শীতের অলস দুপুরে
নমস্কার বন্ধুরা,
আশা করি সবাই ভালো আছেন।সুস্থ আছেন।আজ আমি আপনাদের সাথে শীতের অলস দুপুরে আমার কিছু এলোমেলো ভাবনা চিন্তা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিচ্ছি।আশা করি সকলের ভালো লাগবে।
বেশ কয়েকদিন ধরে জাঁকিয়ে শীত পড়েছে কলকাতায় । আমার মতো শীতকাতুরে মানুষের যে কি কষ্ট আমিই জানি । একবার কম্বলের তলায় ঢুকে পড়লে আর বেরোতে ইচ্ছা করে না ,আবার কোনো কাজ ও করতে ইচ্ছা করে না 🥺।সব সময় মনে হয় শুয়ে বসে থাকি। শীতকাল একদমই আমার পছন্দের কাল নয় আর এই কদিন ধরে এমন ঠান্ডা পড়েছে কিছু আর বলার নেই ।শীতকালে শুধু পৌষ পার্বণের দিনটা আমার কাছে বড্ড ভালো লাগে। আর কয়েকদিন পরই পিঠে পুলির উৎসব। আর শীতকালে পিঠে খাওয়ার সেই মজা।যাই হোক আজ আমি দুপুর বেলার দিকে ছাদে গিয়েছিলাম রোদ পোহাতে। সত্যি কথা বলতে শীতের রোদ কিন্তু খুব মিষ্টি ,সেই রকম রোদের তাপ গায়ে লাগে না আবার খুব ভালো ও লাগে ঠান্ডার মধ্যে। আর এই শীতের দুপুরে ছাদে যাওয়াটা আমার রোজকার অভ্যেস হয়ে গেছে । আধঘন্টার জন্য হলেও আমি ছাদে যাই আর রোদে বসে থাকি কিন্তু আজকের ছাদে যাওয়াটা একটু অন্যরকম।
আজ প্রায় দু'ঘণ্টার কাছাকাছি ছাদে ছিলাম কিছুতেই ইচ্ছা করছিল না ঘরে আসতে কারণ আমাদের ঘর অসম্ভব ঠান্ডা থাকে শীতে, তার জন্য আজকে ছাদেই সময়টা কাটাতে ভালো লাগছিল ।আজ ছাদে বসে থাকতে থাকতে অনেক কথা মাথায় আসছিল। খুব ছোটোবেলার কথা মনে পড়ছিল। যখন আমি ছোটো ছিলাম মনে আছে, তখন মা এই শীতের সময় সব সময় বলতো - যা ছাদে গিয়ে পড়তে বস !সারাক্ষণ তো ঘরে শীত শীত করছিস , শীতের বাহানা দেখিয়ে ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছিস ! আর আমিও তখন বই খাতা নিয়ে ছাদে চলে আসতাম ।খুব ভালো লাগতো এই শীতকালে ছাদে পড়াশোনা করতে ।আর এই সময়টা আমাদের যেহেতু তখন ফাইনাল পরীক্ষা হতো তখন মন দিয়ে পড়তেও পারতাম । আসলে এই কথাগুলো মনে পড়ার একটাই কারণ আজ প্রায় ১২-১৩ বছর পর ছাদে এতক্ষণ সময়টা কাটালাম ।আসলেই আজ থেকে দশ বছর আগের দুপুর বেলা আর এখন দুপুর বেলার মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য। সেই সময়টাতে জীবনটা অনেক সুন্দর ছিল ।তখন আমাদের হাতে ফোন ছিল না তখন ছাদে বই নিয়ে পড়তাম ,নাহলে গল্পের বই পড়তাম ,না হলে ভাই-বোনদের সাথে খেলা করতাম। আর এখন ছাদে উঠলেই সব সময় হাতে ফোনটা থাকে পাশে কেউ থাকলেও অতটা গল্প করতে ইচ্ছা করে না।
শীতকালে দুপুরবেলা গুলো বড়ই অদ্ভুত। চারিদিকটা অদ্ভুত এক শান্ত পরিবেশ যেন নিজের সাথে অনেকটা একাত্ম হতে পারলাম অনেকদিন পরে। আগে শীতকালে আমরা ছাদে বড়ি শুকাতে দিতাম ,তারপর মা কাকিমারা ছাদে গল্প করতো।সেই সব দিনগুলো যেন কেমন হারিয়ে গেছে ।এখন আর সেগুলো দেখতে পাই না। মাঝে মাঝে মনে হয় যেন তখনের সময় গুলোই ভালো ছিল যখন আমাদের হাতে স্মার্টফোন ছিল না ।হয়তো এখনো ভালো। আসলেই যুগ অনেকটাই এগিয়ে গেছে প্রতিনিয়ত আমরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলছি। কিন্তু এই যুগের সাথে তাল মেলাতে মেলাতে কোথায় যেন পুরানো রঙিন জীবনটাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি ।আমরা যেন যান্ত্রিক হয়ে উঠেছি।
নতুন করে প্রকৃতিকে সাজিয়ে দেওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হলো শীত। শীতের রিক্ততা পুরনো পাতা ঝরিয়ে দিলেই নতুন পাতা নিয়ে হাজির হবে ঋতুরাজ বসন্ত।
শীতের দুপুর হয়তো সব থেকে বেশি ভালো লাগে গ্রামের দিকে কিন্তু গ্রামে যাওয়া তো সম্ভব নয়। তাই এই ব্যস্ততম শহরেই শীতের দুপুরের এই নির্জনতায় খুব সুন্দর ভাবে আজকের দিনটা উপভোগ করলাম।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |

হ্যাঁ দিদি আজ কয়েকদিন যাবত প্রচন্ড শীত পরছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর শীতের প্রকোপ বেশি ।শীতের মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের পিঠা পুলির উৎসব বিভিন্ন ধরনের খাবার উপভোগ করা হয় যেগুলো শীতের সময় খেতে দারুন মজা লাগে। দিদি আপনার সাথে আমিও একমত আমার কাছে খুবই বাজে লাগে কারণ শীতের সময় মনে হয় না বিছানা থেকে বের হই । যাইহোক, আপনার ছোটবেলায় সকালের সূর্যি মামার উপস্থিতিতে বই নিয়ে বসা সেই স্মৃতিগুলো আমারও জীবনের অনেক বড় একটা স্মৃতি সেই অনুভূতিগুলো এখন আর পাই না খুবই ভালো লাগলো সেই অনুভূতির গল্প পড়ে।
এটা সত্যি বলেছেন দিদি শীত কালে একবার কম্বলের তোলে গেলে আর বেরোতে ইচ্ছে করে না।আপনি দেখছি ছাদে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। আসলে দিদি এখন যুগের সাথে সব পরিবর্তন হয়ে গেছে।স্মাট ফোন কাজে থাকলে হয়তো কারো আর কিছু লাগে না।সত্যি দিদি যুগের সাথে চলতে চলতে পুরনো রঙিন জীবনকে হারিয়ে ফেলছি।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ দিদি দুপুরে সুন্দর একটি মূহুর্ত ছাদে কাটিয়েছেন, তা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
সকালবেলা আপনার স্নিগ্ধ মুখটা দেখে খুব ভাল লাগলো দিদি।আশাকরি এই শীতে বেশ ভাল আছেন।আপনার মত আমারও এই পিঠাপুলি আর শীতের নানা রকমের সবজি সমাহারের জন্য ভাল লাগে। নয়ত বসন্ত কাল আমার খুব প্রিয়।হালকা শীত হালকা গরম।আপনাদের ঘর খুব ঠান্ডা হওয়াতে আজ ছাদে বেশ সময় ছিলেন।আর ছেলেবেলার কথা আপনার মনে পরছিল।ঠিক তাই দিদি, আগে মোবাইল ছিল না,আর এ সময়ে ফাইনাল এক্সাম ছিল সময়টা বেশ পড়াশোনার মধ্যে ই কাটতো আর রোদ ও খাওয়া হতো।আজকাল আর তা নেই।শীতের এই শুকনো ডালপালা বসন্তের আগমনে আবার তার সজীবতা ফিরে পাবে।🥰 আপনি আজ খুব সুন্দর একটি দিন উপভোগ করলেন, জেনে খুব ভাল লাগলো। কিছু সাবধানতা অবলম্বন করে শীতকে উপভোগ করুন, অনেক ধন্যবাদ অনুভূতি শেয়ার করার জন্য। অনেক শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
ওই যে একটা কথা বলে না ৷ যে জীবনটা তখনি ভালো ছিল যখন যানতাম না জীবন মানে কি ৷
আপনি যে কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলো শুনে সেই ফেলে আসা মুহূর্ত গুলো অনেক মনে পড়লো ৷ যা হোক আপনি প্রায় অনেকদিন পর দুই ঘন্টা ছাতে কাটিয়েছেন ৷ আসলে এই শীতের সময়ে রোদে বসে থাকতে অনেক ভালো লাগে ৷
সব মিলে আপনার অনুভুতি গুলো অনেক ভালো লাগলো ৷
সর্বোপরি এই শীতে ভালো থাকবেন নিজের যত্ন নিবেন ৷
ধন্যবাদ দিদি
দিদি ভাই, আমাদের এইদিকেও একই অবস্থা। এবারের শীতে জনজীবন একদম কাহিল। টিকে থাকাটাই একদম কষ্টসাধ্য হয়ে গিয়েছে। বেশ ভালোই উপভোগ করলাম আপনার ছাদে কাটানো মুহূর্তটা।
শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।
আপনার মতো আমার ও একই অবস্থা একেবারে।এতো ঠান্ডা আমার ঘরটাতে, জাস্ট সহ্য ই হয়না।তবে ছাদে যেতে একেবারেই ভালো লাগেনা আমার।
আপু আপনার আজকের পোস্টটি পড়ে কিছু সময়ের জন্য যেন হারিয়ে গিয়েছিলাম সেই ছেলেবেলায়। শীতের দুপুরে কোয়াটারের মাঠে বসে মাদুর বিছিয়ে আমরা তখন পড়াশোনা করতাম। আর আজ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সে দিনগুলো যে কোথায় চলে গেল। আমরা এখন হারিয়ে গেছি এন্ড্রয়েড ফোনে। এই এন্ড্রয়েড ফোন আজ আমাদের অতীত ভুলিয়ে দিয়েছে। ধন্যবাদ আপু, কিছু সময়ের জন্য ছেলেবেলা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।
শীতকাল মানেই অলস সময়।শুধু কলকাতা নয় দিদি আমাদের এখানে এমন শীত পড়ছে পুরো বরফ হয়ে বেঁচে আছি।☺️শীতকাল আমার পছন্দের তবে এতটা শীত নয়।আপনি ছাদে গিয়ে রোদ পোহান জেনে ভালো লাগলো ।আমি তো রোদে বসে ভাত খাই সেই মজা লাগে।ছবিগুলো ভালো ছিল, ধন্যবাদ দিদি।
তোমার লেখাটা পড়ে আমারও স্কুল জীবনের কথা মনে পড়ে গেল। শীতকালে আমাকেও মা ছাদে পাঠিয়ে দিত। বইয়ের সাথে মাদুর দিয়ে বলতো ঘরে আর কাঁপতে হবে না। ছাদে গিয়ে পড়। আমার মনে হয় আমাদের প্রত্যেকটা বাঙালি ঘরে এই জিনিসটা আছে।তাই তোমার আর আমার এই ব্যাপারটা মিল খুঁজে পেলাম। কিন্তু এখন আর সেই ভাবে ছাদে বসা হয় না। কারণ ছাদের উপরেও শেড দিয়ে দিয়েছে। যে কারণে রোদও পড়ে না। তাই বাড়ির সামনে একটা ছোট্ট উঠোনের মত আছে, সেখানেই রোদ পোহাই। সত্যি বলতে যে সময় যায় সেই স্মৃতি যেন আরও বেশি টানে। তাই হয়তো বলা হয় যে প্রত্যেকটা মুহূর্তকে বাঁচা উচিত।