স্মৃতির পাতা থেকে ফুটবল খেলা নিয়ে একটি গল্প//পর্ব-২
ফুটবল খেলার জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ এই ফুটবল খেলা বেশি পছন্দ করে। যদি গ্রামাঞ্চলে ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়, তাহলে বৃদ্ধ থেকে ছোটরাও এই ফুটবল খেলা দেখার জন্য ভিড় জমে যায়। কারণ বৃদ্ধি লোকেরাও এই খেলা পছন্দ করে। তাই কোথাও খেলা হলে যেন মানুষের ভিড় আর ভিড়। আমাদের গ্রামে বিশাল বড় এই খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেখানে পুরষ্কার হিসেবে রয়েছে একটি ফ্রিজ ও টিভি। আমাদের যখন সেমিফাইনাল খেলা শুরু হলো এই সেমিফাইনালে আমাদের সাথে পাশের গ্রামের খেলা হয়েছিল। এই খেলাকে কেন্দ্র করে যেন গ্রামে অনেক আনন্দ মুহূর্ত উপভোগ করতে ছিল। গ্রামের সবাই ফুটবল খেলা দেখতে এসেছিল, তো বন্ধুরা আজকে আমি আপনাদের সাথে সেই ফুটবল খেলার গল্পের দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে এসেছি। আশাকরি দ্বিতীয় পর্বে পরে আপনারা অনেক কিছু জানতে পারবেন। তো বন্ধুরা চলুন শুরু করা যায়।
সেমিফাইনাল খেলা যখন শেষ হলো আমরা যখন নলকা গ্রামের চাইতে দুই গোলে এগিয়ে এবং আমরা বিজয় অর্জন করেছি। তখনই দেখতে পেলাম মাঠের অন্যপাশে অনেক চিৎকারের আওয়াজ এবং মারামারি বেজে গেল। আমাদের গ্রামের সবাই সেখানে গেল এবং কমিটির দায়িত্বে ছিলেন তারাও সেখানে গেল। কাদের সাথে মারামারি হয়েছে মাঠের ভিতরে গ্যাঞ্জাম বেশি না করে। তাদেরকে নিয়ে একটি রুমের ভিতর নিয়ে গেল। আর এখানে তারা বিচার করা হল। রুমের ভিতরেআমাকে যাইতে দেইনি কারণ আমি তখন ছোট ছিলাম, কিন্তু আমার চাচা ওই রুমের ভিতরে গিয়েছিল কারণ আমার চাচা ছিল এই ফুটবল খেলার কমিটির সদস্য।তাই বাড়িতে এসে আমার চাচা আমাদের সকলের সাথে গল্প করল,কিভাবে মারামারি হয়েছিলো।কিভাবে সেটা মীমাংসা করা হয়েছে, আসলে চাচার কাছ থেকে শুনে বিষয়টি আমরা ভালোভাবে জানতে পেরেছিলাম।
প্রথমে মারামারি যে শুরু হয়েছিল সেটার প্রধান কারণ ছিল এই ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে। যখন আমাদের গ্রামের খেলোয়াড়রা একটি গোল দিয়েছিল তখনই পাশেই ছিল সেই নলকা গ্রামের কিছু দর্শক। তারা ছিল খুবই খারাপ এবং শুধু ঝামেলা নিয়ে থাকতো। গোল যখন হয়েছে তখন আমাদের গ্রামের ছেলেরা অনেক আনন্দ উল্লাসে লাফালাফি করছিল। এটা তাদের সহ্য হয়নি। তারা বলছে লাফালাফি করি না, চুপচাপ খেলা দেখ। এভাবে কথা বলেছিল তার পরেও কিছু বলেনি আমাদের গ্রামের মানুষ,খেলা দেখে গেছে কারণ নিজেদের মাঠে খেলা এরকম মারামারি হলে পরবর্তীতে আর এরকম খেলার আয়োজন করা হবে না। তাই চুপচাপ সহ্য করে গেছে। কিন্তু আবার ৮০ মিনিটের মাথায় যখন গোল হল তখন তো আমাদের বিজয় নিশ্চিত, তখন তো আর চুপ করে থাকা যায় না। তখন তারা অনেক লাফালাফি করতে ছিল এবং আনন্দ উল্লাস করেছিল এবং একসময় লাফালাফি করতে করতে আমাদের গ্রামের ছেলের সাথে নলকা গ্রামের এক ছেলের পায়ে পারা লেগে যায়। তাই রেগে গিয়ে তারা আমাদের গ্রামের ছেলেটিকে অনেক মারধোর করে চড় থাপ্পড় মারে। আর এটা দেখতে পেয়ে আমাদের গ্রামের ছেলেরাই বলে যে একটু না দেখে পারা লরগেছে তাই এভাবে মারা যাবে, তখন বলে তোদের গ্রামের মানুষ ভালো না। তোরা সব চোর, চুরি করে আজকে জিতেছি। বললো তোমরা তো দেখলেই কিভাবে চুরি হয়েছে। এটা নিয়ে তখন মারামারি শুরু হয়ে যায় এবং আমাদের গ্রামের ছেলেরা তখন নলকা গ্রামের ছেলেদের মারা শুরু করে। আমাদের গ্রামের কমিটির দায়িত্বে যারা ছিলে তাদেরকে নিয়ে রুমের ভিতরে নিয়ে যায় এবং রুমের ভিতরে নিয়ে গিয়ে তাদের কথাবার্তা শুনে দেখা গেল যে নলকা গ্রামের ছেলেদেরই বেশীর অপরাধী এবং তাদের কারণে মারামারি হয়েছে। তখন সেই ছেলেগুলো আমাদের গ্রামের ছেলেদের কাছ থেকে মাফ চাইল এবং আমাদের গ্রামের সকলের কাছ থেকে ক্ষমা চাইল।
আজ এখানেই শেষ করছি। আবারো অন্য কোনদিন ভিন্ন কোনো কন্টেট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। ততক্ষন পর্যন্ত আপনারা সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, এই দোয়া রইল। আল্লাহ হাফেজ।🙏🤲🙏
প্রথম পর্ব👇
https://steemit.com/hive-129948/@mohamad786/5djmqv
আমার নাম মোঃ ফয়সাল আহমেদ ।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবসি ।আমি সর্বদাই গরীব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং নতুন সৃজনশীলতার মাধ্যমে কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে।
👉বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺
ফুটবল খেলার এই গল্পটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো। আসলে এরকমই ঘটনাই হয়। আমাদের গ্রামে এরকম হয়েছিল যারা জয়লাভ করে তাদের আনন্দ সহ্য হয় না। যাইহোক মারামারি সমাধান হয়েছে এবং আশা করছি ফাইনাল খেলেছে আপনাদের গ্রামে জিতে যাবেন।
আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ ভাই