"সিকিম ডায়েরি: জিরো পয়েন্টে কাটানো অমুল্য কিছু মুহূর্ত"
Hello,
Everyone,
গত পর্বে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম জিরো পয়েন্টের যাত্রাপথের গল্প। আমাদের গাড়ি যখন প্রায় জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছেছে, তখন হঠাৎ করে ড্রাইভার দাদা বললেন, আজ হয়তো আপনারা স্নো ফল পেতে পারেন।
একথা শুনে আমাদের উত্তেজনা যেন আরও বহুগুণ বেড়ে গেলো। সেই সাথে ধীরে ধীরে অনুভব করছিলাম যেন শ্বাস কষ্টও হচ্ছে। কারণ তখন আমরা অনেকটাই উপরে উঠে গিয়েছিলাম। যদিও আমরা সাথে করে সকলেই কর্পূর নিয়ে গিয়েছিলাম।
বরফগুলো যতো কাছাকাছি আসছিলো আমাদের আনন্দ বেড়েই যাচ্ছিলো, তবে পাহাড়ের ধ্বসের চিহ্ন গুলো মন ভেঙ্গে দিচ্ছিল বারবার। আর ভয় ভরে উঠছিল মনটা। আমরা ঠিক মতন বাড়িতে পৌঁছাতে পারবো তো, এই প্রশ্ন আসছিলো মনে।
খানিকটা উপরে উঠে যখন নিচের দিকে তাকিয়ে অবাক হলাম। আঁকা বাঁকা রাস্তা গুলো দেখে ভাবছিলাম এই রাস্তা দিয়েই আমরাও এতোটা উপরে উঠেছি। আবার এই রাস্তা দিয়ে ফিরতে হবে আমাদের।
রাস্তায় গুরুদংমার লেক চোখে পড়েছিলো। তবে আমাদের ড্রাইভার দাদা বললেন জিরো পয়েন্ট থেকে ফেরার সময় আমরা এখানে কিছুটা সময় কাটাবো। আপাতত সোজা আমরা জিরো পয়েন্ট দেখতেই যাবো। আমরাও তাতেই সম্মতি জানালাম।
তাই আমাদের গাড়ির সোজা গিয়ে দাঁড়ালো জিরো পয়েন্টে। যেখানে সমস্ত গাড়ি লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছে। চারপাশে শুধু সাদা বরফে মোরা, তার মাঝে দু একটা দোকান, আর প্রচুর গাড়ি ও পর্যটকের ভিড় সেখানে।
সবকিছু মিলিয়ে সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য, যা নিজের চোখে দেখা আর লেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। গাড়ি থেকে যখন নামলাম ততক্ষণে স্নো ফল শুরু হয়েছে। ড্রাইভার দাদা বললেন আমাদের ভাগ্য নাকি ভালো, যে পরিমাণে স্নো ফল হচ্ছে তাতে আমরা সেটা উপভোগ করতে পারবো।
এর থেকে বেশি স্নো ফল হলে এখান থেকে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর্মিরা তখন আর উপরে উঠতে দেবে না। সেখানে কি পরিমাণ ঠান্ডা ছিলো, সেটা আসলে আর ব্যাখ্যা করে লিখতে পারছি না। আশা করি ছবি দেখেই বুঝতে পারছেন।
চোখ, মুখ, হাত, নাক, কান কোনো কিছুই খোলা ছিলো না আমাদের। এতো পরিমানে ঠান্ডা ছিলো সেখানে। তবে আমরা সকলে মিলে দারুন উপভোগ করেছি জিরো পয়েন্টে। ছবি তোল, ভিডিও করা, বরফ নিয়ে খেলা, প্রত্যেকটা জিনিস এতো সুন্দর ভাবে উপভোগ করেছি যে তা বোধহয় আপনাদের সাথে লেখার মাধ্যমে শেয়ার করা সম্ভব হবে না।
এত বরফের মধ্যে দিয়েও মাঝখান থেকে বয়ে চলেছিল লাচুং নদী। যার জল বরফের মতোই ঠান্ডা ছিলো তা বলাই বাহুল্য। তবে এই নদীটি পার করার জন্য সেখানে ছিলো ছোট্ট একটা কাঠের ব্রিজও। সাদা বরফের মধ্যে এই এক টুকরো কাঠের ব্রিজ যেন সেখানকার সৌন্দর্য্য আরও বাড়িয়ে তুলেছিলো।
তবে এখানে হাঁটার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন না করলে পড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। বহু পর্যটক এখানে প্রতিদিন ভ্রমণে আসেন। বরফ গলতে থাকে, আর পুরনো বরফগুলো অনেক বেশি স্লিপারি হয়ে যায়। যে কারণে এখানে সবাই আলাদা করে জুতো ভাড়া করে তবেই আসে। এতে অ্যাক্সডেন্টের সম্ভাবনা অনেকটা কম থাকে।
যাইহোক জিরো পয়েন্টে আমরা মোটামুটি ঘন্টা দুয়েক মতন সময় কাটিয়েছিলাম। যেখানে ভীষণ আনন্দ করে কেটেছে মুহূর্তগুলো। জানিনা জীবনে আর কখনো সেখানে যাওয়ার সৌভাগ্য হবে কিনা, কিন্তু যতোটুকু সময় সেখানে কাটিয়েছি তা যেন জীবনের এক অমূল্য প্রাপ্তি।
ছবির মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব উপস্থাপন করার চেষ্টা করলাম আপনাদের সাথে। তবে অনুরোধ করবো সম্ভব হলে একবার অন্তত এই অভূতপূর্ব সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করার জন্য সেখানে যাবেন। তবে হ্যাঁ যাদের শ্বাসকষ্ট আছে তারা এখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
আমরা সকলে নিজেদের সুস্থতা সত্বেও সাথে করে কর্পূর নিয়ে গিয়েছিলাম। সকলকে কর্পূর ব্যবহার করতে হয়েছে শ্বাস নেওয়ার জন্য। তাই বুঝতেই পারছেন সেখানে ঠিক কতখানি অক্সিজেনের অভাব রয়েছে।
যাইহোক বরফে মোড়া চারপাশ, লাচুং নদী, কাঠের ব্রিজ, স্নো ফল, প্রচন্ড পরিমাণে ঠান্ডা, বান্ধবীদের উপস্থিতি, সমস্ত কিছু মিলিয়ে জিরো পয়েন্ট যেন আমার কাছে এক স্বর্গীয় অনুভূতি। যা স্মৃতির মনি কোঠায় আজীবন একই রকম ভাবে থেকে যাবে।
কিছু মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আপনাদের আমার লেখা পড়ে, পাশাপাশি ছবির মাধ্যমে জিরো পয়েন্ট দেখে কেমন লাগলো, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।
Curated by: @ ripon0630