ভ্রমণ :- বন্যার সময় চেয়ারম্যান ঘাট ঘুরতে যাওয়ার মুহূর্ত।

in আমার বাংলা ব্লগlast year

হ্যালো বন্ধুরা,

সবাই কেমন আছেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই অনেক ভাল আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে খুবই ভাল আছি।আজকে আমি আপনাদের মাঝে একটি ভ্রমণ কাহিনী শেয়ার করবো। আসলে ঘুরতে যেতে কমবেশি আমরা সবাই পছন্দ করি। আর আমি মনে করি মাঝেমধ্যে ঘুরতে গেলে মন ফ্রেশ থাকে। সেই জন্য আমি চেষ্টা করি কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যে ঘুরতে যাওয়ার। তেমনি আজকেও আপনাদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার কিছুটা মুহূর্ত শেয়ার করব। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

IMG_20240824_120355.jpg

আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব বন্যার সময় চেয়ারম্যান ঘাট ঘুরতে যাওয়ার মুহূর্ত। আপনারা অনেকে জানেন আমরা একদম গ্রামে বাস করি। এবং আমাদের বাড়ির পাশেই ছোট ফেনী নদী আছে। এবং আমাদের বাড়ি থেকে নদীর কাছে যেতে হেঁটে পাঁচ মিনিট টাইম লাগে। আর বন্যার সময় আমাদের এদিকের নদীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। বিশেষ করে সুইজগেট ভেঙে যাওয়ার পর সকাল-সন্ধ্যা দুইবার পানি অনেক বৃদ্ধি হয়ে যেত। আর ওই সময় নদীর ধারে বসবাসকারী লোকগুলো সরকারি জায়গা চলে গেল। আর বর্ষার সময় আমরা কয়েকজন লোক চেয়ারম্যান ঘাটে গেলাম। মূলত লোকের মুখে শুনেছি পানি অনেক বেড়ে গেল দেখার জন্য।

যদিও আমরা যাওয়ার সময় কিছু প্রস্তুতি নিয়ে গেলাম। এবং চেয়ারম্যান ঘাট গিয়ে দেখতে পেলাম ওইখানে পানির অবস্থা স্বাভাবিক আছে। বিশেষ করে জোয়ারের সময় পানি একটু বেড়ে যেত নদীতে। আর ওই সময় ফসলের মাঠগুলো সব পানির নিচে ডুবে গেল। আর দূর-দূরান্ত থেকে লোক আসতে লাগলো নদীর পানি দেখতে। আর চেয়ারম্যান ঘাট জায়গাটি রাস্তা আছে এবং ওইখানে পরিবেশ ও সুন্দর ছিল। তবে ওই সময় পানি এত বেড়েছে মানুষ প্রথমে দেখলে ভয় পেত। নদীর উপরে সরকারি গাছগুলো পর্যন্ত পানির নিচে চলে গেল। আর ওই সময় নদীর উপরে জায়গা গুলো এমনভাবে ভেঙে পানিতে পড়তে লাগল দেখলে ভয় লাগতো।

IMG_20240823_180236.jpg

IMG_20240823_180211.jpg

তবে বন্যার সময় আমরা কয়েকজন বন্ধু যখন ওইখানে গেলাম। কিছু মানুষ দেখতে পেলাম তারা মাছ ধরা নিয়ে ব্যস্ত ছিল। এবং তাদের মাছধরা দেখে আমরা অবাক হয়ে গেলাম। কারণ পশুর মাছ পেতে লাগল তারা। আর ওই সময় মাছের দাম একদম খুব কম ছিল। এক কিলো মাছ ত্রিশ টাকা করে পাওয়া যেত ওই সময়। আর ওই সময় আমাদের এদিকে কোন কারেন্ট ছিল না। এই কারণে মাছ নিলো কোন লাভ হতো না। আর বর্তমান সময়ে সবার ঘরে ঘরে ফ্রিজ আছে। আমরা যাওয়ার পর কিছু পরিচিত লোক দেখে বলতে লাগল মাছ কিনবে নাকি। তখন আমরা বললাম মাছ কিনব না দেখতে আসলাম বন্যার পরিস্থিতি। ওই সময় আমি কয়েকটি ফটোগ্রাফি করে নিলাম।

আর ওই সময় অনেক মানুষ মাছ ধরা নিয়ে ব্যস্ত ছিল এবং কিছু মানুষ দেখলাম ভয় কাঁদতে লাগলো। কারণ যেভাবে বন্যার পানি বেড়েছে। যে কোন পরিস্থিতি যখন সামনে আসে মানুষ এমনিতে ভয় পায়। আর নদীর স্রোত ছিল প্রচুর আমি নিজেও ভয় পেলাম। তবে আমরা ওই সময় ওই খানে অনেকক্ষণ পর্যন্ত ছিলাম। কারণ এইসব পরিস্থিতি দেখলে মানুষের মন এমনিতে কাঁদে। যদিও চেয়ারম্যান ঘাট আমাদের বাড়ি থেকে তেমন দূরে না। তারপর ও পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে নিজের কাছে একটু খারাপ লাগলো। কারণ প্রত্যেকজনের ঘরে বৃদ্ধ মা বাবা ছোট ছেলেমেয়ে আছে। আর ওই সময় ঘুরাঘুরি চেয়েও ভয় বেশি ছিল।

IMG_20240823_180752.jpg

IMG_20240823_180537.jpg

কারণ ঘুরতে গিয়ে বারবার বন্যার পরিস্থিতির কথা মনে পড়ে গেল। তবে দেখলাম কিছু মানুষ এসে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। আর আমাদের বাড়ির পাশে কিছু বাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় নাই। আর আমাদের নদীর ওই পারে বাড়িগুলো সব পানির নিচেই ছিল। সত্যি বন্যার সময় চেয়ারম্যানঘাট ঘুরতে গিয়ে নিজেও ভয় পেলাম অনেক চিন্তিত ছিলাম। আর এরকম পরিস্থিতি আসলে মানুষের জন্য খুব বিপদজনক। সামনে বর্ষা আসলে হয়তো বা এই পরিস্থিতি আমাদের এদিকে আবার দেখা যাবে। কারণ আমাদের এদিকে সুইচগেট এখনো ঠিক করে নাই। তাই মানুষের জন্য ভয় আছে। এই হচ্ছে বন্যার সময় চেয়ারম্যান ঘাট গুরতে যাওয়ার মুহূর্ত। আশা করি আমার পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগবে আপনাদের।

IMG_20240823_175706.jpg

IMG_20240823_175940.jpg

IMG_20240823_180545.jpg

IMG_20240823_175850.jpg

IMG_20240823_180320.jpg

device : Huawei

লোকেশন

আমার পরিচয়

IMG_20221006_094439.jpg

আমার নাম মোঃ জামাল উদ্দিন। আর আমার ইউজার নাম @jamal7। আমি বাংলাদেশে বসবাস করি। প্রথমত বাঙালি হিসেবে আমি নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করি। কারণ বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। তার সাথে ফটোগ্রাফি করা আমার অনেক শখ। আমি যে কোন কিছুর সুন্দরভাবে ফটোগ্রাফি করার চেষ্টা করি। তার সাথে ভ্রমণ করতেও ভীষণ ভালো লাগে। বিশেষ করে নতুন নতুন জায়গা ভ্রমণ করতে ভীষণ ভালো লাগে। তার সাথে লেখালেখি করতে ও ভীষণ ভালো লাগে। যে কোন বিষয় নিয়ে কিংবা যে কোন গল্প লিখতে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। আর সব সময় নতুন কিছু করার চেষ্টা। নতুন ধরনের কিছু দেখলে করার চেষ্টা করি।
35FHZ8gBpndbrF88KC8i6DmfoqNdVfSnhzJshZCJksDJs27YpCCUjp1oaP6ko3mLJbQtLE76ZKc5r3aFXKh8EK2Xg2XbxHP97436Dksrat...K3RRDcGvdyC6bx3TE39Zctd2ho1pJ1hm9nj6RC6gfhhSEVDEf6zHmiqsgBwDTEDG8onxfxrWKe5ZMmiwAvtnX6XvsCqykCT5aFqMFBq2wcdKNs74j1RgTuza3g.png

A5tMjLhTTnj4UJ3Q17DFR9PmiB5HnomwsPZ1BrfGqKbjde9gvbjDSDFUe2t87sHycAo9yh4cXNBQ2uKuZLC2jPzA8Qx5HRSqkJDxCm2F1P...XMCuWWrUK8WEzc1spvbtGymKcxp9cSaiY7YD7nmGv2yy3TJjQK1R5Bx6mMsJqHLdPZ4gBXB1M3ZGWR3ESWZxh8hd9tvb68pfdL8xHrioiqDnHuRUqd8FYt5aog.png

ধন্যবাদ সবাইকে

Screenshot_20241121_144146.jpg

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 last year 

আসলেই বন্যার সময় পরিস্থিতি অস্বাভাবিক থাকে তাই বাইরে না বের হওয়াই ভালো।তারপরও আপনি বের হয়েছেন এবং নানা কিছু দেখে উপলব্ধি করতে পেরেছেন আশা করি।মাছ ধরার বিষয়টি বেশ মজার, ধন্যবাদ আপনাকে।

 last year 

Screenshot_20250416_170902_com.android.chrome.jpg

 last year 

বন্যার সময় চেয়ারম্যান ঘাট ঘুরতে যাওয়ার মুহূর্ত শেয়ার করেছেন। দেখে খুব ভালো লাগলো। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সুন্দর ভাবে উপভোগ করেছেন । ধন্যবাদ আপনাকে ভাই।

 last year 

ভালো লাগলো আপনার অসাধারণ মন্তব্য শুনে। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.083
BTC 60213.83
ETH 1578.35
USDT 1.00
SBD 0.42