গল্প :- অভাগা কপাল ২য় পর্ব
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকলকে শুভেচ্ছা ও জানিয়ে শুরু করছি আজকের পোস্ট।
গল্প :- অভাগা কপাল ২য় পর্ব
বরাবরের মতো আজও আমি আপনাদের মাঝে এসেছি নতুন একটা পোস্ট নিয়ে। আসলে আজ এসেছি গত সপ্তাহের একটি গল্প নিয়ে। গল্প লিখতে ও পড়তে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। আর গল্প মানে আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা। সত্যি বলতে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা দেখে সত্যি অনেক খারাপ লাগে। তবে আমাদের সমাজের এই সব ঘটনার জন্য আমাদের কিছু করার থাকে না।আর পৃথিবীতে যার দুঃখের দিন থাকে সে সুখ কখনো পায় না।তাহলে চলুন শুরু করি আজকের পোস্ট।
রিনার শরীরে যখন ক্যান্সারের জীবাণু পাওয়া গেল। তখন রিনা একেবারে ভেঙে পড়লো। আসলে রিনার বাবা মা অনেক দরিদ্র তারা রিনাকে তেমন কোন হেল্প করতে পারেনি।এদিকে রিনার অপারেশনের সকল টাকা পয়সা তার দেবর দিয়েছে। যাইহোক রিনা আস্তে আস্তে বেশ সুস্থ হতে লাগলো। তবে পরবর্তীতে তার ক্যান্সারে তেমন কোন সমস্যা হয়নি।এদিকে রিনাকে দিয়ে তাদের বাড়ির সকল কাজ করায়।যেহেতু রিনা শারিরীক ভাবে একটু অসুস্থ তাই সে বেশি ভারি কাজ করতে পারে না। তবে রিনা ও চেষ্টা করে তার শশুর বাড়ির লোকজনের মন রক্ষা করার। আসলে কথায় আছে না যাকে দেখতে পারে না সে যত ভালো কাজ করুক না কেন ভালো লাগে না। এভাবে চলে গেল প্রায় এক বছর। তারপর রিনার দেবর ছোটজন বিয়ে করলো।
এখন সবাই ছোট জন এর বউকে অনেক আদর যত্ন করে কিন্তু রিনা সারাদিন কাজ করার পরেও তাদের মন পায় না।আসলে এটা হলো স্বামীর ইনকামের জন্য করে।শুধু রিনা কেন যার স্বামীর যেমন ইনকাম শশুর বাড়িতে সে বউকে তেমনি দেখে।যাইহোক রিনার যেহেতু যাবার মতো কোন জায়গা ছিল তাই রিনা মনে প্রাণে সবার সাথে মিলিয়ে থাকার চেষ্টা করেছে।রিনার যত কষ্ট হোক না কেন রিনা চাই সব সময় তাদের মন যুগিয়ে চলার।কিন্তু রিনা ও তো রক্তে মাংসে গড়া একজন মানুষ। মানুষের যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন কিছু করার থাকে না। যেভাবেই হোক তাদের দিন চলে যাচ্ছিল।
এর মাঝে একদিন হঠাৎ করে রিনার হাজবেন্ড ঢাকা থেকে বাড়িতে চলে আসলো। এভাবে কয়েক দিন চলে গেল কিন্তু রিনার হাজব্যান্ড জানালো সে আর ঢাকা যাবে না বাড়িতে সংসার করবে। এটা শোনে রিনার অনেক রাগ হলো।আসলে এমনিতে রিনা অনেক কষ্ট করে বিনিময়ে শুধু খাবার খায়।আর যদি তার হাজব্যান্ড বাড়িতে থাকে তাহলে তার বাচ্চার খরচ কিভাবে চলবে।আর বাড়িতে কাজ করলে তার স্বামীকে তার শশুর এক টাকাও দেবে না, শুধু খেতে দেবে।রিনা তার স্বামীকে অনেক বুঝালো কিন্তু কোন কাজ হলো না।তারপর এক পর্যায়ে রিনার সাথে অনেক ঝড়গা হল। রিনা তখন সিদ্ধান্ত নিলো যা হয় হবে সে এই বাড়িতে থাকবে না। আসলে মানুষের কষ্টের একটা সীমা থাকে কিন্তু রিনার কষ্টের কোন সীমা নেই। তারপর রিনা বাধ্য হয়ে শশুর বাড়ির থেকে ছেলেকে নিয়ে চলে গেল। তার মায়ের কাছে ছেলেকে রেখে একটা চাকরি নিয়েছে।কিছু দিন চলে গেল তারপর রিনার দেবর গিয়ে রিনার কাছ থেকে ছেলেকে নিয়ে আসলো।এখন রিনা একেবারে অসহায়। রিনা বলেছে সে কখনো আর আসবে না তবে তার স্বামী যদি অন্য কোথাও বাসা নেই তাহলে আসবে।তবে রিনার স্বামী ও তার বাবা মা সবার কথা শোনে। এখনো রিনা তার বাবার বাড়িতে আছে।ভবিষ্যতে কি হয় বুঝা মুশকিল। সত্যি একজন মানুষ কতটা কষ্ট পেলে এভাবে স্বামী সন্তান রেখে চলে যায়।রিনার জন্য সবাই দোয়া করবেন সে যেন তার সংসার ফিরে পায়।আশাকরি গল্পটা আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
( চলবে)
| প্রয়োজনীয় | তথ্য |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @parul19 |
| ডিভাইস | redmi note 12 |
| লোকেসন | ফরিদ পুর |
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগে অন্য কোন লেখা নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্ম নিয়ে নিজেকে ধন্যবাদ মনে করি।
https://x.com/MimiRimi1683671/status/1848722496276836657?t=RtK9_1W-MUXswJIM0ci8fA&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আসলে কিছু কিছু রোগ রয়েছে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে তাতেই মৃত্যু আশঙ্কা জনক আর যখনই একজন মানুষ জানতে পারে তার শরীরে এমন রোগ হয়ে গেছে সে কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে যায় এবং তুমি আর আশা ছেড়ে যায়। ঠিক তেমনি একটা গল্পের সূত্রপাত লক্ষ্য করছি। আশা করব পরবর্তী পর্ব নিয়ে উপস্থিত হবেন খুব শীঘ্র। আর আমি রিনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবো।
জি ভাইয়া তারাতাড়ি পরবর্তী পর্ব নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।ধন্যবাদ আপনাকে।