ভ্রমণ :- কাজিরহাট ঘাটে ঘুরতে যাওয়ার মুহূর্ত।

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago

হ্যালো বন্ধুরা,

সবাই কেমন আছেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই অনেক ভাল আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে খুবই ভাল আছি।আজকে আমি আপনাদের মাঝে একটি ভ্রমণ কাহিনী শেয়ার করবো। আসলে ঘুরতে যেতে কমবেশি আমরা সবাই পছন্দ করি। আর আমি মনে করি মাঝেমধ্যে ঘুরতে গেলে মন ফ্রেশ থাকে। সেই জন্য আমি চেষ্টা করি কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যে ঘুরতে যাওয়ার। তেমনি আজকেও আপনাদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার কিছুটা মুহূর্ত শেয়ার করব। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

IMG_20241020_174554.jpg

IMG_20241020_165614.jpg

আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব কাজির হাট-ঘাটে ঘুরতে যাওয়ার মুহূর্ত। আপনারা হয়তো অনেকে জানেন আমাদের বাড়ির পাশে ছোট ফেনী নদী আছে। তবে বর্তমান সময়ে আমাদের এই এলাকার নদী এলাকায় মানুষগুলো ভালো নেই। বিশেষ করে সুইজগেট ভেঙে যাওয়ার পর থেকে 24 ঘন্টার মধ্যে নদীতে দুইবার পানির জোয়ার আসে। এই কারণে মানুষের ফসল ও ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যদিও আগে নদীর পাশে জমিগুলো থেকে মানুষ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ধান চাষ করতেন। আর আমাদের এলাকায় শাকসবজি বাইরের এলাকা বিক্রি করা হতো।

অথচ সুইচগেট নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে এখন আমাদের এলাকার মানুষ নিজেরাই শাক-সবজি কিনে খায়। কিছুদিন আগে সন্ধ্যা বেলা সময় আমি কাজিরহাট ঘাটে ঘুরতে গেলাম। মূলত ওই সময় বড় জোয়ার আসলো নদীতে। আর ওই নদীর ঘাট নাকি এখন খুব ভয়ানক। কারণ নদীর দুইপাশ থেকে ভাঙ্গন ধরেছে। এই কারণে সন্ধ্যাবেলা আধা ঘন্টা আগে আমি ওই ঘাটে গেলাম। আমার ফটোগ্রাফি দেখে বোঝা যাচ্ছে ওই সময় কুয়াশা পড়তেছে। বর্তমানে আমাদের এলাকায় কুয়াশা পড়ে। বিশেষ করে নদীর পাশে ওই সময় কুয়াশার কারণে অন্ধকার থাকে।

IMG_20241020_174448.jpg

IMG_20241020_174418.jpg

যখন আমি নদীর ধারে গেলাম তখন জোয়ার এসে পানি কমতেছে। তবে আমার ফটোগ্রাফির মধ্যে যেই গাছগুলো দেখা যাচ্ছে পানির মাঝখানে এগুলো সব জমি। এই জমিগুলোর মধ্যে মানুষ চাষ করতে লাগে। আর অতসব এখন বৃষ্টি না হয়ো এই জমিগুলো পানির নিচে। তবে গাছগুলোর ওইপাশে হচ্ছে আমাদের ছোট ফেনী নদী। অথচ নদীর উপরে অনেকখানি জমির মধ্যে পানি উঠে গেল। যদিও আমি কিছুদিন ধরে চিন্তা করতেছি বিকেল বেলা জোয়ার আসলে কাজিরহাট ঘাটে ঘুরতে যাব।

তবে ওই দিনের বড় জোয়ার নদীর ওপরে যে জমিগুলোর মধ্যে সবজি চাষ করেছিল ওই জমিগুলোর মধ্যে পানি উঠেছে। মাঝেমধ্যে জোয়ারের পানি আমাদের বাড়ির পাশে রাস্তার পাস পর্যন্ত আসে। তবে এখন নদীর ধারে ঘুরতে গেলে খুব ভয় লাগে। বিশেষ করে যখন জোয়ারের পানি আসে তখন একটা শব্দ করে। আর নদীর পানি গুলো একদম মাটি যুক্ত। এবং নদীর মাটিগুলো যদি একবার পায়ে লাগে সহজে সাফাই করা যায় না। যদিও নদীর পাশে ছোট্ট একটি দোকান আছে। ওই লোকগুলো থেকে জানতে পারলাম এখন আগের মত এই নৌকা দিয়ে মানুষ চলাফেরা করে না।

আর নদীতে এখন কোন মাছও পাওয়া যায় না। তখন আমি বলতেছি আমি নদীর ওইপাশে যাব একটু ঘুরতে। তখন ওখানে লোকগুলো আমাকে মানা করতেছে। কারণ সন্ধ্যার পর নদীতে নৌকা চলাচল করে না। সত্যি বলতে নদীর পাশে যেই বাড়িগুলো ছিল এখন এই বাড়িগুলো নদীতে ভেঙে গেল। আর কিছু কিছু লোক বাড়িগুলো তুলে নিয়ে অন্য জায়গা গেল। আসলে নদীর ধারে ঘুরতে গেলাম একটু আনন্দের জন্য। আর ওইখানে মানুষের পরিবেশ দেখে সত্যি নিজের কাছে খারাপ লাগলো। তবে নদী এলাকার মানুষগুলো কখনো কল্পনাই করে নাই এই সুইচগেট নষ্ট হয়ে যাবে। যেখানে মুসাপুর সুইচগেট ১০০ বছর গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে।

আর ওই সুইচগেট ১২ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে গেল। সত্যি বলতে আগেই নদীর ধারে ঘুরতে গেলে সরকারি গাছ গুলোর নিচে বসলে মন জুড়িয়ে যেত। আর বিকেল বেলা এই গাছ গুলো নিচে গরু ছাগল অনেক থাকতো ঘাস খেতেন। আর এখন এই গাছগুলো পানিতে ডোবা থাকে। হালকা গাছের উপরে কিছু পাতা দেখা যায়। এই হচ্ছে কাজিরহাট নদীর ধারে ঘুরতে যাওয়ার মুহূর্ত। আশা করি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে।

IMG_20241020_174342.jpg

IMG_20241020_174256.jpg

IMG_20241020_174626.jpg

IMG_20241020_165621.jpg

device : Huawei

লোকেশন

আমার পরিচয়

IMG_20221006_094439.jpg

আমার নাম মোঃ জামাল উদ্দিন। আর আমার ইউজার নাম @jamal7। আমি বাংলাদেশে বসবাস করি। প্রথমত বাঙালি হিসেবে আমি নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করি। কারণ বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। তার সাথে ফটোগ্রাফি করা আমার অনেক শখ। আমি যে কোন কিছুর সুন্দরভাবে ফটোগ্রাফি করার চেষ্টা করি। তার সাথে ভ্রমণ করতেও ভীষণ ভালো লাগে। বিশেষ করে নতুন নতুন জায়গা ভ্রমণ করতে ভীষণ ভালো লাগে। তার সাথে লেখালেখি করতে ও ভীষণ ভালো লাগে। যে কোন বিষয় নিয়ে কিংবা যে কোন গল্প লিখতে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। আর সব সময় নতুন কিছু করার চেষ্টা। নতুন ধরনের কিছু দেখলে করার চেষ্টা করি।
35FHZ8gBpndbrF88KC8i6DmfoqNdVfSnhzJshZCJksDJs27YpCCUjp1oaP6ko3mLJbQtLE76ZKc5r3aFXKh8EK2Xg2XbxHP97436Dksrat...K3RRDcGvdyC6bx3TE39Zctd2ho1pJ1hm9nj6RC6gfhhSEVDEf6zHmiqsgBwDTEDG8onxfxrWKe5ZMmiwAvtnX6XvsCqykCT5aFqMFBq2wcdKNs74j1RgTuza3g.png

A5tMjLhTTnj4UJ3Q17DFR9PmiB5HnomwsPZ1BrfGqKbjde9gvbjDSDFUe2t87sHycAo9yh4cXNBQ2uKuZLC2jPzA8Qx5HRSqkJDxCm2F1P...XMCuWWrUK8WEzc1spvbtGymKcxp9cSaiY7YD7nmGv2yy3TJjQK1R5Bx6mMsJqHLdPZ4gBXB1M3ZGWR3ESWZxh8hd9tvb68pfdL8xHrioiqDnHuRUqd8FYt5aog.png

ধন্যবাদ সবাইকে

IMG-20240904-WA0026.jpg

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 2 years ago 

আসলে সন্ধ্যার পর নদীর ওপারে ঘুরতে না যাওয়াটাই বেটার। আর নদী ভাঙ্গনে অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে যায় এগুলো কিন্তু বেশ দুঃখজনক বিষয়। যাইহোক কাজিরহাট ঘাট আপনি ঘুরতে গেছেন আর সে বিষয়ে বিস্তারিত আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন তাই অনেক কিছু জানার সুযোগ হলো।

 2 years ago 

আমার পোস্টটি পড়ে খুব সুন্দর করে মন্তব্য করেছেন তাই ধন্যবাদ আপনাকে।

 2 years ago 

সুইচ গেট নষ্ট হয়ে গেলে তো খুবই সমস্যা। পানি সঠিকভাবে বের হতে পারে না। তাইতো ফসল ফলাতেও অসুবিধা হয়। ভাইয়া আপনি দারুন একটি জায়গায় ভ্রমণ করেছেন দেখে খুবই ভালো লাগলো।

 2 years ago 

ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.32
JST 0.080
BTC 66465.63
ETH 1795.38
USDT 1.00
SBD 0.43