প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসী,আশা করছি আপনারা সকলে ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আমিও মহান সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদে ভালো আছি। আজ আপনাদের সাথে আবারো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকের পোষ্ট টি আপনারা টাইটেল দেখেই বুঝতে পেরেছেন ইতিমধ্যে, নাটক রিভিউ পোস্ট। আশা করবো আপনাদের সকলের ভালো লাগবে। তো চলুন সবার আগে নাটকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখে নেই এক নজরে.....
নাটকের শুরুতেই দেখবো দিয়া নামের একটি মেয়ে অপু নামের একজনের সাথে ভীষণ রাগারাগি করছে। কারণ উনাকে যখন তার প্রয়োজন তখন না এসে রাতের ৩ টায় উনি এসেছেন। এদিকে এই রাগারাগি তে রামিমের ঘুম ভেঙে যায়। রামিম রুম থেকে বের হয়ে দেখে দিয়া একা একা এমন ভাবে কথা বলছে, যেন ওর সামনে কেউ আছে, তার সাথেই যেন কথা বলছে দিয়া। অর্থাৎ অপু হচ্ছে পুরোটাই দিয়াই কল্পনা। দিয়া প্রতিদিনই অপুর সাথে অনেক বিষয়ে কথা বলে। ওদিকে দিয়ার মায়ের সাথেও খারাপ ব্যবহার করে। নিজেও হাসে না। আবার রামিম যে কি না দিয়ার হাজবেন্ড, উনার সাথেও খুব জড়তা নিয়ে থাকে।
ওদিকে রামিম দিয়ার মানসিক অবসাদময় অবস্থা থেকে বের করে আনার অনেক চেষ্টা করতে থাকে। দিয়ার জন্য রান্না করে, দিয়ার সবদিকেই খেয়াল রাখে। রামিমের সাথে রামিমের বন্ধুর কথা থেকে জানা যায়, রামিম দিয়ার বর্তমান হাজবেন্ড। তবে দিয়া যার সাথে কল্পনায় কথা বলেন, অপু, উনি দিয়ার প্রাক্তন হাজবেন্ড। রামিম দিয়াকে ভীষণ ভালোবাসে, তাই দিয়ার সাথে কোন জোর করে না, দূর থেকেই দিয়াকে আগলে রাখে।
দিয়ার মা দিয়াকে বলে রামিম ছেলেটা এত ভালো কেন, দিয়ার সমস্ত পাগলামি মেনে নিচ্ছে। মানে রামিমের বোধ হয় বাইরে আরও কোন গালফ্রেন্ড আছে৷ তখন দিয়া তার মা কে বোঝায় রামিম তার সব পাগলামি মেনে নিয়েও যথেষ্ট টেক কেয়ার করে তার। তাই রামিমের কোন গালফ্রেন্ড নাই। পরে দিয়ার মা দিয়াকে বোঝায় আর কতদিন এভাবে রামিম এর সাথে, তার মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে, নিজেকে কষ্ট দিবে! রামিম ছেলেটা যেহেতু ভালো, তাই তাকে যেন কষ্ট না দেয়। এরপর দিয়া নিজেকে আয়নার সামনে দেখে ফ্ল্যাশব্যাকে চলে যায়। দেখা যায়, দিয়ার সাথে একদিন অপু সাহেবের ভীষণ রাগারাগি হয়। তারপর অপু সাহেব রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। দিয়া তখন তাকে বলে আর কোনদিন যেন বাসায় না ফিরে৷ আসলেই সেটাই হয়, হয়তো সেদিন অপু সাহেব এক্সিডেন্টে মারা যান। এরপর থেকেই দিয়া নিজেকে ব্লেম দেয়, আর হাসেও না। অপু সাহেবকে দিয়া রোজ ই দেখে, তার সাথে অনেক কথাই বলে। কিন্তু দিয়া মায়ের কথা শুনে নিজেকে প্রস্তুত করে রামিমের সাথে স্বাভাবিক হওয়ার। সেদিন রামিম যখন রুমে এসে দেখে দিয়া নিজে নিজে অপু সাহেবের সাথে কথা বলছে, রামিম নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে দিয়ার কাছে নিজের খারাপ লাগা গুলো জানায়। তাদের মাঝে রাগারাগি হয়। ওদিকে তখন দিয়ার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে সেটা জেনে রামিম দিয়ার মাকে নিয়ে হাসপাতালে যান। উনার চিকিৎসা করে সেবা করে।


এরপর দিয়া আর রামিম দুজন ই দুজনকে সরি বলে। দিয়া বিয়ের পর থেকে সবকিছুর জন্য রামিমের কাছে ক্ষমা চায়। সেদিন দিয়া বাসায় ফিরে অবাক হয়ে যায় কারণ তার এক্স হাজবেন্ড এর জন্মদিন উপলক্ষে রামিম পুরো ঘর সাজিয়েছে। দিয়া প্রশ্ন করে, অপুকে রামিম এমন শ্রদ্ধা করে কেন? তখন রামিম বলে, যে মানুষ টা বেঁচে নেই, তারপরেও এত ভালোবাসা পায় দিয়ার থেকে যে দিয়ার কাছে তিনি আজও বেঁচে আছেন, সেই মানুষ তো শ্রদ্ধা পাওয়ার ই যোগ্য।আসলে রামিম কখনো ছোটবেলা থেকে তেমন ভালোবাসা পায় নি। দিয়ার কাছে রামিম অপু সাহেবের রিপ্লেস হতে চায় না, বরং যেন রামিমকেও যেন পারলে অল্প করে ভালোবাসে সেটুকুই চায়।এই শুনে দিয়া রামিম সাহেবকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয়। এরপর দেখা যায় তারা একসাথে কেক কাটে এবং অবশেষে দিয়ার মুখে হাসি ফুটে।



##ব্যক্তিগত মতামত: নাটকটি অন্যান্য নাটকের তুলনায় বেশ অন্য রকম গল্পের। গল্প বলার ধরন ভালো এবং প্রত্যেকের অভিনয় যাস্ট অসাধারণ। সব মিলিয়ে যেন একরাশ মুগ্ধতা ছুঁয়ে থাকবে অনেকক্ষণ। ভালোবাসার গল্প, তবে কোন এডাল্ট সীন নেই, গালাগালি নেই- পরিবার নিয়ে দেখতে বসলেও অপ্রস্তুত হতে হবে না বরং শিক্ষণীয় কিছু বিষয় আছে, আসলেই তো সকলের জীবনে ভালোবাসা পায় না। আবার কাউকে সত্যিকার ভালোবাসলে দূর থেকেও ভালোবাসা যায়। এভাবে ভাবতে পারলে জীবনটা কত সুন্দর!
নাটকের লিংক :
ব্যাক্তিগত রেটিং : ৯/১০
এতক্ষণ সময় নিয়ে আমার পোষ্টটি পড়ার জন্য আপনাকে 🌼 ধন্যবাদ 🌼


VOTE @bangla.witness as witness
OR @rme as your proxy

আমি- তিথী রানী বকসী, স্টিমিট আইডি @tithyrani। জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী। পেশায় একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। বিবাহিতা এবং বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করছি।২০২৩ সালের জুন মাসের ১৯ তারিখে স্টিমিটে জয়েন করেছি।
ভ্রমণ করা, বাগান করা, গান শোনা, বই পড়া, কবিতাবৃত্তি করা আমার শখ। পাশাপাশি প্রতিদিন চেষ্টা করি নতুন নতুন কিছু না কিছু শিখতে, ভাবতে। যেখানেই কোন কিছু শেখার সুযোগ পাই, আমি সে সুযোগ লুফে নিতে চাই৷ সর্বদা চেষ্টা থাকে নিজেকে ধাপে ধাপে উন্নত করার।
Posted using SteemPro Mobile
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ইয়াস রোহান এর অভিনীত নাটকগুলো খুবই ভালো লাগে আমার কাছে। তার অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে সে। এই নাটকটি আমি দেখেছি অনেক সুন্দর একটি নাটক। সুন্দর একটি নাটক রিভিউ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
বর্তমানে যারা কাজ করছেন তাদের মধ্যে ইয়াশ রোহান বেশ ভালো ভাবেই নিজের অবস্থান করে নিয়েছেন দর্শকদের মনে। উনার নাটকগুলো আমারো বেশ ভালো লাগে।
আসলে নাটক দেখতে আমিও ভালবাসি । মুভি থেকে নাটক আমার বেশি দেখা হয় । অনেকদিন হলো নাটক দেখা হয় না বিশেষ করে পবিত্র মাহে রমজান মাসে। আপনি দারুন একটি নাটকের রিভিউ দিয়েছেন গল্পটি অনেক সুন্দর ছিল। নাটকের গল্পটি পড়ে ভালো লাগলো একসময় দেখার চেষ্টা করব । সুন্দর রিভিউ এর মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।
আমারো এখন মুভির থেকে নাটক দেখা হয় বেশি। আর এই নাটকটির গল্প আসলেই বেশ ভিন্ন এবং দারুণ। আপনাকে ধন্যবাদ ভাই।
আপনার রিভিউ পোস্টগুলো পড়তে অনেক বেশি ভালো লাগে। আপনার রিভিউ পোষ্টের মধ্যে আপনি সুন্দর ভাবে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে সম্পূর্ণ গল্পের বর্ণনা দিয়ে থাকেন। আজকের নাটক রিভিউটা বেশ ভালো লাগলো। আপনার রিভিউটা পড়ে নাটক সম্পর্কে জানতে পারলাম। আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
আমার নাটক রিভিউ পোস্ট যে আপনার দারুণ লাগে, সেটা জেনে আমারো বেশ ভালো লাগলো ভাই। মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
অনেক সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আজকে আপনার এই নাটকের রিভিউটি পরে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আসলে এ ধরনের নাটক গুলো দেখতে আমার খুবই ভালো লাগে। তাই আগামীতে সময় পেলে অবশ্যই নাটকটি আমি দেখে নিবো। দারুন একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অসংখ্য ধন্যবাদ বিদ্যুৎ ভাই আমার রিভিউ পড়ে আপনার মতামত প্রকাশ করার জন্য এবং নাটকটি দেখার উৎসাহ প্রকাশ করার জন্য।
অনেক সুন্দর একটা নাটক এর রিভিউ পড়লাম আজকে। নাটকটা তো আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। নাটকের শেষটা আমার কাছে অনেক বেশি সুন্দর লেগেছে। রামিম পেরেছে দিয়ার মুখে শেষ পর্যন্ত হাসি ফুটাতে। অনেক সুন্দর করে আপনি এই নাটকের পুরো কাহিনীটা সবার মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন। আমি যখন সময় পাবো তখন আমি এই নাটকটা দেখার চেষ্টা করব। আশা করছি এই নাটকটার রিভিউ যেমন ভালো লেগেছে, তেমনি নাটকটা দেখতেও অনেক বেশি ভালো লাগবে।
নাটকটার রিভিউ পড়ে যেহেতু আপনার ভালো লেগেছে, আশা করছি নাটকটি দেখলেও আপনার ভালোই লাগবে৷ ধন্যবাদ আপনাকে রিভিউ পড়ে নাটকটি দেখার ইচ্ছে পোষণ করার জন্য।
ইয়াশ রোহান এর নাটক মাঝে মধ্যে দেখা হয়। এই দিন সেই দিন এই নাটকটি আমি দেখেছি। নাটকটির গল্প ছিলো ভিন্ন রকম। আর ভিন্ন রকম গল্পের নাটক গুলো দেখতে একটু বেশি ভালো লাগে। সব মিলিয়ে আপনার নাটক রিভিউ দেখে আর একবার দেখা হয়ে গেলো। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
জি ভাই। সত্যিই তাই। এই নাটকটি দেখার পরে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছিলো যে ভিন্ন ধরনের একটা গল্পের নাটক দেখলাম।
এই দিন সেই দিন নাটকটা আমি এখনো পর্যন্ত দেখিনি। তবে নাটকটার সম্পূর্ণ কাহিনী আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে আপু। একটা মানুষ এরকম অবস্থায় থাকলে, অন্যদের উচিত তার সঙ্গ দেওয়া। আর তাকে হাসিখুশি এবং ভালো রাখার চেষ্টা করা। আর রামিম ঠিক এরকমটাই করেছে দিয়ার সাথে। দিয়া অনেক বেশি খুশি হয়েছিল দেখে খুব ভালো লাগলো শেষ মুহূর্তটা। আমিতো ভাবছি যদি ব্যস্ততা কাটিয়ে একটু সময় পাই তাহলে নাটকটা দেখব। যদিও এত সুন্দর করে আপনি রিভিউ লিখেছেন। আর রিভিউটা পড়ার কারণে নাটক দেখাও লাগবে না, তবুও দেখার চেষ্টা করব।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই। আমি চেষ্টা করেছি আমার মতো করে গুছিয়ে লিখতে। আপনার মন্তব্য সবসময়ই আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়। আশা করছি নাটকটি দেখলে আপনার ভালো লাগবে।
আপনি সবসময় আমাদের মাঝে খুব সুন্দর সুন্দর কিছু নাটকের রিভিউ শেয়ার করে আসছেন৷ আজকেও একেবারে অসাধারণ একটি নাটক এর রিভিউ শেয়ার করেছেন৷ যেভাবে আপনি এই নাটকের সবগুলো বিষয়ে এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন তা অসাধারণ হয়েছে এবং এই নাটকের মধ্যে নায়ক এবং নায়িকার জুটিও বেসাধারণ হয়েছে৷ ধন্যবাদ এরকম সুন্দর একটি নাটক এর রিভিউ শেয়ার করার জন্য৷
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ বিজয় ভাই। আপনার দারুণ মতামত বেশ গুছিয়ে শেয়ার করার জন্য।
বেশ ভালো লাগলো আপনার সুন্দর মন্তব্য পড়ে।
আপু আপনি ইয়াশ রোহান ও তাসনিয়া ফারিন এর খুব সুন্দর একটি নাটক রিভিউ দিয়েছেন। আপনার রিভিউ পড়ে অনেক ভালো লেগেছে। এই নাটক আগে কখনোও দেখা হয়নি। আপনার সম্পূর্ণ রিভিউ পড়ে খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি নাটক রিভিউ দেওয়ার জন্য।
নায়ক নাকিয়া দুইজনই পাক্কা অভিনেতা। আর তার সাথে যুক্ত হয়েছে দারুণ গল্প। আপনাকে ধন্যবাদ আপু আপনার মতামত শেয়ার করার জন্য।