জেনারেল রাইটিং :- শৈশব স্মৃতি বৃষ্টি নামানো

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago

আসসালামু আলাইকুম

আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি।

শৈশব স্মৃতি বৃষ্টি নামানো

1000011784.jpg

Source

বরাবরের মতো আজও আমি আপনাদের মাঝে এসেছি নতুন একটা পোস্ট নিয়ে। আসলে আজ এসেছি একটি শৈশব স্মৃতি নিয়ে। আমাদের শৈশব সত্যি অনেক মধুর ছিল। তবে এখনকার বাচ্চাদের শৈশব থাকে শুধু ডিভাইস নিয়ে। আসলে আমাদের সময় এমন অনেক গরম পড়তো। তখনো বৃষ্টি হতো না বলেই চলে। তখনকার দিনে আমরা সম বয়সী ভাইবোন বন্ধুবান্ধব মিলে গ্রামে বৃষ্টি নামাতাম। আসলে আজ কয়েকটি বাচ্চারা আমাদের এদিকে বৃষ্টি নামাতে এসেছে তাদের দেখে সত্যি শৈশবের সব কথা মনে পড়ে গেল। তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে শৈশবের বৃষ্টি নামানো নিয়ে লেখি।যেই ভাবা সেই কাজ। সত্যি আমার মনে হয় আমাদের শৈশব অনেক মধুর ছিল তবে এখনকার বাচ্চাদের মতো ঘরে বন্ধী থাকতে হতো না। যাইহোক তাহলে চলুন শুরু করি আজকের পোস্ট।

আজ কয়েক দিন ধরে অনেক গরম পড়ছে। সত্যি এতো গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ। এই গরমে সবাই একটু সাবধানে থাকার চেষ্টা করবেন। যাইহোক আমি যখন ক্লাস সিক্স এ পড়ি তখনকার ঘটনা। আমরা একই বয়সী প্রায় সাত আট জন ছিলাম। এভাবে এক টানা অনেক দিন বৃষ্টি নামছিল না। তারপর আমার এক চাচাতো ভাই ও বোন বললো চলো আমরা সবাই মিলে বৃষ্টি নামায়। আসলে বৃষ্টি কিভাবে নামে আমি জানতাম না। তারপর আমার চাচাতো বোন বললো তুই আমাদের সাথে যাবি আমরা যা বলবো তুই সাথে সাথে তাই করবি। তখন আমি বাড়িতে এসে আমার বড় বোনকে বললাম তখন আমার বড় বোন বললো যা ওদের সাথে। তারপর আমরা সাত আট মিলে গ্রামে বের হলাম।যেহেতু আমি কিছুই পারি না তাই আমাকে চাউল তোলার ব্যাগ ধরতে বললো।আমরা গ্রামের এক পাশ থেকে নেচে নেচে আর গান করে চাল উঠাতে লাগলাম।


আসলে যার বাড়িতে আমরা যেতাম তারাই মাঝ খানে একটু পানি দিয়ে দিত। তারপর আমরা সবাই মিলে হাত ধরে ঘুরতাম আর বলতাম আল্লাহ মেঘ দে পানি দে ছায়া দেরে।এভাবে আমরা সবাই মিলে ছয় দিন আশে পাশের গ্রামে গিয়ে গান আর নাচ করে এসেছি। তারপর সব বাড়ি থেকে আমাদের কিছু চাল, ডাল, মরিচ, পিঁয়াজ ইত্যাদি দিয়েছে। আমরা একটা কলার পাতা দিয়ে ঘর বানিয়ে ছিলাম। সেখানে এনে সব কিছু রাখতাম। ছয় দিন পরে দেখি আমাদের প্রায় বিশ কেজি চাউল হয়েছে।আরো অনেক কিছু হয়েছে তবে বৃষ্টি না নামা পর্যন্ত আমাদের রান্না করা যাবে না। যেহেতু সাত দিনে আমরা রান্না করবো কিন্তু বৃষ্টি না নামলে নাকি রান্না করতে নেই। আমরা কলার পাতার ছোট ঘরে সবাই বসে দোয়া করতে থাকলাম আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য। ছয় দিনে রাতে আমরা আল্লাহর কাছে অনেক প্রাথনা করলাম। তারপর ভোর রাতের দিকে শুরু হলো তুমুল ঝড় বৃষ্টি। এতো পরিমাণ ঝড় বৃষ্টি হয়েছে যে আমাদের কলার পাতার ঘরে উঠে চলে গেছে। যাইহোক অবশেষে রহমতের বৃষ্টি হয়েছে। এখন আমরা নির্দ্বিধায় খিচুড়ি রান্না করে খেতে পারবে।


তারপরের দিন সকাল থেকে শুরু হলো আমাদের রান্নার আয়োজন। তবে আমরা দশ কেজি চাল বিক্রি করে কয়েক কেজি ব্রয়লার মুরগি এনেছিলাম। তারপর আমার এক চাচি আমাদের খিচুড়ি রান্না করে দিয়েছে। আমরা গ্রামের সবাইকে দাওয়াত করেছিলাম। যদিও কিছু কিছু লোক এসেছিল তারপর আমরা সবাই মিলে বেশ মজা করে খেয়েছি। সত্যি সেই শৈশবে যদি আবার ফিরে যাওয়া যেত। আসলে এখন আর আগের মতো বাচ্চাদের শৈশবের আনন্দ দেখা যায় না। যাইহোক এমন শৈশবের কথা কখনো ভুলার হয়। আর শৈশবের অনুভূতি গুলো কখনো শেষ হবার নয়। আশাকরি আমার শৈশবে লেখা গুলো আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
প্রয়োজনীয়তথ্য
ফটোগ্রাফার@parul19
ডিভাইসredmi note 12
লোকেসনফরিদ পুর



আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগে অন্য কোন লেখা নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

1000000175.png

আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্ম নিয়ে নিজেকে ধন্যবাদ মনে করি।

1000000177.gif

1000000178.png

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 2 years ago 

সব জায়গায় একই অবস্থা প্রচন্ড গরম পড়ছে কিন্তু বৃষ্টির দেখা নেই । আপনি ছোট্ট বেলার বৃষ্টি নামানো যে মজার ঘটনা সেটা আজকে শেয়ার করলেন। সত্যিই সেই দিন গুলো কতই না মধুর ছিল। বন্ধু বান্ধবের সাথে এভাবে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে চাল ডাল তোলা তারপরে বৃষ্টির জন্য দোয়া করা। আনন্দের মাধ্যমে সময় পার করা সবই যেন এখন অতীত । যেটা বর্তমান যুগে দেখতে পাই না খুবই মিস করি ভালো লাগলো আপনার গল্প পড়ে।

 2 years ago 

জি ভাইয়া বর্তমানে সেগুলো দেখা যায় না বলেই চলে, ধন্যবাদ ভাইয়া।

 2 years ago 

আপনার সম্পূর্ণ পোস্টটা পড়ে আমার খুব ভালো লাগলো। সেই সাথে আপনার মত শৈশবের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে গেল। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখনও প্রচন্ড গরম হতো এবং চৈত্র মাসের রোদ্রে মাঠঘাট সব খেটে চৌচির হয়ে যেত। তখন অবশ্য এত শেচ পাম্প এর ব্যবস্থা ছিল না। তখন যারা বয়জেষ্ঠ ছিল তারা আমাদের স্কুলের ফিল্ডে জামায়াত হয়ে রুদ্রের ভিতরে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে মোনাজাত করতেন। আর আমরা যারা ছোটরা ছিলাম তারা কাদা দিয়ে নিজের আকৃতিকে বিকৃতি করে বাড়ি বাড়ি যেতাম আর মা চাচীরা উঠানে পানি ঢেলে দিত আর আমরা ওই পানিতে গড়াগড়ি করতাম আর গান গাইতাম। যাইহোক আমাদেরকে শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 2 years ago 

আপনার শৈশবকে মনে করতে পেরেছেন জেনে অনেক ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে

 2 years ago 

আপু আপনি একটি দারুন বিষয় নিয়ে পোস্ট লিখে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আসলে ছোটবেলায় বৃষ্টি নামানোর এই খেলাতে আমিও অনেক সময় মেতে ছিলাম বন্ধুদের সাথে। যখন সেই সময় গরম পড়তো বাড়ির পাশে অল্প একটু গর্ত করে সেখানে পানি দিয়ে সেই পানির মধ্যে নেমে গ্রাম অঞ্চলের ভাষায় নুলোখেলা বলে তাকে। আসলে সেই পানির মধ্যে ঝাপড় খেলতে সত্যি বেশ ভালো লাগতো এবং গান বলতে হতো সেই সময়। তবে এখনকার ছেলে মেয়েরা ডিভাইসের প্রতি বেশি আসক্ত হয়েছে আপু আপনি একদম ঠিক বলেছেন। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি শৈশবের স্মৃতিময় ঘটনা শেয়ার করার জন্য।

 2 years ago 

গঠনমূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া

 2 years ago 

শৈশবের দিনগুলো খুবই মধুর আপু। যখন মনে পড়ে সেই ছোটবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। যখন বেশি গরম পড়তো তখন আমরা এভাবে স্লোগানটা দিয়ে পুরো গ্রামে ঘুরে বেড়াতাম। আশা করি বেশ কয়েকদিনের মধ্যেই বৃষ্টি শুরু হবে ওয়েদারটা তেমনই মনে হচ্ছে। এত গরমের মধ্যে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়তেছে। একটু সাবধানে থাকবেন আপু বাচ্চাদের নিয়ে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি শৈশবের স্মৃতি শেয়ার করার জন্য।

 2 years ago 

জি আপু সবাই এটাই আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি হোক,ধন্যবাদ আপু।

 2 years ago 

আপু শৈশবের স্মৃতিগুলো পড়ে খুব ভালো লাগলো। আপনারা বৃষ্টির জন্য তো অনেক কিছুই করতেন।আমার আসলে এমনটা করার সুযোগ কখনো হয়নি।তবে আমি শুধু বলতাম আয় বৃষ্টি ঝেপে ধান দেবো মেপে। লেবুর পাতা করমচা যা বৃষ্টি ধরে যা।আর দেখতাম বৃষ্টি নেমে পরেছে।😂 আপনারা বৃষ্টি নামার পর খিচুড়ি রান্না করে খেতেন। আপনার অনুভূতি গুলো পড়ে খুব ভালো লাগলো আপু। ধন্যবাদ আপনাকে। আশাকরি খুব শীঘ্রই বৃষ্টি এসে পৃথিবীকে শীতল করে দেবে।

 2 years ago 

আপনার ভালো লেগেছে জেনে অনেক ভালো লাগলো, ধন্যবাদ আপু।

 2 years ago 

ছোটবেলার সেই মুহূর্তগুলো সত্যি অসাধারণ। ছোট বেলার কথা মনে পড়লেই খুবই ভালো লাগে। ছোটবেলা গরমের সময় আমরাও এভাবে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতাম। আর বলতাম আই বৃষ্টি ঝেপে ধান দেবো মেপে, সত্যিই এই কথাটি যেন পড়েই সেই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেলম আসলে এই গরমে স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।বিশেষ করে ছোটদের জন্য, যাই হোক আজকে আপনার ছোটবেলার গল্পটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো।

 2 years ago 

সত্যি ভাইয়া ছোট বেলার স্মৃতি গুলো অনেক মধুর, ধন্যবাদ আপনাকে।

 2 years ago 

আপনার এই শৈশবের স্মৃতিটা সত্যিই আমার মন আকর্ষণ করে নিল। এরকম ছোটবেলা খুব কম লোকে পেয়েছে। তবে বৃষ্টি নামানোর এই অভিনব কায়দা আমার আসলে জানা ছিল না, আপনার পোস্ট পড়ে জানতে পারলাম। তাছাড়া মানুষের বাড়ি থেকে চাল সংগ্রহ করে সবাই মিলে পিকনিক করা, তারপর সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে বৃষ্টি আনা, এটা সত্যিই দারুণ একটা ব্যাপার আমার কাছে মনে হল। এরকম ছোটবেলা যদি আমার থাকতো তাহলে কতই না মজা হত!

 2 years ago 

জি ভাইয়া এমন শৈশব সত্যি অনেক মজার হয়,ধন্যবাদ আপনাকে গঠন মূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.086
BTC 59893.70
ETH 1566.97
USDT 1.00
SBD 0.42