মেয়েকে নিয়ে শিশু পার্কে ঘুরতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা (শেষ পর্ব)।
আমি পরিবার নিয়ে পার্কের ভেতরে ঘুরে সময় কাটাতে লাগলাম লোকজনের অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করার পর একটি লোককে দেখতে পেলাম। সাথে দুটি বাচ্চা সহ তিনিও আমাদের মত বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ফিরে দেখছিল। তাকে দেখে আমার মনে একটি বুদ্ধি এলো। আমি চিন্তা করলাম তাদের সাথে সাথেই বিভিন্ন জায়গায় যেতে থাকি। তার বাচ্চাগুলো যে রাইডগুলোতে উঠবে আমার বাচ্চাকে সেখানে উঠিয়ে দেবো।
তবে কিছুক্ষণ ঘোরাফেরার পর দেখলাম তার বাচ্চাদের রাইডে ওঠার খুব একটা আগ্রহ নেই। তখন আমি চিন্তা করতে লাগলাম এখন কি করা যায়? কিছুক্ষণ এভাবে ঘোরাফেরা করার পর আমি এক রাইডের পাশে দাঁড়ানো পার্কের কর্মচারীর কাছে জিজ্ঞেস করলাম যে এখানে আমার বাচ্চা চড়তে পারবে কিনা এই রাইডে? তখন সে জানালো আপনি টিকেট কাটলেই আপনার বাচ্চা চড়তে পারবে। আমি তখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম কিন্তু আমার বাচ্চা তো শুধু একা উঠবে। এখানে তো আর কোন লোক দেখছি না। তখন সে জানালো সমস্যা নেই। এই রাইড একজন বাচ্চাকে নিয়েও চালানো যায়।
তখন দেখলাম আমার মেয়ের মুখ খুশিতে ঝলমল করছে। তারপর সেই রাইডে চড়া শেষ হলে আমরা ঘুরে ফিরে দেখতে লাগলাম কোন রাইড গুলিতে একজন হলেও চড়া যায়। খুঁজে খুঁজে আমার মেয়েকে সেই রাইড গুলিতে ওঠার জন্য টিকেট কেটে দিলাম। বেশিরভাগ রাইডে সে একাই উঠলো। তবে একটি টয় ট্রেন আছে। সেটাতে মিনিমাম ২ জন লাগবে চালাতে হলে। সে জন্য আমি আমার মেয়েকে দুটো টিকিট কিনে দিলাম। সে তার মাকে নিয়ে সেই ট্রেনে উঠলো।
এভাবে আমরা ঘুরেফিরে বেড়াতে লাগলাম। আর আমার মেয়ে বিভিন্ন রকম রাইড গুলিতে চড়তে লাগলো। যদিও সে শুধু তুলনামূলক ছোট আকারে রাইড গুলিতে চড়তে পেরেছে। কারণ লোক স্বল্পতায় বড় রাইড গুলির একটাও চলছিল না। আমি ঘোরাফেরার ভেতরে পার্কের এক কর্মচারীকে বললাম আপনারা টিকিটের দাম এত বাড়িয়েছেন কেন? দেখুন ভেতরে কোন লোকজন নেই। এভাবে হলে আপনাদের ব্যবসা চলবে কিভাবে?তখন সে আমাকে বলল আমাদের কি করার আছে বলুন? এটা তো মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত। আমি বুঝতে পারলাম সে সঠিক কথাই বলছে। আসলে তারই বা কি করার আছে?
এর আগের বার যখন পার্কে এসেছিলাম তখন এক একটা রাইডের টিকেটের দাম ছিল ৪০ টাকা করে। এবার প্রত্যেকটা রাইডের টিকেটের দাম ৬০ টাকা করেছে। পার্কের মান হিসেবে আমার কাছে টিকিটের দামটা কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। তবে পার্কের ভেতর অনেকক্ষণ ঘোরাফেরার পরও তেমন কোনো খাবারের দোকান দেখতে পেলাম না। দু তিনটি দোকান আছে। সেখানে শুধু চটপটি চিপস আইসক্রিম এগুলি পাওয়া যায়। দোকানগুলিতে খাবারের বৈচিত্র একেবারেই কম। তাছাড়া এত কম লোক সমাগম দেখে সেখান থেকে খাবার খেতেও মনে সাই দিচ্ছিলো না। মনে হচ্ছিল খাবারগুলো বাসী হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম এখান থেকে বাইরে গিয়ে সময় পেলে কিছু খেয়ে নেব।
এবার পার্কে ঘোরাফেরার সময় একটা জিনিস কিছুটা ভালো লেগেছে। সেটা হচ্ছে পুরো পার্ক ভরে বিভিন্ন রঙের বিভিন্ন আকৃতির পিটুনিয়া ফুল লাগানো হয়েছে। এই ফুলগুলি পার্কের সৌন্দর্য বেশ খানিকটা বৃদ্ধি করেছে। তাছাড়া নতুনভাবে রং করার জন্য পার্কটি দেখতে আগের থেকে ভালো লাগছিল। পার্কের ভেতর একটি ছোট আকারের চিড়িয়াখানা ছিলো। কিন্তু সেই চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখতে পেলাম দিন দিন সেখানকার প্রাণীদের পরিমাণ কমছে। যাইহোক চিড়িয়াখানার অবস্থা নিয়ে অন্য আরেকদিন আপনাদের সাথে কথা হবে।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | ফরিদপুর শিশু পার্ক |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
শেষমেষ একা একাই বিভিন্ন রাইডে চড়ে মামনির মুখে হাসি ফুটে উঠলো। এরকম খোলামেলা জায়গায় এত বড় একটি পার্ক দেখে ভালো লাগলো। তবে লোকসমাগম খুবই কম। আসলে লোকসমাগম কম বলেই হয়তো দোকানপাটের পরিমাণ কম। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যেখানে লোক সমাগমের পরিমাণ কম সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য তাদেরকে হয়তো টিকিটের টাকার পরিমান বাড়াতে হয়েছে। আর চারপাশে যখন সুন্দর সুন্দর শীতকালীন ফুলে ভরে থাকে তখন দেখতে সত্যিই ভালো লাগে। যাইহোক চিড়িয়াখানায় এখন অনেক প্রাণী বিলুপ্তি পায়। আশা করছি চিড়িয়াখানায় যাওয়ার অনুভূতি অন্য কোনদিন জানতে পারবো ভাইয়া।
অন্য বাচ্চারা রাইডে উঠলো না।তারপরেও একজন হলেই রাইড চালানো হয়,এটা বেশ ভালো একটা ব্যাপার এখানে।অন্যত্র তো কয়েকজন না হলে তারা বন্ধ রাখেন।আপনার মেয়ের মুখ রাইডে চড়ার কথা শুনেই খুশিতে ঝলমল করছিল।বাচ্চারা রাইডে চড়তে খুব ভালোবাসে।টিকেটের দাম এখন ৬০ টাকা হয়ে গেছে,সবকিছুর দাম বাড়াতে মনে হয়।শিশু পার্ক নতুনভাবে রং করাতে দেখতে অনেকটা ভালো লাগছিল,তাছাড়া চিড়িয়াখানার অবস্থা আগের থেকে অবনতি হয়েছে।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মুহূর্তের পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
সন্তানের মুখের হাসি বাবা মায়ের একান্তই কাম্য আর তাইতো মামনি যখন রাইডে চড়তে পারবে শুনে তার মুখ হাসিতে ঝলমল করছিল, আর সেই দৃশ্য আপনি বাবা হয়ে স্বচক্ষে দেখেছেন, এতে করে আপনার মনের ভেতর অবশ্যই প্রশান্তির ছায়া নেমে এসেছে। কেননা আমি একজন বাবা তাই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছি। যাইহোক ভাইয়া, মেয়ের সাথে দেখছি আমাদের ভাবিও টয় ট্রেনে চড়ে আনন্দ উপভোগ করেছে। পরিবার নিয়ে কোথাও বেড়াতে গেলে ভালো লাগাটা সত্যিই অনেক বেড়ে যায়। মেয়েকে নিয়ে শিশু পার্কে ঘুরতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
শিশু পার্কে গিয়ে মেয়ের সাথে আপনারাও খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছেন আশাকরি। শিশু পার্কে এখনও গেলে আমারও বিভিন্ন রাইডে উঠতে ইচ্ছে করে। যাক একা উঠা যায় এমন রাইডে উঠতে পেরে মেয়ের মুখ ঝলমল করে উঠল বেশ ভাল। ৪০ টাকা টিকিট এখন ৬০ টাকা।সবকিছুরই তো দাম বাড়তি।পার্কের ভেতরে খাবারের দোকান তেমন নেই, কারন লোকজন তো কম এটাই কারন।পার্কে অনেক ফুলের সমারোহ দেখতে পেলেন।পার্কে ছোট একটি চিড়িয়াখানা ও আছে।যেখানে প্রানীর সংখ্যা কম।অন্য একদিন শেয়ার করবেন তখন দেখতে পাবো। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
আপনারা বাবা মেয়ে পার্কের ভিতর খুব সুন্দর একটি মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। আগে ছিল টিকিট 40 টাকা এখন 60 টাকা !! অনেক বাড়িয়েছে দাম। হ্যাঁ ভাইয়া পার্কের ভিতরে যদি রংবেরঙের ফুল গাছ না থাকে তাহলে কিন্তু ভালই লাগে না। পার্কের সৌন্দর্য বাড়ায় রংবেরঙের গাছ, ফুল গাছ। পার্কের ভিতরের চিড়িয়াখানা নিয়ে পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম। আসলেই তুমি দিনদিন চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন রকম প্রাণীর হার কমে যাচ্ছে।
আসলে বাচ্চারা পার্কে গেলে রাইডে উঠতে না পারলে মন খারাপ করে,আবার একা উঠতে দিতে মন দেয় না।যাই হোক আপনার মেয়ে কিছু কিছু রাইডে উঠতে পেরেছে জেনে ভালো লাগলো।আসলে ইদানিং মনে হচ্ছে সব জায়গার রাইড এর টিকেটের দাম বাড়িয়েছে।ভালো বুদ্ধি করেছেন বাহিয়ে যেয়ে খাওয়ার।ভালো লাগলো।ধন্যবাদ