ভালোবাসার গল্প অপেক্ষা তৃতীয় পর্ব
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকলকে শুভেচ্ছা ও জানিয়ে শুরু করছি আজকের পোস্ট ।
ভালোবাসার গল্প অপেক্ষা তৃতীয় পর্ব
বরাবরের মতো আজও আমি আপনাদের মাঝে এসেছি নতুন একটা পোস্ট নিয়ে। আসলে আজ এসেছি একটা ভালোবাসার গল্প নিয়ে। সত্যি ভালোবাসা এমন জিনিস একবার মন থেকে করলে আর কখনো ফিরে আসা সম্ভব নয়।আসলে গল্প মানে আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা। তবে আমাদের সমাজে এমন কিছু বাবা মা আছে যারা ভাবে ভালোবেসে বিয়ে করলে মনে হয় ভালো হয় না।আসলে বাবা মা কখনো ছেলেমেয়ের খারাপ চাই না।তবে কিছু কিছু বিষয় আছে আসলে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।এমন একটা গল্প নিয়ে এসেছি আপনাদের মাঝে। তাহলে চলুন শুরু করি আজকের পোস্ট।
অন্তরা ও হৃদয় যখন দেখা করে বাড়ি ফিরছিল ঠিক তখনই অন্তরার মামা সামনে পড়ল । অন্তরা তার মামাকে দেখে ভয়ে অস্হির হয়ে পড়লো।তারপর অন্তর মামার বাড়িতে চলে এল।তবে মামা কিছু বললো না অন্তরাকে।এদিকে অন্তরার মামা অন্তরার বাবাকে ফোন দিয়ে অন্তরাকে বিয়ে দিয়ে দিতে বললো।এভাবে কয়েক দিন চলে গেল। হৃদয় ও ঢাকায় চলে গেল আর অন্তরার পরিক্ষা শেষ হলে চলে গেল বাড়িতে। বাড়িতে গিয়ে অন্তরা আবার হৃদয়ের সাথে অনেক যোগাযোগ করতে লাগলো।
ইতিমধ্যে অন্তরার মামা একটা ছেলে নিয়ে প্রায় বিয়ে ঠিক করে ফেলল। বিয়ের দিন তারিখ সব ঠিক করে দিল।তবে বিয়েতে অন্তরার কোন মন নেই। বলা যায় এক পর্যায়ে জোর করে বিয়ে। মাঝে মাত্র সাত দিন সময়। অন্তরা হৃদয়কে সব ঘটনা খুলে বলল।তখন হৃদয় অন্তরাকে বলল তোমাকে ছাড়া আমি কিছুতেই বাঁচব না।হৃদয় কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না। তারপর হৃদয় কিছু না ভেবে অন্তরাকে চলে আসতে বলল।আসলে অন্তরাও কোন কিছু না ভেবে চলে গেল রাতের অন্ধকারে হৃদয়ের কাছে। তারপর দুজনে বিয়ে করে ছোট একটা বাসা ভাড়া করলো।প্রথমে কয়েক দিন বেশ কষ্ট হচ্ছিল কিন্তু আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে গেল।হৃদয় ছোট্ট একটা চাকরি পেয়ে গেল। এদিকে অন্তরা টিউশনি করে।যদিও তাদের টাকা পয়সা বেশি ছিল না কিন্তু তাদের মধ্যে ভালোবাসা ছিল অনেক।
কয়েক দিনের মধ্যে অন্তরা ও হৃদয়ের বিয়ের কথা সবাই জেনে গেল। অন্তরার বাবা মা মেনে নিলেও হ্রদয়ের বাবা মা কখনো মেনে নেবে না।তবে তারা দুজনে প্রতিজ্ঞা করেছে কেউ মেনে নিক বা না নিক তারা তাদের মত নতুন জীবন গড়বে। এভাবেই কেটে গেল এক বছর। এক বছর পরে হৃদয় গেল তার বাবা মার সাথে দেখা করতে। হৃদয় তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। তাকে দেখে বাবা মা অনেক খুশি। তারপর হৃদয় তার বাবা মাকে সব ঘটনা বলল।প্রথমে বাবা মা হৃদয়ের বউকে মেনে নিতে চাইলো।তবে হৃদয়ের মামার বুদ্ধিতে হৃদয়ের বাবা মার মত ঘুরে গেল।তারপর তারা হৃদয়কে ঔষধ খাইয়ে দিল,যাতে অন্তরাকে ভুলে যায়। এদিকে অন্তরা অন্তঃসত্তা একথা হৃদয় এখনো জানে না।অন্তরা ভেবেছিল হৃদয় ফিরে আসলে তাকে সারপ্রাইজ দেবে। কিন্তু হৃদয় যে তাকে সারপ্রাইজ দেবে সেটা অন্তরার জানা ছিল না। হৃদয়ের মামা হৃদয়কে নিয়ে গিয়ে তার মামার বাড়িতে আর একটা বিয়ে করিয়ে দিল। মূহুর্তে হৃদয় অন্তরাকে ভুলে সুখে সংসার করতে লাগলো। এভাবে কয়েক দিন কেটে গেল। অন্তরা হৃদয়ের ফোনে ও আর পাচ্ছে না।এক পর্যায়ে অন্তরা বাধ্য হয়ে তার মামিকে ফোন দিল।তারপর অন্তরার মামি অন্তরার সাথে অনেক কথা বলল।অন্তরার মামি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারল হৃদয় আবার বিয়ে করে বউ এনেছে। তারপর অন্তরাকে সব জানাল।এ কথা শোনে অন্তরা নিজেকে যে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না।পরবর্তীতে কি হলো জানতে হলে সাথেই থাকতে হবে।(চলবে)
| প্রয়োজনীয় | তথ্য |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @parul19 |
| ডিভাইস | redmi note 12 |
| লোকেসন | ফরিদ পুর |
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগে অন্য কোন লেখা নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্ম নিয়ে নিজেকে ধন্যবাদ মনে করি।
https://x.com/MimiRimi1683671/status/1841107721925636125?t=6CCR17I7z1IWj5OhX0Mscg&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনার লেখা এই গল্পের প্রথম দুই পর্ব আমার করা হয়েছে। আজকের পর্বটা প্রথম থেকে পড়তে ভালোই লেগেছে। কিন্তু শেষে এরকম কিছু হবে এটা ভাবতে পারিনি। হৃদয়ের বাবা মা মেনে নেবে না ঠিক আছে, তবে হৃদয়ের সাথে এরকম কেন করলো। আর অন্তরার জীবনটাই বা কেন নষ্ট করলো। হৃদয়ের মামা অনেক বেশি খারাপ। উনার জন্যই তার বাবা-মা এরকমটা করেছে। অন্তরা তো এখন সবকিছু জেনে গিয়েছে। দেখা যাক পরবর্তীতে কি হয়।
পরবর্তী পর্ব তারাতাড়ি নিয়ে আসার চেষ্টা করবো,ধন্যবাদ আপনাকে।
অন্তরা এবং হৃদয় পালিয়ে বিয়ে করে তাদের সুন্দর একটা সংসার হয়েছে, এটা শুনে অনেক ভালো লেগেছিল। কিন্তু হৃদয়ের মামার জন্য হৃদয়ের বাবা-মা তার সাথে এরকম করেছে, এটা ভাবতে খুব খারাপ লাগছে। এখন তো হৃদয় সবকিছু ভুলে গিয়ে নতুন করে আরেকজনের সাথে সংসার করছে। অন্যদিকে আবার অন্তরা মা হতে চলেছে। অন্তরা এখন সবকিছু জেনে গিয়েছে। কিন্তু তার সাথে কি হবে, আর হৃদয়ে বা পরবর্তীতে কি করে, এগুলো জানার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
জি ভাইয়া দুজনে বেশ ভালোই সংসার করছে, ধন্যবাদ আপনাকে।