গল্প - মা হারা এক সন্তান

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

photography-7923674_1280.webp

ছবি ঘর



হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই ? আশা করি সবাই ভালো আছেন ৷ আমিও বেশ ভালো আছি ৷ তো আজ আবারও আপনাদের মাঝে চলে আসলাম , প্রতিদিনের মতোই নতুন কিছু শেয়ার করার চেষ্টা করবো ৷ আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগবে ৷


আজ আমি আপনাদের মাঝে ছোট একটি গল্প শেয়ার করবো ৷ যেটা সম্পূর্ণ বাস্তবিক ঘটনা , মা হারা এক সন্তানের জীবন কাহিনি ৷ আমি সেই ছোট্ট থেকে দেখে আসছি তাকে ৷ তার জীবনের গল্পটা আমার অনেকটাই জানা ৷ আজ তাকে নিয়ে তার জীবনের গল্পটাই শেয়ার করবো আপনাদের মাঝে ৷ আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগবে ৷ আসলে আপনারা সবাই এখন নিজ নিজ সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে ব্যস্ত ৷ কেউ কবিতা আবার কেউবা গল্প , যার যার প্রতিভা সবাই শেয়ার করে আসছেন ৷ সেই থেকে আজ আমিও একটা গল্প লিখতে বসলাম ৷ মা হারা এক সন্তানের অনিশ্চিত জীবন কাহিনী ৷ যেটা সম্পূর্ণ বাস্তবিক গল্প , আমার চোখের দেখা ৷ আজও দেখে আসছি তাকে , একটা সময় যে সবার চোখের মুণি ছিলো ৷ আজ সে কে ? যাই হোক কাল্পনিক ভাবনা চিন্তা আমার নেই বললেই চলে ৷ তাই কয়েক বার কবিতা লিখতে গিয়েও লিখতে পারিনি ৷ তাই আজ একটা বাস্তবিক গল্প লিখতে বসলাম ৷ যেহেতু সবটা দেখে আসছি , সেহেতু এই গল্পটা লিখতে অনেক সুবিধার হবে আমার ৷ তো চলুন শুরু করি ৷



মা হারা এক সন্তান


কয়েক বছর আগে , আমিও তখন অনেকটাই ছোট ৷ তবে সব বুঝি ৷ পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াতাম আর খেলাধুলায় মেতে থাকতাম ৷ এদিক সেদিক ছোটাছুটি , খেলাধুলা আর ঘোরাঘুরি করারই ছিলো আমার তখনকার একমাত্র কাজ ৷ সেই সময় আমার পাড়ার এক ছোট্ট পরিবারে , ছোট্ট একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয় ৷ তার নাম তুষার (ছদ্মনাম) ৷ আর তখন ছেলে সন্তান মানেই সোনার হরিণ চোখের মুণি ৷ যা এখনোও দেখা যায় অনেক পরিবারে ৷ মেয়ে সন্তান জন্ম নিলে সবার মুখ কালো , আর ছেলে সন্তান জন্ম নিলে সবাই বেশ হাঁশি খুশি আর আনন্দিত হয় ৷ যাই হোক , আনন্দ আর সুখের কমতি নেই , ছোট সেই পরিবারটিতে ৷ অভাব অনটন লেগে থাকলেও তারা ছিলো ভীষণ হাঁশি খুশি ৷ আর এতো খুঁশি আনন্দের মূল কারণ সদ্য জন্ম নেওয়া ছোট্ট সেই ছেলে শিশুটি ৷ এভাবেই দিন যাচ্ছে তাদের বেশ ভালোই ৷ বাবা মায়ের যত্ন আর ভালোবাসায় আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে তুষার ৷ বাবা ভীষণ অভাবী হলেও ছেলের খাবার আর প্রয়োজনীয় সব কিছু নিয়ে আসতো ঠিকঠাক ৷ বাবার ভালোবাসাও ছেলের প্রতি কম ছিলো না ৷ কাজ শেষ করে এসেই ছেলেকে কোলে নিয়ে ঘুরতো ৷ সবার চোখের মুণি হয়ে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে ছোট্ট সেই তুষার ৷ ছোট্ট থেকেই দেখে আসছি তাকে আর তার প্রতি সবার এই ভালোবাসা ৷ সম্পর্কে পাড়ার ছোট ভাই হবে সে আমার ৷

আদর করে সবাই সবার মতো নাম দিয়েছে তার ৷ তবে বাবার রাখা নামটা ধরেই সবাই ডাকে তাকে ৷ ধীরে ধীরে তুষার বড় হতে থাকে ৷ সবার যত্ন আর ভালোবাসায় অনেকটাই বড় হয়ে গেছে সে এখন ৷ আস্তে আস্তে কথা বলতে শুরু করে তুষার ৷ আর এখান থেকেই কমতে শুরু করে তার প্রতি সবার ভালোবাসা ৷ কিন্তু মায়ের ভালোবাসা একটুকু কমেনি বরং বেড়েছে ৷ বাবাও আগের মতো নেই ৷ এখন তুষারের জন্য তার মাকেও বকা শুনতে হয় , আর মাঝে মাঝে মারও খেতে হয় ৷ কারণ তুষার কিছুটা প্রতিবন্ধী হয়েছে ৷ যার কারণে সবার এতো আদরের ছেলেটা অবহেলায় বড় হতে শুরু করে ৷ কেবল মায়ের ভালোবাসা ছাড়া আর কারো ভালোবাসা নেই তুষারের প্রতি ৷ তুষারের জীবন রং বিহীন হলেও মায়ের ভালোবাসায় সে রঙিন ছিলো ৷ ছেলের সব আবদার পূরণ করতো তার মা ৷ ছেলে কিছুটা পাগল হলেও মা তাকে কখনো পাগল ভাবতো না ৷ কিন্তু তার বাবা ছেলের এরূপ আচরণ একদমি পছন্দ করতো না ৷ তবুও মেনে নিয়েছে নিজের ভাগ্যে ৷

এরপর আরো এক সন্তান নেয় তুষারের বাবা মা ৷ আর এখান থেকেই তুষারের অন্ধকার জীবন শুরু হয় ৷ তুষারের মা আরেক সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মা সন্তান এক সাথে মারা যায় ৷ মাকে হারিয়ে তুষার বড্ড একা হয়ে যায় ৷ বাবা থাকলেও বাবার যথেষ্ট ভালোবাসা ছিলো না তার জন্য ৷ এরপর তুষারের বাবা আরো এক বিয়ে করে ৷ তুষারের নতুন মা তার আসল মায়ের বোন ৷ মানে খালাকে মা হিসেব পায় সে ৷ কিন্তু সৎ মা তো সৎ মা ই ৷ সে যাই হোক, আসল মায়ের মতো মা হয় না ৷ খালা যদিও প্রথম প্রথম তুষারের যত্ন নিতো , কিছু দিন বাদে তা শেষ হয়ে যায় ৷ সৎ মায়ের মতো আচরণ শুরু করে ৷ কিছু দিন যেতে না যেতেই বাড়ির কাজের দায়িত্ব তুষারের কাছে পড়ে ৷ যেই ছেলেটা মাস দুএক আগেও একটা কাজ করেনি ৷ তার নিজের কাজ গুলোও তার মা করে দিতো , আজ কিছুদিনের ব্যবধানে খালাকে মা হিসেবে পেয়েও বাড়ির সকল কাজ তাকে করতে হয় ৷ এরপর থেকেই শুরু তার অন্ধকার জীবন ৷ মা থাকা কালীন সে স্কুলে যেতো ৷ আর এই মা এসে তাকে অন্যের বাড়িতে কাজে যেতে হয় ৷ একটু পাগল হয়ে সে আরো বেশি পাপ করেছে ৷ কেউ তাকে বুঝতে চায়না , বোঝার চেষ্টা করে না ৷ যেখানে নিজের বাবার কাছেই সে পাগল , সেখানে অন্যের কাছে তো আরো বেশি ৷ এভাবেই দিন যাচ্ছে তার ৷ সব সময় কাজ আর কাজ ৷ একটু ভুল হলেই রেগে যায় বাবা সৎ মা ৷ ঠিক মতো খাবারটাও সে আজ পায় না ৷ এভাবেই কি শেষ হবে তার জীবন ! ভালো কিছু দেখছু নাহ...!

যাই হোক , তো বন্ধুরা আজ এ পর্যন্ত ই ৷ সবাই ভালো থাকবেন , সুস্থ থাকবেন ৷ যদিও গল্পটা গুছিয়ে লিখতে পারিনি , তবুও আশা করি বুঝতে পারবে ৷ ধন্যবাদ সবাইকে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করে গল্পটা পড়ার জন্য ৷

ধন্যবাদ সবাইকে



VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

মা হারা সন্তানের জীবন সত্যিকারের অর্থে কিন্তু বিভীষিকাময়। তুষারের মত হাজারও সন্তানদের জীবন এমন করেই নষ্ট হয়ে যাচেছ দিনের পর দিন। বেশ মায়া হয় এমন মানুষগুলোর জন্য। তাহলে কি হবে তুষারের জীবন? এই জন্যই তো মনে মা নাই গৃহে যার সংসার অরণ্য তার।

 3 years ago 

তুষারের করুন কাহিনি পড়ে খুব খারাপ লাগলো।এমনিতেই তুষার কে কেউ সহ্য করতে পারতো না তার উপর আবার তার মা তার একমাত্র ভালোবাসার অবলম্বন ও পৃথিবী থেকে চলে গেলো তুষার কে একা করে।আসলে কেন যে এমন হয়। ঠিক বলেছেন সৎ মা তো সৎ মায়ে হয়ে থাকে সে কখনো আসল মা হয়ে উঠতে পারে না।ধন্যবাদ তুষারের জিবন কাহিনির পোস্ট টি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

আসলে পর কখনোই আপন হয় না। তেমনি মা মারা যাওয়ার পর মায়ের বোনকে তার বাবা বিয়ে করলেও তিনি মা হয়ে উঠতে পারেনি। কিছুটা প্রতিবন্ধী হলে কি হয়েছে সে তো একজন মানুষ। মা হারা এরকম একটা সন্তানের গল্প শুনে সত্যি খুব খারাপ লেগেছে আমার কাছে। পরবর্তীতে তার সাথে কি হয় এটা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। আশা করছি পরবর্তী পর্ব খুব শীঘ্রই শেয়ার করবেন সবার মাঝে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.31
JST 0.074
BTC 63443.26
ETH 1684.37
USDT 1.00
SBD 0.41