পুরনো কথা
দীর্ঘ সাত বছরের অধিক সময় মেডিকেল প্রফেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, কত রকম অভিজ্ঞতা যে সেই সময় হয়েছিল তা আসলে চিন্তার বাইরে। সেই ফেলে আসা জীবন থেকেই কিছু টুকরো কথা আজ আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে যাচ্ছি।
পড়াশোনা শেষ করার পরেই, যখন দেখলাম চাকরির বেহাল দশা, তখন মনস্থির করলাম আপাতত চাকরি নিয়ে না ভেবে প্র্যাকটিস নিয়ে যদি কিছু করা যায় সেদিকে এগিয়ে যাওয়াই ভালো হবে। অবশেষে বাসায় বলে, বহু কষ্টে টাকার বন্দোবস্ত করে নিজের একটা চেম্বার দেওয়া হলো।
শুরুর দিকে প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধব থেকে সেভাবে আশানুরূপ সহযোগিতা পাইনি। নতুন চিকিৎসক, কি করতে কি করবে সবার এ ভয় দূর করতেই বেশ কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। এটা রীতিমতো এক ধরনের অপমান, তারপরেও মুখ বুজে সহ্য করে গিয়েছিলাম ।
তারপরে তো শহরের চেম্বারটা যখন কোন রকমে দাঁড়িয়ে গেল, প্র্যাকটিস যখন মোটামুটি ভালোভাবেই চলছিল, তখন অনেক সময় বিব্রত হয়েছিলাম নিজের পেশার সিনিয়র কলিগ ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কার্যকলাপ দেখে।
বিশেষ করে সিনিয়র কলিগরা চেম্বারে প্র্যাকটিসের বেলায় অনেকটাই কানাঘুষা করতো রোগীদের সঙ্গে। ব্যাপারগুলো এমন ছিল, আরে ও তো কেবল পাস করে বেরিয়েছে আর এসেই চেম্বার দিয়েছে, ও কি জানে। সিনিয়র কলিগের করা এই ছোট্ট একটি মন্তব্যের জন্য যে কি পরিমাণ মানসিক চাপের ভিতর দিয়ে প্র্যাকটিস লাইফে যেতে হয়েছে, তা বলা বেশ কষ্টসাধ্য।
তাছাড়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কথা আর কি বলব, যেহেতু আমি প্র্যাকটিসের বেলায় খুব বেশি প্রয়োজন না হলে রোগীদের তেমন কোনো ওষুধ প্রেসক্রাইব করতাম না কিংবা হাতেগোনা কিছু ভালো কোম্পানির ওষুধ ছাড়া অহেতুক ওষুধ লিখতাম না, এজন্যই ওষুধ কোম্পানির লোকদের কাছে সেই সময় আমি চোখের বিষ হয়ে গিয়েছিলাম ।
সব মিলিয়ে যদি এক কথায় প্র্যাকটিস লাইফের অভিজ্ঞতার কথা বলি , তাহলে হয়তো উত্তরটা এমন হবে, খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে প্র্যাকটিস করতে পারিনি।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনি সঠিক পথে হেঁটেছেন সে জন্য অন্যরা তেমন পছন্দ করতো না। আর নতুন পাশ করে চেম্বার দিয়ে ফেলেছেন সেজন্য কেউ কেউ সহ্য করতেও পারে নি। আর ঔষধ কোম্পানির লোকের কথা কি বলবো, তারা পারলে রোগীকে প্লেট ভর্তি ভাতের জাগায় ঔষধ খেতে দেখতে চাই। ধন্যবাদ।
যথার্থ বলেছেন ভাই।
আসলে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা চায় তাদের ঔষধ সবসময়ই প্রেসক্রাইব করা হোক। এতে করে রোগী সুস্থ হোক নয়তো না হোক,তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। হসপিটালে গেলে এসব ঘটনা অহরহ চোখে পড়ে। যাইহোক ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কথা বাদ-ই দিলাম। তখন আপনার সিনিয়র কলিগরা যদি আপনাকে নিয়ে কানাঘুষা না করতো,তাহলে হয়তোবা আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে প্র্যাকটিস করতে পারতেন। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
অপ্রিয় সত্য।
আপনার অভিজ্ঞতার গল্পটি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক এবং বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। নতুন একজন চিকিৎসকের জন্য প্র্যাকটিস শুরু করা কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তা আপনার লেখায় স্পষ্ট। সিনিয়রদের নেতিবাচক মন্তব্য ও ওষুধ কোম্পানির চাপের মধ্যেও আপনি নীতির সঙ্গে অটল ছিলেন ,এটাই আপনার পেশাদারিত্বের প্রকৃত পরিচয়। এই কঠিন সময় গুলোই একজন প্রকৃত চিকিৎসককে গড়ে তোলে। আপনার অধ্যবসায় ও সততার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই ধন্যবাদ ভাইয়া।
চিকিৎসা পেশা ছেড়ে দিয়েছি অনেকটা অভিমানেই আপু।
নিজের আপনজন কিংবা বন্ধু বলেন না কেনো কেউ কারো ভালো হোক এটা চায় না কখনো!আর সেটাই আপনার সাথে ঘটেছিল আপনি ভালো কিছু করেন বা আপনার সুনাম হোক এটা কেউ চায়নি তাই রোগীদেরকে বিভিন্ন রকম কথা বলে বিভ্রান্ত করা হতো।আমি অনেক আগে থেকেই আপনার সুনাম শুনে এসেছি এবং আমার খুব আপনজনও আপনার চিকিৎসা নিয়েছিলো এবং সে আপনার সেবায় সন্তুষ্ট ছিলো।আমার প্রতিবেশীরাও আপনার চিকিৎসা নিয়েছিলো তাদের মুখেও বেশ ভালো শুনেছি।আপনি যতোই ভালো হন না কেনো সমালোচনাকারীরা সব সময় সমালোচনা করবে এটাই তাদের ধর্ম।আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা থাকলো।🙏❤️