মুখোশ নাটকের রিভিউ
হ্যালো বন্ধুরা আমার , কেমন আছেন সবাই ? আশা করি সবাই ভালো আছেন ৷ আমিও বেশ ভালোই আছি ৷ তো আজ আবারও আপনাদের মাঝে চলে আসলাম মুখোশ নাটকের রিভিউ নিয়ে ৷ গতকাল আমি এই নাটকটি দেখছি , আমার কাছে বেশ ভালোই লেগেছে ৷ তাই আজ এর রিভিউ শেয়ার করতে চলে আসলাম ৷ আশা করি আপনাদেরও সবার ভালো লাগবে ৷
| নাটকের নাম | মুখোশ |
|---|---|
| পরিচালক | রাফাত মজুমদার রিংকু |
| অভিনয়ে | মুশফিক আর ফারহান ও তানজিন তিশা ৷ |
| দেশ | বাংলাদেশে |
| ভাষা | বাংলা |
| ডুরেশন | ৫৮ মিনিট |
নাটকের শুরুতে দেখা যায় , ফারহান একটি লোকাল বাসে করে সকাল সকাল অফিস যাচ্ছেন ৷ বাসে এতো মানুষের ভীর যে বাস থেকে নামার সময় ধাক্কাধাক্কি করে নামতে হচ্ছে তাকে তার গন্তব্য স্থানে ৷ মানুষের ভীর ঠেলে বাস থেকে নামার সময় সে রোড়ে পড়ে যায় ৷ পাশে একদল মানুষ তার এমন অবস্থা দেখে তাকে ভিডিও করতে শুরু করে ৷ ফারহান রোড় থেকে উঠতে উঠতে তাদের বলো যে ভাই , এভাবে ভিডিও করার কি আছে ৷ দেখছেন তো আমি পড়ে গেছি আমাকে একটু তুলতে তো পারেন ৷ পাশের মানুষটি উত্তরে বলে আপনাকে তুলতে গেলে ভিডিও করতো কে ? এই ভিডিও এখন অনলাইনে ছেড়ে দিবো লক্ষ লক্ষ ভিউ হবে ৷ এই ভিডিও দিয়ে সমাজ সচেতন করবো আমি ৷ তারপর একটু কথা কাটা কাটি করে পাশের মানুষ দুজন চলে যায় ৷ ফারহান ও অফিস চলে যায় ৷
অফিস এসে কাজ শুরু করতে যাবে ঠিক তখনি স্যারের রুমে ডাক পড়ে তার ৷ স্যারের রুমে গিয়ে দেখে পাশে একজন ভদ্র লোক বসে আছে ৷ তার কাজের ফাইলটা তার কাছে আছে ৷ সেখানে একটা সই করে তার ফাইলটা দিতে বলে স্যার ৷ কিন্তু ফারহান সেখানে সই করবে না , কারণ ফাইলের হিসেব ঠিক নেই ৷ এজন্য অবশ্য তাকে খুশি করানো হবে জানায় ভদ্র লোক তাও সে রাজি নয় অন্যয় কাজ করতে ৷ তার ছোট বেলার কথা মনে পড়ে যায় ৷ মায়ের দেওয়া শিক্ষার কথা মনে পড়ে যায় ৷ তাই আর কিছু করতে পারে না ৷ এজন্য অবশ্য স্যার রাগ করে তাও ফারহান তার জায়গায় অটুট ৷
ফারহান তার এক চাচার বাড়িতে থাকে ৷ তার চাচার দুটি মেয়ে ৷ ছোট মেয়েকে পড়াতো ফারহান ৷ সেদিন ও পড়াচ্ছে , কিছুক্ষণ পর তার বড়ে মেয়ে চলে আসে নাস্তা নিয়ে ৷ তার বড় মেয়ে কথা বলতে পারে না , হাতের ইসারায় কথা বলে আর শুনতেও একটু কম পায় ৷ ফারহানের টুকটাক দেখা শুনা এই বোবা মেয়েটাই করে থাকে ৷ যেমন অফিস যাওয়ার আগে নাস্তা দেওয়া এবং অন্য সব কাজ সেইই করে দেয় ৷
পরের দিন আবারও অফিসে যায় ফারহান ৷ তার কলিগের সাথে কথা হয় কাজের ফাকে ৷ ফারহান তার কলিগ কে বলে তোর তো বিয়ে হয়েছে স্ত্রী আছে বাসায় , এরপরও অরেক জন বিবাহিত মহিলার সাথে পার্কে কি করিস ৷ তার কলিগ একটু অবাক হয় , এবং বলে আরে তেমন কিছু নাহ সেদিন পার্কের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি তখন দেখেছিস বোধহয় ৷ ফারহান বলে প্রায় দেখি আর শুক্রবার ও ৷ তার কলিগ এবার কথা উল্টে ফেলে এবং যে বলে তোকে স্যার যেতে বলেছে তার রুমে ৷ ফারহান স্যারের রুমে চলে যায় , সেই একই বিষয় আবারও সই করতে বলে , কিন্তু ফারহান করবে নাহ ৷ অন্যায় কাজ তার দ্বারা সম্ভব নয় ৷
এরপর তার গার্লফ্রেন্ড এর সাথে দেখা হয় ৷ তাকে সে বিয়ের কথা বলে ৷ কিন্তু ফারহান চাচার বাসা ছেড়ে অন্য বাসা নিতে পারবেনা ৷ এতো দিন চাচা দেখে আসতেছে এখন যদি চাকরি পেয়ে হঠাৎ চলে আসি খারাপ লাগবে তাদের ৷ ফারহানের এমন উত্তরে রেগে চলে যায় তার গার্লফ্রেন্ড লতা ৷ ফারহান আসার সময় দেখে রাস্তায় একটী ছেলেকে একটী রুটি চুরি করার জন্য পিটাচ্ছে কয়েক জন ৷ ফারহান তাদের থামিয়ে দেয় ৷ সমান্য একটা রুটির জন্য এভাবে ছেলেটাকে মারা ঠিক হচ্ছে আজও ৷ এভাবে ফারহান আসতে যেতে মানুষের মাঝে অন্য এক মুখোশ ধারি মানুষ দেখতে পায় ৷ মানুষের খারাপ চেহারা টা সে বুঝতে পারে ৷
ধীরে ধীরে তার কাছে সব মানুষ মুখোশ ধারি মানুষের পরিনত হয় ৷ সবার মাঝে সে একটা মুখোশ দেখতে পায় ৷ এই মানুষ গুলোর মানুষ হয়েও অন্য মানুষ ৷ এরা সবাই মুখোশধারি মানুষ ৷ এই সমস্যা টা তার কাছে দিন দিন বেড়েই চলছে ৷ এরপর তার কলিগ তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় এ ব্যাপারে র জন্য ৷ ডাক্তার প্রথমে বুঝতে পারেনা বিষয়টি ৷ একটা সময় সে বুঝে যায় আসল কাহিনী ৷ ডাক্তার জানায় ফারহান তাদের মুখেই কেবল মুখোশ দেখতে পায় যায় অন্যায় কাজ করে ৷ আর এই সমস্যার সমাধান হবে যদি সেও এই পথে আসতে পারে ৷ অথবা এই সমাজ ছেড়ে তাকে চলে যেতে হবে ৷
ফারহান সব সময় ন্যায়ের পথে চলে ৷ তার মায়ের সু শিক্ষায় সে নিজেকে তৈরি করেছে ৷ সব সময় মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করে ৷ সঠিক পথে চলার চেষ্টা করে ৷ কিন্তু এই সমাজে তার মতো তেমন মানুষ নেই ৷ সবাই শুধু স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত ৷ অন্যায় অনিয়মে চলা চল করে ৷ সবাই মুখোশধারি মানুষ ৷ এতো মানুষের ভিরে সে বোবা সেই মেয়েটিকেই একমাত্র খুজে পায় , যার মুখে মুখোশ নেই ৷ তার হাত ধরেই বেরিয়ে আসে এতো মুখোশধারি মানুষের ভীর থেকে ৷ এখানেই গল্পটা শেষ হয় ৷
রেটিংঃ ৯
আমার মতামত
মুখোশ নাটকটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে ৷ গল্পটা যেমন সুন্দর ছিলো তেমনি অভিনয়ও চমৎকার হয়েছে ৷ আসলে আমাদের সমাজে এখন এই মানুষ গুলোর সংখ্যাই বেশি , যারা মুখোশধারি ৷ মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আসল চরিত্র ৷ এমন মুখোশের জন্য বোঝার উপায় থাকে নাহ কে ভালো , আর কে মানুষ রুপি অমানুষ ৷ সবাই মুখোশ পড়ে নিজেকে প্রকাশ করে সবার মাঝে ৷ একটু খোঁজ নিলে বেরিয়ে আসে সবার আসল রূপ ৷ যাই হোক , নাটকটি অনেকটা বাস্তব ভিত্তিক এবং সুন্দর একটি নাটক ৷ তবে নাটকটি দেখে খুব একটা মজা লাগেনি আমার ৷ যার কাছে যেমন আর কি ৷ যাই হোক আপনার কাছে ভালো লাগলেও লাগতে পারে এই নাটকটি ৷ ধন্যবাদ সবাই কে রিভিউ পড়ার জন্য ৷
নাটকের লিংক
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
এটি একটি নাটক হলেও এখানে কিছু বাস্তব চিত্র ফুটে তুলেছে। আসলে আমাদের সমাজের সবাই প্রায় মুখোশধারী মানুষ। এর মধ্যে খুব কমই ভালো মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়। যেমনটা নাটকে প্রকাশ পেয়েছে। নাটকটা রিভিউ পড়ে বেশ ভালো লাগলো সময় পেলে দেখব। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য।
আপনাকে ও ধন্যবাদ আপু , আপনার সুন্দর মতামত মন্তব্য করে জানানোর জন্য ৷
সমাজের আনাচে কানাচে এমন মুখোশধারী লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেখানে টিকে থাকতে হলে লড়াই করতে হয়। অন্যায় আর অবিচার সীমাহীন পর্যায়ে চলে গেছে এখন। যাই হোক চমৎকার একটি নাটকের রিভিউ করেছেন ভাই।
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ৷
নাটকের রিভিউ পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। সত্যি আমাদের সমাজে বেশির ভাগ মুখোশধারী মানুষের বসবাস।আসল মানুষ খুঁজে পাওয়া অনেকটাই কঠিন কাজ।যদিও নাটকটি আমার দেখা হয়নি। তবে সময় সুযোগ করে দেখবো আশাকরি। অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য।
আপনাকে ও অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মতামত মন্তব্য করে জানানোর জন্য ৷
বাহ ভাইয়া আপনি খুব সুন্দর একটি নাটক রিভিউ করেছেন। আমাদের সমাজে অহরও এমন ঘটনা ঘটছে। মানুষ বিপদে পড়ে আছে অথচ চোখের সামনে সে দেখছে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার না করে সে ভিডিও করা নিয়ে ব্যস্ত শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য। আমরা মানুষ কতটা নির্লজ্জ বেহায়া। সমাজ জাতির ধ্বংস হয়েছে শুধু এই সমস্ত কাজকর্মের জন্যই। দারুন একটি নাটক আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মতামত মন্তব্য করার জন্য ৷
মুখোশ নাটকটি অনেকটা বাস্তব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বাস্তবে এরকম মুখোশ পরা অনেক মানুষকে দেখা যায়। যাদেরকে বাইরে থেকে দেখলে অনেক ভালো মনে হয়। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা অনেক খারাপ হয়ে থাকে। মুখোশের আড়ালে তাদের আসল চেহারা বোঝা যায় না। নাটকটির বেশ ভাল ছিল মনে হচ্ছে। সময় পেলে দেখতে হবে।
ধন্যবাদ আপনাকে আপনার সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ৷
ভাই আপনি আজকে আমাদের মাঝে দারুন একটি নাটক রিভিউ এর মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। আসলে আমিও প্রত্যেক সপ্তাহে নাটক শেয়ার করে থাকি নাটক গুলো দেখতে বেশ ভালই লাগে। বিশেষ করে রোমান্টিক মুহূর্তের সিন গুলো দেখতে বেশ ভালো লাগে। আপনার নাটকের ভিতে বেশ রোমান্টিক মুহূর্তের সিন রয়েছে। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি নাটক রিভিউ এর মাধ্যমে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকে ও অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মতামত মন্তব্য করে জানানোর জন্য ৷
খুব সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। নাটকের রিভিউ পড়ে আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। আসলে আমাদের সমাজে এরকম অনেক মুখোশধারী মানুষ আছে। এরমধ্যে ভালো মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়। সময় করে নাটকটি দেখার চেষ্টা করব। এত সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকে ও অসংখ্য ধন্যবাদ আপু , আপনার সুন্দর মতামত মন্তব্য করে জানানোর জন্য ৷
পরিচালক মুখোশ নাটকের মাধ্যমে বাস্তবিক অনেক কিছুই তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, যার জন্য নাটক টার রিভিউ পোস্ট পড়ে আমার কাছে একটু বেশি ভালো লেগেছে। আসলে কিছু মুখোশধারী মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকে খারাপ মানুষ। মুখোশের আড়ালে একটা মানুষ এবং অন্যদিকে আরেকটা মানুষ। আপনি খুব সুন্দর করে এই নাটকটার রিভিউ পোস্ট লিখেছেন। এই নাটকটা যদিও আমার এখনো দেখা হয়নি তাই ভাবছি সময় পেলে নাটকটা দেখব।
ধন্যবাদ আপু আপনার সুন্দর মতামত মন্তব্য করার জন্য ৷