রাতের বেলা নদী পাড়ের মাছ ধরার গল্প

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আসসালামু আলাইকুম/🌺

হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।


ছোটবেলায় থেকে আমি মাছ ধরতে খুবই পছন্দ করি, আর মাছ ধরার কথা শুনলেই আমি অনেক আনন্দের সাথে মাছ ধরতে যাইতাম। যার কারণে মামা বাড়িতে যখনই আমি বেড়াতে যেতাম,মামার সাথে আমিও নদীর পাড়ে মাছ ধরতে যেতাম। আজকে তাই আপনাদের মাঝে নদীর পাড়ে মাছ ধরতে যাওয়ার স্মৃতিময় একটি ভয়ানক গল্প শেয়ার করতে আসলাম, আশা করছি ভালো লাগবে।


lamp-2903830_1280.jpg

source

সেদিনটা ছিল ভরা পূর্ণিমার রাত। আকাশে চাঁদের আলো, নদীর পানিতে ঝিকিমিকি করে ছড়িয়ে পড়ছিলো। মামা হঠাৎ বলল,চল রে, আজকে রাতে নদীর পাড়ে মাছ ধরতে যাই। পূর্ণিমার রাতে মাছ ভীষণ উঠে। আমি তখন ক্লাস নাইনের ছাত্র, মামার সাথে এমন অভিযানে যাবার রোমাঞ্চে বুকের ভেতর ধুকপুক শুরু হয়ে গেল।

রাত সাড়ে দশটা। আমরা দু’জন কাঁধে মাছ ধরার বড়শি, টোপ আর একটি পুরনো টর্চ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। বাড়ি থেকে একটু দূরেই নদী, তবে সেখানে যেতে হয় একটা পুরনো বাঁশবনের ভেতর দিয়ে। বাতাসে বাঁশের পাতার ঝিরঝির শব্দ যেন ফিসফিস করে কীসব বলছিলো।আমি মামাকে জিজ্ঞাসা করলাম, মামা, এত রাতে কেউ নদীর পাড়ে যায় না কেন?মামা হাসলো,ভয় পাস না। আমি তো ছোটবেলা থেকেই এই নদীর পাড়ে মাছ ধরেছি

কিছুটা হেঁটে আমরা পৌঁছালাম সেই নির্জন পাড়ে। জায়গাটা ঘন গাছে ঘেরা, নদীর পাড় একেবারে ফাঁকা, কেবল চাঁদের আলোয় চারপাশ একটু ঝাপসা ঝাপসা দেখা যাচ্ছিলো। বড়শি ফেলে আমরা বসে পড়লাম।প্রথম বিশ মিনিট একেবারে চুপচাপ কেটে গেল। নদী যেন ঘুমিয়ে পড়েছে। হঠাৎ একটা বড়শি কেঁপে উঠলো। মামা উত্তেজিত হয়ে উঠলো, বড় মাছ রে! ও টান দিল। পানির নিচ থেকে কিছু একটা উঠছে, কিন্তু কোনো মাছ নয়…

একটা সাদা কাপড় জড়িয়ে রাখা জিনিস ভেসে উঠলো। আমরা তাকিয়ে দেখি, ওটা এক নারীর মুখ! দীর্ঘ চুল, সাদা চোখ, মুখে অদ্ভুত এক হাসি! সে ধীরে ধীরে পানির উপর উঠে এলো। শরীর জলে গলিত, ঠোঁটের কোণ থেকে রক্ত ঝরছে, যেন শতাব্দী পুরনো কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছে।আমি চিৎকার করে উঠলাম, মামা! দৌড়াই!

মামা স্থির হয়ে গেছে, যেন কোনো অভিশপ্ত ছায়া ওকে ঘিরে ফেলেছে। আমি তার হাত ধরে জোরে টান দিলাম, তবেই যেন তার জ্ঞান ফিরে এলো। আমরা টর্চ ফেলেই দৌড়াতে লাগলাম। পিছনে শোনা যাচ্ছিল জলের ছাঁট, কারো কর্কশ হাসি আর বাঁশের পাতার শিস।বাড়ি ফিরে দেখি, মামার পা কেটে গেছে, মুখে ভয়ের ছাপ। সারা রাত জ্বরে কাঁপলো। সকালে গ্রামে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ জানালেন, এই জায়গায় এক সময় এক নববধূকে স্বামী নদীতে ডুবিয়ে মেরেছিল। তখন থেকে এই জায়গায় পূর্ণিমার রাতে সশরীরীকে দেখা যায়।

তারপর থেকে আমি আর মামা কখনো রাতে নদীর পাড়ে যাইনি। সেই সাদা শাড়ির ভেজা অবয়ব, সেই ঠাণ্ডা হাওয়া আর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা সেই হাহাকার আজও ঘুমের মাঝে তাড়া করে ফেরে।কারণ, সে এখনো আছে… নদীর অন্ধকারের মাঝে… হয়তো কারো অপেক্ষায়… বড়শির টোপে ধরা দেবার জন্য নয়, বরং কাউকে নিজের সঙ্গী করে নেবার জন্য…


তারপরে থেকে কখনোই আর আমি মামা বা আমাদের আত্মীয়-স্বজনের কেউ আর রাতের বেলায় মাছ ধরতে ওই নদীর পাড়ে যায়নি। কারণ সেখানে ভয়ানক কিছু রয়েছে। তো আজকে আপনাদের মাঝে ভয়ানক এই গল্পটি শেয়ার করলাম। আশা করছি পড়ে ভালো লাগবে।🙏🤲🙏

আমার পরিচয়

IMG_20211018_182622.jpg

আমার নাম মোঃ রায়হান রেজা।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি পেশায় একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার ।আমি সর্বদাই গরীব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং নতুন সৃজনশীলতার মাধ্যমে কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে🌹💖🌹।

Amar_Bangla_Blog_logo_png.png

👉 বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺

Posted using SteemPro

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

Congratulations!

Your post has been manually upvoted by the SteemPro team! 🚀

upvoted.png

This is an automated message.

💪 Let's strengthen the Steem ecosystem together!

🟩 Vote for witness faisalamin

https://steemitwallet.com/~witnesses
https://www.steempro.com/witnesses#faisalamin

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 59856.77
ETH 1554.43
USDT 1.00
SBD 0.42