নীলফামারী থেকে ঢাকা বাস জার্নি ||
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে ভালোই আছি। আমি আজকে আরো একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আমি গত শনিবারে নীলফামারী থেকে ঢাকায় এসেছি। আমি সচরাচর ঢাকা নীলফামারী যাতায়াতের সময় ট্রেন ব্যবহার করে থাকি বাট ট্রেনে যাতায়াত করি। কিন্তু শনিবারে সাপ্তাহিক ট্রেন বন্ধ থাকায় আমি নীলফামারী থেকে ঢাকা বাসে আসি। আজ আমি আপনাদের মাঝে নীলফামারী থেকে ঢাকা বাসে আসার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে যাচ্ছি। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে। তো চলুন বেশি দেরি না করে শুরু করা যাক।
আমার রবিবারে ক্লাস ছিল তাই শনিবারের মধ্যেই আমাকে ঢাকায় আসতে হবে। নীলফামারী থেকে আসা চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি শনিবারে সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে তাই আমি বাসের টিকিট কাটি। নীলফামারী থেকে ঢাকার বাস হিসেবে নাবিল বাস অনেক ভালো। তাই আমি নাবিল বাসের একটি টিকিট কেটে নেই। আমি শুক্রবার বিকেলে নাবিল বাস কাউন্টারে গিয়ে পরের দিন সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটের বাসের একটি টিকিট কেটে নেই। টিকিট বাস কাউন্টারে কাটলেও সকালে বাসে উঠতে হবে নীলফামারী বাস টার্মিনাল থেকে। পরের দিন সকাল সাতটায় আমি ঘুম থেকে উঠি। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা করি। এরপর ব্যাগ ভালোভাবে চেক করে একটি রিক্সা নিয়ে নীলফামারী বাস টার্মিনালের দিকে যাই।
আমাদের বাসা থেকে নীলফামারী বাস টার্মিনাল রিক্সায় যেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মত সময় লাগে। আমি সকাল ৮ টা ২০ মিনিটের মধ্যেই নীলফামারী বাস টার্মিনালে পৌঁছে যায়। নীলফামারী বাস টার্মিনালে পৌঁছে যাওয়ার পর নাবিল বাস কাউন্টারের সামনে গিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিট পার হয়ে যায় তবুও বাস আসে না। প্রায় ৩০ মিনিট লেট করে সকাল ৯ টায় বাসটি নীলফামারী বাস টার্মিনালে আসে। বাসটি নীলফামারী বাস টার্মিনালে আসার পর আমি বাসে উঠি ও নিজের আসন গ্রহণ করি।
এরপর বাসটি যাত্রা শুরু করে। বাস্টের গন্তব্যস্থান ছিল ঢাকা গাবতলী। আমি বাসে উঠে বাসায় ফোন করে জানিয়ে দেই যে বাসে উঠে গিয়েছি। আমি সচরাচর ট্রেনেই জার্নি করি তাই বেশ অনেকদিন পরে বাস জার্নি করছিলাম। বাসে উঠে কিছুটা সময় পরে আমি বাসের মধ্যেই ঘুমিয়ে যাই। আমার ঘুম যখন ভাঙ্গে তখন বাসটি রংপুরে ছিলো। ঘুম ভাঙার পর আমি কিছুক্ষণ মোবাইল ফোন চালাই। যেহেতু শীতের সময় চলছিল তাই বাসের সব জানালা গুলো বন্ধ ছিল। আমি বেশ কিছুক্ষণ ফোন চালানোর পরে বাসের মধ্যে আবার ঘুমিয়ে যাই। এরপর যখন আমার ঘুম ভাঙ্গে তখন বাসটি বগুড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। রংপুর থেকে বগুড়া পর্যন্ত বেশ ভালো একটি ঘুম হয়েছে।
ঘুম ভাঙার কিছুক্ষনের মধ্যেই আমরা ফুড ভিলেজে পৌঁছে যাই। ফুড ভিলেজে পৌঁছানোর পর আমি গাড়ি থেকে বের হয়ে ফুড ভিলেজ এর ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হই। বাস জার্নি, তাই ফুড ভিলেজে ভারী কিছু না খেয়ে একটি কেক ও একটি কমলা খেয়ে পানি খেয়ে নেই। ফুড ভিলেজে আমাদের বিরতি ছিল ২০ মিনিটের। আমি কেক খাওয়ার পরে ফুট ভিলেজ এর আশেপাশে হাটাহাটি করি। ১৫ মিনিট পর আমি আবার বাসের মধ্যে এসে বসি এবং কিছুক্ষণ পরে বাসটি আবার যাত্রা শুরু করে।
এরপর বেশ ভালোভাবেই বাসের মধ্যে শুয়ে বসে মোবাইল টিপে সময় পার করছিলাম। বিকেলের মধ্যেই আমাদের ঢাকা পৌঁছানোর কথা ছিল কিন্তু বাইপাইল পার হয়ে বাসের একটি চাকা পাংচার হয়ে যায়। এর ফলে বাসটি একটি সাইডে দাঁড়িয়ে চাকা পাংচারটি ঠিক করতে থাকে। এই সময়টিতে বাসের সকল যাত্রীরা বাস থেকে নেমে আশে পাশে হাঁটাহাঁটি করতে শুরু করে। আমিও বাস থেকে নেমে বাসের পাংচার ছাড়ানো দেখতে থাকি। প্রায় এক ঘণ্টা পরে বাসের পাংচার ছাড়ানো শেষ হয় এবং বাসের সকল যাত্রী বাসের মধ্যে নিজেদের আসন গ্রহণ করে। সন্ধে ছয়টার পরে বাসটি গাবতলী বাস টার্মিনালে এসে পৌঁছায়।
আজকের মত এখানেই। এতক্ষণ ধরে মনোযোগ দিয়ে আমার ব্লগটি পড়ার জন্য আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। দেখা হবে অন্য একটি ব্লগে ততক্ষণে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
আমি আল হিদায়াতুল শিপু। বর্তমানে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট এর একজন ছাত্র । আমি ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি ভ্রমণ করতে অনেক পছন্দ করি। আমি মাঝে মাঝে কবিতা ও লিখি। আমার লেখা কবিতা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটা পত্র পত্রিকা এবং মেগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। কাব্যকলি বইতেও আমার লেখা কবিতা রয়েছে।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
গাড়িতে চলতে চলতে হঠাৎ যদি এমন চাকা বাস্ট হয়ে যায় তাহলে সত্যিই কাঙ্খিত স্থানে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যায়। ঠিক তেমনি আপনার নীলফামারী থেকে ঢাকায় আসার মুহূর্তে গাড়ির চাকা পাংচার হয়েছে আপনাদের একটু ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
নীলফামারী থেকে ঢাকা শুনেছি অনেকটাই দূরত্ব এবং আপনার পোস্ট পড়েও দেখলাম অনেক সময় লেগেছে যেতে। এতখানি লং জার্নি বাসে করা কিন্তু খুব একটা সহজ কথা নয়। এই যে যাবার পথে হঠাৎ করেই বাসের টায়ার পাংচার হয়ে গেল এগুলোই খুব ভয় লাগে। যাইহোক আপনি যে সুস্থভাবে এবং সাবধানেই ঢাকার বাসায় পৌঁছে গেছেন এটাই জেনে ভালো লাগলো। ভালো থাকুন।