প্রকৃতির কন্যা সিলেট ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর ভ্রমন।
আমি রাহুল হোসেন। আমার ইউজার নেমঃ@mrahul40।বাংলাদেশ থেকে।আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
- সাদা পাথর ভ্রমন
- ২০,নভেম্বর ,২০২৩
- সোমবার
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগবাসি কেমন আছেন আপনারা? আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন। আজকে আপনাদের সামনে আবারো হাজির হলাম আমার ভ্রমণ পোস্ট নিয়ে। আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো প্রকৃতির কন্যা সিলেটের অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান যা মেঘালয়ের বড় বড় পাহাড় ঘেঁষে অবস্থিত জায়গাটির নাম হল ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর। সিলেট ভ্রমণ পর্বের গত পোস্টে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট সৌন্দর্যগুলো। একই রুটে আরেকটু দর্শনীয় স্থান হল ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর এটি ভারত সীমান্তে অবস্থিত। এটি বর্তমান প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম একটি পর্যটন স্থান।
ভারতের মেঘালয়ের সবুজ পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণা , পাথুরি নদী যা এখানকার সৌন্দর্যকে অনেকাংশে বৃদ্ধি করে দিয়েছে। মেঘালয়ের পাহাড়ে ঝরনা থেকে যে নদীতে উৎপত্তি হয়ে ভোলাগঞ্জের উপর দিয়ে বেয়ে চলেছে সেই নদীটির নাম ধলাই নদী। মূলত এই নদীটি পার হয়ে ভোলাগঞ্জ যে দর্শনীয় স্থান সাদা পাথর ওইখানে যেতে হয়। আর কথা না বাড়িয়ে আমরা কিভাবে সেখানে গিয়েছিলাম সেই গল্প আপনাদের মাঝে শেয়ার করা যাক। আপনারা যারা আমার ভ্রমন পোস্ট গুলো দেখেছেন তারা অবশ্যই জানেন আমরা এইবার একটু বাইক নিয়ে দিয়েছি। রাতারগুল দেখা শেষ করে আমরা ওই দিনই কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর দেখতে গিয়েছিলাম। আমরা যেহেতু সকাল ছয়টায় সুনামগঞ্জ হতে সিলেটে এসেছিলাম ।তারপর একটি স্পট ঘুরেছি শরীরটা বেশ ক্লান্ত ছিল কোম্পানীগঞ্জে আইটি পার্কে আমাদের একজন পরিচিত রিলেটিভ ছিল।
Device : Realme 7
What's 3 Word Location :
সে এখানে জব করে আমরা প্রথমে আইটি পার্কে যাই এবং সেখানে গিয়ে কিছু সময় বিশ্রাম করি। যখন আমরা সিলেটের আইটি পার্কে পৌঁছায় তখন ঘড়ির কাঁটায় সময় ১১ টা বেজে ২৫ মিনিট। আমরা বেশ ক্লান্ত ছিলাম এবং একটি স্পট ঘুরে আসার পর দেখি আমাদের ডিভাইস গুলোতে চার্জ অনেকটা ফুরিয়ে গিয়েছে। তাই আমরা আমাদের ফোনগুলোকে চার্জ দিয়ে নেই যেহেতু আরেকটি স্পট ঘুরতে হবে সাথে ক্যামেরাটাও চার্জ দিই। তারপর আমরা এখানে বেশ কিছু সময় বিশ্রাম গ্রহণ করার পর দুপুর একটার দিকে দুইটা বাইকে ৫ জন মানুষ ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরের সৌন্দর্য দেখার জন্য ছুটে চলে। এটা যেহেতু সীমান্ত এলাকা আর এখানে প্রচুর পাথর উত্তোলন হয়। ইন্ডিয়া থেকে বড় বড় ট্রাক পাথর নিয়ে আসে নিয়ে যায় এলাকাটা বেশ ব্যস্ততম। যখন আমরা ভোলাগঞ্জ পেয়ে যাব তার ঠিক এক কিলোমিটার ধরে প্রচুর ধুলা এ যেন ধুলার রাজ্য চলে এসেছি। কারণ এখানে প্রচুর পাথরের গাড়ি যায় তাই এলাকাটা ধুলাই ভরে থাকে। তারপর আমরা আমাদের বাইকটাকে নির্দিষ্ট পার্কিংয়ে দশ টাকার বিনিময়ে পার্ক করে এগোতে থাকি ১০ নাম্বার নৌকা ঘাটের দিকে। যখনই সামনে এগোচ্ছি তখনই দূর থেকে মেঘালয়ের আকাশছোঁয়া পাহাড় গুলো দেখতে পাচ্ছি যা অসম্ভব ভালো লাগছিল।
Device : Realme 7
What's 3 Word Location :
দূর থেকে দেখা যাচ্ছে পাহাড়ের সৌন্দর্যের সাথে ধলাই নদীর পানির অপরূপ সৌন্দর্য । আর এখানে অনেক ধরনের দোকানের দেখা মিলে। যেহেতু আমরা যেখানে যাব সেখানে পানির মধ্যেই কাটাতে হবে তাই গোসল করার জন্য হাফপ্যান্ট থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট আর ফোনের প্রটেকশনের জন্য ওয়াটার প্রুফ ফোন কভার, সানগ্লাস, স্যান্ডেল এক কথায় যাবতীয় সকল জিনিসের সব দোকানে পাওয়া যায়। এখানে একটু দামাদামি করে কিনতে পারলে কম দামের মধ্যে বেশ ভালো কিছুই কিনতে পারা যাবে। তবে আমাদের কিছু কেনা লাগেনি আমরা সব সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম।
Device : Realme 7
What's 3 Word Location :
তারপর আমরা হাঁটতে হাঁটতে দশ নাম্বার নৌকা ঘাটে চলে যায় দেখি এখানে অনেক ভিড় জমে আছে। এখানকার নৌকা ভাড়া নৌকা প্রতি 800 টাকা এটা রিজার্ভ যাওয়া-আসা সহ। এখানে যে রিলেটিভ জব করে সে টিকিট কাটার দায়িত্ব নিল কারণ তাদের জন্য আবার এখানে নৌকাতেও ছাড় আছে যেখানে ৮০০ টাকা সে গেলে পরিচয় দিলে ৫০০ টাকায় পেয়ে যাবে আর যেহেতু আমাদের বাজেট ট্যুর টাকা বাঁচাতে পারলে আমাদের জন্যই ভালো।
Device : Realme 7
What's 3 Word Location :
অনেক বড় সিরিয়াল পার করে তিনি টিকিট কাটার জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন। আর আমি আর আমার বন্ধু অংকন পাশে একটু হাটাহাটি করতে গিয়ে দেখি সিলেটের সকল দর্শনের স্থানের একটি ম্যাপ দিয়ে রেখেছে। এখানে অনেক তথ্য উল্লেখ করে রেখেছে। যেমন সিলেট শহর থেকে কোন পর্যটন স্পটের দূরত্ব কত সবকিছু এখানে দিয়ে রেখেছে। আরো আছে নাম না জানা অনেক ধরনের দর্শনীয় স্থান। সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে আমার এই দর্শনীয় ম্যাপ কারণ এই ম্যাপে একবার নজর দিলে আমি ভ্রমণের পুরা একটি গাইডলাইন পেয়ে যাব।
Device : Realme 7
What's 3 Word Location :
আমরা এখানে ম্যাপের দিকে নজর দিয়ে দেখতে দেখতেই খবর চলে আসলো আমাদের নৌকা ঠিক হয়ে গিয়েছে। ৮০০ টাকার নৌকা আমরা ৫০০ টাকায় ঠিক করতে সক্ষম হয়েছি বাজেট টুর এর ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা বেঁচে যাওয়া মানে অনেক কিছু। তারপর আমরা পাঁচজন একটি নৌকাতে উঠে পড়ি যা কর্তৃপক্ষ থেকে ঠিক করে দিয়েছিল। আমাদের সাদা পাথরের নামাইয়া দিয়ে আসবে আবার আমাদের ঘোরা শেষ হলে নিয়ে চলে আসবে। আমরা এখন উপভোগ করব ধলাই নদীর সৌন্দর্য। নদীর পানি অনেক ঠান্ডা সাথে দূর পাহাড়ের সৌন্দর্য আমাদের সবাইকে মুগ্ধ করবে। পাহাড়ের সাথে মেঘের খেলা দূর থেকে দেখতে বেশ ভালো লাগছিল। নদীর সৌন্দর্য এবং সাদা পাথরের সৌন্দর্য ,প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আপনাদের মাঝে শেয়ার করব পরবর্তী পোস্টে সেই পর্যন্ত সাথেই থাকুন।

আপনার আগের শেয়ার করা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট সৌন্দর্যগুলো দেখেছিলাম। আজকে সাদা পাথর ভ্রমণের মুহূর্তগুলো শেয়ার করেছেন। জায়গাটি আসলেই খুব সুন্দর। ম্যাপ টি আমার কাছেও খুবই ভালো লেগেছে। সবকিছু এক নজরে দেখা যাচ্ছে। ঠিক বলেছেন ভাইয়া বাজেট টুর এর ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা বেঁচে যাওয়া মানেও অনেক। আপনাদের ভ্রমনের মুহূর্তগুলো দেখে ভালো লাগলো।
হ্যাঁ আপু টুরের মধ্যে যতটা কম খরচে টাকা বাঁচানো যায়। আসলে জায়গাটি অসম্ভব সুন্দর ছিল পরবর্তী পর্বগুলো দেখলে আরো ভালো বুঝতে পারবেন।
আসলেই দূর থেকে পাহাড়ের দৃশ্যগুলো দেখে আন্দাজ করা যাচ্ছে জায়গাটা কতটা সুন্দর। সবশেষে আবার খুশির সংবাদও পেয়েছিলে ৮০০ টাকার নৌকা ভাড়া ৫০০ টাকা দিয়ে ঠিক করেছিলে ৩০০ টাকা বেচে গিয়েছিল।
আন্দাজ করে তো কাজ হবেনা যায়ে দেখে আসতে হবে অসম্ভব সুন্দর মনে হবে কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যায়। ৩০০ টাকা বাঁচা মানে অনেক কিছু বন্ধু
প্রকৃতির কন্যা সাদা পাথরের ভ্রমণটা বেশ সুন্দর ছিল। যদি আবার কখনো সময় হয় ইচ্ছা আছে এই জায়গাটিতে আবার ঘুরে আসার। অসংখ্য ধন্যবাদ বন্ধু ট্রাভেল পোস্টটি সুন্দরভাবে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
অবশ্যই অবশ্যই আবার সুযোগ হলে যেতেই হবে প্রকৃতিও করতে। স্রোতের মধ্যে ঝাপাঝাপি করতে হবে।
ঘুরাঘুরি মুহূর্তটা যেমন দারুন ছিল তেমনি সেখানকার আত্মীয়তার সম্পর্কটা অনেক সুন্দর ছিল। সব মিলিয়ে দারুন একটা মুহূর্ত কাটিয়েছিলেন। সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের এই সৌন্দর্য সবাই চায় উপভোগ করতে। আমি কখনো যাইনি আপনার এই ভ্রমণের গল্প এবং দৃশ্য দেখে এখনি যেতে মন চাচ্ছে।
প্লান প্রোগ্রাম করে আবার আমরা সবাই মিলে একসাথে যাব তাহলে অনেক বেশি মজা হবে। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখলে সত্যিই মনের মত একটি ভালো লাগা কাজ করে
আমিও ভাইয়া বেশ কিছুদিন আগেই সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর ভ্রমণ করেছিলাম। আমার ভীষণ ভালো লেগেছিল জায়গাটি। কিন্তু ভাইয়া সব থেকে ভোগান্তিতে পড়েছিলাম নৌকার টিকিট পাওয়ার জন্য। নৌকার টিকিটের জন্য অনেকক্ষণ বসে ছিলাম তারপর আমরা হেঁটে হেঁটে চলে গেলাম বালুর মধ্য দিয়ে। ২০ থেকে ৩০ মিনিট হেঁটে গেলাম। কিন্তু পথ যেন শেষ হয়ই না। তারপর সামনে বিজীবি রা অনেক ঝামেলা করছিল। যেতে দিচ্ছিলো না তাও আমরা সাহস নিয়ে মামা ভাগ্নে দুজন চলে গেলাম সামনের দিকে। তারপর অবশেষে পৌঁছাতে পারলাম সাদা পাথর। আমিও এই পর্ব খুব শীঘ্রই আপনাদের মাঝে তুলে ধরবো। সব থেকে ভালো লাগছিল পাহাড়ের সৌন্দর্যর সাথে ধলাই নদীর পানির অপরূপ সৌন্দর্য এত মনোমুগ্ধকর লাগছিল। আমরা যখন আসছিলাম সিএনজিতে করে পাহাড়গুলি চোখের সামনে ভেসে আসছিল দেখেই মনটা জুড়ায় যাচ্ছিল। আপনারা দেখছি ৮০০ টাকার নৌকার টিকিট ৫০০ টাকায় ঠিক করতে সক্ষম হয়েছেন।যাক বেশি ভালো ৩০০ টাকা বেঁচে গেল।ওখানকার মুহূর্তগুলো এখন ভেসে উঠল। আপনার পোস্টটি দেখে আমার ভীষণ ভাল লাগলো। যদি বারবার যেতে পারতাম মনটা ভরে যেত ।
এখানে নৌকা টিকিটের জন্য প্রচুর ভিড় থাকে তো সেজন্য সিরিয়াল পাওয়াটা দুষ্কর। আসলে ধলাই নদীর সৌন্দর্য অপরূপ ছিল। মতামত প্রকাশের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
৮০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকায় ঠিক করার ব্যাপার টা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। দারুণ ছিল আপনার ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর ভ্রমণের পোস্ট টা। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ের নিচে অবস্থিত জায়গা টা। আমি স্যোসাল মিডিয়ায় দেখেছি জায়গা টা বেশ অসাধারণ এবং সুন্দর। আপনার অভিজ্ঞতা টা বেশ ভালো ছিল। ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য আপনাকে।।
এটা ফিক্সড রেট ছিল তবে আমাদের যিনি পরিচিত ছিল তাদের অফিসের পরিচয় দেওয়াতে টাকা কম নিয়েছিল। মতামত প্রকাশের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
ভ্রমণ এর ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি যেটাকে গুরুত্ব দিতে হয়,টাকা সেভ করা।আর আপনাদের টিকেট কাটার বিষয়টি ছিল ভালো। ভোলাগঞ্জ এর যে চিত্রটা আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন সাদা পাথর সহ, দেখে খুবি ভালো লাগলো।ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর দৃশ্য আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ভাই এটা গোপালগঞ্জ না এটা ভোলাগঞ্জ। অবশ্যই ভ্রমণের ক্ষেত্রে টাকা বাঁচানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু আমরা বাজেট ট্যুর দিয়ে থাকি
আমি দুঃখিত ভাইয়া মিসটেক হয়ে গেছে।