নাটক রিভিউ :- " স্কুল গ্যাং সিজন ২ " ( পর্ব ১) ✅
ABB ২১ আগস্ট বুধবার ✅
বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আশা করি আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সবাই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো সুস্থ আছি। আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে নতুন ব্লগ করলাম। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব একটি নাটক রিভিউ। নাটকের নাম হচ্ছে স্কুল গ্যাং সিজন ২ । নাটকটি মূলত পর্ব আকারে করা হয়েছে । বেশি দিন ধরে আমি এই নাটকটি দেখছিলাম। যদি এটা অনেক আগেই বের হয়েছে। তবে যেহেতু এই নাটকটি বেশ কিছুটা পর্ব তৈরি করা হয়েছে, তাই জন্য ভাবলাম আপনাদের মাঝে একটা একটা করে পর্ব শেয়ার করবো। আজকে আমি আপনাদের মাঝে নাটকের ১ম পর্ব টা শেয়ার করবো। আশা করি রিভিউটা পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে।
নাটক সম্পর্কে কিছু তথ্য :-
| নাম | স্কুল গ্যাং সিজন ২ |
|---|---|
| কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা | আর্থিক সজীব। |
| অভিনয়ে | শহিদুল আলম সাচ্চু, আব্দুল্লাহ রানা, ছতামিম খন্দকার, শায়লা সাথী, সিয়াম মৃধা , আরোহী মিম, মিরাজ খান, আদর আহমেদ , নাজিয়া বর্ষা, সাকিব সিদ্দিকি, অনন্যা ইসলাম, শোয়েব শান্ত , রকি খান, ফারুক আল ফারুকী সহ আরো অনেকে। |
| প্রধান সহকারী পরিচালক | মামুন অর রশিদ |
| সম্পাদনা | সাইদুর রহমান সবুজ |
| মিউজিক | বি এইচ পারভেজ |
কাহিনী সারসংক্ষেপ
নাটকটার প্রথম পর্বের শুরুতেই দেখা যায়, সাথীর বাড়িতে সিয়াম এসেছে তাকে কোনো কিছু দেখানোর জন্য। আর তিন বছর পর তাদের দেখা হয়েছে। সাথী সিয়ামের সাথে কথা বলতে চাচ্ছিল না পরবর্তীতে সিয়াম সাথে কে একটা ভিডিও দেখায়। যেটা তার বান্ধবীর মায়ের ভিডিও ছিল। তিনি নিজের মেয়ের মৃত্যুর এখনো বিচার পাননি এটাই বলছিল। তারপর সিয়াম সাথীকে জানায় সাথীর ফ্রেন্ড শান্ত সিয়াম কে নাকি ভিডিওটা দিয়েছে। এরপর তারা তাদের পুরনো স্কুলে যায় সাথীর সাথে শান্তকে দেখা করানোর জন্য। স্কুলে ঢুকার সাথে সাথেই তারা শান্তর গান শুনতে পায়। আর যখনই সাথী ক্লাস রুমে যায়, তখনই শান্ত তাকে দেখে পালিয়ে যায়। তারপর সিয়াম তাকে তাদের ফ্রেন্ডশিপ এর ব্যাপারে বিভিন্ন রকম কথা বলতে থাকে। এমনকি এটাও বলে তাদের ফ্রেন্ডশিপ নাকি কখনোই নিকৃষ্ট ছিল না। তারপর সাথে পুরো কাহিনীটা কল্পনা করে বলতে থাকে।
প্রথমেই দেখা যায় শান্ত ক্লাসরুমে বসে বসে গান করতেছে। আর তখনই সাথে তাকে বাধা দেয়। সাথী এবং নাজিয়া তাকে বিভিন্ন কথা বললেও সাকিব তাকে সাপোর্ট করে। এভাবে তারা কথা বলতে থাকে। তারপর মিরাজকে দেখা যায় ক্লাস রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর তখনই আরোহী অফিস রুম থেকে ফারুক ভাইয়ের সাথে বের হয়। সে নতুন ভর্তি হয়েছে স্কুলে। আর তাদের ক্লাসেরই ছিল। মিরাজ প্রথমেই আরোহীকে দেখে ক্রাশ খেয়ে যায়। আর ক্লাসে এসে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর সে ব্যাপারটা সাকিব এবং শান্তাকে বলে আজ মিরাজ যখনই আরোহীর সাথে কথা বলতে যাচ্ছিল, তখনই বেঞ্চের সাথে হোঁচট খেয়ে মিরাজ আরোহীর গায়ের উপর পড়ে যায়। আর এটার জন্য আরোহী অনেক বেশি রাগ করে, আর ক্লাস রুম থেকে বেরিয়ে যায়। আর সাথী তার সম্পর্কে সবকিছুই তার বন্ধুদেরকে বলে।
মিরাজ তো অনেক বেশি ভয় পেয়ে যায় তার সম্পর্কে সবকিছু জেনে। আর অন্যদিকে আরোহী চলে যায় বাহিরে। কারণ সে অনেক বেশি রিয়েক্ট করে এই ব্যবহারে। তারপরে দেখা যায় হেড স্যার অফিস রুমে বসে কাজ করছিল। আর আদর স্যারকে আরোহীর কথা বলে। তার দিকে খেয়াল রাখার কথা বলেছিল। আর তখনই বাহির থেকে ছেলেদের চিৎকারের আওয়াজ শোনা যায়। বাইকে করে অনেকগুলো ছেলে এসেছিল। আর তারা ছিল আরোহীর ভাই এবং তাদের লোকজন, সাথে আরোহীও ছিল। তাদের চিৎকারের আওয়াজ শুনে প্রত্যেকটা স্টুডেন্ট বাহিরে বের হয়ে আসে। তারপর আরোহী তার ভাই তামিমকে দেখিয়ে দেয় মিরাজ কোনটা। এরপর তামিমের বন্ধু মিরাজকে ধরে নিয়ে আসে। আরোহীর ভাই তো তাকে পাওয়ার দেখাচ্ছিল বিভিন্ন কথা বলছিল। আর হেড স্যার এবং আদর স্যার কে দেখা যায় তারা কথা বলছিল এই বিষয় নিয়ে।
আর তামিম তো মিরাজদের সাথে বিভিন্ন কথা বলার সময় তাকে চড় দেয়। আর তখনই তার বন্ধুরা ক্ষেপে যায় আর ওখানে চলে আসে। আর তামিম তাদেরকে নিজের গ্যাং এর পাওয়ার দেখায়। আর তখন তারা নিজেদের স্কুল গ্যাং এর কথা বলেন। আর এগুলো শুনে তো তারা মজা নিতে থাকে। এরপর তারা তাদের পাঁচজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের চারপাশের বাইক নিয়ে ঘুরাঘুরি করতে থাকে। আর তখনই দেখা যায় তারা হাত তালি দিচ্ছিল। কারণ সেই লোকগুলোর চারপাশে অন্য ছাত্রছাত্রীরা গোল করে এসে দাঁড়ায়। আর তামিমদেরকে বুঝিয়ে দেয় স্কুল গ্যাং এর পাওয়ার। এবং তামিম এবং তার লোকজন সেখান থেকে চলে যায় তবুও তাদেরকে থ্রেট দিয়ে।
আর হেডস্যার আদর স্যার কে বলে দেয় আমাদের স্কুলের স্টুডেন্ট এর পাওয়ার কতটা। আর হেড স্যার আদর স্যার কে বলে সব দিকে যেন খেয়াল রাখে। এরপর স্কুল ছুটি দিয়ে দেয়। আর তারা পাঁচ বন্ধু যাওয়ার সময় তাদের বিষয়ে বিভিন্ন কথা বলতে থাকে। আর তারা আরোহী কে শায়েস্তা করার জন্য প্ল্যান করতে থাকে। আর মিরাজ তাদেরকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা মানে না। কারণ আরোহী এখন তাদের শত্রু পক্ষ। এখানে ভালোবাসা দেখানোর মতো কিছু নেই। এরপর মিরাজ না যাইতে রাজি হয়। তারপর তারা প্ল্যান সম্পর্কে আলোচনা করে। আর তখনই পর্বটা এখানে শেষ হয়ে যায়। এখন দেখতে হবে পরবর্তী পর্বে এই হতে চলেছে। পরবর্তী পর্বের রিভিউ পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকুন।
ব্যক্তিগত মতামত
আজকে আমি আপনাদের মাঝে স্কুল গ্যাং সিজন টু এর প্রথম পর্ব টা শেয়ার করেছি। আর এই পর্বে আপনারা শুরুতে ই দেখতে পেয়েছেন ৩ বছর পরের ঘটনা। আর তারপর সাথী কল্পনা করে তিন বছর আগের ঘটনা দেখায়। এই পর্বে আমরা এটা বুঝতে পেরেছি সাথী, নাজিয়া, শান্ত, মিরাজ, সাকিব এরা পাঁচজন বেস্ট ফ্রেন্ড। আর তারা একটা গ্যাং। যাকে বলা হয় স্কুল গ্যাং। আর আরোহী নতুন তাদের স্কুলে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু ভুলবশত আরোহীর গায়ের উপর মিরাজ পড়ে যায়। আর আরোহীর ফ্যামিলি অনেক খারাপ অর্থাৎ ডেঞ্জারেস। এটা সে কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারেনি। আর সে সব সময় শুধু পাওয়ার দেখায়। এমনকি তার ভেতর অনেক অহংকার। তাই সে নিজের ভাইকে নিয়ে আসে। তার ভাই তামিম নিজেদের পাওয়ার দেখালেও, পরবর্তীতে স্কুল গ্যাং নিজেদের পাওয়ার দেখায়। আর তামিম সেখান থেকে চলে যায় নিজের গ্যাং নিয়ে। কিন্তু যাওয়ার আগে আবার তাদেরকে থ্রেট দিয়েছিল। আর শেষে দেখতে পাই স্কুল গ্যাং এর সবাই আরোহীকে শায়েস্তা করার জন্য প্ল্যান করছে। আর অন্য দিকে মিরাজ প্রথম দেখাতেই আরোহীর উপর ক্রাশ খেয়েছিল। তাই সে এটা মানতে চায়নি। তবে তার বন্ধুদের কথার কারণে মেনে নিয়েছে। এখন পরবর্তী পর্বে আমরা জানতে পারবো কি হবে। অপেক্ষায় থাকুন পরবর্তী পর্বের জন্য।
ব্যক্তিগত রেটিং
৯/১০
নাটকের লিংক
নিজেকে নিয়ে কিছু কথা
আমার নাম নুরুল আলম রকি। আমার steemit I'd narocky71। আমি বাংলাদেশী নাগরিক । বাংলাদেশে বসবাস করি। তার সাথে সাথে আমি বিশ্বনাগরিক। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি। বাংলা ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করি। আমি বাংলা ভাষাকে ভালবাসি। আমি ফটোগ্রাফি করতে ও ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে জল রং দিয়ে পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। যখনই আমার সময় এবং হাতে টাকা থাকে তখন ভ্রমণ করতে বেরিয়ে পড়ি। বিশেষ করে আমি ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি অনেক বছর আগ থেকে ফটোগ্রাফি করে থাকি। কিন্তু বিশেষ করে ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি বেশি করা হয়। বর্তমানে তার সাথে আর্ট করতে অনেক ভালোবাসি। বর্তমানে আমি বেশি সময় কাটাই আর্ট শিখতে। বর্তমানে আমার স্বপ্ন, আমি একজন ভালো ফটোগ্রাফার, ও একজন ভালো আর্টিস্ট হব। ( ফি আমানিল্লাহ)
https://x.com/NARocky4/status/1826099343407145364?t=VyasuLh-pVy78JztcWyXqA&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
এই নাটকের কথা শুনতাম তবে কখনো দেখা হয়নি।আপনি দারুন ভাবে গুছিয়ে রিভিউ করেছেন।আপনার জন্য শুভ কামনা।ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
চেষ্টা করেছি নাটকটার রিভিউ সুন্দর করে গুছিয়ে উপস্থাপন করার জন্য।
স্কুল গ্যাং নাটকটার এই পর্বগুলো আমার দেখা হয়েছিল। তুমি আজকে এত সুন্দর করে সিজন টু এর প্রথম পর্ব টা শেয়ার করলে দেখে অনেক ভালো লাগলো। সম্পূর্ণ রিভিউর মাধ্যমে পুরো কাহিনীটাকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছো। সবাই অনেক সহজেই কাহিনীটা রিভিউর মাধ্যমে জেনে নিতে পারবে। এই পর্বে তো দেখছি সাথী সিয়েমকে সবকিছুই বলছে। মিরাজের একটা ভুলের কারণে অনেক বড় একটা সমস্যা দাঁড়িয়েছে দেখছি। এখন দেখা যাক কি হবে। সিজন ২ এর প্রথম পর্বটার রিভিউ ভালো লেগেছে। অপেক্ষায় থাকলাম দ্বিতীয় পর্বের জন্য।
হ্যাঁ এখন দেখতে হবে আরোহী এবং তার ভাই স্কুল গ্যাং এর সাথে কি করে। পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকো। তাড়াতাড়ি শেয়ার করার জন্য চেষ্টা করবো পরবর্তী পর্ব।
এই নাটকের সবগুলো পর্বই আমি দেখেছি আর এ নাটক গল্প এতটাই সুন্দর যার জন্য বারবার দেখতে ইচ্ছে করে। আপনার রিভিউ পড়ে খুব ভালো লাগলো। এই ধরনের নাটক গুলো দেখতে সবসময়ই ভালো লাগে। তারা নাটকের মধ্যে বন্ধুত্ব সম্পর্কটাকে খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এমন বন্ধুত্ব যদি বাস্তবে সবার মধ্যে হতো তাহলে হয়তো জীবনটাই অন্যরকম হতে পারতো। যাইহোক সম্পূর্ণ নাটকের রিভিউ খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। আপনার রিভিউ পড়ে খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর একটি নাটক রিভিউ দেওয়ার জন্য।
আমি নিজেও এই নাটকের সবগুলো পর্ব দেখেছি। আপনিও দেখেছেন শুনে ভালো লাগলো। আসলে বাস্তবে এরকম বন্ধুত্ব হলে জীবনটা অন্যরকম হতো।
ভাইয়া আপনি অনেক সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করছেন। স্কুল গ্যাং নাটকটির অনেক সিন দেখছি কিন্তু পুরোপুরি ভাবে নাটক টি দেখা হয়নি। যাইহোক নাটকের রিভিউ টা পড়ে খুব ভালো লাগলো।আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই পোস্ট টি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
পুরোপুরি ভাবে দেখা না হলে অবশ্যই দেখবেন। প্রথম পর্বের রিভিউ পড়ে ভালো লেগেছে শুনে খুশি হলাম।