রবিবারের আড্ডা - পর্ব ৭৮ | জীবনের গল্প - পর্ব ৭
ব্যানার ক্রেডিট @hafizullah
সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি আমার বাংলা ব্লগের নতুন আয়োজন জীবনের গল্পের শো-তে । মূলত আমরা যেহেতু প্রথম থেকেই বলেছিলাম, রবিবারের আড্ডার কিছুটা ভিন্নতা হবে, ঠিক সেই ভিন্নতার জায়গা থেকেই, এই সংযোজন। মানুষের জীবনে কত গল্পই তো থাকে, কত সুখস্মৃতি থাকে, থাকে পাওয়া না পাওয়ার অভিজ্ঞতা কিংবা হারিয়ে ফেলার তিক্ততা কিংবা থাকে সফলতার হাজারো গল্প, যা হয়তো অনায়াসেই, অন্য কাউকে অনুপ্রাণিত করে ফেলে মুহূর্তেই। এই গল্পগুলো হয়তো অজানাই থেকে যায়, আমরা আসলে কান পেতে থাকি, এই গল্পগুলো শোনার জন্য। এইজন্য বাংলা ব্লগ আয়োজন করেছে, জীবনের গল্প। যেখানে অতিথি তার নিজের জীবনের গল্প অন্যদের সামনে অনায়াসেই বলে ফেলবে এবং অতিথি নিজের থেকেও বেশ হালকা হবে, সেটা হয়তো মনের দিক থেকে।
আজকের অতিথিঃ @maksudakawsar
ভেরিফাইড সদস্যঃ আমার বাংলা ব্লগ
ফেলে আসা জীবন থেকে যদি কিছু কথা স্মৃতিচারণ করতেন।
আমি ছোটবেলা থেকেই অনেকটা বইপোকা মানুষ। সারাদিন বই নিয়েই থাকার চেষ্টা করতাম, খুব একটা বেশি মানুষের সঙ্গে মিশতাম না। তবে আমি কিছুটা জেদি ছিলাম, বিশেষ করে প্রাইমারি শেষ হওয়ার পরে আমি চেয়েছিলাম ভালো একটা স্কুলে ভর্তি হব, তবে সেটা হয়নি। অবশেষে মাধ্যমিকে এখানকার এক স্থানীয় স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম, যেখানে ছেলে-মেয়ে একত্রে পড়াশুনা করতো। আমার দিনগুলো এভাবেই কেটে যাচ্ছিল, তবে যেহেতু আমি ছাত্রী ভালো ছিলাম তাই পরবর্তীতে খিলগাঁও গার্লস স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ এসেছিল, তবে বর্তমানে যে স্কুলে ছিলাম সেখানকার টিচাররা আমাকে ছাড়েনি।
মাধ্যমিক পাস করার আগেই, আমি আমার বড় ভাইয়ের বন্ধুর কাছে অংক শিখতাম , সেসময় কখন যে আমি তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম তা আর বুঝে উঠতে পারিনি। তবে যখন আমি কলেজে উঠেছিলাম, তখন সেই সম্পর্কটা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিলাম, কেননা সেই লোক তখনই আমাকে বিয়ে করতে চাচ্ছিল। তাছাড়া আমার পক্ষে সেসময় বিয়ে করা কোন অবস্থাতেই সম্ভব ছিল না। এদিকে আমার ক্লাসমেট তখন মাঝে মাঝেই আমার বাসায় পড়ার ছলে আসতো, যখন দেখলাম যে তার আসা যাওয়াটা আমাদের বাসায় বেশি হচ্ছে, তখন তাকেও নিষেধ করে দিয়েছিলাম, যে এত ঘন ঘন আসার দরকার নাই, সে তার মত পড়াশোনা করুক এবং আমাকে আমার মত করে পড়াশোনা করতে দিক। আর আমরা বন্ধু হিসেবেই বেশ ভালো আছি।
অবশেষে কলেজ শেষ হয়ে গেল, পরবর্তীতে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করলাম ম্যানেজমেন্টে। তারপর ল তে ভর্তি হয়েছিলাম, ল পাস করার পরে অনেক জায়গাতেই প্র্যাকটিস করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তবে ল প্র্যাকটিসটা আমার কাছে একদম মোটেও ভালো লাগেনি, অবশেষে আমার বড় ভাই যেখানে সরকারি চাকরি করতো, তারপর সে যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, ঠিক সেই জায়গাতেই আমার চাকরি হয়ে যায়। এভাবেই আমার দিনকাল গুলো কেটে যাচ্ছিল।
আমি যে অফিসে চাকরি করতাম, সেখানকার এক কলিগ তার এক আত্মীয়ের জন্য আমাকে পছন্দ করেছিল। ছেলেটা সেই সময় বিদেশে থাকতো, প্রায় প্রতিদিনই আমাকে লাঞ্চ টাইমে ফোন দিত, কথা হতো রোজ কিন্তু কখনোই দেখা হয়নি। কেননা সে দেশের বাইরে থাকত, অবশেষে সে যখন দেশে ফেরত আসছিল, তখন আমাকে বিয়ে করার জন্য সে অস্থির হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে যখন পারিবারিকভাবে কথা হচ্ছিল, তখন মূলত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল কিন্তু পরবর্তীতে আমার পরিবারের কারণেই তার সঙ্গে আর বৈবাহিক সম্পর্কে আমি এগিয়ে যেতে পারিনি। ছেলেটা আমাকে বারবার বলেছিল আমার সমস্যা কোথায়, কেনইবা আমি এরকম সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, তবে তাকে আমি বুঝিয়ে ছিলাম যে আমার পরিবার ব্যাপারটা তে সম্মতি দিচ্ছিল না।
অবশেষে সে যখন দেশে আসে, ঢাকায় নামার পরেও আমার জন্য সে অপেক্ষা করেছিল, তবে আমি আর দেখা করিনি। সত্যি বলতে গেলে কি আমি তার প্রতি কিছুটা হলেও দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম, পরবর্তীতে আমি যখন তার সঙ্গে নিজের থেকে দেখা করতে চেয়েছিলাম, তখন জানতে পেরেছিলাম ছেলেটার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। বেশ ভালোই কষ্ট পেয়েছিলাম সেসময়।
এ কথাগুলো আমার আরো দুজন কলিগ জানতো, তারা আমাকে মানসিকভাবে বেশ ভালই সাপোর্ট দিয়েছিল, অবশেষে তাদের সহযোগিতায় বর্তমানে আমার যিনি স্বামী, তার খোঁজ পেয়েছিলাম এবং তার সঙ্গেই পরবর্তীতে বিবাহ বন্ধনে জড়িয়ে যাই। এখন আমি বেশ ভালো আছি আর এভাবেই সুখের সংসার নিয়ে থাকতে চাই।
অতিথি ও উপস্থিত দর্শকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।
পুরস্কার বিতরণের সম্পূর্ণ অবদান @rme দাদার
উপস্থিত দর্শক শ্রোতারা বেশ ভালই উপভোগ করেছিল অতিথির জীবনের গল্প। তারা বেশ ভালই প্রশ্ন রেখেছিল এবং উত্তরগুলো খুঁজেও পেয়েছিল, অতিথির গল্পের মাঝে।
সব মিলিয়ে জীবনের গল্প চলছে, একদম দুর্বার গতিতে । পরবর্তীতে আমরা আসছি কিন্তু আপনার দরজায়, আপনি প্রস্তুত তো।
ধন্যবাদ সবাইকে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
রবিবারের আড্ডায় খুব ভালো সময় কেটেছিল। এই উদ্যোগের কারণে সবার কাছ থেকে আমরা অনেক কিছুই জানতে পারছি। মাকসুদা আপুকে গতকালকের রবিবারের আড্ডায় পেয়ে সত্যি খুব ভালো লেগেছে। ওনার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। মাকসুদা আপুর জীবনের জীবনের গল্পটা অনেক ভালোভাবেই উপভোগ করেছি। আর সবশেষে একটা পুরস্কার পেয়ে খুব ভালো লেগেছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া এটা সবার মাঝে সুন্দর করে তুলে ধরার জন্য।
https://x.com/sharifShuvo11/status/1820301529221562777?t=p-cd2JfwwvZFOw3JBxATJQ&s=19
কালকে নেট এর সমস্যার কারণে পুরো আড্ডআয় থাকতে পারিনি। তবে @maksudakawsar আপুর কথাগুলো খুব ভালো লাগলো।যাইহোক ভাইয়া ভালো থাকবেন সব সময় এই কামনা করি।
সমস্যা নেই আপু, আশা করা যায় আগামী সপ্তাহ থেকে নেট ঠিক হবে এবং আমরা সবাই আবারও যুক্ত হবো।
জীবনের গল্প শুনতে অনেক ভালো লাগে। আর রবিবারের আড্ডায় সবাই মিলে অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছি এবং জীবনের গল্প শুনতে অনেক ভালো লেগেছে। দারুন মুহূর্তগুলো আপনি অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন ভাইয়া।
অনেক ভালো লেগেছিল মাকসুদা আপুর সম্পর্কে এত কিছু জানতে পেরে। জীবনের গল্প অনেক ভালো লেগেছে শুনতে। পুরো সময়টা অনেক সুন্দরভাবে অতিবাহিত করেছিলাম। যারা উপস্থিত থাকতে পারেনি এই আড্ডায়, তারা আপনার পোস্ট পড়ে সম্পূর্ণটা সহজে জেনে নিতে পারবে। অনেক সুন্দর করে আপনি পুরোটা আমাদের সবার মাঝে তুলে ধরেছেন। এটার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
অনেকেই এ সপ্তাহে উপস্থিত থাকতে পারেনি, তবে আশা করা যায় নেট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, সবাই আরো উপস্থিত হবে।
গতকালকে রবিবারের আড্ডাটি দারুন ভালো লেগেছে অনেক উপভোগ করেছিলাম। বিশেষ করে মাকসুদা আপার কথাগুলো খুবই ভালো লাগছিল। তার জীবনের সুন্দর কিছু অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করেছিলেন। সবাই মিলে বেশ আড্ডায় আনন্দ করেছি। আপনি আজকে বিস্তারিত বিষয়টি আবার তুলে ধরলেন ভালো লাগলো।
দীর্ঘ অনেকটা দিন পর গতকাল বেশ ভালোই আড্ডা দিয়েছিলাম এবং সময়টাও বেশ ভালোই কেটে ছিল আমাদের।
গতকালকে রবিবারের আড্ডায় জীবনের গল্পে মাকসুদা আপুকে দেখে ভীষণ ভালো লেগেছিল। উনি দারুণভাবে উনার জীবনের কিছু ঘটনা আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। তাছাড়া অনেকদিন পর গিভওয়ে জিততে পেরে ভীষণ ভালো লেগেছে। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
এটা সত্য, আপু বেশ সাবলীল ভাবে গুছিয়ে কথা বলেছিল।
কিভাবে এখানে জয়েন্ট করবো কেউ একটু বলে দাও প্লিজ