“কবিতার আলো” ষষ্ঠ বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যার প্রকাশ উপলক্ষে অনন্য সাহিত্য উৎসব
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,
সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় প্রকাশের রীতি, পাঠের ধরন। তবুও কিছু ধ্রুব থাকে—যেমন কবিতা। এবং যারা সেই ধ্রুবতারায় বিশ্বাস রাখেন, তাঁদের হাতে গড়া এক অনবদ্য প্রয়াসের নাম “কবিতার আলো”। পত্রিকাটি যখন তার ষষ্ঠ বর্ষ পেরিয়ে আরও পরিণত, আরও সাহসী হয়ে ফিরে এল দ্বিতীয় সংখ্যার হাত ধরে, তখন সেই উপলক্ষে হয়ে উঠল এক স্মরণীয় আয়োজন—এক মধ্যাহ্নের কবিতার উৎসব, গুচ্ছ কবিতার নিবিড় সম্মিলন, এবং এক কবির প্রতি কৃতজ্ঞতার শ্রদ্ধার্ঘ্য।
“কবিতার আলো” বরাবরই প্রচলিত ছাঁচে নিজেকে ঢেলে দিতে রাজি নয়। তার প্রকাশভঙ্গি, বিষয় নির্বাচন কিংবা সম্পাদনার সৌন্দর্যে থাকে নতুন কিছু চিন্তার আভাস। এবারের সংখ্যায় সেই বৈশিষ্ট্য এক নতুন দিগন্ত ছুঁয়েছে—‘গুচ্ছ কবিতা’কে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে সমগ্র সংখ্যা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গভীর বিশ্বাস—একটি কবিতা একটি কবির সমগ্র কাব্যচেতনা তুলে ধরতে পারে না। একটি কবিতা হতে পারে ইশারা, অথচ পরিপূর্ণ পরিচয় গড়ে ওঠে একাধিক কবিতার মাধ্যমে।
সেই ভাবনা থেকেই এবারের সংখ্যায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি কবির ছ’টি করে কবিতা স্থান পেয়েছে। কেউ লিখেছেন ভালোবাসা নিয়ে, কেউ সময়ের যন্ত্রণা, কেউ সমাজে ঘটে চলা অবক্ষয় ও প্রতিরোধ নিয়ে, কেউবা আত্মসন্ধান কিংবা ভাষার খেলায় একান্ত নিজস্ব পথ ধরে হেঁটেছেন। প্রতিটি গুচ্ছ যেন একটি স্বতন্ত্র জগৎ—যেখানে কবির স্বর, ভাষা, ছন্দ ও মেজাজ এক সঙ্গীতরচনার মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
এই সংখ্যার মূল সৌন্দর্যই এখানেই—এখানে কবিরা কবিতার মতোই বেঁচেছেন, তাদের শব্দগুলো মিলিয়ে এক ধ্বনি-জগত তৈরি করেছেন, যা পঠনমাত্র পাঠককে টেনে নেয় ভাবনার ভিতরে।
১১ই মে, এক উজ্জ্বল দুপুরবেলা, প্রকাশিত হয় “কবিতার আলো”-র এই বিশেষ সংখ্যা। অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল সাদামাটা, অথচ হৃদয়ছোঁয়া। কোনো চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন নয়, কোনো কর্পোরেট ব্যানার নয়—সেখানে ছিল কবিতা, পাঠ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
অনুষ্ঠান শুরু হয় পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে। তাঁরা বলেন, এই সংখ্যার পরিকল্পনা প্রায় এক বছর আগে শুরু হয়েছিল। কবিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ, রচনার নির্বাচন, গুচ্ছ সাজানো—সব মিলিয়ে এই সংখ্যা যেন এক ধরনের সাহিত্যময় সঙ্গীতসংকলন হয়ে উঠেছে।
তারপর শুরু হয় কবিতা পাঠ। গুচ্ছ কবিতা থেকে পাঠ করেন অংশগ্রহণকারী কবিরা। প্রত্যেকে নিজস্ব ঢঙে, নিজস্ব কণ্ঠে নিজের লেখা ছড়িয়ে দেন শ্রোতাদের মনে। কেউ আবৃত্তির সুরে পাঠ করেন, কেউ নাট্য ভঙ্গিতে, কেউ গান বেঁধে কবিতাকে পৌঁছে দেন সুরের পরিধিতে। মাঝে মাঝেই শ্রোতারা চুপ করে শোনেন—নতুন লাইন, নতুন অভিব্যক্তি—যা এই আধুনিক সময়েও কবিতার শক্তিকে অনুভব করায়।
এই অনুষ্ঠান কেবল একটি সংখ্যা প্রকাশের উপলক্ষ ছিল না, বরং হয়ে উঠেছিল এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। শুধু কবিতা পাঠ নয়, ছিল গান, নাটক, ও সৃষ্টিশীল পরিবেশনা।
এক তরুণ শিল্পী নিজস্ব সুরে পরিবেশন করলেন একটি কবিতার গুচ্ছকে। অন্যদিকে এক কবি নিজের লেখা একটি গুচ্ছকে মঞ্চস্থ করেন নাট্যভঙ্গিতে, যা দর্শকদের মধ্যে বিপুল সাড়া তোলে।
এইসব উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে বারবারই সামনে আসে—কবিতা কখনও শুধু পড়ার বিষয় নয়, কবিতা একটি জীবনচর্চা, একধরনের পারফর্মেন্স, যা প্রকাশ পায় নানা রূপে।
কবি রবীন বসুকে “কবিতার আলো ২০২৪ কবি সম্মান”
এই সাহিত্যিক আনন্দঘন মুহূর্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ন সংযোজন ছিল—“কবিতার আলো ২০২৪ কবি সম্মান” প্রদান। এই সম্মান দেওয়া হয় বর্ষীয়ান কবি রবীন বসুকে।
রবীন বসু শুধু একজন কবি নন, তিনি বাংলা কবিতার চলমান ধারার এক নিরলস শ্রমিক। তাঁর কবিতায় রয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনা, সাংস্কৃতিক দায়, ব্যক্তিগত ইতিহাসের ছাপ এবং ভাষার প্রতি এক অসীম নিষ্ঠা। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে নবীন লেখকদের উৎসাহ দিয়েছেন, তাঁদের লেখা পড়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন।
সম্মাননা প্রদানের সময় পত্রিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়—এই সম্মান কেবল একটি কবিকে দেওয়া নয়, একরকম বিশ্বাসকে সম্মান জানানো, যে বিশ্বাস বলে: কবিতা শুধুই আত্মপ্রকাশ নয়, তা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশও।
রবীন বসুর হাতে সম্মাননা তুলে দিই আমরা প্রতিটা সদস্য একে একে করে। শ্রোতাদের অভিবাদনে তখন গমগম করছে হলঘর।
এই অনুষ্ঠান ও সংখ্যার মধ্যে দিয়ে “কবিতার আলো” আবার প্রমাণ করল—সাহিত্য আজও জীবিত। কেবল পাঠক থাকলেই সাহিত্য বাঁচে না, প্রয়োজন সম্পাদক, কবি, পাঠক ও সমাজের একত্র মেলবন্ধন, যা এই পত্রিকার মধ্যে দেখা যায় বারবার।
এই গুচ্ছ কবিতা সংখ্যার মধ্য দিয়ে কবিতা যেন এক নতুন শ্বাস পেয়েছে। কবিরা পেয়েছেন প্রকাশের এক স্বাধীন পরিসর, যেখানে তাঁরা শুধুমাত্র একটি কবিতা দিয়ে নয়, বরং একটি গুচ্ছ দিয়ে নিজেদের প্রকাশ করতে পেরেছেন পূর্ণতরভাবে।
এই সংখ্যা শুধু কাব্যিক রচনার সমষ্টি নয়, এটি এক সংগ্রামী প্রজন্মের স্বাক্ষর—যাঁরা ভাষার ভেতর দিয়ে সময়কে ধরতে চান, সমাজকে প্রশ্ন করতে চান, ভালোবাসাকে আরও গভীর করতে চান।
দুপুরের সেই কয়েক ঘণ্টা যেন হয়ে উঠেছিল এক কবিতার মহোৎসব। কাগজের পৃষ্ঠায় যেমন কবিতা জীবন্ত, তেমনি মানুষের মুখে মুখে, সুরে, মঞ্চে, অভিনয়ে সেই কবিতা পেয়ে গেল নতুন প্রাণ।
“কবিতার আলো”-র এই সংখ্যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কবিতা কোনও অলঙ্কার নয়, তা আলো; কোনও বিলাসিতা নয়, তা প্রতিবাদ; কোনও বিলুপ্তপ্রায় ধারা নয়, বরং তা বেঁচে থাকার ভাষা।
আর তাই এই যাত্রা থেমে থাকার নয়।
এই গুচ্ছ দিয়ে আমরা এক নতুন পথের খোঁজ পেয়েছি, যেখানে কবিতা শুধু লেখা নয়—তা হয়ে উঠছে বেঁচে থাকার সহযাত্রী।
| পোস্টের ধরণ | ক্রিয়েটিভ রাইটিং |
|---|---|
| কলমওয়ালা | নীলম সামন্ত |
| মাধ্যম | স্যামসাং এফ৫৪ |
| লোকেশন | পুণে,মহারাষ্ট্র |
| ব্যবহৃত অ্যাপ | ক্যানভা, অনুলিপি |
১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে
~লেখক পরিচিতি~
আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশ ও ইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিত গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।
https://x.com/neelamsama92551/status/1923748307110617102?t=VHAuEu3X0BAt3AZGCP1cTA&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1923747438948401524?t=SThLCYJtTmGUJIVLBTyWjw&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1923799939655794702?t=g-4tWYtR1OoXANisOxxrmA&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 1/8) Get profit votes with @tipU :)