প্রবাসীরা কি শুধু অবহেলার পাত্র প্রবাসী জীবন নিয়ে কিছু কথা
বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন আশা করি ভাল আছেন আজকে আমি আপনাদের মাঝে এখন বর্তমান জমানায় ঘটে যাওয়া এবং প্রবাসীদের দুঃখ কষ্ট নিয়ে কিছু কথা বলব এবং তাদের জীবন কাহিনী এবং তাদের জীবনের কিছু মূল্যবান কথা আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো আশা করি আপনাদের আমার এই কথাগুলি বর্তমান সমাজের সাথে হুবহু মিলে যাবে।
quote আজকে এই কথাগুলো এবং এই গল্পটি লেখার একটি মাত্র কারণ সেটি হলো আমিও এক জন প্রবাসী তাই আমি জানি প্রবাসী জীবন কত কষ্টের এবং কত বেদনাদায়ক যারা এই প্রবাসে জীবনযাপন করছে একমাত্র তারাই জানে যে আসলে প্রবাস কি এবং প্রবাসে থেকে তারা কি পেয়েছেন।
প্রবাস জীবন:
বন্ধুরা সত্যি প্রবাস জীবন অনেক কষ্টের কিন্তু আমাদের পরিবারের লোক সেগুলো বোঝেনা তারা ভাবেন আমার ছেলে বা আমার বাবা বা আমার ভাই প্রবাসে আছে তারা অনেক আনন্দে এবং স্বাচ্ছন্দ্যের মাঝে দিনযাপন করছে কিন্তু তারা এটা ভাবেনা যে প্রবাসে তারা কত যে বেদনায় কত যে কষ্টে জীবন যাপন করছে সেটা তারা একবারও বোঝার চেষ্টা করে না আপনি কি জানেন এই প্রবাসে এসে কত মানুষ পরিবারের চাপে আত্মহত্যা এবং কাজের সাইটে থেকে কাজ করতে গিয়ে কত বিপদগ্রস্ত হয়েছে জানেন না আপনারা কোনো দিন চেষ্টাও করেনি জানার আজকে তারই ধারাবাহিকতায় আমার এই পোস্টটি করা যে আসলে প্রবাস টা কি।
প্রবাসে দৈনন্দিন জীবনযাপন:

Source

প্রত্যেকদিন সকালে ওঠো সকাল সকাল গা গোসল দিয়ে কাজের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও সকাল সাড়ে সাতটা আটটার মধ্যে কাজে যেতে হবে এবং সন্ধ্যা সাতটা বা দশটার সময় আবার কাজ থেকে রুমে ফিরতে হবে। এটাই হলো আমাদের প্রত্যেকদিনের একটি রুটিন বান্ধা কাজ।যেটার ভিতর আমাদের আনন্দ আশা সবকিছু মাটির সাথে মিশে যায়। রুমে এসে আবারও গা গোসল দিয়ে খাওয়া দাওয়ার জন্য শাকসবজি এগুলো বাজার থেকে কিনে আনার জন্য ব্যস্ত হয়ে যেতে হয় এসব করতে করতেই আবার রাত দশটা বারোটা বেজে যায় সময় থাকে না যে একটি আলাদা কিছু করব কিন্তু ভাবুন আমার দেশের ভাইয়েরা বোনেরা কেমন তাদের সারাদিনে কোন কাজ নেই তারা ইচ্ছেমতো তাদের মনের সব আশা গুলো পূরণ করতে পারে কিন্তু আমরা কি সেগুলো পারি পারি না আর আমি মনে করি কোনদিন পারবো না।
প্রবাসী কি খালি টাকার মেশিন:

Source
আমরা প্রবাসীরা কি খালি টাকার মেশিন যে যখন চাইলেন তখন পেয়ে গেলেন। কিন্তু আমার দেশের বাবা-মা ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজন এনারা মনে করেন আমরা হল টাকার মেশিন যখনই চাইব তখনই পাইব কিন্তু তারা এটুকু চিন্তা করে না যে এই টাকাগুলো তারা কত কষ্টের মাঝে উপার্জন করছে তারা কিভাবে উপার্জন করছে তারা কী কাজ করে এই টাকাগুলো দেশে পাঠাচ্ছে এগুলো যদি তারা ভাবতো বা তারা দেখতে পারত যে আমরা কি করে কত কষ্ট করে প্রত্যেক মাসে আমাদের বাড়িতে টাকা পাঠায় তাহলে তারা আমাদের সাথে এরকম ব্যবহার কোনদিনই করত না।
quote আপনারা কি মনে করেন আমরা এখানে পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকি আর আমাদের তারা টাকা দিয়ে থাকে তাই কি কোনদিন সম্ভব কোনদিন সম্ভব না সেটি
বাস্তব জীবনের একটি গল্প:

Source
আমি আজকে আমার একটি বন্ধুর জীবনে ঘটে যাওয়া একটি বাস্তব ঘটনা এবং তা থেকে আমরা প্রবাসীরা কি শিখতে পেরেছি এবং কি জানতে পেরেছি সে কথাগুলো আপনাদের মাঝে শেয়ার করার চেষ্টা করুন। আমার এক বন্ধু সৌদি আরব থাকত এবং সেখানে সে দশ বছরেরও বেশি ধরে থাকছে তো সে একদিন মনে করল আমি একেবারের জন্য এবার দেশে চলে যায় তোর সে বাড়িতে জানালো যে তার বাবা-মা তার ভাই বোনদের কে জানালো আমি অমুক দিন ফ্লাইটে উঠবে দিন খান পড়ে গেল আমার সেই বন্ধুটি চলে আসলো বাড়িতে তো যখন এয়ারপোর্টে আসলো এয়ারপোর্টে আমার সেই বন্ধুটিকে রিসিভ করার জন্য তার ছোটভাই আসলো ছোট ভাই রিসিভ করে নিয়ে আসলো বাড়ির গেটের সামনে যখন আসলো তখন তার বাবা গেটের বাইরে হারিয়ে ফোনের পর ফোন দিচ্ছে তার ছোট ছেলের কাছে যখন এয়ারপোর্ট থেকে তাড়াবার হল একটি ট্যাক্সি নিয়ে আসলো গেটের সামনে এসে নামিয়ে দিল বাবাকে সালাম করল তখন সে দশ বছর বাইরে ছিল তো সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবছে কেমন বাড়িতে গেছিলাম আর কেমন হয়ে গেছে সত্যি খুব ভালো লাগছে এমন সময় ট্যাক্সি ড্রাইভার এর ভাড়াটাও দিতে হবে এখন ট্যাক্সি ড্রাইভার এর কাছে তার বাবা জিজ্ঞেস করছে ভাড়া কত উঠছে তো দেখে 800tk উঠছে তো তার বাবা বলছে 800 টাকা মাত্র 300 টাকার ভাড়া এখান থেকে 800 টাকা দেবো কোথা থেকে আমার কাছে টাকা নাই ছোট ছেলেকে বলছে তুই দেনা ছোট ছেলে তার বাবাকে বলছে আমি কোথায় পাব আমার কাছে কোন টাকা টাকা নাই তুমি দাও তোকে নিয়ে ট্যাক্সি ড্রাইভার এর সাথে মুখোমুখি হচ্ছে তো তখন বড় ছেলে শুনতে পেল ছুটে এসে বলল সমস্যা নেই আমি দিয়ে দিচ্ছি তোর ট্যাক্সি ড্রাইভারকে বলল কত উঠেছে ভাই সে বলল 800 টাকা পাই তো বড় ছেলে 1000 টাকা টেক্সি ড্রাইভার কে দিল তখন বাবা বলছে ওরে বাপরে 1000 টাকা দিয়ে দিলে ওকে তখন বড় ছেলে বললোঃ বাবা সমস্যা নাই। ঘরের ভিতরে গেল গিয়ে মাকে দেখে নাও যেমনি কানতেছে ছেলে ও একই সাথে কান্নাকাটি করতে থাকলো তখন ছোট বোনটি এল ছোটবোনটিও কান্নার ভান করতেছে সবাই কাগজ দিয়ে খাওয়ার টেবিলে খেতে বসলো এমন সময় বাবা বড় ছেলেকে জিজ্ঞেস করছে কতদিনের জন্য আসলে বাবা তখন বড় ছেলে বললোঃ বাবা এবার ভাবতেছি আর যাব না একথা শুনে বাবার জন্য চোখ কপালে উঠে গেল তখন হঠাৎ করে বাবা বলল খেতে বসে এত কথা বলতে নেই সব খেয়ে নাও অবশ্যই একটু বুঝতে পারলাম যে বাবা কি বলতে চেয়েছে সে আর কিছু বলল না খাওয়া-দাওয়া শেষ এখন বড় ছেলে বিদেশ থেকে আইছে তো অবশ্যই কিছু না কিছু নিয়ে এসেছে সবাইকে এক জায়গায় ডাকে বসালেন সর্বপ্রথম তার মাকে একটি জায়নামাজ ও কিছু খেজুর দিলেন খুব খুশি কারণ যতই হোক একটি সন্তানের দায়িত্ব এবং সন্তানকে কতটা ভালবাসি সেটা একমাত্র মা-ই জানেন তারপর বাবাকে একটি জায়নামাজ ও একটি পাঞ্জাবি দিল মনটা খারাপ হয়ে গেল samsung j5 mobile আমিনা আপনাকে বলেছিলাম iphone দিতে আর আপনি নিয়ে এসেছেন স্যামসাং তো বড় ভাই বলল দেখ ভাই আইফোন যে কিনব আমার কাছে অতো টাকা ছিল না এর জন্য এটি কিনে নিয়ে এসেছি ছোটভাই মুখ কালো করে বলল ঠিক আছে samsung যখন দিছেন এটা তোমার চার্জ দিতে হবে যাই চার্জে বসাই বড় ভাই বুঝতে পারলাম তারপর ছোট বোন ছোট বোনটি কেউ কিছু পোশাক-আশাক দিয়ে বসালো তখন বাবা হঠাৎ করে জিজ্ঞেস করল কিরে কোন সোনার জিনিস চিনিস নাই কয়েকদিন পর তোর বোনটির বিয়ে তুই কেমন করে আসলি সোনার জিনিস না নিয়ে তখন ছেলে বলে বাবা আমার কাছে টাকা ছিল না এর জন্য কোন কিছু নিয়ে আসতে পারিনি যা ছিল আমি আসার আগেই তোমার কাছে তা সেটি পাঠিয়ে দিয়েছি আমার কাছে টাকা ছিল না এর জন্য নিয়ে আসতে পারিনি যাক সবাই কানাঘুষা কানাঘুষা করতে থাকলো এমন সময় বড় ছেলে চাচা আসলো বড় চাচা তো বড় চাচা কে সালাম কালাম করে বসলো বড় কথা জিজ্ঞেস করল কেমন আছো বলল ভাল আছি বড় চাচা বলল কিরে তুই আবার কবে যাবি এ কথাটা শুনে তার মনটা খারাপ হয়ে গেল আমি মনে করলাম যে আমি আর যাব না আর আমার আত্মীয়-স্বজন বাপ-মা ভাই বোন সবাই জিজ্ঞেস করছে কবে যাবি কবে যাবে এভাবে 10 থেকে 12 দিন যেতে থাকলো এখন সে বাহিরে বাড়লো এবং তার স্কুল জীবনের হাই স্কুল জীবনের হেডমাস্টারের বাড়িতে গেল গেল কারণটা হলো হাই স্কুল হেডমাস্টারের মেয়েকে অনেক ভালবাসতো এর জন্য তার সাথে দেখা করার জন্য তার বাড়ি থেকে হেডমাস্টারের কাছে যখন গেল সালাম দিল হেডমাস্টার গুলোকে বাবা তুমি তখন তার নাম-পরিচয় সবকিছু বলল বলার পরেই master বলল বস বসলো তখন সে জিজ্ঞেস করল মেয়েটির নাম ধরে মৃত্যু কোথায় তো বাবা বলল সে ভিতরে আছে তখন বাবা বলছে তার তো বিয়ে হয়েছে তার একটি ছেলেও আছে কথাটি শুনে যেন সে আসমান থেকে পড়ল কি ভেবেছিলাম আর কি হয়ে গেল এই কথা শুনে বাবা ভিতরে গেল তার মেয়েকে ডাকার জন্য তখন সে আর দুঃখে বুঝতে পারল না ওখানে সে বাড়ি চলে আসলো রুম থেকে তখন মিতু ছেলে হঠাৎ করে তাকে ডেকে উঠল ভাইয়া ভাইয়া শোনো তখন সে দাঁড়ালো দাঁড়িয়ে বললো কি হয়েছে বাবা বলল আম্মু আপনাকে ডাক্তার তখন সে বুঝতে পারলো এই সেই ছেলে তখন সে তার সাথে বলল তোমার আম্মুকে বল সে যেন ভাল থাকে সুখে থাকে এ কথা বলতে বলতে পিছনে দেখে নিতু দাঁড়িয়ে আছে মিতুকে দেখে চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলো না এভাবে সেদিনটিও গেল হঠাৎ করে একদিন মৃত্যু তাঁকে ফোন করল যে তুমি আমার সাথে দেখা করো তখন একটি নির্জন ভালো একটি ভালোবাসার স্পটে গিয়ে তারা দেখা করব দেখা করার পরে তাদের মনের দুঃখ সবকিছু বেদনা সবকিছু খুলে বললো তখন ছেলেটি নিতু কে বলল মিতু তোমার হাতটা দেখি তখন মিতু হাতটি বাড়িয়ে দিল এবং ছেলেটি তার হাতে একটি সোনার দুল ও একটি ফুলের মালা ধরিয়ে দিল বললো তোমাকে আমি ওয়াদা করেছিলাম যে আমি বিদেশ থেকে আসার সময় এই দুটি জিনিস তোমাকে দিব দিয়ে তোমাকে বউ সাজিয়ে আমার বাড়ি নিয়ে যাব সেটা তো আর হলো না আমাদের বুঝি কপালে নাই আমাদের কপালে হয়তো খারাপ আমরা প্রবাসীরা হয়তো যেটা চাই সেটা পায়না এই বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ল ছেলেটি সাথে সাথে মেয়েটির কান্না করতে লাগলো। এভাবে আরো কিছুদিন যেতে থাকলেন হঠাৎ করে পুরনো দিনের একটি বন্ধুর সাথে দেখা হল বাজারে তো বন্ধু তাকে ডেকে নিয়ে ফুচকার দোকানে নিয়ে বসালো ফুচকা খেতে খেতে বন্ধু বললো কিরে বন্ধু কেমন আছিস তখন বলল হ্যাঁ ভালো আছি তুই কেমন আছিস বলে বন্ধু ভালো তবে খুব একটা ভালো না ব্যবসায়ী মারধর খাচ্ছি ব্যবসা করে ঠিক মত শান্তি পাচ্ছেনা বন্ধু বলে উঠল তুই কবে যাচ্ছিস আবার এই বলে সে বলল মনে করছি আর যাবো না তো বন্ধুগুলোকে আরে যাবি না এখানে থেকে কি করবি তখন সে বলল তোরা কি করছিস এখানে আমরা তো আছি তোরা এখন বিদেশী মানুষ তোরা কি দেশে থাকার জন্য বিদেশ যাবি টাকা পয়সা ইনকাম করে পাঠাবে এটাইতো তোদের কাজ শুধুমাত্র টাকার মেশিন বিদেশিদের কোনো শখ-আহ্লাদ তাদের দেশ নাই কিছু নাই নাই কেউ নাই বলতে বলতে কথা বলতে বলতে ফুচকা খেতে খেতে বন্ধু হঠাৎ করে বলে উঠল বন্ধু একটা কথা বলবো তো সে বলল কি বল দেখ আমার কাছে টাকা পয়সা নাই যদি কিছু টাকা ধার দিতে তাহলে আমি একটি ব্যবসা খুলতে পারতাম এদিকে বাড়িতেও টাকা থাকছে সবাই টাকা টাকা টাকা টাকা ছাড়া অন্য কিছু বুঝে না তারপরও যদি বন্ধু বলল আচ্ছা ঠিক আছে চেষ্টা করব শুনে তো খুবই খুশি আবারো বাসায় চলে আসলো বাসায় চলে আসার পরে ও আপনাদের তো বলাই হয় নাই ও যেদিন বাসায় আসলো সেদিন রাতে ঘুমানোর জন্য তার ছোট ভাইয়ের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল তখন তার ছোট ভাই ঘুম থেকে বেরিয়ে এসে তার বাবা মাকে বললো মামা আমি এখন কোথায় ঘুমাবো মা বলল কি হয়েছে বড় ভাই আমার রুমে ঘুমিয়েছে আমি এখন কোথায় ঘুমাবো তখন মা কেঁদে কেঁদে বলল এসেই বানিয়েছে ঘর আর তার শোবার জায়গা প্রবাসীরা কতটা মধ্য দিয়ে দিন কাটায়।
আরো অনেক কিছু লেখার ছিল কিন্তু লিখতে পারলাম না তাই মেয়ের কারণে আমি আশা করি আপনারা আমার পোস্টটি পড়বেন এবং আমার পোস্টটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে ধন্যবাদ সবাইকে।


Your post has been selected to be presented in "Steemit Bangladesh curation competition episode # 3" . If you are from Bangladesh and would like to present the article in voice hangout during the competition, Please join the hangout on discordapp
Steemit Bangladesh curation competition episode # 3
Time : 10 PM BDT
Date: 26/06/2018 (Tuesday).
Hello @mamun123456 This post has been upvoted and resteemed on behalf of Steem Tuner Discord Community. This community always seeking for good quality post like this. And try to help them by upvote on their post. Also, Steem Tuner Community helping people a lot in many ways. All you can Participate our contest there like #weekly-curation-lounge, #invitation-challenge, #weekly-contest-challenge, #photocontest-challenge, #3-days-contest-challenge, #show-us-your-hidden-talent, and the most interesting contest is #ulog contest. So why you waiting for. Join and win SBD.