শীতের আগমনী বার্তা
ব্যক্তিগত কিছু কাজের কারণে কয়েক দিনের জন্য গ্রামে এসেছি। ইচ্ছে আছে আরো কয়েকটা দিন এখানে থাকার। তবে যেহেতু এদিকটাতে বেশ ভালই ঠান্ডা পড়েছে , তা হয়তো এখানে না আসলে বুঝতে পারতাম না। শহরাঞ্চলেও হালকা ঠান্ডা পড়েছে, তবে এদিকটার মতো এতো নয়।
যাইহোক ভোরবেলার দিকে ঘুম থেকে উঠেছিলাম সেদিন। আর উঠেই ভাবছিলাম পারিপার্শ্বিক অবস্থা একটু স্বচক্ষে দেখার জন্য। অতঃপর যেমন চিন্তাভাবনা তেমন কাজ। তবে বাহিরে যখন গিয়েছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল যদি বাসা থেকে আসার সময় মোটা জামা-কাপড় নিয়ে আসতাম, তাহলে বেশ ভালোই উপভোগ করা যেত এই সময়টা।
তবে তারপরেও আমি চেষ্টা করেছি সকাল বেলার সময়টা বেশ ভালোভাবেই উপভোগ করার জন্য। অনেকটা সতেজ ও প্রাণবন্ত অনুভব করছিলাম সেই মুহূর্তটাতে। মনে হচ্ছিল বিশুদ্ধ অক্সিজেন আমার ক্রমাগত ফুসফুসে ঢুকছিল আর আমি ভিতর থেকেই চাঙ্গা হয়ে উঠছিলাম।
সারারাত যে ভালই শিশির পড়েছে তা যেন ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে আশেপাশের গাছপালার পাতার দিকে লক্ষ্য করলেই, কেননা সবকিছুই ভিজে যেন আরও তরতাজা হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে যখন জংলি ফুল গুলো দেখেছিলাম, তখনও বেশ ভালো লাগা কাজ করেছিল। তাছাড়াও এখানকার মানুষজন খুবই কর্মঠ, তারা সেই সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যস্ত হয়ে যায়।
অতঃপর আমি চেষ্টা করেছিলাম আরেকটু এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ করে যেদিকটাতে ফসলের জমি আছে সেখানে। তখনও দেখছিলাম ঘন কুয়াশা কেটে সূর্য উঠার চেষ্টা করছিল। সেই আলো পর্যাপ্ত হচ্ছিল না, কেননা ঘন কুয়াশার কাছে সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিল। চতুর্দিকে শুধু ঘন কুয়াশার চাদরে সাদা হয়ে গিয়েছে। ক্রমাগত হিমশীতল বাতাস আসছিল। আরো কিছুটা এগিয়ে যখন ফসলের জমির কাছাকাছি গিয়েছিলাম, তখন দেখছিলাম শিশির বিন্দু ধানের শীষের উপরে জমাট বেঁধে আছে।
অকৃত্রিম ও অপার্থিব সৌন্দর্যের মাঝে যেন মুহূর্তেই আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম। শহুরে জীবনে এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখা থেকে আমরা প্রতিনিয়তই বঞ্চিত হই। তবে আমি মনেকরি, আমাদের যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততাকে দূরে ঠেলে দিয়ে হলেও, কিছুটা সময় নিজের জন্য বের করা উচিত। আর সেই সময়গুলো যদি এমন খোলামেলা উন্মুক্ত পরিবেশে, নিরিবিলি ভাবে প্রকৃতির একদম কাছাকাছি গিয়ে কাটানো যায়, তাহলে হয়তো কিছুটা প্রফুল্লতা বোধ কাজ করে নিজের মধ্যে।
শীতের আগমনী বার্তা যে ঘটেছে, তা যেন স্বচক্ষেই দেখতে পারলাম। দারুন এক অভিজ্ঞতা হলো সেদিনের সেই সকাল বেলায়। আমার কাটানো মুহূর্তের উপর ভিত্তি করে একটা ভিডিও বানানোর চেষ্টা করেছি। আশা করি ভালো লাগবে।
ধন্যবাদ সবাইকে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1721814439425634480?t=dPxUfQucUGkvaEhlKCz0kw&s=19
আপনার পোস্টে পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আসলে ভাইয়া গ্রামে এখন হালকা শীত পড়ে সকালে। আপনি ঠিকই বলেছেন যান্ত্রিক জীবনের থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে নিজের প্রতি একটু সময় দেও অবশ্যই উচিত। আপনি অনেক সুন্দর একটা সময় কাটিয়েছেন যেনে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর কাটানো মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আসলেই আমার কাছে সময়টা বেশ ভালোই কেটেছে আপু।
গ্রামে অনেক আগেই শীত এসে পড়েছে ভাইয়া ।সকালবেলায় দেখা যায় ধানের উপর শিশির বিন্দু জমে থাকতে । আপনি গ্রামে গিয়ে অবশ্য শীতের একটা ফিল পেয়েছেন । শহরে কিন্তু এখনো গরমের ভাবটা রয়েই গেছে । আসলে কিছুটা সময় নিরিবিলি কাটাতে হয় । গ্রামের পরিবেশটাকে উপভোগ করতে হয় । আর কয়েকটা দিন গ্রামে থাকলে আশা করি ভালোই উপভোগ করতে পারবেন ।
এটা সত্য শহরে এখনো সেভাবে শীত পড়েনি। তবে গ্রামে আসার পরে বুঝতে পেরেছি, শীত ভালই পড়েছে এখানে।
ভাই আমরা গ্রামে বাস করি তাই বেশ কিছুদিন ধরে শীত অনুভব করে যাচ্ছি। সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে বাইরে আসলে অবশ্যই আমাদের শীতের কাপড় পরে বেরোতে হয়। এইতো প্রথম দিকে সাবধানতা অবলম্বন করিনি তাই ঠান্ডা লেগে গেছে। এই সময়টা বেশ খারাপ কখনো গরম কখনো ঠান্ডা। এতে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে শীতের সময়টা ভীষণভাবে উপভোগ করে থাকি প্রতি বছর।
আপনার কথায় যুক্তি আছে ভাই, এই আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে অনেকের ঠান্ডা লেগে যাচ্ছে।
হ্যাঁ ভাই আমাদের সবার উচিত কর্মবিরতি দিয়ে, মাঝেমধ্যে এমন খোলামেলা পরিবেশে গিয়ে সময় কাটানো। তাহলে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। শীতকালে গ্রামে সময় কাটাতে আসলেই দারুণ লাগে। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে খুবই ভালো লাগে। তারপর নির্ভেজাল খেজুরের রস খাওয়া যায়, মজার মজার পিঠা খাওয়া যায়। যাইহোক আপনি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সকালের পরিবেশটা বেশ ভালোই উপভোগ করলেন ভাই। এতো সুন্দর মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
যদিও সকালে উঠা হয়না। তবে যখন উঠি তখনই শীতের একটা প্রভাব বুঝতে পারি। আশাকরি আর কিছুদিনের মধ্যেই ঘন কুয়াশা দেখতে পারব। আপনি যদি শীতটা ভালোভাবে কাটাতে চান শীতটা অনুভব করতে চান তাহলে আপনাকে গ্রামেই আসতে হবে। শহরের ঐ ইট পাথরের মধ্যে এটা সম্ভব না। এইরকম সৌন্দর্যের মধ্যে সকাল টা দারুণ কাটিয়েছেন ভাই।
গ্রামীণ পরিবেশে ঘুরাঘুরি করতে ভীষন ভালো লাগে।আমাদের ঢাকাতে শীতের আমেজ এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।শীতকে উপভোগ করতে হলে গ্রামে এমন খোলা পরিবেশে যেতে হবে।যান্ত্রিকতাকে পেছনে ফেলে আমাদের নিজেদেরকে একটু সময় দেয়া উচিত।অনেক ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে। অনেক সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছেন ভাইয়া।দেখে খুব ভালো লাগলো। সুন্দর মূহুর্ত গুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।