এক দুখিনী মায়ের গল্প তৃতীয় পর্ব
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করেছি আজকের পোস্ট।
এক দুখিনী মায়ের গল্প তৃতীয় পর্ব
বরাবরের মতো আজও আমি আপনাদের মাঝে এসেছি নতুন একটা পোস্ট নিয়ে। আসলে আজ এসেছি একটা গল্প নিয়ে। গল্প লিখতে ও পড়তে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। তাই তো সময় পেলে বসে পড়ি গল্প লিখতে। আর গল্প মানে আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা। যাইহোক গত সপ্তাহে একটি গল্প শেয়ার করেছিলাম। আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে তাই এর তৃতীয় পর্ব নিয়ে এসেছি । যারা গল্প পছন্দ করেন তাদের কাছে গল্প ভালো লাগা স্বাভাবিক। তাহলে চলুন শুরু করি আজকের পোস্ট।
আয়েশা বেগম অনেক কষ্ট করে আমেরিকারতে বেশ কিছু দিন ছিলেন।তারপর আয়েশা বেগম এর ছেলে বাধ্য হয়ে তার মাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিলেন।আসলে আয়েশা বেগম কিছুতেই আর আমেরিকার থাকবে না।যাইহোক আয়েশা বেগম বাংলাদেশে এসে নিজের বাড়িতে নিজের মতো থাকতে শুরু করলেন। এদিকে তার আরো দুই ছেলে ও মেয়ে রয়েছে তারা নিজের মতো থাকে। মাঝে মাঝে এসে মায়ের সাথে দেখা করে যায়।আয়েশা বেগম আমেরিকা থেকে আসার পরপরই তার ছেলেকে বউ বলেছে কাজের মানুষ রাখার জন্য। তখন আয়েশা বেগমের ছেলে বলেছে কেন এখন কাজের মানুষ রাখবো। এতদিন তো বাসায় কোন কাজের মানুষ ছিল না।তখন ছেলের বউ বললো বাসায় এতো কাজ ছোট বাচ্চা নিয়ে কিভাবে করবো।তখন ছেলে বললো তোমার মায়ের সাথে ভাগ করে করবে।ও আচ্ছা এতদিন আমার মাকে দিয়ে সব কাজ করিয়েছো আর এখন করতে সমস্যা কিসের।
যাইহোক এভাবে চলে গেল কিছু দিন। আয়েশা বেগম এর মেজ ছেলে তাকে বাসায় নিয়ে যাব কিন্তু আয়েশা বেগম কিছুতেই যাবে না।কারণ সে বড় ছেলের বাসায় গিয়ে সব শিক্ষা পেয়েছে। তার মেয়ে ও বলেছে তার সাথে থাকার জন্য কিন্তু আয়েশা বেগম নিজের সিদ্ধান্তে অটল রইল কারো কাছে যাবে না বাড়িতে থাকবে। আসলে আয়েশা বেগমের টাকা পয়সার কোন অভাব নেই কিন্তু লোকজনের বড় অভাব। তবে আয়েশা বেগম বাড়িতে হাঁস মুরগি ইত্যাদি পালন করে।আসলে মানুষের শক্তি যতক্ষণ থাকে ততোক্ষণ কারো কাছে মাথানত করে না। আর যখন শক্তি থাকে না তখন অসহায় হয়ে পড়ে। একদিন আয়েশা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লো।তখন তো তার আর একা থাকা সম্ভব নয়। তারপর আয়েশা বেগমকে ঢাকায় একটা হসপিটালে ভর্তি করা হলো।ডাক্তার সকল পরীক্ষা নিরিক্ষা করে বললো আয়েশা বেগমের ক্যানসার হয়েছে। আসলে রোগ কখনো ও বলে কয়ে আসে না।
তারপর কোন রকম সুস্হ করে ছোট ছেলের বাসায় নিয়ে গেল। তবে আগে সে কখনো যেতে চায়নি কিন্তু এখন তো আর পারছে না। তবে ছেলের বউ আয়েশা বেগমকে তেমন পছন্দ করে না। বাসার কাজের মেয়ে কোন রকম আয়েশা বেগমকে দেখাশোনা করে। কিন্তু ছেলে সব সময় আয়েশা বেগমের খেয়াল রাখে। এভাবেই চলছে।একদিন ছেলের বউ বলছে আয়েশা বেগমকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসার জন্য। এ কথা আবার আয়েশা বেগম শুনেছে। তখন আয়েশা বেগম ভাবতে লাগলো আমার কাছে ও বউ আসে না তারপরে আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিতে বলে। কিন্তু ছেলে কিছুতেই দেবে না।এই নিয়ে দুই জনের মধ্যে বিশাল ঝড়গা লেগে গেল। এটা দেখে কয়েক দিনের মধ্যে আয়েশা বেগম মেয়ের কাছে চলে গেল। [চলবে]
| প্রয়োজনীয় | তথ্য |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @parul19 |
| ডিভাইস | redmi note 12 |
| লোকেসন | ফরিদপুর |
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগে অন্য কোন লেখা নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্ম নিয়ে নিজেকে ধন্যবাদ মনে করি।
https://x.com/MimiRimi1683671/status/1888941679375532403?t=FvWBjCcg_d68JHARP_RL1A&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
প্রায় দেখা যায় এখন মায়েদের জন্য ছেলে মেয়েরা থাকে না। কিন্তু প্রত্যেকটা ছেলে মেয়েকে মা-বাবারা একসাথে লালন পালন করেছে। মা বাবারা যখন বৃদ্ধ হয়ে যায় তখন ছেলে মেয়েদের কাছে বোঝা হয়ে যায় এবং তারা শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে চায়। আসলে এরকম মন মানসিকতার মানুষগুলো একটা সময় গিয়ে পস্তাতে হয়। যাই হোক আপনার গল্পটা পড়ে খুব ভালো লাগলো। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
আপনার ভালো লেগেছে জেনে অনেক ভালো লাগলো, ধন্যবাদ আপনাকে।