হয়তো অপূর্ণ থেকে যাবে
যখন ছাত্র অবস্থায় ছিলাম, তখন ভীষণ স্বাস্থ্য সচেতন ও ফ্যাশন সচেতন ছিলাম। বলতে গেলে নিজের আউটলুক নিয়ে অনেকটাই সময় ব্যয় করতাম। কখন কোন নতুন ব্র্যান্ডের কাপড়চোপড় জুতো স্যান্ডেল বাজারে বা শোরুমগুলোতে আসছে সেগুলো নিয়ে আগ্রহ থাকতো অনেকটাই বেশি, তবে দিন যত গড়িয়ে গিয়েছে, আমার সেই সচেতনতায় হয়তো অনেকটা এখন মরিচা পড়েছে।
এখন আর সেই ইচ্ছা আগের মত নেই, বাসা থেকে ঠিকঠাক মত বের হওয়া হয় না। সারাটা দিন ল্যাপটপের সামনে শুয়ে বসেই থাকি, জীবন জীবিকা সব এখন ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট কেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছে। যেহেতু আমার অফিস আমার ঘরের ভিতরেই, তাই স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ফ্যাশন সচেতনতা অনেকটাই নড়বড়ে এখন।
কাপড়-চোপড় গুলো আমার কাছে এখন অনেকটাই বেশি মনে হয়, ভাবছি এগুলো অযথা রেখে কোন লাভ নেই। যেটা একদম খুব প্রয়োজনীয়, সেগুলোই দুই একটা রেখে দেবো বাকি সব কাপড়চোপড়ের অন্য কোন ব্যবস্থা করতে হবে। হয়তো তা চলে যেতে পারে অন্য কারো হাতে।
সেদিন যখন লোটো শোরুমে গিয়েছিলাম হীরা আর বাবুর জন্য কিছু কেনাকাটা করতে, তখনই মূলত এই জুতো জোড়া দেখে কিনতে ইচ্ছে করেছিল, একবার তো শখ করে পায়ে দিয়ে দেখে আয়নার সামনে কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে ছিলাম, দুটো ছবিও তুলেছিলাম। ভেবেছিলাম কিনে ফেলি, তবে যখন একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবার চেষ্টা করলাম, তখন আমার মনে হল আমার আগেরই তিন জোড়া জুতো ঘরের ভিতরে অহেতুক পরে আছে, সেগুলোই পায়ে দেওয়ার সময় পাইনা।
তার ভিতরে যদি আবার এই জোড়া কিনি, এটা কখন পায়ে দিব সেটা ভাবতেই যেন অনেকটা গুলিয়ে গিয়েছিলাম। দাম যে খুব আহামরি তা বলবো না, তবে পায়ে দেওয়ার সময় কই। একটা সময় কত এসবের প্রতি সচেতন ছিলাম, যখন যেটাই ভালো লাগতো, তখন সেটাই কিনে নেওয়ার চেষ্টা করতাম। আর আজ পরিস্থিতি অনেকটাই বিপক্ষে, ইচ্ছে বা সামর্থ্য ঠিকই আছে, তবে সময় নেই।
তাও পছন্দ করে এসেছি, দেখি যদি সময় সুযোগ পাই, হয়তো কিনলেও কিনতে পারি। তবে সেই সম্ভাবনা খুবই কম, এটাই প্রকৃত সত্য কথা। এখন আর নিজের বলে আর কিছু নেই বা নিজের জন্য কিছু করতেও ইচ্ছে করে না, যাই করছি তাই হয়তো পরিবারের জন্য।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিসগুলো হাত-বদল করাই ভালো ভাই। যেটা আপনার কাছে হয়তো ততোটা মূল্য নাই, কিন্তু অন্যের কাছে সেই জিনিসটাই অমূল্য হতেই পারে। আমাদের সমাজের বেশিরভাগ মানুষের আর্থিক অবস্থা এখন বেশ নড়বড়ে, কারণও সবার জানা যে দ্রব্যমূল্য এখন হাতের নাগালের বাহিরে। আর সে কারণেই জুতো না কিনার ডিসিশন টাই ভালো। করোনার পর থেকেই আমি নিজে আমার জন্য এই কথাটা মেনে চলি যে, প্রয়োজন এর অতিরিক্ত কিছু থেকে নিজেকে বিরত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
জীবন তো আমাকে প্রতি পদে পদে শিখাচ্ছে অনেক কিছুই, তবে ভালই লাগছে যা শিখছি তা ভেবে।
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1729422158307475877?t=nrcQjEljxxUtPCj_3zo6dA&s=19
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
আস্তে আস্তে জীবনের মানে বুঝতে পারতেছি ভাইয়া, সব শখ অনেকটাই কমে গিয়েছে। এখন মনে হয় নিজে না কিনে নিজের পরিবারকে কিনে দিতে পারলেই প্রশান্তি। বয়সের সাথে সাথে পরিবারের দায়িত্বে আমাদের শখগুলো আসলেই হারিয়ে যাচ্ছে।জুতাটি বেশ সুন্দর লাগতেছে আমার কাছে অনেক ব্র্যান্ডের।পরে পোস্টটি পড়ে দেখলাম আসলে আপনি অনেক সচেতেন আবার বাসায় তিন জোড়া জুতা আছে, এটা কিনলে তো এটা পড়েই থাকবে। এই টাকাটা যদি পরিবারের পিছনে খরচ করা যায় তাও কাজ লাগবে। জ্বী ভাইয়া আপনি তো চেম্বারটি ছেড়ে দিয়েছেন, এখন সব সময় জীবন জীবিকা ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট কেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছে । ঘরের মধ্যে অফিসে হওয়ায়, সারাদিন ঘরের মধ্যেই থাকা হয়। জি ভাইয়া এখন আপনি ইচ্ছে করলে অনেক কিছুই কিনতে পারবেন কিন্তু সময় আর সেই ইচ্ছাটাই নাই।যদি ভালো লাগে ভাইয়া, পছন্দের জিনিসটি কিনে নেবেন।আমিও বুঝতে পারতেছি ভাইয়া, নিজের জন্য আর কিছু করতে ইচ্ছা করে না, ছেলেদের মাথায় যখন পরিবারের দায়িত্বে চাপ পড়ে, তখন তারা পরিবারের জন্য ভাবতে ভাবতে জীবন কেটে যায়।
আমি এই ব্যাপারটা প্রতিনিয়ত উপলব্ধি করি। এখন আর নিজের বলতে কিচ্ছু নেই, সব পরিবারের জন্য করছি মনে হয়। নিজের জন্য একটা জিনিস কিনতে গেলে দশবার চিন্তা করি, যদি একান্তই না হলে নয় শুধু মাত্র সেটাই কেনার চেষ্টা করি। তবে একটা সময় আমিও ভীষণ সৌখিন ছিলাম কিন্তু এখন দিন বদলেছে কিছুই এখন আর আমার জন্য করতে ইচ্ছে করে না। তবুও বলি জুতো জোড়া মানিয়েছে, নিয়ে নিতে পারেন।
নিলে অবশ্য মন্দ হয় না, তবে পড়বো কখন সেটা ভাবতেই বেশ সন্দিহান আমি, ভাই। তাও দেখি কি করা যায়।
কেমন যেন আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবতেই ভুলে যাচ্ছি। জীবনের সব রং অনেকটা ধূসর ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।।।।।।।
শুভ রাত্রি।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ইস আপনার কথা শুনে হিংসে হচ্ছে। আপনার মতো যদি হতে পারতাম।আপনার মতো মন পরিবর্তন হয় না কেন। দিন দিন যেন চাহিদা বেড়েই যাচ্ছে আমার কেনাকাটার।আসলে এটাই আসল কথা অফিস ঘরেই তাই কেনার আগ্রহ কম।সর্বশেষ কথাটি খুব ভালো লাগলো ভাইয়া নিজের বলতে কিছু নেই এখন আর সব পরিবারের জন্য। আসলে সচেতন পুরুষরা এমনই হয়। নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করে পরিবারের মানুষজনের মুখে হাসি ফোঁটাতে।
খুব সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া ।
দায়িত্ব আর একটু ঘাড়ের উপর আসুক, তখন এমনি সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
এটা ঠিক বলেছেন ভাইয়া যে,অফিস ঘটে হলে স্বাস্থ্য সচেতন আর ফ্যাশন সচেতন অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে যায়।সবাই তার পরিবার নিয়ে চিন্তা করেন।বিশেষ করে পুরুষ মানুষ এর পরিবারই সব।ভালো লাগলো পোস্টটি ।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিন্তাভাবনা ও জীবনের পরিবর্তন চলে আসে।তেমনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনিও পরিবারকেন্দ্রিক ও ইন্টারনেট কেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছেন।জীবনের একটি পর্যায় হয়তো এমন-ই,যখন শুধু পরিবারকে ভালো রাখার চিন্তা থাকে মানুষের মনে।আশা করি আপনারও সময়-সুযোগ হবে,ধন্যবাদ ভাইয়া।
দিনশেষে পরিবারকে ভালো রাখতে পারলেই এখন নিজের কাছে বেশি প্রশান্তি লাগে।
আসলেই ভাই মানুষের জীবনে একটা সময় থাকে, তখন মানুষ নিজেকে কতোটা সুন্দর বা পরিপাটি রাখা যায়, সেই চিন্তা ভাবনায় মগ্ন থাকে। তবে সেই সময়টা যখন পার হয়ে যায়, তখন সবকিছু পরিবারের জন্যই করে এবং সেটা অন্য রকম তৃপ্তি দেয় মনের মধ্যে। যাইহোক আপনি যেহেতু বাসা থেকে তেমন বের হন না,তাই অযথা এই জুতা জোড়া না কিনে বেশ ভালো করেছেন। কেনার পর বাসায় ফেলে রাখার কোনো মানে হয় না। তবে জুতা জোড়া কিন্তু খুব সুন্দর। আমার একজোড়া লোফার আছে, যেটা অনেকটা এই জুতা জোড়ার মতোই। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
আমিও ভাবি, এটাই হয়তো জীবন। এক সময় সবকিছুই মলিন হয়ে যায়।