লালবাগ কেল্লায় এক অসম্পূর্ণ ভ্রমণ: ইতিহাসের স্পর্শে তাওসিফের প্রথম অভিজ্ঞতা
গতকাল বৃহস্পতিবার আমার ছোট চাচাতো ভাই তাওসিফকে নিয়ে ঢাকা শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থান লালবাগ কেল্লায় ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। তাওসিফ এর আগে কখনো লালবাগ কেল্লায় আসেনি, তাই এই সুযোগে তাকে ঢাকার এই বিখ্যাত স্থানটা ভালোভাবে দেখানোর ইচ্ছা ছিল। তবে দুর্ভাগ্যবশত, আমার মনেই ছিল না যে বৃহস্পতিবার লালবাগ কেল্লা বন্ধ থাকে।আজকের পুরো ব্লগে তুলে ধরব আমার ছোট ভাই তাওসিবকে নিয়ে লালবাগ কেল্লায় কিভাবে সুন্দর একটি সময় অতিবাহিত করলাম এবং সেই সাথে ব্লগে থাকছে লালবাগ কেল্লার দারুন কিছু ফটোগ্রাফি। চলুন তাহলে আজকের ব্লগটি শুরু করা যাক।
আমরা যখন লালবাগ কেল্লার মেইন গেটের সামনে পৌঁছাই, দেখি অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে এবং গেট বন্ধ। তখনই মনে হলো, আজ তো বৃহস্পতিবার, তাই কেল্লা বন্ধ! এই ঘটনায় কিছুটা হতাশ হয়ে পড়ি কারণ তাওসিফকে এই প্রথম লালবাগ কেল্লা দেখানোর সুযোগটা আর হলো না।তবে ফিরে আসার সময় আমার মনে পড়ে যায় যে লালবাগ কেল্লার জামে মসজিদের পাশ থেকে পুরো কেল্লার একটা ভালো দৃশ্য দেখা যায়।তাই আমি তাওসিফকে নিয়ে মসজিদের দিকে যাই।মসজিদের সামনেই দাঁড়িয়ে আমরা পুরো লালবাগ কেল্লা এক নজরে দেখতে পারি। তাওসিফ এই দৃশ্য দেখে খুবই খুশি হয়, তার হাসি মুখ দেখে আমারও হতাশা কাটিয়ে দারুণ লাগতে শুরু করে।যদিও আমরা লালবাগ কেল্লার ভিতরে প্রবেশ করতে পারিনি,তবুও তাওসিফের হাসি মুখ দেখে আমার মনটা একদম ভালো হয়ে গেল।
লালবাগ কেল্লা ঢাকার পুরনো শহরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক দুর্গ। মুঘল আমলে স্থাপিত এই কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ সালে। তবে কাজটি শেষ হয়নি তার মৃত্যু এবং অন্যান্য কারণে। লালবাগ কেল্লা প্রায় ৩৩ একর জায়গা নিয়ে বিস্তৃত, এবং এর মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন বড় খাঁয়ের সমাধি, লালবাগ মসজিদ, এবং পানির চৌবাচ্চা।প্রথম দিকে এই কেল্লাকে "অওরঙ্গবাদ কেল্লা" নামে ডাকা হতো, কারণ আওরঙ্গজেব নিজেই এর নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আওরঙ্গজেবের নির্দেশে নাসিরউদ্দিন শাহ এর কাজ তদারকি করেন, তবে কোনো এক অজানা কারণে এর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। কিছু ঐতিহাসিকদের মতে, নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায় আওরঙ্গজেবের পুত্র আজম শাহের হঠাৎ মৃত্যুর পর। তবে অসমাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এই কেল্লার স্থাপত্যশ শিল্পের এক অসাধারণ নিদর্শন।
লালবাগ কেল্লার মূলে রয়েছে একটি বড় প্রাসাদ, যা মুঘল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। প্রাসাদের চারপাশে রয়েছে একাধিক ছোট ছোট কক্ষ এবং বিস্তৃত বাগান। কেল্লার অন্যতম আকর্ষণ হলো বড় খাঁয়ের সমাধি, যা তার আভিজাত্য ও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কেল্লার ভিতরে আরও রয়েছে একটি সুন্দর জলাশয় এবং মসজিদ, যা এখনও ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়।কেল্লার দেয়ালের কারুকাজ, মসজিদের মিনার, এবং ফুলের বাগানগুলো মুঘল শিল্পের অপূর্ব উদাহরণ। পুরনো ঢাকার প্রাচীন স্থাপত্যের সঙ্গে একাত্ম হয়ে লালবাগ কেল্লা আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে রাখে।
যেহেতু আমি এবং তাওসিফ লালবাগ কেল্লার ভিতরে প্রবেশ করতে পারিনি, তাই বাইরে থেকে কয়েকটি ছবি তুলি। লালবাগ কেল্লার প্রবেশদ্বার এবং আশপাশের পরিবেশের কিছু সুন্দর মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করার চেষ্টা করেছি। বাইরে থেকে পুরো কেল্লা দেখতে বেশ চমৎকার, বিশেষ করে মসজিদের পাশে দাঁড়িয়ে পুরো দৃশ্যটা নজরকাড়া।তাওসিফও ছবি তোলায় আগ্রহী ছিল, তাই তার কিছু ফটোও তুললাম, যেগুলো তার কাছে খুবই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই অভিজ্ঞতা তাকে যেমন আনন্দ দিয়েছে, তেমনি আমাকেও মুগ্ধ করেছে। লালবাগ কেল্লার ঐতিহাসিক এবং স্থাপত্যশৈলী সম্পর্কে তাকে জানাতে পেরে খুব ভালো লেগেছে।
যদিও আমরা লালবাগ কেল্লার ভিতরে প্রবেশ করতে পারিনি, তবুও বাইরে থেকে কেল্লার জামে মসজিদ থেকে এর মনোরম দৃশ্য দেখে দিনটি দারুণ কেটেছে। তাওসিফের প্রথমবারের মতো লালবাগ কেল্লা দেখা এবং তার খুশির মুহূর্ত আমার হৃদয়ে একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ভবিষ্যতে আবারও আসব এবং কেল্লার ভিতরে ঢুকে এর প্রতিটি কোণ দেখে তাওসিফকে দেখানোর ইচ্ছা আছে।
লালবাগ কেল্লা ঢাকার অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন, যা শুধুমাত্র স্থাপত্য নয়, আমাদের দেশের ইতিহাসের একটি বিশেষ অংশ। যারা এখনও এখানে আসেননি, তাদের জন্য এটি একটি অবশ্যই দেখার মতো জায়গা।
প্রত্যেকটা ছবি তোলার লোকেশন এবং ডিভাইসের নামঃ
Device:Samsung A33 (5G)
আজ এখানেই শেষ করছি। অন্য কোন একদিন ভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। ততক্ষন পর্যন্ত আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।
ফোনের বিবরণ
| মোবাইল | Samsung A33 (5G) |
|---|---|
| ধরণ | "লালবাগ কেল্লায় এক অসম্পূর্ণ ভ্রমণ: ইতিহাসের স্পর্শে তাওসিফের প্রথম অভিজ্ঞতা" |
| ক্যমেরা মডেল | A33 (48+8+5+2) |
| ক্যাপচার | @mohamad786 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ- বাংলাদেশ |
https://x.com/mohamad786FA/status/1844671381918847149?t=SkI6kSz9LrtxA1nBRc2B7Q&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আমরা ছোট বেলায় পাঠ্য বইয়ের মধ্যে লাল বাগ কেল্লার অনেক গল্প পড়েছিলাম। আপনি দেখছি লালবাগ কেল্লায় ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে ঘোরাঘুরি করার কিছু মুহূর্ত আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। লালবাগ কেল্লার মুঘল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত প্রাসাদ টি এখনো দেখতে নতুনের মতোই রয়েছে।
লাল ভাগের কেল্লায় আমিও একবার গিয়েছিলাম। তবে সেটা বেশ কয়েক বছর আগে। এখন আবার যাওয়ার চিন্তা করতেছি। দেখাযাক কবে যাওয়া যায়। ধন্যবাদ।