পেঁপে কাহন। চলে এলাম চুরির পেঁপে দিয়ে বানানো নানান পদ নিয়ে।

প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,


সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


Onulipi_09_07_11_27_59.jpg








আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।



বন্ধুরা কিছুদিন আগে আপনাদের বলেছিলাম সোসাইটির গাছ থেকে অনেক পেঁপে চুরি করে এনেছিলাম মর্নিং ওয়াক করতে গিয়ে। সেই পেঁপে গুলো তো বেশ কিছুদিন চলল। অবশ্যই অনেক রকম পদ রান্না করেছিলাম। তা কিছু ছবি তুলে রেখেছি কিছু ছবি তোলা হয়নি। বর্তমানে পেঁপে চুরি টা দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, আশা করছি মাঝেমধ্যেই আপনাদের কাছে নানান ধরনের পেঁপের রেসিপি নিয়ে আসতে পারবো। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করে নেব সেই চুরির পেঁপে দিয়ে বানানো কিছু রেসিপি এবং তার ছবি।

রান্না-১

InShot_20240907_223724342.jpg

প্রথম দিনই বানিয়েছিলাম বড়ি দিয়ে পেঁপে সুক্তো। প্রতিবছর শীতকালে নানান ধরনের বড়ি বানানো হয় বাড়িতে। আগে যখন আমি থাকতাম তখন আমিও বানাতাম। আমার তো এখন আর সুযোগ হয় না তাই বাড়ি থেকে বানিয়ে আমার জন্য রেখে দেওয়া হয়। আর আমি যখন যাই তখন নিয়ে আসি। সুক্তো তে মসলা বড়ি দিলে খুবই ভালো লাগে। বিগত একটা পোস্ট-এ সুক্তোর রেসিপি শেয়ার করেছিলাম। এই রান্নাটা অনেকটা একই রকম তবে এর মধ্যে আমি বেশ কিছু পরিমাণ বড়ি ভেজে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম আর কিছু গোটা। এই এক বাটি সুক্তো হলে এক থালা ভাত খেতে আর অন্য কিছুই লাগে না।

রান্না-২

InShot_20240907_223529291.jpg

এটা ছিল পেঁপের পরোটা। পরিমাণ মতো পেঁপে নিয়ে তাকে ভালো করে কুড়িয়ে নিয়েছিলাম। তাতে সামান্য জোয়ান এবং আটা দিয়ে ভালো করে পরোটার জন্য প্রয়োজনীয় ডো তৈরি করে নিয়েছিলাম। পেঁপে থেকে যেহেতু অনেক জ্বলবে রয়ে তাই আলাদা করে জলের প্রয়োজন হয়নি। ডো-টা বানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই নরম হয়ে যাচ্ছিল তাই দেখে আমি অল্প ঘি নিয়ে ভালো করে মেখে দিয়েছিলাম। পরোটা বা রুটি ডো তে অনেকেই ময়ান দিয়ে থাকেন আমি ওপর থেকেই একটু ঘি মাখিয়ে দিই। তারপর এগুলোকে তেলে ছেকে ভাজি না। সামান্য পরিমাণ রিফাইন তেল দিয়ে একটু সময় নিয়ে অল্প আঁচে ভেজে নিই। পরোটাটা খেয়েছিলাম রসুনের আচার দিয়ে। আমরা বাঙালিরা এরকম আচার দিয়ে পরোটা খাই না এটা এই মারাঠিদের কাছ থেকেই শিখেছি।

রান্না-৩

InShot_20240907_222844468.jpg

ছবি দেখেই বুঝতে পারছেন পেঁপে দিয়ে রুই মাছের ঝোল বানিয়েছিলাম। যত যাই রান্না করি পেঁপে দিয়ে মাছের ঝোল খেতে আমার কিন্তু সব থেকে বেশি ভালো লাগে। এই রান্নাটা খুবই সহজ। পেঁপে গুলো কে লম্বা লম্বা করে কেটে প্রেসার কুকারে নুন হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করে নিয়েছিলাম। মাছটা ভালো করে ভেজে তারপর অল্প একটু আলাদা পেঁয়াজ বাটা জিরে ধনে পানমৌরি গুঁড়ো পরিমাণ মতো নুন হলুদ লঙ্কা দিয়ে মসলা কষে, সিদ্ধ করা পেঁপে এবং ভাজা মাছটা দিয়ে বেশ খানিকক্ষণ ফুটিয়ে নিয়েছিলাম। তারপর আর কি গরম গরম ভাতে জানালার ধারে বসে তৃপ্তি করে পেটপূজো সেরে নিলাম।

রান্না-৪

InShot_20240907_223222464.jpg

কিছু কিছু সবজি আমার নিরামিষ খেতে ভালো লাগে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পেঁপে। এতকিছুর মধ্যেই একদিন ছোলার ডাল দিয়ে পেঁপের ঘন্ট বানিয়ে নিয়েছিলাম। এটা খুব সহজ রান্না। সকাল সকাল যেহেতু রান্না করি তাই আগে থেকে ডাল ভেজানোর কথা আমার একেবারেই মনে থাকে না। সে কারণেই প্রেসার কুকারেই ছোলার ডাল আর পেঁপে নুন হলুদ দিয়ে ভালো করে সেদ্ধ করে নিয়েছিলাম। তারপর কড়াইতে পাঁচফোড়ন দিয়ে তাতে সাদা জিরে বাটা লঙ্কা নুন হলুদ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিয়েছিলাম। মসলাটা ভাজা ভাজা হয়ে এলে সেদ্ধ করার ডাল ও পেঁপে দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে সামান্য ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিয়েছিলাম। ব্রাউন রাইসের সাথে এই তরকারিটা খেতে সেদিনও বেশ মজাদার লেগেছিল।

রান্না-৫

InShot_20240907_223933083.jpg

সবশেষে একটা মজাদার রান্নার রেসিপি রইল যার ছবিটা কায়দা করে তোলা হয়নি। এই রেসিপিটা খুবই খেতে ভালো হয় কেন জানেন এটা খেতেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রেসিপিটির নাম হল পেঁপের পোস্ত। পেঁপেটাকে ভালো করে ছাড়িয়ে কুরে নিয়েছিলাম। তারপর তাকে ভালো করে জলে ধুয়ে নিয়ে জল ঝরিয়ে নিয়েছিলাম। এবার কড়াইতে অল্প পরিমাণ সরষের তেল পাঁচফোড়ন কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে এই কুরোনো পেঁপে দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করে নিয়েছিলাম। একটু ভাজা ভাজা মত হয়ে এলে দেখা যায় পেঁপের থেকেই সামান্য জল বেরিয়েছে। তখন তাপটা বাড়িয়ে দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিয়েছিলাম। প্রায় এক দেড় মিনিট পরেই পোস্ত ও কাজু বাটা দিয়ে খুব ভালো করে মেখে নিয়েছিলাম। যতক্ষণ না একেবারে শুকনো শুকনো হয়ে আসে ততক্ষণই কিন্তু খুন্তি চালাতে হয় এই রান্নাটির ক্ষেত্রে৷ কেন জানেন পোস্ত আর কাজুবাটা সামান্য তাপ পেলেই কড়াইতে লেগে যায় । গরম গরম ভাত দিয়ে পেঁপের পোস্ত খেতে অসাধারণ লাগে।

বন্ধুরা আজ কিন্তু অনেকগুলো রেসিপি আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিলাম। এর আগে যে রান্নার ব্লগ লিখেছিলাম তাতে পেঁপের সুক্তো রান্না করেছিলাম। তা ছাড়াও পেঁপেকে কেন্দ্র করে আরো অনেকগুলো পদ। আমার প্রতিটা পদ আপনারা ভালো করে পড়লে বুঝতে পারবেন রান্নাগুলো কিন্তু খুবই স্বাস্থ্যসম্মত। অহেতুক অনেক তেল দিয়ে কষিয়ে রান্না করে সবজির খাদ্যগুণ নষ্ট করে পরিবেশন করার পক্ষে আমি কখনোই নই। অথচ আমার চেষ্টা থাকে সবসময়ই সুস্বাদু রান্না করার। আর প্রতিটা রান্নাই যেন কম সময়ে রান্না করতে পারি এটাও আমার লক্ষ্য থাকে। এইসব কারণেই আমি সবজি যেগুলো সেদ্ধ হতে বেশি সময় লাগে সেই গুলোকে প্রেসার কুকারে সেদ্ধ করে নিই।যারা তেলে আগে কষিয়ে নেন রান্না তো খেতে ভালই লাগে তবে অতিরিক্ত তেল খাওয়া কখনোই স্বাস্থ্যকর নয়। আমি দৈনন্দিন রান্নার সময় সেটাও মাথায় রাখি। কারণ যতটা স্বাস্থ্যকর খাব ততটাই স্বাস্থ্যকর বাঁচবো।

আজকের ব্লগ আশা করি আপনাদের ভালই লাগলো। আপনাদের মন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করবো। আবার আগামীকাল আসব নতুন কোন ব্লগ নিয়ে। আজ এই পর্যন্তই।

টাটা।

1000205476.png


1000216462.png

পোস্টের ধরণহেঁশেল ইতি বৃত্তান্ত
ছবিওয়ালানীলম সামন্ত
মাধ্যমস্যামসাং এফ৫৪
লোকেশনপুণে,মহারাষ্ট্র
ব্যবহৃত অ্যাপক্যানভা, অনুলিপি


1000216466.jpg


৫% বেনেফিশিয়ারি এবিবি স্কুলকে এবং ১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে


1000192865.png


~লেখক পরিচিতি~

1000162998.jpg

আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিতব্য গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা



কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ

আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।

🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾


puss-in-boots_2.png

1000205458.png

platform- Seemit_20240906_080931_0000.png

IMG_5055.jpg

puss_mini_banner9.1-1.png

1000205505.png

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 2 years ago 

শুধু পেঁপে নিয়ে করা এমন সুন্দর ব্লগ বেশ প্রশংসার দাবি রাখে। তবে এটা ঠিক যে চুরি করে আনা জিনিসের স্বাদ অন্যরকম হয়। হে হে হে৷ সকালবেলা মর্নিং ওয়াকে গিয়ে চুরি করে আনা পেঁপে যে এত কাজে লেগে যাবে তা সত্যিই কল্পনা করা যায় না তাই না? এমন চুরি করে এনে নেই যদি মাছ মাংস সব রান্না হয়ে যেত তাহলে কিন্তু দারুণ হত। যদিও পেঁপে জিনিসটি আমার প্রিয় নয়, তবু এই পোস্টটি খুব ভালো লাগলো।

 2 years ago 

হ্যাঁ। চুরির জিনিসে বেশি স্বাদ হয় বলে আমারও বিশ্বাস৷ আসলে চুরি করার পর ধরা না পড়লে একটা স্যাটিসফেকশন থাকে খাবারের প্রতি সেই কারণেই স্বাদ বাড়ে৷

 2 years ago 

কাঁচা পেঁপে দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রেসিপির ফটোগ্রাফি দেখে ভীষণ ভালো লাগলো আপু। আপনার শেয়ার করা খাবারের ছবি গুলো দেখে ভীষণ লোভ লেগে গেল। বেশ কয়েক ধরনের পেঁপের রেসিপির ফটোগ্রাফি তুলে ধরেছেন।যা দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগছে।ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।

 2 years ago 

অনেক ধন্যবাদ আপু৷ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকলেন। হ্যাঁ চেষ্টা করি একই জিনিসের নানান পদ বানাতে৷

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 64222.97
ETH 1872.99
USDT 1.00
SBD 0.38