জলহীন দিনের অভিজ্ঞতা // ১০% পেআউট লাজুক খ্যাঁক-কে
নমস্কার,
সকাল বেলায় ব্যাংকের একটা কাজে বেরিয়ে যাওয়ায় বাড়িতে যে এতো কিছু চলছে সেটা আন্দাজ করতে পারিনি। আমি শুক্রবার করে ব্যাংকের কাজ করার চেষ্টা করি, সপ্তাহের এই দিনটিতেই ব্যাংকের কাজ সবচাইতে কম থাকে। কোভিডের পর থেকেই ব্যাংকে নানান সসম্যা, অনেক বাধা বিপত্তি, অনেক নিয়ম। ব্যাংকের কাজ শেষ করে যখন বাড়িতে ফিরলাম তখন হকচকিত হলাম, সকাল দশটায় থেকে নাকি জল নেই!!
আজকের অভিজ্ঞতায় হাড়ে হাড়ে টের পেলাম ফ্ল্যাটের মানুষের অসহায়তা। ফ্ল্যাটে থাকার যেমন কিছু সুবিধা আছে তেমনি কিছু অসুবিধাও আছে। সত্যি কথা বলতে শহরে সব সুবিধা হাতের মুঠোয় আবার কোনোকিছুই হাতের মুঠোয় নেই। পরনির্ভরশীল ভাবে বেঁচে থাকা।
পিসেমশাইয়ের জন্য সকালেই সব রান্না হয়ে গেছে তাই রান্নার চাপ ছিলো না তাই বাড়ির লোক খেয়ালই করেনি। সকাল দশটার পর থেকে যে বাড়িতে যে জল নেই। দুপুরে স্নান করতে গিয়ে জল নেই সেটা বুঝতে পারা গেছে। আমি বাড়িতে ঢুকতেই হইহই শুনে নীচে গেলাম।
পাম্প নষ্ট!! বিগত দু-তিন মাস বেশ ভালো থাকার পরে আজ সকালেই হুট করে জলের পাম্প কাজ করছে না। জলের মিস্ত্রিকে জানানো হয়েছে তবে তাঁরা এখন আসেনি। বাড়ির হইহই শুনতে হবে তাই বাড়ি আর আসিনি, নীচে পাম্পের কাছেই রয়ে গেলাম। জলের মিস্ত্রি কিছু বাদেই এলো, এসে পাম্প অনেক ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখে বললো পাম্প ঠিকই আছে, এই শুনে একটু স্বস্তি পেলে অবার ইলেকট্রিকের মিস্ত্রিকে ফোন করা হলো। সৌভাগ্যবশত ইলেকট্রিকের মিস্ত্রি পাশেই ছিল তাই তার আসতে বেশিক্ষণ লাগলো না।
ইলেকট্রিশিয়ান প্রায় সাথে সাথেই পাম্পের রোগ ধরে ফেললেন, পাম্পের বৈদ্যুতিন তারটা খারাপ হয়ে গেছে। রিপেয়ারিং করতে করতেই পার্মানেন্ট সলিউশনের উপায় বাতলে দিচ্ছিলেন। পাম্প তুলে পুরো মেশিনের তারটাই বদলে দিতে হবে। এখন কাজ চালানোর মতে করে দিচ্ছে।
পুরোনো তার কেটে জুড়ে দিতেই মেশিনের আলো জ্বলে উঠলো। অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস। পাম্প সচল। ধীরে ধীরে জল উঠছে। ফ্ল্যাট বাড়িতে জল না থাকলে আদপেই প্রচন্ড মুশকিল।
ঘটনার সময় একটা কথাই আমার বার বার মনে হচ্ছিল আজকের মতো জল তো চলে এলো, তবে কতদিন! আবার তো খারাপ হবে। অদ্ভুত অনিশ্চয়তা।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আপনার সহ্য ক্ষমতা অনেক বলতে হবে হিহিহি, আসলে উপায়ও তো নেই। এমন পরিস্থিতিতে আমি গত দুদিন আগে পড়েছিলাম ,আমার এখানে টানা দুদিন পানি ছিলো না। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা পড়ে বা শুনে অনেকটা বুঝবে না কেউ। কেমন লাগে ওই সময় ট্যাঁ আমি আপনি হারে হারে টের পেয়েছি। এমন পরিস্থিতি অনুভূতি আর আদারস কিছু আমাদের সাথে ভাবেই শেয়ার করবেন এটিই আশা রাখি। শুভ কামনা রইলো দাদা।
সহ্য তো করতেই হলোনা। তার আগেই ঠিক হয়ে গেলো। যাহ, বিশাল বাজে অবস্থা তো। তারপর কবে জল এলো?
আহারে কি এক মসিবত হয়েছিল। মাঝে মাঝে আসলেই ভাইয়া গোসল করতে গেলে যখন দেখি পানি নাই কেমন অসহ্য লাগে তখন৷ বাড়িয়ালা কে ফোন দিয়ে বলতে হয় এটা আমার কাছে খুব পেইন লাগে।
সব শেষে এটা বলবো কিউট ভাই আমার আপনি সব সময় হিরো🙏🙏🙏👌👌👌🥰🥰🥰🥰❣️❣️
বেশ ঝামেলা হয়ে গিয়েছিল। বাড়িওয়ালা বলে কেউ নেই, ফ্ল্যাটের কমিটি। মিস্ত্রি গুলো কাছে পিঠে ছিলো নইলে রাতের দিকে হয়তো ঠিক হতো।
হাঃ হাঃ। সুন্দর সুন্দর জামাকাপড় পরে ছবি দিচ্ছ তুমি আর আমি হলাম কিউট, যার গলার কলার উল্টে আছে 🤣
আসলেই আমরা যখন পানি থাকে তখন পানির মূল্য বুঝতে পারিনা। যেটুকু পানি লাগে তার থেকে বেশি খরচ করি। কিন্তু যদি কোন সময় একদিনের জন্য পানি চলে যায় তখন বোঝা যায় পানির মূল্য কি। খুব ভালো লাগলো যে আপনার পাম্পটি দ্রুত ঠিক হয়ে গিয়েছে। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
হাতের কাছে থাকলেগুরুত্ব বোঝা যায় না। তাড়াতাড়ি ঠিক হলো তাই আজকে বিশেষ কষ্ট হলো না। ধন্যবাদ দিদি 🤗
ফ্লাটে সত্যি মজা আছে আবার খারাপ ও আছে।আমি আমার ফুফুর বাসায় বেরাতে গিয়ে সেটা বুঝেছিলাম একবার।জাইহোক সব কিছুর পরে যে জল পেয়েছেন এটাই অনেক।।
দিনটা খুবই খারাপ ছিল বোঝায় যাচ্ছে দাদা।
মজা নেই বিশেষ। নিজের বাড়িতে শান্তি বেশি। ধন্যবাদ 🤗
শহরে এই জলের সমস্যা টা খুবই বিরক্তিকর। সেদিক থেকে গ্রাম ভালো পাম্প নষ্ট গোসল করতে চলে গেলাম পুকুরে কোনো চাপ নেই😄। যাইহোক অল্পের উপর দিয়েই পাম্পটা ঠিক হয়ে যাওয়াই বেঁচে গিয়েছেন।
জীবনে পানির গুরুত্ব অনেক। আর যখন এই পানি থাকেনা তখন এর গুরুত্ব বুঝতে পারি। তবে শহরে এরকম সমস্যা একটু কমই হয় তবে একবার হলে বোঝা যায় এর গুরুত্ব কত। যাইহোক খুব ভালো লাগলো যে আপনার পাম্পটি দ্রুত ঠিক হয়ে গিয়েছে। শুভকামনা রইল আপনার জন্য, ভাইয়া❤️❤️👍।
সত্যিই তাই। হাতের কাছে থাকলে যা হয়। ধন্যবাদ ভাই 🤗
এটা একদম সত্য কথা,
তবে এই যন্ত্রণাটা আমি বেশ ভালো্ভাবে টের পাই কারন পুরান ঢাকায় এটা নিয়মিত ঘটনা। তারপর মানুষ ঢেকে তিন তলায় পানি টেনে তুলতে হয়। তবুও রক্ষা দ্রুত আপনার সমস্যার সমাধাণ পেয়েছেন। আমাদের তো ওয়াসা মানে পানি সাপ্লাই সংস্থা মাঝে মাঝে একদিনের জন্য হারিয়ে যায়!
তিন তলায় জল টেনে তুলতে হলে তো কষ্টের শেষ নেই। আর যদি বাড়িতে বয়স্ক মানুষ থাকেন তাহলে তো জীবন শেষ।
একদিনের জন্য হারিয়ে গেলে তো টানা একদিন অল্প জলে বেঁচে থাকা। আগে থেকেই বলে নাক হুট করে বন্ধ করে দেয়? হুট করে হলে জ্বালাতন আরো বেশি।
আমাদের এখানে নোটিশ আসে না, দেয়ার প্রয়োজনও মনে করে না, হুট করেই হয়ে যায় প্যারা শুরু, কি যে কষ্ট গুরু। পুরান ঢাকায় এই সমস্যাটা খুবই বেশী, মাঝে মাঝে মানুষ রাস্তায় নেমে যায় পানির দাবীতে।
আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত চলার পথে পানির গুরুত্ব অপরিসীম। এরকম পানি না থাকার একটা অভিজ্ঞতা আমারও হয়েছিল। যখন আপুর বাসায় গিয়েছিলাম বেড়াতে। একদিন সকালবেলা থেকে কারেন্ট ছিল না এজন্য ট্রাংকে পানি ভরতে পারেনি। সারাটা দিন কারেন্ট আর আসেনি ওই এলাকাতে কোন টিউবওয়েল ও ছিল না। ঘরে যা পানি ছিল তা দিয়ে রান্না করে শেষ হয়ে গেছিল সবটুকু পানি। সেদিন যে পানির অভাব কত কষ্ট ছিল তা হাড়ে হাড়ে বুঝেছিলাম। আপনার আজকের জলের অভিজ্ঞতা দেখে আমারও মনে পড়ে গেল সেদিনের কথা।
শহরের এই সমস্যাটা থাকেই। সবই ভালো,খারাপ হলে পাগল হয়ে যাওয়া যায়।
ডিজিটাল যুগ শুধু সুবিধাই এনে দেয় নি বরং অসুবিধাটার মাত্রাও কম নয়।যেমন টি আপনার হয়েছিল।
আমার একদিন এই রকম হয়েছিল বাথরুমে ঢুকে গায়ে পানি দেয়া মাত্রই পানি শেষ।মেঝ মেয়েটাকে পাম্প চালু করতে বললাম, ও বলল আব্বু বিদ্যুৎ নেই,কি একটা অবস্থা। বুঝুন।
যাইহোক অনেক সুন্দর লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
স্নানের সময়ে জল চলে গেলে সমস্যার শেষ নেই। তারউপর বিদ্যু নেই। যাতা অবস্থার স্বীকার হওয়া যায়।
আমার মনে হয় পার্মানেন্ট সলিউশনটা কাজে লাগালেই আশা করি ভালো হয় কারণ একবার যখন নষ্ট হয়েছে তখন কিছুসময় পর পরই নষ্ট হবে। কয়বার কাজ বাদ দিয়ে মিস্ত্রিদের জন্য অপেক্ষা করবেন। বারবার কষ্টের চেয়ে একবার একটু বেশি কষ্ট ভালো।
ওটাই নেওয়া হবে। তবে ফ্ল্যাটের ব্যাপার তো আগে কথা বার্তা বলে তবেই করা হবে। ধন্যবাদ ভাই 🤗