রাতের বেলা আম চুরির গল্প
হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।
শ্যামপুর গ্রামের পশ্চিম কোণায় এক বিশাল আমবাগান। চারপাশে বাঁশঝাড়, মাঝে মাঝে শেয়াল-খেকশিয়ালের ডাক, আর মাঝখানে একেকটা আমগাছ যেন হিমালয় পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে। এই বাগানের মালিক কাশেম চাচা,গ্রামের সবচেয়ে রাগী মানুষ। ছোট-বড় সবাই চাচার ভয় পায়। তাঁর চোখের সামনে দিয়ে গরু গেলেও গরু কাঁদে,কাশেম চাচার একটা বড় নিয়ম ছিল,সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই আমগাছ গুনে দেখা, তারপর আম গুনে দেখা। তারপর হাঁক ছেড়ে বলা,
এই যে শুনো গাঁয়ের লোকজন, আম চুরি করবা না। ধরা খাইলে কান কেটে ছাগলের গলায় ঝুলাইয়া দিমু!আমরা চারজন,আমি সাব্বির, মামুন, রাফি আর রাজু,ছিলাম গ্রামের কিশোর দস্যুচক্র। খেলাধুলা, মাছ ধরা, কুকুরের সঙ্গে দৌড়, বা পুকুরে ঝাঁপ দেওয়া,সবকিছুর চেয়ে মজার ছিল এই আম চুরি অভিযান। কাশেম চাচার এই নিষেধ আর হুঁশিয়ারি আমাদের কাছে একধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ালো।
আমাদের আড্ডাখানা ছিল বড় কড়ই গাছের নিচে। সেইখানেই বসে প্ল্যান হলো,শুনছো ভাইসব, এইবার আম চুরি করতেই হবে। গাঁয়ের ইতিহাসে নাম লিখাতে হবে!রাজু বলল,আমি থলে আনুম, আম রাখার জন্য।রাফি বলল,গাছে উঠার দায়িত্ব আমার।মামুন চোখ পাকিয়ে বলল,আমি পাহারায় থাকবো। আর সাব্বির,তুই হুইসেল বাজাবি যদি বিপদ আসে।সময় নির্ধারণ হলো,রাত ১টা। চাঁদের আলো থাকবে, তাতে কাজ চালানো যাবে। আমরা ঠিক করলাম, বাঁশঝাড় দিয়ে ঢুকবো, যাতে কেউ টের না পায়।
রাত ১টা। আকাশে আধা চাঁদ, বাতাসে গরম আর পাখিদের ডাক থেমে গেছে। চারদিকে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা।আমরা সবাই কালো গেঞ্জি, পায়জামা পরে হাজির। রাজুর গলায় পট্টির মতো করে বাঁধা একটা থলে, মামুনের পকেটে একটা ছোট টর্চ, আর আমার হাতে একটা বাঁশি,যেটা হুইসেল হিসেবে ব্যবহার হবে।গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। রাফি চুপিচুপি গাছে উঠলো, এমনভাবে যেন গাছ তাকে চেনে বহুদিন ধরে। সে এমন সাবলীলভাবে উঠে পড়লো যে মনে হলো কোনো পাখির ডানা আছে ওর!
রাফি ওপরে থেকে আম পেড়ে নিচে ফেলছে। রাজু সেটা থলে ভরছে। আমি আর মামুন পাহারায়।ঠিক এমন সময়... হঠাৎ শুনি,ঘরর... ঘরর... হুঁউউউ...একটা অদ্ভুত আওয়াজ।আমাদের কলজে থেমে গেল!রাজু আম ফেলে দিয়ে বলে,ভাই ভূত!মামুনের মুখ শুকিয়ে খয়েরি, আর আমি এক হাতে বাঁশি, এক হাতে বুক চেপে ধরে,বললাম,এরে খোদা, এইডা তো কাশেম চাচার ভূত গার্ড!
ঠিক তখনই গাছের পেছন থেকে কাশেম চাচার গলা,এই কে ওখানে? দাঁড়া তোরা, এই দাঁড়া!আমাদের আর দাঁড়ানোর নাম নাই! মামুন ধানক্ষেতে, রাজু বাঁশঝাড়ে, আমি দৌঁড়ে মাটির ঢিপির পেছনে লুকালাম। আর রাফি? সে তো গাছে উঠেই বসে রইল। নেমে আসার সময় পাইলো না, চাচা নিচে দাঁড়িয়ে, হাতে টর্চ!চাচা টর্চ দিয়ে গাছের নিচে খুঁজলেন, কিন্তু কাউকে পেলেন না। থলে ভর্তি আম দেখে চোখ কুঁচকে বললেন,দেখ দেখ, চোরেরা থলে ফেলে গেছে! এ কেমন চোর!
তারপর তিনি টর্চ নিভিয়ে বাড়ি চলে গেলেন, আর রাফি গাছে বসেই সারারাত কাটালো! ভোরে আমাদের ডাকতে ডাকতে সে বললো,ভাইরা, আমার পিঠ ব্যথা, পিঁপড়া কামড়াইছে, কিন্তু একটাও আম মাটিতে পড়তে দিই নাই।পরদিন সকালে হাটে গিয়েই দেখি, কাশেম চাচা হাসিমুখে দাঁড়িয়ে বলছেন,এই দ্যাহেন, চোরেরাও কত সুসজ্জিত! থলে ভরতি আম দিয়ে গেছে, শুধু চিঠি দেয় নাই—‘চাচা, আপনার বাগানের আম খাইয়া আনন্দে পইড়া গেছি!
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/rayhan111s/status/1934267506698727672?t=vu4s019HZwWnoalIReAuug&s=19
https://x.com/rayhan111s/status/1934609928443801602?t=NDS7Iugsuerckd_rLC_SKg&s=19
https://x.com/rayhan111s/status/1934610148959371433?t=3EiBNxlZLr5oQw6i27pjZg&s=19
https://x.com/rayhan111s/status/1934610479219114058?t=t5j1lTgS17SWspLDXzrndA&s=19