"বঙ্গবন্ধু" সাফারি পার্ক ভ্রমণ ( শেষ পর্ব )!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
দেখতে দেখতে প্রায় তিনঘন্টা সময় আমরা সাফারি পার্কের মধ্যে কাটিয়ে ফেলেছি ততক্ষণে। সাফারি পার্কের গেটের বাইরে এসে আমরা বন্ধুরা সিদ্ধান্ত নিলাম সবাই ছবি উঠব। একটা স্মৃতি রেখে দিব। কারণ এটাই হয়তো হবে একসঙ্গে আমাদের শেষ ট্যুর। এবং মোটামুটি সেটাই হয়েছে। আর হয়তো আমরা কখনও একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যেতে পারব না। আমরা নিজেরা বেশ কিছু সেলফি উঠলাম। এখন প্রয়োজন আমাদের পাঁচজনের একটা গ্রুপ ফটো উঠার। কিন্তু ছবি টা তুলবে কে। আমাদের পাশেই এক ভাই দাঁড়িয়ে ছিল। উনাকে বলতেই উনি আমাদের ছবি তুলে দিলেন বেশ কয়েকটা। ছবি উঠা পর্ব শেষ হলে আমরা আইসক্রিম খাব ঠিক করি।
ওখানে পাশেই একধরনের আইসক্রিম বিক্রি করছিল। যেগুলো ছোটবেলা অনেক খেয়েছি। মূলত গরমের দিনে একটু শীতলতার জন্য এই ধরনের আইসক্রিম গুলো আমরা খেতাম। দাম ছিল সম্ভবত ১০ টাকা। আমরা ঐ আইসক্রিম বেশ কয়েকটা খাই। আমাদের ঘোরাঘুরি শেষ। এখন আমাদের ঢাকায় ফিরতে হবে। কীভাবে ফিরব সেটা নিয়ে আলোচনা করছি। বাসে যাওয়ার কথা বললে জ্যামের জন্য সেই সিদ্ধান্ত বাদ দেয়। তখনই আমার বন্ধু নাভিদ বলল জয়দেবপুর স্টেশন থেকে কয়েকটা ট্রেন আছে যেগুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে যায়। তো আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য ঠিক হলো জয়দেবপুর স্টেশন। আমরা বাড়ি ফিরব তার পরের দিন রাতের ট্রেনে। পরবর্তী দিন ঢাকায় আমরা ঘোরাঘুরি করব এমনটাই পরিকল্পনা ছিল আমাদের।
যথারীতি যেভাবে এসেছিলাম সেভাবেই চলে গেলাম গাজীপুর চৌরাস্তায়। প্রথমে সিএনজি তারপর বাস। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর স্টেশন খুব একটা দূরে না। আমরা সবাই ঐ প্রথম জয়দেবপুর স্টেশনে গেলাম। ততক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। আমরা প্রথমে হালকা নাস্তা করে নিলাম। এবং তারপর জয়দেবপুর স্টেশন টা একটু ভালো করে ঘুরে দেখলাম। আমরা ঢাকা ফিরব লালমনি এক্সপ্রেসে। যেটা লালমনিরহাট থেকে আসে। কিন্তু আমরা কেউই টিকিট কাটিনি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল আলাদা পরে জানতে পারবেন। বেশ কিছুক্ষণ পর লালমনি এক্সপ্রেস স্টেশনে চলে আসলো। এবং আমরা সবাই উঠে পড়লাম ট্রেনে। যেহেতু আমরা কেউ টিকিট কাটি নাই এইজন্য সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
কিছুদূর যাওয়ার পরে সিট পেয়ে যায় এবং বসে পড়ি। দেখতে দেখতে কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা ঢাকার মধ্যে চলে আসি। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেয় আমরা কমলাপুর স্টেশন এর আগেই নেমে পড়ব। কারণ স্টেশনে গেলেই টিকিট চেক করবে আর আমরা কেউ টিকিট কাটি নাই। ফলে জরিমানা দেওয়া লাগবে। এইজন্য আমরা ঠিক করি খিলগাঁও রেল ক্রসিং এ নেমে পড়ব। ওখানে ট্রেন বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়ায়। এবং আমরা সেটাই করি। বেশ অন্যরকম একটা অ্যাডভেঞ্চার হয়ে যায় আমাদের। ঢাকা নেমে আমাদের গন্তব্য আলাদা হয়ে যায়। আমি চলে যায় আমার চাচাতো ভাইয়ার বাসায়। এবং আমার বন্ধুরা চলে যায় ওদের আত্মীয়দের বাসায়। যদিও আমরা পরের দিন আবার একসঙ্গে হয়েছিলাম। একসঙ্গে ঘোরাঘুরি করেছিলাম। আমার লাইফের সেরা একটা ট্যুর ছিল এইটা।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Daily task
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ভ্রমণের আরো একটি পর্ব আমাদের মাঝে নিয়ে এসেছেন। গত পর্বগুলোতে অনেক সুন্দর ভাবে আপনি উপস্থাপন করেছেন এই পার্কের বেশ কিছু চিত্র। আজকেও আমাদের মাঝে বেশ দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন লাস্ট পর্বটা। এখানে আরো অনেক কিছু দেখাবো জানার সুযোগ পেয়েছি। এত সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমি ২০২১ সালে একবার সাফারি পার্কে গিয়েছিলাম। তখন আমার কাছে ঘুরে তেমন ভালো লাগেনি। তবে এড়িয়া অনেক বড়। যদি কিছু উন্নয়ন মূলক কাজ করতো তাহলে ভালো হতো। আপনাদের অনুভূতি পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।