বেইলি রোডের ফুডকোর্টে গিয়ে পিৎজা খাওয়ার অভিজ্ঞতা।
যাইহোক আমরা সেখানে গিয়ে প্রথমে সুবিধা মত একটি টেবিল খুঁজতে লাগলাম। তবে খেয়াল করে দেখি বেশিরভাগ টেবিলে একজন দুজন করে বসে রয়েছে। আমরা ছিলাম সর্বমোট পাঁচজন। যার ফলে আমাদের একটু বড় জায়গার প্রয়োজন ছিলো। প্রথমে আমরা একটি টেবিলে বসলাম। কিছুক্ষণ পরে পাশের একটি জায়গা খালি হওয়াতে আমরা সেখানে গিয়ে বসলাম। তারপর চিন্তা করতে লাগলাম কোন ধরনের খাবার খাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের ভেতর কেউই তেমন কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না। আর আমার নিজেরও ব্যক্তিগতভাবে খাওয়ার খুব একটা ইচ্ছা ছিলো না। কারণ দুপুরে ভারী খাবার খেলে আমি চেষ্টা করি রাতের খাবারটা স্কিপ করতে। আর পুরোপুরি স্কিপ না করলেও চেষ্টা করি যতোটা হালকা খাবার খাওয়া যায়। আর দুপুরে প্রচুর খাওয়ার ফলে পেটে খুব একটা জায়গাও ছিলো না। আর পেট ভরা থাকলে মানুষের খাওয়ার আগ্রহ থাকে না।
বেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করার পরও যখন দেখি কেউ কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তখন আমি আমার ভাগ্নেকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি কি পিজ্জা খাবে নাকি? কারণ আমি খেয়াল করে দেখলাম এক পাশে ডমিনোজ এর আউটলেট রয়েছে। এর আগে আমার কখনো ডমিনোজ থেকে কোন কিছু খাওয়া হয়নি। আমার নিজেরও ডমিনোজ খাবার চেখে দেখার একটা ইচ্ছা ছিলো। তবে ভাগ্নে পিজার কথা শুনতেই বেশ আগ্রহী হয়ে উঠলো। তখন আমি তাকে নিয়ে পিজা অর্ডার করতে গেলাম। সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর কাউন্টারে গিয়ে দেখে শুনে একটি লার্জ স্পাইসি চিকেন পিজার অর্ডার করলাম। সাথে অর্ডার করেছিলাম পাঁচটি ড্রিংকস। ড্রিংস অর্ডার করার সময় আমার মনে ছিলো না যে আমার মেয়ের ঠান্ডা খাওয়া নিষেধ। যাইহোক খাবার অর্ডার করার পরে তারা জানালো পিজ্জা প্রস্তুত হতে ১৫ মিনিট সময় লাগবে। ততক্ষণ আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যার ফলে আমরা খাবার অর্ডার করে আমাদের টেবিলে গিয়ে বসলাম।
সেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর আমার মেয়ে বলছিল তার পানির পিপাসা লেগেছে। তখন আমি চিন্তা করলাম তাহলে ড্রিঙ্কস গুলো আগে নিয়ে আসি। আমি ডমিনোজ কাউন্টারে গিয়ে সেখান থেকে ড্রিঙ্কস গুলো নিয়ে এলাম। তখন আমার মনে পড়ল আমার মেয়ের তো ঠান্ডা খাওয়া নিষেধ। এদিকে আমি ড্রিঙ্কস এনে পড়েছি বিপদে। মেয়ের লেগেছে পিপাসা এদিকে তার সামনে রয়েছে ঠান্ডা কোকের গ্লাস। সে তো খুবই জোরাজোরি করছিল খাওয়ার জন্য। কিন্তু তাকে বোঝানোর পরে সে মুখ গোমরা করে রাজি হল না খাওয়ার জন্য। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে তার জন্য হাফ লিটারের একটি নরমাল পানির বোতল নিয়ে এলাম। যাই হোক আমরা কোকের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে এক সময় দেখলাম ১৫ মিনিট পার হয়ে গিয়েছে। তখন আমি কাউন্টারে গিয়ে পিজা নিয়ে এলাম। খেয়াল করে দেখলাম বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট থেকে তারা টেবিলে খাবার পরিবেশন করে যাচ্ছে। কিন্তু ডমিনোজের ছিলো সেলফ সার্ভিস। যার ফলে আমাদের নিজেদেরই সব খাবার নিয়ে আসতে হচ্ছিলো। যাই হোক গরম পিজা টেবিলে আনার পরে সবাই এক পিস করে নিয়ে খেতে লাগলাম।
তবে সত্যি বলতে কি পিজাটা আমার কাছেও খুব একটা ভালো লাগেনি। ভালো না লাগার কারণ হচ্ছে পিজ্জা ডো এর উপরে তারা এক ধরনের সস ব্যবহার করেছে যেটাতে ছিলো টক ফ্লেভারটা। ফ্লেভারটা আমার পছন্দ হয়নি। পিজার সাথে আমি বেশিরভাগ সময় টমেটো কেচাপ খেয়ে থাকি। এই কারণেই হয়তো আমার কাছে ওই টক ফ্লেভারটা ভালো লাগেনি। খেয়াল করে দেখলাম পিজার সাথে তারা অরিগানো এবং চিলি ফ্লেক্স এর কয়েকটা প্যাকেট দিয়ে দিয়েছিলো। যদি পিজাটা কম স্পাইসি মনে হয় সে ক্ষেত্রে যেন এগুলো আমরা পিজার উপর ছিটিয়ে তারপর খেতে পারি। তবে সবারই পেট ভরা থাকার কারণে কেউই খুব একটা খেতে পারিনি। বড় একটা পিজার সবাই মিলে অর্ধেকটাও শেষ করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত আমরা খাবার শেষ করতে না পেরে বাকিটা পার্সেল করে বাসায় নিয়ে এসেছিলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষ হতেই আমরা খালাতো বোনের বাসার দিকে রওনা দিলাম। কারণ অনেকক্ষণ হয়েছে আমরা বাসা থেকে বের হয়েছি। আর আমরা সেই সকালে ফরিদপুর থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় এসে তারপরে আবার কাজে বের হয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমার শুধু মনে হচ্ছিলো এখন গিয়ে জামা কাপড় ছেড়ে বিছানায় শুতে পারলে একটু ভালো লাগবে। এভাবেই প্রথম দিনের ব্যস্ততা শেষ হলো।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | ফরিদপুর |
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ফুড কোর্টে খাবার খেতে খুবই ভালো লাগে। কারণ বিভিন্ন ধরনের খাবার টেস্ট করার সুযোগ থাকে। বসুন্ধরা সিটি শপিং মল এবং যমুনা ফিউচার পার্কে গেলে, ফুড কোর্টে বসে খেতে বেশ ভালো লাগে। বিশেষ করে ফুড কোর্টে থাকা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার খেতে দারুণ লাগে। যাইহোক ডমিনোজের পিজ্জা বরাবরই আমার ভীষণ পছন্দ। তবে আপনার কাছে তেমন ভালো লাগেনি, জেনে খারাপ লাগলো। আসলে পেট ভরা থাকলে এমনিতেই খাবার খেতে তেমন ভালো লাগে না। যাইহোক এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
বেইলী রোড কিন্তু আমার বাসার কাছেই। কিন্তু বেশ কিছুদিন হলো বেইলী রোডে যাওয়া হয় না। তাই রুফটপ রেস্টুরেন্টের কথাও আমার জানা নেই। তবে যেহেতু বেশ বড় সড় জায়গা নিয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়ছে তাহলে তো এদের খাবারের মানও ভালো হবেই। যাক বেশ হালকা পাতলার মধ্য দিয়েই নাস্তা সেরে নিলেন। সম্পন্ন পোস্টটি পড়ে কিন্তু দারুন লেগেছে। ধন্যবাদ সুন্দর সময়টুকু আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আসলে ভরা পেটে কোথাও খেতে গেলে এরকম অবস্থায় হয়। তার জন্যই আপনারা একটা পিজ্জা অর্ডার করে পাঁচ জন মিলে শেষ করতে পারেননি। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে এই পর্বে বেইলি রোড থেকে খাওয়া দাওয়া করার মুহূর্ত গুলো শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।