"আমার বাংলা ব্লগ" প্রতিযোগিতা - ২৭ || কলা পাতায় চিংড়ি মাছের কেক রেসিপি।
চিংড়ি এসে গেছে,
কেকের রেসিপি হয়ে।
আহা, একি স্বাদ জিভে,
মুখে দিলেই মিলিয়ে যাবে।
হ্যালো বন্ধুরা,
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম। প্রতিবার যখন রেসিপি প্রতিযোগিতা দেওয়া হয়, আমি সব সময় ইউনিক কিছু করার ট্রাই করি। কিন্তু এবারে প্রায় অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোন রেসিপি পাচ্ছিলাম না। আসলে চিংড়ি দিয়ে অনেক রেসিপি হয়। কিন্তু আমি চাইছিলাম ভিন্ন কিছু উপস্থাপন করার।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর ভাবলাম যদি চিংড়ি দিয়ে কেক তৈরি করি তাহলে কেমন হয়। আসলে এই রেসিপিটা আমি এর আগে কখনো তৈরি করিনি। বুঝতে পারছিলাম না এটা আসলে কি রকম হবে। কিংবা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারব কিনা। সবাই দেখলাম খুব সুন্দর সুন্দর রেসিপি উপস্থাপন করছে। যদিও এরপরে আমি আর ভাবা-ভাবি না করে এটাই করার সিদ্ধান্ত নিলাম। যেহেতু কেক, তার উপর আবার চিংড়ি দিয়ে একটু কনফিউশনে পড়ে গেলাম। ভাবছিলাম তৈরি করার পর যদি খেতে ভালো না হয়। তারপরেও তৈরি করার জন্য নেমে পড়লাম।
যেহেতু এই রেসিপিতে নারিকেল ব্যবহার করব, এই জন্য ভাবছিলাম ভালোই হবে। আসলে চিংড়ি আর নারিকেল এই দুইটার মিশ্রণে অনেক বেশি মজাদার হয়। কিন্তু এই কেকটা আবার কলা পাতায় তৈরি করার কথা চিন্তা করলাম। আসলে কলা পাতায় তৈরি করলে আলাদা একটা স্মেল আসে। এরপর প্ল্যান অনুযায়ী কলা পাতায় চিংড়ি মাছের কেকটা তৈরি করে ফেললাম। তৈরি করার পর দেখছি খেতে ভীষণ ভালোই হয়েছে। আসলে নতুন কোন রেসিপি তৈরি করলে একটু কনফিউশনে থাকি। বেশ ভালো লেগেছিল খেতে। জানিনা আপনাদের দেখতে কিরকম লাগবে। আশা করবো অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।
তো চলুন,
এই রেসিপিটি তৈরি করতে আমার কি কি উপকরণ লাগলো এবং আমি পুরো রেসিপি কিভাবে তৈরি করলাম তার বর্ণনা নিচে প্রতিটা ধাপে উপস্থাপন করলাম। আশা করি আমার আজকের রেসিপি আপনাদের ভালো লাগবে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ :
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| চিংড়ি মাছ | ২০০ গ্রাম |
| নারিকেল | ২ কাপ |
| পেঁয়াজ কুচি | ১/২ কাপ |
| রোসন বাটা | ১ টেবিল চামচ |
| কাঁচামরিচ | ৪ টা |
| হলুদের গুঁড়া | ২ টেবিল চামচ |
| মরিচের গুঁড়া | ২ টেবিল চামচ |
| লবন | পরিমাণমতো |
| সরিষার তেল | পরিমাণমতো |
| কলাপাতা | দুইটা |
রান্নার বিবরণ :
ধাপ - ১ :
প্রথমে আমি নারিকেল ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিলাম। তারপর চিংড়ি মাছগুলোকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিলাম। এরপর একটি ব্লেন্ডারের জাগে নারিকেলের টুকরোগুলো নিয়ে নিলাম। এরপর এর মধ্যে চিংড়ি মাছগুলো দিয়ে দিলাম।
ধাপ - ২ :
এরপর এর মধ্যে পেঁয়াজ কুচি, রসুন বাটা, কাঁচামরিচ এই উপকরণগুলো দিয়ে দিলাম।
ধাপ - ৩ :
এরপরে এর মধ্যে হলুদের গুঁড়া এবং মরিচের গুঁড়া দিয়ে দিলাম।
ধাপ - ৪ :
এরপরে এর মধ্যে পরিমান মত সরিষার তেল দিয়ে দিলাম। এই সবগুলো উপকরণ একসাথে ব্লেন্ডারের জাগে নিয়ে নিলাম।
ধাপ - ৫ :
এরপরে সবগুলো উপকরণ ভালোভাবে কিছুক্ষণ ব্লেন্ড করে নিলাম। এরপর মিশ্রনটি একটি বাটিতে নিয়ে নিলাম।
ধাপ - ৬ :
এরপরে আমি বড় দেখে দুইটা কলাপাতা নিলাম। কলাপাতার থেকে দুই পাশের অংশ কেটে চারটা অংশ নিলাম। এরপর কলাপাতা গুলোকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিলাম। এরপর আমি একটার উপরে আর একটা কলাপাতা দিলাম ডাবল করে। এভাবে দুইটা করে চারটা নিলাম। এরপর এর উপরে সরিষার তেল দিয়ে মাখিয়ে নিলাম।
ধাপ - ৭ :
এরপরে তেল মাখা কলাপাতার উপরে তৈরি করা মিশ্রণটাকে নিয়ে নিলাম। এরপর খুব সুন্দর ভাবে ছড়িয়ে গোল করে নিলাম। এটা আমি একটা ফ্রাইপ্যানের এর উপরে নিয়ে নিলাম।
ধাপ - ৮ :
এরপরে চুলায় বসিয়ে দিলাম। চুলায় বসিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে নিলাম। চুলায় আমি অল্প আঁচে রাখবো।
ধাপ - ৯ :
এরপর প্রায় কিছুক্ষণ পর দেখব এক পাশ হয়েছে কিনা। যদি এক পাশ হয়ে যায় তাহলে, উপরে আগে থেকে তৈরি করে রাখা দুইটা কলা পাতা দিয়ে উপুর করে উল্টিয়ে নিলাম। এরপর নিচের অংশের পোড়া কলা পাতা টা সরিয়ে আবারো ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিলাম।
ধাপ - ১০ :
এভাবে অপর পিঠ আরো কিছুক্ষণ রান্না করব। এরপর হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে নিলাম। এটার কিছুটা অংশ একটু পোড়া পোড়া হবে। চুলায় থাকাকালীন অনেক সুন্দর স্মেল আসছিল।
ধাপ - ১১ :
এরপর হালকা ঠান্ডা হয়ে আসলে, সুন্দরভাবে ছুরি দিয়ে কেটে নিলাম।
শেষ ধাপ :
এরপর কলাপাতার উপরে ভাত এবং নারিকেল তার সাথে কাঁচা মরিচ দিয়ে পরিবেশন করলাম। আশা করি আমার আজকের রেসিপি আপনাদের ভালো লাগবে। পরবর্তীতে আবারও দেখা হবে নতুন কিছু নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | রেসিপি |
|---|---|
| ডিভাইস | Redmi note 9 |
| ফটোগ্রাফার | @tasonya |
| লোকেশন | ফেনী |
আমার পরিচয়
আমার নাম তাসলিমা আক্তার সনিয়া। আমি বাংলাদেশী। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা বলে আমি অনেক গর্বিত। আমি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের একজন ছাত্রী। আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে যে কোন ধরনের পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। যখনই অবসর সময় পায় আমি ছবি আঁকতে বসে পড়ি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার চেষ্টা করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ করতে পছন্দ করি। রান্না করতেও আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে পছন্দ করি। আমি যখনই সময় পাই আমার পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করে খাওয়াই। আমি সব সময় নতুন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি।
🎀 ধন্যবাদ সবাইকে 🎀 |
|---|

চিংড়ি মাছ দিয়ে যে কেক তৈরি করা যায় তা আজকে প্রথম জানলাম আপু। আসলে এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মজার মজার রেসিপি গুলো দেখতে পাচ্ছি। সত্যিই আপু একেবারে ইউনিক একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন। আমার কাছে তো দারুন লেগেছে। আশা করছি ভালো ফলাফল পাবেন। শুভকামনা রইল আপু।
আসলে আপু এই রেসিপিটা আমি নিজেও প্রথম তৈরি করলাম। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
চিংড়ির রেসিপি তৈরি করার জন্য অনেকগুলো চিন্তা মাথায় এসে ঘুরছিল। কিন্তু কোনটা রেখে কোনটা তৈরি করব সেটাই চিন্তা করতেছিলাম। আর এই ক্ষেত্রে আমরাও চিংড়ির কেকের কথা ভেবেছিলাম,আপনার ভাইয়া বলেছিল। কিন্তু যেহেতু কেক রেসিপি করেছিলাম সেজন্য আর এইবার কেকের দিকে যাইনি। আমাদের চিন্তাধারা আপনাদের মাথায়ও এসেছে, মিলে গেল আরকি।যাই হোক খুব সুন্দর করে রেসিপি তৈরি করেছেন। উপস্থাপনা এবং পরিবেশন দারুণ হয়েছে, সত্যি খুবই ভালো লাগলো রেসিপিটি।
আসলে আমরা তো সবাই একই মানুষ। এইজন্য চিন্তা ভাবনা গুলো মিলে যায়। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু আপনাার রেসিপিগুলো বরাবরই ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এটিও তার ব্যতিক্রম নয়। আর তৈরির প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে উপস্থাপন পর্যন্ত এক কথায় পেশাদার মানের পরিচয় দিয়েছেন। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
একটু ভিন্ন ধরনের রেসিপিও উপস্থাপন করার চেষ্টা করি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু এই আমি কি দেখলাম আপনি তো দেখছি দিনদিন সেরা রাঁধুরি হয়ে যাচ্ছেন। চিংড়ি দিয়ে এভাবে কেক তৈরি করা যায় আমি ভাবতেও পারিনি ।তবে সাথে নারিকেলের ব্যবহারটি আমার কাছে বেশ দারুন লেগেছে। আপু আপনার কাছ থেকে রান্না শিখতে হবে মনে হচ্ছে। পরিবেশন দেখেই আমার লোভ লেগে গেল পরিবেশন টা কিন্তু দারুণ হয়েছে আপু।
সেরা রাধুনি কিনা জানিনা, চেষ্টা করি আর কি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
এই কনটেস্টের অ্যানাউন্সমেন্ট দেখেই বুঝেছিলাম এবার চিংড়ি মাছের ফালুদা হবেই। এর মানে বলতে চাচ্ছি যে চিংড়ি মাছ কে এবার যে কত ভাবে রান্না করা হবে চিংড়ি মাছও কোনদিন সেটা কল্পনা করতে পারেনি আমরা তো অনেক দূরের কথা।।
আপনার কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নতুন একটি রেসিপি দেখলাম আসলে আমি কখনো ভাবি নি যে নারিকেল দিয়ে এভাবে চিংড়ি মাছের কেক প্রস্তুত করা যায় তবে আপনার প্রস্তুত করা রেসিপিটি দেখে খুব লোভ হচ্ছে খেতে নিশ্চয়ই খুব মজা হবে।।
এটা ঠিক বলেছেন রেসিপি প্রতিযোগিতা মানেই একদম ভিন্ন কিছু। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
কি বলবো আপু আপনি তো একদম নতুন ইউনিক রেসিপি শেয়ার করেলেন ৷ আমার তো মনে হয় আপনি একমাত্র যে এমন নতুন কিছু উপহার দিলেন ৷ চিংড়ি মাছের কেক ৷
তার সাথে প্রতিটি ধাপ দেখে অনেক ভালো লাগলো ৷
ধন্যবাদ আপু ৷
আসলে আমি চেষ্টা করেছি নতুন কিছু উপহার দেওয়ার। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে এত সুন্দর সুন্দর প্রতিযোগিতার আয়োজন করে দেখতে কিন্তু অসাধারণ লাগে রেসিপিগুলো।আপনি কলা পাতায় চিংড়ি মাছের খুব সুন্দর একটি কেক তৈরি করেছেন দেখতে কিন্তু খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।আপনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আসলে কলা পাতায় তৈরি করলে এর আলাদা একটা ফ্লেভার আসে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
চিংড়ি মাছের কেকের রেসিপিটি আসলেই খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। আশা করছি খেতেও অনেক সুস্বাদু হয়েছে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনেক ইউনিক রেসিপি গুলো দেখতে পাচ্ছি এবং আরো দেখতে পাবো।ধন্যবাদ সবার মাঝে তুলে ধরার জন্য।
অবশ্যই আরো নতুন রেসিপি দেখতে পাবেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।