বেইলি রোডের ফুডকোর্টে গিয়ে পিৎজা খাওয়ার অভিজ্ঞতা।

কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।


এর আগের পর্বে আপনাদের সাথে বেইলিরোডে মেয়ের জন্য কেনাকাটার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি। কেনাকাটা শেষ করার পরে আমরা খাওয়ার জন্য কোন জায়গা খুঁজছিলাম। তখন খালাতো বোনের পরামর্শে আমরা বেইলি রোডের একটি রুফটপ ফুড কোর্টে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম একই জায়গায় বেশ কিছু খাবারের দোকান রয়েছে। সেখানে ইন্ডিয়ান থেকে শুরু করে থাই চাইনিজ ইতালিয়ান সব ধরনের খাবারই ছিলো। আমার কাছে এই ধরনের ফুড কোর্ট বেশ ভালো লাগে। কারণ হচ্ছে আপনি একই জায়গায় বসে বিভিন্ন রকম খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন। তাছাড়া এই ধরনের ফুড কোর্ট বসে বন্ধু-বান্ধব বা পরিবার-পরিজন নিয়ে আড্ডাও দেয়া যায়। এ কারণে আমার কাছে ফুড কোর্ট গুলি বেশ ভালো লাগে।

IMG_20231130_184952.jpg

যাইহোক আমরা সেখানে গিয়ে প্রথমে সুবিধা মত একটি টেবিল খুঁজতে লাগলাম। তবে খেয়াল করে দেখি বেশিরভাগ টেবিলে একজন দুজন করে বসে রয়েছে। আমরা ছিলাম সর্বমোট পাঁচজন। যার ফলে আমাদের একটু বড় জায়গার প্রয়োজন ছিলো। প্রথমে আমরা একটি টেবিলে বসলাম। কিছুক্ষণ পরে পাশের একটি জায়গা খালি হওয়াতে আমরা সেখানে গিয়ে বসলাম। তারপর চিন্তা করতে লাগলাম কোন ধরনের খাবার খাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের ভেতর কেউই তেমন কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না। আর আমার নিজেরও ব্যক্তিগতভাবে খাওয়ার খুব একটা ইচ্ছা ছিলো না। কারণ দুপুরে ভারী খাবার খেলে আমি চেষ্টা করি রাতের খাবারটা স্কিপ করতে। আর পুরোপুরি স্কিপ না করলেও চেষ্টা করি যতোটা হালকা খাবার খাওয়া যায়। আর দুপুরে প্রচুর খাওয়ার ফলে পেটে খুব একটা জায়গাও ছিলো না। আর পেট ভরা থাকলে মানুষের খাওয়ার আগ্রহ থাকে না।


IMG_20231130_181816.jpg

বেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করার পরও যখন দেখি কেউ কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তখন আমি আমার ভাগ্নেকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি কি পিজ্জা খাবে নাকি? কারণ আমি খেয়াল করে দেখলাম এক পাশে ডমিনোজ এর আউটলেট রয়েছে। এর আগে আমার কখনো ডমিনোজ থেকে কোন কিছু খাওয়া হয়নি। আমার নিজেরও ডমিনোজ খাবার চেখে দেখার একটা ইচ্ছা ছিলো। তবে ভাগ্নে পিজার কথা শুনতেই বেশ আগ্রহী হয়ে উঠলো। তখন আমি তাকে নিয়ে পিজা অর্ডার করতে গেলাম। সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর কাউন্টারে গিয়ে দেখে শুনে একটি লার্জ স্পাইসি চিকেন পিজার অর্ডার করলাম। সাথে অর্ডার করেছিলাম পাঁচটি ড্রিংকস। ড্রিংস অর্ডার করার সময় আমার মনে ছিলো না যে আমার মেয়ের ঠান্ডা খাওয়া নিষেধ। যাইহোক খাবার অর্ডার করার পরে তারা জানালো পিজ্জা প্রস্তুত হতে ১৫ মিনিট সময় লাগবে। ততক্ষণ আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যার ফলে আমরা খাবার অর্ডার করে আমাদের টেবিলে গিয়ে বসলাম।


IMG_20231130_183426.jpg

সেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর আমার মেয়ে বলছিল তার পানির পিপাসা লেগেছে। তখন আমি চিন্তা করলাম তাহলে ড্রিঙ্কস গুলো আগে নিয়ে আসি। আমি ডমিনোজ কাউন্টারে গিয়ে সেখান থেকে ড্রিঙ্কস গুলো নিয়ে এলাম। তখন আমার মনে পড়ল আমার মেয়ের তো ঠান্ডা খাওয়া নিষেধ। এদিকে আমি ড্রিঙ্কস এনে পড়েছি বিপদে। মেয়ের লেগেছে পিপাসা এদিকে তার সামনে রয়েছে ঠান্ডা কোকের গ্লাস। সে তো খুবই জোরাজোরি করছিল খাওয়ার জন্য। কিন্তু তাকে বোঝানোর পরে সে মুখ গোমরা করে রাজি হল না খাওয়ার জন্য। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে তার জন্য হাফ লিটারের একটি নরমাল পানির বোতল নিয়ে এলাম। যাই হোক আমরা কোকের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে এক সময় দেখলাম ১৫ মিনিট পার হয়ে গিয়েছে। তখন আমি কাউন্টারে গিয়ে পিজা নিয়ে এলাম। খেয়াল করে দেখলাম বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট থেকে তারা টেবিলে খাবার পরিবেশন করে যাচ্ছে। কিন্তু ডমিনোজের ছিলো সেলফ সার্ভিস। যার ফলে আমাদের নিজেদেরই সব খাবার নিয়ে আসতে হচ্ছিলো। যাই হোক গরম পিজা টেবিলে আনার পরে সবাই এক পিস করে নিয়ে খেতে লাগলাম।


IMG_20231130_183059.jpg

তবে সত্যি বলতে কি পিজাটা আমার কাছেও খুব একটা ভালো লাগেনি। ভালো না লাগার কারণ হচ্ছে পিজ্জা ডো এর উপরে তারা এক ধরনের সস ব্যবহার করেছে যেটাতে ছিলো টক ফ্লেভারটা। ফ্লেভারটা আমার পছন্দ হয়নি। পিজার সাথে আমি বেশিরভাগ সময় টমেটো কেচাপ খেয়ে থাকি। এই কারণেই হয়তো আমার কাছে ওই টক ফ্লেভারটা ভালো লাগেনি। খেয়াল করে দেখলাম পিজার সাথে তারা অরিগানো এবং চিলি ফ্লেক্স এর কয়েকটা প্যাকেট দিয়ে দিয়েছিলো। যদি পিজাটা কম স্পাইসি মনে হয় সে ক্ষেত্রে যেন এগুলো আমরা পিজার উপর ছিটিয়ে তারপর খেতে পারি। তবে সবারই পেট ভরা থাকার কারণে কেউই খুব একটা খেতে পারিনি। বড় একটা পিজার সবাই মিলে অর্ধেকটাও শেষ করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত আমরা খাবার শেষ করতে না পেরে বাকিটা পার্সেল করে বাসায় নিয়ে এসেছিলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষ হতেই আমরা খালাতো বোনের বাসার দিকে রওনা দিলাম। কারণ অনেকক্ষণ হয়েছে আমরা বাসা থেকে বের হয়েছি। আর আমরা সেই সকালে ফরিদপুর থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় এসে তারপরে আবার কাজে বের হয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমার শুধু মনে হচ্ছিলো এখন গিয়ে জামা কাপড় ছেড়ে বিছানায় শুতে পারলে একটু ভালো লাগবে। এভাবেই প্রথম দিনের ব্যস্ততা শেষ হলো।

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।


ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসহুয়াই নোভা 2i
ফটোগ্রাফার@rupok
স্থানফরিদপুর

logo.png

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

standard_Discord_Zip.gif


break .png

Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote


VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png



🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩


@rupok

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

ফুড কোর্টে খাবার খেতে খুবই ভালো লাগে। কারণ বিভিন্ন ধরনের খাবার টেস্ট করার সুযোগ থাকে। বসুন্ধরা সিটি শপিং মল এবং যমুনা ফিউচার পার্কে গেলে, ফুড কোর্টে বসে খেতে বেশ ভালো লাগে। বিশেষ করে ফুড কোর্টে থাকা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার খেতে দারুণ লাগে। যাইহোক ডমিনোজের পিজ্জা বরাবরই আমার ভীষণ পছন্দ। তবে আপনার কাছে তেমন ভালো লাগেনি, জেনে খারাপ লাগলো। আসলে পেট ভরা থাকলে এমনিতেই খাবার খেতে তেমন ভালো লাগে না। যাইহোক এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

বেইলী রোড কিন্তু আমার বাসার কাছেই। কিন্তু বেশ কিছুদিন হলো বেইলী রোডে যাওয়া হয় না। তাই রুফটপ রেস্টুরেন্টের কথাও আমার জানা নেই। তবে যেহেতু বেশ বড় সড় জায়গা নিয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়ছে তাহলে তো এদের খাবারের মানও ভালো হবেই। যাক বেশ হালকা পাতলার মধ্য দিয়েই নাস্তা সেরে নিলেন। সম্পন্ন পোস্টটি পড়ে কিন্তু দারুন লেগেছে। ধন্যবাদ সুন্দর সময়টুকু আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

আসলে ভরা পেটে কোথাও খেতে গেলে এরকম অবস্থায় হয়। তার জন্যই আপনারা একটা পিজ্জা অর্ডার করে পাঁচ জন মিলে শেষ করতে পারেননি। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে এই পর্বে বেইলি রোড থেকে খাওয়া দাওয়া করার মুহূর্ত গুলো শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.074
BTC 64438.63
ETH 1681.29
USDT 1.00
SBD 0.42