোজার সময় সেই সুযোগটা আর কেউ পায় নাই, পায় নাই বললে ভুল হবে, কারন এবার চারটা বাচ্চা দিয়েছিলো, একটা এমনিতেই মরে গেছে আর দ্বিতীয়তটা পাশের বাড়ীর একজন এসে এক প্রকার জোর করেই নিয়ে গিয়েছে। গ্রামের বাড়ীর চারপাশের মানুষগুলোর সাথে অন্য রকম একটা সম্পর্ক হয়ে যায়, যার কারনে আত্মীয় না হলেও সম্পর্কের জোরে আত্মীয়তার মতো একটা সম্পর্ক হয়ে যায়। সেই সূত্রে এক ভদ্র মহিলা এসে আম্মুকে বললে আম্মু না করে কিন্তু উনি নাছোর বান্দা, না নিয়ে যাবেই না। আম্মু নিরুপায় হয়ে তারপর একটা তাকে দিয়ে দেন। বাকি রইল আর দুটো, আমার ছেলেতো শুনে অস্থির হয়ে গেছে, বাবা তাড়াতাড়ি দাদুর বাড়িতে চলো বিড়াল নিয়ে আসতে হবে।
সমস্যা কিন্তু অন্য জায়গায়, ছেলে তাড়াতাড়ি গ্রামের বাড়ি যেতে চাইছে আর বউ যেতে না করছে, বুঝেন এবার আমি কেমন প্যাচে আটকে গেছি। কারন বউ বিড়াল কিংবা খরগোস কোনটাই পছন্দ করে না। এর আগে আমার ছোট ভাই একটা খরগোস কিনেছিলো, বেশ কিছু দিন বাড়িতে সেটা রেখেওছিলো, আমার ছেলের জন্য। কিন্তু বউ বাধা উপেক্ষা করে সেবার আমি খরগোস বাড়িতে আনতে পারি নাই। মানে হলো আমরা শান্তি চুক্তিতে সর্বদা বিশ্বাস করি, কারন শান্তি ছাড়া অশান্তিকে নিয়ে খুব একটা ভালো সময় পার করা যায় না। কিন্তু এবার ছেলে এবং মেয়ে দুইজন এক জোট, সাথে যেহেতু আমি রয়েছি তাই তিনজন মিলেই গ্রামের বাড়িতে গিয়েছি এবং সবচেয়ে সুন্দর যেটা সেটাকে প্যাকেট করে বাড়িতে নিয়ে আসছি।
আনার পর কিন্তু সমস্যা আরো বেড়ে গেলো, বউকে ম্যানেজ করা তার সাথে বিড়ালের যত্ন, খাওয়ানো, গোসল করানো সব মিলিয়ে বেশ দায়িত্ব বেড়ে গেছে আমার। নতুন করে রুটিন করতে করতে হয়েছে এই বিড়ালের। ও আচ্ছা এর কিন্তু একটা সুন্দর নামও রাখা হয়েছে, যেহেতু তার মার নাম মিন, সেহেতু তার নাম রাখা হয়েছে জিনু, আমার ছেলে এবং মেয়ে দু’জনেরই পছন্দ এই নামটি। তো জিনুর জন্য আমার সকল সিডিউল পরিবর্তন করতে হয়েছে। অফিসে থেকে এসেই তার যত্ন নিতে হয়, খাবার দিতে হয়। তবে সে আবার সব খাবার খায় না, মাছ ভাত এবং শুধু দুধ, এই দুটো খাবার বাদে অন্য কিছু খায় না। সুতরাং মাছের জন্য বাড়তি চাপ তৈরী হয়েছে আমার উপর, বাজার হতে আগের তুলনায় বেশী মাছ না আনলে খবর আছে, এই রকম একটা হুংকার আমার মাথার উপর ঝুলে আছে, মাঝে মাঝে সেটা দেখেই আমি বাজারে দৌড় দেই, হা হা হা।
সকালে ফজরের সময় উঠতে হয়, তারপর জিনুকে খাবার দিতে হয়। এরপর তাকে নিয়ে বাগানে যেতে হয়, কারন সে আবার বাগান কিংবা বালু ছাড়া টয়লেট করে না, কি মছিবত এখন তার টয়লেটের জন্যও সকাল সকাল বাগানে গিয়ে বসে থাকতে হয়। একদিন পর পর শ্যাম্পু দিয়ে তাকে গোসল করাতে হয়, না হলে আবার নতুন হুংকার মাথার উপর ঝুলে যাবে, হা হা হা। তবে আমি কিন্তু বিষয়টি বেশ উপভোগ করছি, বাড়িতে এখন দুই পক্ষ, তবে সংখ্যার কিংবা মতের দিক হতে আমার দল ভালো অবস্থানে আছে হা হা হা। এমনিতে কিন্তু জিনুর বিষয়টি বেশ উপভোগ করি, বাড়িতে আসার পর বেশ সুন্দর কিছু মুহুর্ত আগে ব্যয় করি, তারপর কমিউনিটির কাজের জন্য ল্যাপটপ ওপেন করি।
যেহেতু আমারও সখ ছিলো বিড়ালের কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন করতে পারি নাই, ছেলে এবং মেয়ের উছিলা দিয়ে ঠিক সেটা ঠিক বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। হয়তো চাপটা একটু বেড়ে গেছে, কারন আজকাল বিড়ালের বেশ যত্ন নিতে হয়, টাইট টু টাইম তাকে খাবার দিতে হয়। তবে বাড়িতে পোষা জাতীয় কিছু একটা থাকা উচিত, এটা আমি সব সময় সমর্থন করি। আর এই ক্ষেত্রে বিড়াল আমার সবচেয়ে বেশী পছন্দ, জিনু সেই ক্ষেত্রে একটু বেশী আদর যত্ন পাচ্ছে, এটাও সত্য।
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Congratulations, your post has been upvoted by @scilwa, which is a curating account for @R2cornell's Discord Community. We can also be found on our hive community & peakd as well as on my Discord Server
Felicitaciones, su publication ha sido votado por @scilwa. También puedo ser encontrado en nuestra comunidad de colmena y Peakd así como en mi servidor de discordia
জিনু বেশ চমৎকার নাম তো।আমাদের বাড়িতে ও দুটি বিড়াল আছে ভাইয়া।ছেলেটির নাম সনতু ও মেয়েটির নাম মিনি।কিছুটা মিল আছে আপনার গ্রামের বাড়ির বিড়ালের নামের সঙ্গে।ভাইয়া আপনার কাজ তো বেড়ে গেল বাগানে গিয়ে বসে থাকতে হবে।আমাদের বিড়াল ক্ষেতে কিংবা ছাইতে টয়লেট করে।আর মাছ ছাড়া ভাত খেতেই চায় না।খুবই ধৈর্য্যের বিষয় বিড়াল পোষা।নতুন অতিথির জন্য ভালোবাসা রইলো।💝
আপু একই অবস্থা এখানে, জিনু ভাত-মাছ মাখিয়ে না দিলে খেতে চায় না আর শুধু মাছ খেতে চায়। জিনু বালু খোঁজে, টয়লেট ধরলেই পা দিয়ে আচড় দিতে শুরু করে। সত্যি অনেক ধৈর্যের কাজ এটা, বেশ বুঝতে পারছি আমি।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
হায়রে কপাল আমি তো ভেবেছিলাম যে এ জিনু টা আবার কে? এখন দেখি আদরের বিড়ালের নাম হলো জিনু। বিড়াল পোষা ভালো। তবে বিড়াল পোষা কিন্তু অনেক ধৈর্য্যর বিষয়। সব বিড়ালই মাছ আর ভাত খায়। তবে পোস্ট পড়ে বোঝাই যাচেছ যে জিনু বেশ আদর যত্নই পাচ্ছে আপনর বাড়িতে। হায়রে জিনু কপাল কতো ভালো।
যাক ভাইয়া, অবশেষে বউ বাধা উপেক্ষা করে ছেলে-মেয়ের উছিলায় আপনার শখের বাস্তবায়ন করেছেন জেনে সত্যিই খুব ভালো লাগলো। আর হ্যাঁ বিড়াল ছানার নামটি কিন্তু ভারী সুন্দর হয়েছে। জিনু নামটি যেমন সুন্দর দেখতেও কিন্তু খুবই কিউট লাগছে। বিড়াল পুষতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। তবে আমার পোষা বিড়ালটি মারা যাবার পর, এখন আর পোষা হচ্ছে না। আপনার আদর ও ভালবাসায় জিনু বড় হয়ে উঠুক এই প্রত্যাশা করছি।
ভাইয়া কি বলবো বুঝতে পারছি না। আমিও ভাবীর মতো বিড়াল ঘরে রাখা পছন্দ করিনা।মনে হয় খাবারে মুখ দেবে।আর নানান ঝামেলা তো আছেই।আমার বাসায় ও দুই দল।ছেলে ঘ্যান ঘ্যান করে তাই বলেছিলাম,তুমি ক্লাস টু থেকে থ্রি তে ১-৫ এর মধ্যে রোল হলে আনব।করতে পারেনি আমিও আনিনি।কি ঠিক করেছি তো? 😂 জিনুকে কিন্তু খুব সুন্দর লাগছে।তারপরেও ঘরে রাখা আমি পারিনা।যাক আপনি আরো ব্যস্ত সময় পার করছেন।শেয়ার করলেন, দেখে নিলাম।ধন্যবাদ আপনাকে।
বাহ! বেশ কিউট বিড়ালছানাটি ও না না জিনু। আসলে বাচ্চারা বিড়াল ছানার প্রতি অনেক বেশি উৎসাহ আগ্রহ পোষণ করে থাকে, সে দিক থেকে আপনার বাচ্চাদের মত আমারও বিড়াল ছানা পালতে মন চায় কিন্তু বাসার অন্যরা কেউ এই বিষয়টা সমর্থন করে না তাই আর বিড়ালছানা পোষাও হলো না। বাসার লোকদের আসলে দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই কারণ সময় স্বল্পতার কারণে আমি নিজেও কখনো চেষ্টা করিনি বিড়ালছানা পোষার জন্য। যাই হোক আপনার এবং আপনার বাচ্চাদের মনের আশা পূর্ণ হয়েছে আপনার পোষ্টের মাধ্যমে সে বিষয়টা বুঝতে পেরেছি। তবে ভাইয়া হোম মিনিস্টার কিন্তু অনেক মনের কষ্টে আছে সেই বিষয়টা কিন্তু খেয়াল রাখবেন তা না হলে কপালে কিন্তু আরও একটি বিপদ সংকেত আছে। যে কোন মুহূর্তে ঘন্টা বেজে যেতে পারে কিন্তু।
ভাইয়া বিড়ালের নামটি কিন্তু আমারও খুব পছন্দ হয়েছে।জিনুর জন্য আপনার ব্যস্ততা বেশ বেড়ে গেছে। তবে ভাইয়া যেদিন বাজার থেকে কম মাছ নিয়ে আসবেন সেদিন কিন্তু আপনারা মাছ না খেয়ে জিনুকে খাওয়াবেন,হা হা হা। যাহোক ভাইয়া, শেষ পর্যন্ত যে আপনার বিড়াল পোষার স্বপ্নপূরণ হয়েছে এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে? ভাইয়া জিনু যেহেতু একলা আছে, তাই আরো একটি বিড়াল নিয়ে এসে তার নামটি দেবেন মিনু।
আপনার ছেলেমেয়েদের পছন্দের পোষা প্রাণী হচ্ছে খরগোশ এবং বিড়াল।আন্টি বাড়িতে বিড়াল পালন করেন।আর বিড়াল গুলো অনেক সুন্দর হওয়ার জন্য অন্যরা এসে নিয়ে নেন।তিনজন যেহেতু একজোট ছিলেন,তাই ভাবী এবার এই পোষা প্রাণী আনতে বাঁধা দিয়েও পারেন নি।বিড়াল টা দেখতে অনেক কিউট লাগছে।আমার এই প্রাণী গুলো ভালো লাগে,তবে আমি ভাবির সাথে একমত বাসায় এগুলো না নেওয়াটাই ভালো। জিনুর পিছনে বেশ সময় যাচ্ছে তাহলে আপনার।অবশেষে আপনার ইচ্ছে পূরণ হয়েছে ছেলে মেয়ের জন্য এটা আনন্দের একটি বিষয় বলা যায় তাহলে।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।