ক্রিটিভ রাইটিং (গল্প) // হঠাৎ এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল
আসসালামু আলাইকুম/আদাব আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গন আমি @kibreay001 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (২২-০৮-২০২৪)
আসসালামু আলাইকুম আমার স্টিম বন্ধু গন আশা করি আপনারা অনেক ভালো আছেন । আপনাদের দোয়ায় আমিও অনেক ভালো আছি। আমি @kibreay001 আমি আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি ক্রিটিভ রাইটিং (গল্প) // হঠাৎ এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল। আজকে সকাল বেলা থেকেই বেশ ব্যস্ত সময় পার করছি। সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই বেশ কিছু সময় বাড়ির কাজে আব্বুকে সাহায্য করেছিলাম। তারপরে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে মাছের খাবার দেওয়ার জন্য পুকুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। পুকুরে প্রায় এক থেকে দুই ঘন্টা মাছের খাবার দিয়েছিলাম।। মাছের খাবার দেওয়া শেষ করে বাড়িতে এসে আমি নিজেও হালকা-পাতলা একটু নাস্তা খেয়েছিলাম। তারপরে বাইক নিয়ে বাড়ির কাজের জন্য আবারো বাইরে যেতে হয়েছিল। যেহেতু আমার আব্বুর ব্যবসা রয়েছে তাই আমার নিজেরও একটু দেখাশোনা করা লাগে। গরুর ভুষি কেনার জন্য বাজারে গিয়েছিলাম। বাড়িতে এসে বেশ কিছু সময় বসে ছিলাম। তারপরে আপনাদের মাঝে কিছু কমেন্ট করেছিলাম। গোসল শেষ করে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ভাবলাম আজকে একটা পোস্ট শেয়ার করি। কি পোস্ট শেয়ার করব মাথায় আসছিল না। পরে ভাবলাম যেহেতু আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলাম তাই এ বিষয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করব। তবে চলুন আজকের পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করা যাক......
আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির প্রায় প্রত্যেক ইউজার জানে আমি নিজে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাই যেহেতু আমাদের পরীক্ষা এবার বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে তাই আমি নিজেই এই বিষয়ে পোস্ট শেয়ার করতে যাচ্ছি। আসলে প্রথমদিকে দেশের পরিস্থিতি খারাপ এজন্য বেশ কয়েকবার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। এবং দুই থেকে তিনবার নতুন নতুন পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রত্যেকটা ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা জন্য বেশ কনফিউজ ছিল। আসলে দেশের পরিস্থিতি যেহেতু খারাপ ছিল তাই সেই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে ছাত্রছাত্রীরা ঢাকাতে পরীক্ষা বাতিলের জন্য আন্দোলন করেছিল। আসলে শিক্ষা বোর্ড এ আন্দোলনের মুখে পড়ে পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল। অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে অনেক দাবি ছিল। যদি পরীক্ষা নেয়া হয় তবে আমাদের বন্যায় কবলিত শিক্ষার্থীদের কি ব্যবস্থা করা হবে। এ সকল বিষয় সার্বিক মাথায় রেখে হয়তো শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা বাতিল বলে ঘোষণা করেছিল।
আমি এবার যশোর বোর্ডের আওতায় এইচএসসি পরীক্ষা অংশগ্রহণ করেছিলাম। আসলে প্রত্যেকটা বোর্ডে সমান পরীক্ষা হয়নি। বাংলাদেশে মোট ১১ টি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে। বেশ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা নিয়েছিল। যেহেতু আমি যশোর বোর্ডের মানবিক শাখার স্টুডেন্ট ছিলাম। আমার নিজের ৮ টি পরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে। এখনো আমার নিজের ৫ টি পরীক্ষা বাকি ছিল। তবে যদি প্রত্যেকটা বোর্ডে যে কয়টা পরীক্ষা হয়েছে এভাবে মূল্যায়ন করে নাম্বার দেওয়া হয় তাহলে অন্যান্য বোর্ড গুলা বেশ সমস্যার সম্মুখে পড়বে। সিলেট বোর্ডের শুধুমাত্র ১ টি পরীক্ষা হয়েছে। কারণ আমাদের যখন পরীক্ষা হয়েছিল তখন সিলেট বন্যায় অনেক অঞ্চল ডুবেছিল তাই সিলেট বোর্ডে পরীক্ষা নেওয়া সেই সময় সম্ভব হয়নি। আসলে সকল কিছু বিবেচনা করে হয়তো শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল।
আবার এখন যদি পরীক্ষা নেওয়া হয় তাহলে নতুন পরীক্ষার রুটিন আবারও তৈরি করতে হবে। এবং আবার নতুন করে ফেনী জেলা বন্যায় ডুবে গিয়েছে। এ সকল শিক্ষার্থীদের কি ব্যবস্থা করা হবে সবকিছুই প্রশ্নের সম্মুখীন পড়ছে। সবকিছু দিক বিবেচনা করে হয়তো শিক্ষা বোর্ড সারা বাংলাদেশের পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছে। তবে আমি নিজে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এবার পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়া নিয়ে বেশ চিন্তার মধ্যে পড়েছি। পরীক্ষার রেজাল্ট কিভাবে দিবে এখনো জানা যায়নি। তবে আমি হালকা একটু জানতে পেরেছিলাম জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের উপর ভিত্তি করেই এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়া হবে। আমি চাই শিক্ষা বোর্ড প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যেটা ভালো হবে সেই ব্যবস্থাই যেন শিক্ষা বোর্ড গ্রহণ করে।
আমাদের প্রত্যেকটা স্টুডেন্টের আবারও পরবর্তী মিশন হচ্ছে ইউনিভার্সিটি কিভাবে এডমিশন হবে এটা প্রত্যেকের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আসলে এডমিশনের ক্ষেত্রে বুয়েট রুয়েট কুয়েট এরা প্রায় প্রত্যেকটা সাবজেক্টে ৯৫ নম্বরের উপরে ডিমান্ড সার্চ করে থাকে। আসলে যদি অটো পাস হয় তাহলে যারা পরবর্তীতে এসে ভালো লেখাপড়া করেছিল তাদের জন্য বড় বড় ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষা দেওয়ার অনেক ডিফিকাল্ট হয়ে যাবে। আশা করি আমাদের দেশের পরিস্থিতি আবারও খুব দ্রুত ঠিক হয়ে উঠবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে। তবে আমার নিজের পরিবার থেকে এখন চাপ দিচ্ছে পরীক্ষা হচ্ছে না অটো পাস এই রেজাল্ট দিয়ে কি হবে আসলে আমি বাড়িতে কাউকেই বোঝাতে পারছি না। আমি মনে করি অনেক ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া অটো পাশের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যে পড়বে। আশা করি আজকের লেখা পোস্টটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে। সকলের মতামত নিচে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাবেন। সকলের জন্য শুভকামনা রইল।
আমি মোঃ কিবরিয়া হোসেন। আমি বাংলাদেশ খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানা কামারখালী গ্রামে বসবাস করি। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলতে এবং লিখতে অনেক ভালোবাসি। সব থেকে আমি বেশি পছন্দ করি ফটোগ্রাফি করতে। আমি বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন জায়গা ঘোরাঘুরি করে থাকি। কয়েকটি শখের মধ্যে আমার প্রধান শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করা। সংক্ষিপ্ত আকারে আমি আমার নিজের পরিচয় শেয়ার করলাম আপনাদের মাঝে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
x-promotion
বন্ধু তুমি আজকে আমাদের মাঝে খুবই সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করেছ। তুমি আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছ এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় নিয়ে। আসলে বন্ধু পরীক্ষা নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কেননা বারবার শুধু তাদের মতামত পরিবর্তন করছে। সত্যি এটা অনেক বিভ্রান্তিকর। অবশেষে আবার পরীক্ষা বাতিল হলো। আমার আর সাতটা পরীক্ষা বাকি ছিল। তাছাড়া আমাদের যশোর বোর্ডে যে কয়েকটি পরীক্ষা হয়েছে তা সিলেট বোর্ডে বন্যার কারণে হয়নি। তবে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
বিশেষ করে এবার পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা নিয়ে সত্যি বেশ দুশ্চিন্তায় ছিল। যেহেতু তুমি একজন পরীক্ষার্থী ছিলে তাই বিষয়টা অনুভব করতে পেরেছিলে বন্ধু। ধন্যবাদ মতামত দেওয়ার জন্য।
আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে স্টুডেন্টদের উপর। সেই কবে পরীক্ষা থেমে গেছিল। আবারো কোনরকম পরীক্ষার আশ্বাস পাওয়া গেল। কিন্তু আজকে আবার পরীক্ষা থেমে গেল। কি আর করার। এমনিতেই শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো নয়। তারপরে যদি এমনটা হয় কি আর করা যাবে।
আসলে মামা যেহেতু এবার পরীক্ষার্থী ছিলাম তাই পরীক্ষা নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে অবশেষে জানতে পারলাম পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আশা করি শিক্ষাব্যবস্থা সামনের দিনে আরো ভালো হবে। ধন্যবাদ মতামত শেয়ার করার জন্য।