আলু ও বেগুন দিয়ে বোয়াল মাছ রান্নার রেসিপি
আসসালামু আলাইকুম,
আমার বাংলা ব্লগের সকল বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ? আশা করি সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে খুব ভালো আছি।
আজকে আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি, আলু ও বেগুন দিয়ে বোয়াল মাছ রান্নার রেসিপি নিয়ে। বোয়াল মাছ হচ্ছে আমার প্রিয় মাছের মধ্যে একটি। মাছের বাজারে বোয়াল মাছ এখন খুব কমই পাওয়া যায়। তবে গত পরশুদিন মাছ কিনতে মাছের বাজারে যাওয়ার পর, বোয়াল মাছ দেখতে পাই। তাই আর দেরি না করে বোয়াল মাছ কিনে ফেলি। বোয়াল মাছ দিয়ে বেগুন এবং শীতকালীন সবজি রান্না করলে আমার কাছে খুব ভালো লাগে খেতে। অনেকদিন পর বেগুন ও আলু দিয়ে বোয়াল মাছ রান্না করা খেলাম। আমার কাছে খুবই সুস্বাদ লেগেছে, তাই আপনাদের সাথে রেসিপিটা শেয়ার না করে পারলাম না। আপনারাও বাসায় এভাবে রান্না করে খেতে পারেন, আশা করি খুব ভালো লাগবে। আমি প্রতিটি ধাপে ধাপে রেসিপিটা উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো। তো কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক আজকের রেসিপিটা।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
- বোয়াল মাছের টুকরো ৮ পিস
- বেগুন ৫০০ গ্রাম
- আলু ২০০ গ্রাম
- টমেটো ১ পিস
- পেঁয়াজ ৩টা
- কাঁচামরিচ ৬টা
- ধনিয়া পাতা পরিমাণ মতো
- হলুদের গুঁড়ো পরিমাণ মতো
- মরিচের গুঁড়ো পরিমাণ মতো
- ধনিয়ার গুড়ো পরিমাণ মতো
- আদা বাটা পরিমাণ মতো
- রসুন বাটা পরিমাণ মতো
- লবণ পরিমাণ মতো
- তেল পরিমাণ মতো
প্রথমে আমি বোয়াল মাছের টুকরো গুলোর সাথে হালকা একটু হলুদ মাখিয়ে আলাদা একটি পাত্রে রেখে দেই। তারপর আমি গ্যাসের চুলার উপর একটি কড়াই বসিয়ে দেই। কড়াই একটু গরম হওয়ার পর আমি পরিমাণ মতো তেল ঢেলে দেই। তেল একটু গরম হওয়ার পর আমি পেয়াজ দিয়ে দেই। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করার পর পেয়াজ বাদামী রং ধারণ করে।
এরপর আমি হলুদের গুঁড়ো, মরিচের গুড়ো,ধনিয়ার গুড়ো,আদা বাটা, রসুন বাটা এবং লবণ দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নেই মসলাগুলোকে।
তারপর আমি আগে থেকে হলুদ দিয়ে মাখিয়ে রাখা, বোয়াল মাছের টুকরো গুলো দিয়ে দেই এবং চুলার হালকা আঁচে খুব আস্তে আস্তে উল্টিয়ে মাছের টুকরো গুলোকে কষিয়ে নেই। এরপর অল্প কিছুক্ষণের জন্য ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখি।
এরপর আমি আলু এবং বেগুনগুলো কড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে দেই।
তারপর আমি আলু এবং বেগুন গুলোকে, মসলাগুলোর সাথে কিছুক্ষণ কষিয়ে নেই।
আলু এবং বেগুন গুলোকে কিছুক্ষণ কষানোর পর, সেগুলো অনেকটা নরম হয়ে যায় এবং এরপর আমি পরিমাণ মতো পানি ঢেলে দেই। কিছুক্ষণ ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখার পর, পানিতে বলক চলে আসে।
পাঁচ মিনিট পর ঢাকনা খুলে দেখি, ঝোল অনেকটা শুকিয়ে গেছে। তারপর উপরে টমেটো ও কাঁচা মরিচ দিয়ে দিলাম এবং দুই মিনিটের জন্য আবারও ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিলাম।
দুই মিনিট পর ঢাকনা খুলে, উপরে ধনিয়া পাতা দিয়ে দেই এবং চুলা বন্ধ করে দেই। আর এভাবেই রান্নাটি সম্পন্ন হয়ে গেল।
সবশেষে একটি বাটিতে নিয়ে রেসিপিটা পরিবেশন করি।
বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্তই। আপনাদের কাছে কেমন লাগলো তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আবারো ইনশাল্লাহ দেখা হবে অন্য কোন পোস্টে।সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
| ক্যাটাগরি | রেসিপি |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @mohinahmed |
| ডিভাইস | Samsung Galaxy S9 Plus |
| তারিখ | ২১.১১.২০২২ |
আলু বেগুন এবং টমেটো দিয়ে বোয়াল মাছের রেসিপি শেয়ার করেছেন আর রেসিপির ছবি দেখে তো বেশ লোভনীয় মনে হচ্ছে। বোয়াল মাছ তৈলাক্ত মাছ হওয়ায় খেতে বোধহয় অনেক মজা লাগবে। আমার তো দেখে জিহ্বায় জল চলে আসছে বাকিদের কি অবস্থা সেটা বলতে পারবো না।
জি ভাইয়া,আপনি ঠিকই বলেছেন বোয়াল মাছ তৈলাক্ত হওয়ায় অনেক ভালো লাগে খেতে। তাই নাকি ভাইয়া, জিভে জল চলে এসেছে? অনেক ভালো লাগলো আপনার মন্তব্যটি পড়ে, ভালো থাকবেন।
বাজারে গিয়ে যদি পছন্দের মাছ কেনা যায় তাহলে সত্যিই ভালো লাগে। আর শীতকলে সবজি দিয়ে মাছ রান্না করে খেতে দারুন লাগে। আলু ও বেগুন দিয়ে যে কোন মাছ রান্না করলেই খেতে ভালো লাগে। আলু বেগুন দিয়ে বোয়াল মাছের রেসিপি দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে ভালো হয়েছে। আপনি সুন্দরভাবে প্রতিটি ধাপ তুলে ধরেছেন। আপনার রন্ধন প্রণালী সকলের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া।
জি আপু ঠিকই বলেছেন, শীতকালে সবজি দিয়ে মাছ রান্না করলে খেতে আসলেই দারুন লাগে। সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ে এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য, অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আলু দিয়ে বেগুন রান্না খেতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। আপনার রেসিপিটি খুবই লোভনীয় লাগছে। যদিও বোয়াল মাছ বেশি খাওয়া হয়না। কিন্তু আপনার রেসিপি দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে সুস্বাদু হয়েছে। মাছ দিয়ে এভাবে সবজি রান্না করলে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়। রান্নার প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আপনি। সুস্বাদু রেসিপি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
বোয়াল মাছ ও সবজি এভাবে রান্না করে খেয়ে দেখবেন, আশা করি অনেক ভালো লাগবে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
আলু ও বেগুন দিয়ে বোয়াল মাছের রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। আমার কাছে আলু ও বেগুন দিয়ে যেকোনো মাছ রান্না করলে খেতে খুবই ভালো লাগে। তবে বোয়াল মাছ আমার তেমন খাওয়া হয়নি। এই মাছ আমার কাছে দেখতে ভালো লাগে কিন্তু কেন জানিনা খেতে ইচ্ছে করে না। রেসিপির ধাপগুলো খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। ধন্যবাদ মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
জি আপু, রেসিপিটা সত্যিই খুব সুস্বাদু হয়েছে। এতো সুন্দর প্রশংসনীয় মন্তব্যের জন্য, অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আশেপাশে দেখি সবাই বেগুন খায়,আমারও বেগুন ভালো লাগে, কিন্তু বেগুন দেখলেই আমার এলার্জি এর কথা মনে পরে যায়।বোয়াল মাছের পেটিটা আমার খুব ভালো লাগে। যাই হোক বেগুন,আলু,টমেটো ও বোয়াল মাছ দিয়ে দারুণ একটি রেসিপি তৈরি করেছেন।প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর করে দেখিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে
জি আপু, চারিদিকে বেগুন খাওয়ার ঝড় বয়ে যাচ্ছে হা হা হা। আমারও বোয়াল মাছের পেটি খেতে খুব ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য।
বোয়াল মাছ দেখলেই আমার ছেলে ও মেয়ের কথা মনে পড়ে যায়। তারা বেশ স্বাচ্ছন্দেই বোয়াল মাছ খেতে পারে, কেননা বোয়াল মাছে কাটার পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে সেই সাথে আমিও বোয়াল মাছ খেতে খুবই পছন্দ করি। আপনার তৈরি আলু ও বেগুন দিয়ে বোয়াল মাছ রেসিপির কালারটা খুবই লোভনীয় হয়েছে। এভাবে আলু ও বেগুন দিয়ে বোয়াল মাছ রান্না করে খেলে দারুন লাগে। সুস্বাদু ও মজাদার এই রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
জি ভাইয়া ঠিকই বলেছেন, বোয়াল মাছ খাওয়ার সুবিধা হচ্ছে কাটার পরিমাণ অনেক কম থাকে। প্রশংসনীয় মন্তব্যের মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়ার জন্য, অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
বোয়াল মাছ দেখে খেতে খুব ইচ্ছে করতেছে। আপনি খুব সুন্দর করে অত্যন্ত দক্ষতার সহকারে বোয়াল মাছ রান্না করেছেন। আসলে আগে আমাদের এদিকে পুকুর এবং জলাশয় গুলোতে অনেক বোয়াল মাছ পাওয়া যেতো। যত দিন যাচ্ছে ততোই বোয়াল মাছ আগের মতন পাওয়া যায় না। আপনার রন্ধন প্রক্রিয়া অনেক দুর্দান্ত হয়েছে। শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
ঠিকই বলেছেন ভাইয়া, আগে পুকুর এবং জলাশয়ে বোয়াল মাছ অনেক পাওয়া যেত। রান্নার প্রশংসা করার জন্য, অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
জি ভাইয়া দামটা একটু বেশি ছিল, তবে মাছের স্বাদ খুব ভাল ছিল। উপস্থাপনের ধরন আপনার কাছে ভালো লেগেছে, জেনে খুব ভালো লাগলো। শুভকামনা জানানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
ভাইয়া আপনি যেভাবে রান্না করেছেন আমি প্রথমে ভেবেছিলাম যে মাছ তো একদম নরম হয়ে গলে যাবে। কিন্তু পরে দেখলাম যে মাছগুলো খুব সুন্দর আস্ত রয়েছে। কারণ আলু বেগুন সিদ্ধ হতে অনেক সময় লাগে। আমিতো মাছগুলো আগে কষিয়ে উঠিয়ে রাখি । তারপর আলু বেগুন গুলো সিদ্ধ করে নিই। আপনার রান্নার পদ্ধতি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।। খেতে যে সুস্বাদু হয়েছে তা বোঝাই যাচ্ছে।
মাছের টুকরো গুলো অনেকক্ষণ কষানোর উদ্দেশ্য একটাই, যেন গন্ধ না আসে। আর বোয়াল মাছ ভেজে নিলে স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। তাই আস্তে আস্তে অনেকক্ষণ কষিয়েছি,সেজন্য মাছের টুকরো গুলো ভেঙে যায়নি। আমার রান্নার পদ্ধতি আপনার কাছে ভালো লেগেছে, জেনে খুব ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে , সুন্দর মন্তব্যের জন্য।