কবিতা - "জখম "
স্বরচিত -কবিতা-
সকলকে অনাবিল শুভেচ্ছা। আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। আর আপনারা সবাই সব সময় ভালো থাকবেন,এটাই প্রত্যাশা করি। আজ আবারো আমার লেখা আর একটি কবিতা নিয়ে হাজির হলাম। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে, আজকের কবিতাটিও।
কবিতাটির পিছনের গল্প:
"জখম" কবিতাটি এক গভীর মানসিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ, যেখানে ব্যক্তি তার হৃদয়ের ক্ষতগুলোকে প্রকাশ করতে চান, কিন্তু শুনবার মতো কেউ থাকে না। এটি শুধু শারীরিক আঘাতের কথা বলে না, বরং মনের গভীরে রয়ে যাওয়া ব্যথা, অবহেলা, বঞ্চনার দীর্ঘস্থায়ী দাগের কথা তুলে ধরে।
এই কবিতার পেছনে হয়তো কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, হয়তো সমাজের নির্দয় বাস্তবতা, অথবা হয়তো অতীতের কিছু সম্পর্কের স্মৃতি কাজ করেছে। প্রিয়জনদের কাছ থেকে পাওয়া কষ্টগুলো কেমন করে জমে পাহাড় হয়, কেমন করে কিছু মানুষ ব্যান্ডেজের মতো ক্ষত সারিয়ে তোলে, আবার কেউ নোনাজল ছিটিয়ে যন্ত্রণা দীর্ঘায়িত করে—এই বাস্তবতাই এখানে উঠে এসেছে।
শহরের প্রতিটি গলি, বাতাস, রাতের নিস্তব্ধতা যেন এই অপ্রকাশিত ব্যথার একমাত্র সাক্ষী। তবু জীবন থেমে থাকে না—এই জখম নিয়েও মানুষ হেঁটে চলে, বেঁচে থাকে, অসমাপ্ত গল্পের অংশ হয়ে ওঠে।
এই কবিতার জন্ম সম্ভবত একাকীত্বের কোনো গভীর মুহূর্তে, যখন পুরনো ক্ষতগুলো নতুন করে অনুভূত হয়েছে, কিংবা হয়তো কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা এই ব্যথাকে আবার সামনে এনে দিয়েছে। "কবিতা কুটির, নীলফামারী"—স্থান উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে, যা এই কবিতার আবেগকে আরও ব্যক্তিগত ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
বুকের গহীনে অতি প্রিয় মানুষদের দেয়া
এক টুকরো ব্যথার জমাট পাহাড় জমে আছে,
তারা যেন ছুরির নিখুঁত কোপে
খোদাই করে গেছে রক্তাক্ত ইতিহাস।
খুঁজলে পাওয়া যাবে কি?
আঙ্গুলের ডগায় লেগে থাকা
শৈশবের প্রথম চোট,
কিংবা তারো গভীরে লুকিয়ে থাকা
কিছু নামহীন ক্ষতচিহ্ন?
জখম কেবল শরীরে হয় না,
মনের দেয়ালে লেগে থাকে
অদৃশ্য কাঁচের টুকরো,
যে কাচের ধার
সময়েরও মলিন করতে পারে না।
কেউ কেউ ব্যান্ডেজ হয়ে আসে,
আবার কেউ আসে
লবণের পাহাড় নিয়ে—
তুলে দেয় নোনাজল,
যাতে যন্ত্রণা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
আমার জখমের গল্প বলবো কাকে?
এ শহরের প্রতিটি গলি, প্রতিটি বাতাস
জেনে গেছে ক্ষত-বিক্ষত
সন্ধ্যাগুলোর কাহিনি।
তারপরও কেউ শোনে না,
শুধু রাতের নিস্তব্ধতা বোঝে,
চাঁদের ফোঁটা আলো বোঝে,
আর বোঝে ফেলে আসা
একটি ব্যথিত অতীত।
তবু আমি হাঁটতে থাকি—
জখম নিয়ে,
জীবন নিয়ে,
একটা অসমাপ্ত গল্প নিয়ে!
---------------------------------------.
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
সময় রাত -১:২৭
কবিতা কুটির নীলফামারী।
বন্ধুরা আমার আজকের কবিতটি, নিশ্চয়ই আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। আর আপনাদের ভালোলাগাই আমার সার্থকতা ও পরম পাওয়া। সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। পরবর্তীতে আবারো সুন্দর সুন্দর কবিতা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব, আমি সেলিনা সাথী...
আমি সেলিনা সাথী। ছন্দের রাজ্যে, ছন্দরাণী কাব্যময়ী-কাব্যকন্যা বর্তমান প্রজন্মের নান্দনিক ও দুই বাংলার জনপ্রিয় কবি সেলিনা সাথী। একধারে লেখক, কবি, বাচিক শিল্পী, সংগঠক, প্রেজেন্টার, ট্রেইনার, মোটিভেটর ও সফল নারী উদ্যোক্তা তার পুরো নাম সেলিনা আক্তার সাথী। আর কাব্যিক নাম সেলিনা সাথী। আমি নীলফামারী সদর উপজেলায় ১৮ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। আমার বাবা পিতা মরহুম শহিদুল ইসলাম ও মাতা রওশনারা বেগম। ছড়া কবিতা, ছোট গল্প, গান, প্রবন্ধ, ব্লগ ও উপন্যাস ইত্যাদি আমার লেখার মূল উপজীব্য। আমার লেখনীর সমৃদ্ধ একক এবং যৌথ কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫ টি। আমার প্রথম প্রকাশিত কবিতার বই অশ্রু ভেজা রাত, উপন্যাস মিষ্টি প্রেম, যৌথ কাব্যগ্রন্থ একুশের বুকে প্রেম। জীবন যখন যেমন। সম্পাদিত বই 'ত্রিধারার মাঝি' 'নারীকণ্ঠ' 'কাব্যকলি'সহ আরো বেশ কয়েকটি বই পাঠকহমলে বেশ সমাদৃত। আমি তৃণমূল নারী নেতৃত্ব সংঘ বাংলাদেশ-এর নির্বাচিত সভাপতি। সাথী পাঠাগার, নারী সংসদ, সাথী প্রকাশন ও নীলফামারী সাহিত্য ও সংস্কৃতি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এছাড়াও আমি জেলা শাখার সভাপতি উত্তোরন পাবনা ও বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার পরিষদ নীলফামারী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছি। তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৪ সালে নীলফামারী জেলা ও রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ জয়িতা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছি। এছাড়াও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় ও সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখায় আমি বহু সম্মামনা পদক অর্জন করেছি। যেমন সাহিত্যে খান মইনুদ্দিন পদক ২০১২। কবি আব্দুল হাকিম পদক ২০১৩। শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র কর্তৃক সম্ভাবনা স্মারক ২০১৩। সিনসা কাব্য সম্ভাবনা ২০১৩। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে সম্মামনা স্মারক ২০১৩। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সম্মাননা স্মারক ২০১৩। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১১৫ তম জন্ম জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ২০১৪। দৈনিক মানববার্তার সম্মামনার স্মারক ২০২৩। চাতক পুরস্কার চাতক অনন্যা নারী সম্মাননা ২০২৩ ওপার বাংলা মুর্শিদাবাদ থেকে মনোনীত হয়েছি।
বিষয়: ক্রিয়েটিভ রাইটিং
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ.......
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
জীবনে চলার পথে আমাদের প্রত্যেককেই অনেক মানুষ অনেক ভাবে ব্যথা দিয়ে থাকে। কিন্তু প্রিয় মানুষদের ব্যথাগুলি একটু বেশি স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। আসলেই জখম কেবলমাত্র শরীরেই নয় মনের দেয়ালেও হয়ে থাকে যা অদৃশ্য। আর এই ব্যথা এবং জখমের কথাগুলো বলার মত মানুষ পাওয়া বড়ই মুশকিল। আপনার আজকের কবিতার মধ্যে বাস্তবধর্মী কথাগুলি ফুটে উঠেছে। চমৎকার ছিলো জখম কবিতার প্রত্যেকটি লাইন।
আপু আপনার স্বরচিত জখম কবিতা পড়ে জাস্ট মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ছন্দে ছন্দে কবিতার লাইনগুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আপু আপনি।লাইনগুলো এককথায় অসাধারণ হয়েছে।ধন্যবাদ আপনাকে আপু সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
আপনার আজকের কবিতাটি পড়ে আমার কাছে বেশ ভালো লাগল। জীবনে বাস্তবতা ও মানসিক অনুভূতির গভীর দিকগুলো অনেক সুন্দর করে আপনার কবিতার মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন। সত্যিই, শারীরিক আঘাতের মতো মানসিক জখমও খুবই কষ্টকর। এই ব্যথা দেখা না গেলেও হৃদয়ে গভীর থেকে যায় সারা জীবন।জখম কবিতার প্রতিটি লাইন এর মাধ্যমে আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু জিনিসের সাথে মিলে যাচ্ছে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি কবিতা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।