একটি মেয়ে ও জ্বীন এর গল্প।

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

হ্যালো সবাইকে

কেমন আছেন সবাই ?আশা করি ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আল্লাহর রহমতে। আজকে আরও একটি নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। একটি মেয়ে ও জ্বীন এর গল্প আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশা করি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্টটি ভালো লাগবে।

B612_20230512_224843_597.jpg

আজকে আমি আপনাদের সাথে অনেক আগের একটি গল্প শেয়ার করব। অনেকদিন আগে আমাদের পাশের গ্রামে একটি বাড়িতে একটি ঘটনা ঘটেছিল এটি অনেক রহস্যজনক একটি ঘটনা আজকে আপনাদের সবার মাঝে শেয়ার করতেছি।

আমাদের পাশের গ্রামে একটি বাড়িতে একটি পরিবারের একটি মেয়েকে একবার অলৌকিকভাবে একটি জ্বীন ধরেছিল। ওই মেয়েটি একদিন রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ করে তার একটি জিন তাকে ধরল। তবে জ্বীন ধরার পর মেয়েটিকে কোন ধরনের ক্ষতি সেভাবে করেনি। মেয়েটির শরীর থেকে যখন দিয়ে জ্বীন তাড়ানোর জন্য অনেক হুজুর ডেকেছিল তখন নাকি জ্বীন শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলেছে মেয়েটিকে যখনই প্রয়োজন হবে তখন ডাক দিলেই নাকি জ্বীন আসবে উপকার করার জন্য। পরবর্তীতে ওই মেয়েটি ওই বাড়িতে কারো কোন সমস্যা হলে সেগুলোর জন্য মেডিসিন কে ডাকলে তখন জ্বীন এসে গ্রামের মানুষদের সমস্যা সমাধান করে দিত।

ওই যে মেয়েটিকে বলেছে মেয়েটির যখন কোন প্রয়োজন হবে তখন ওই জ্বীন ডাকার জন্য ডাকলে সাথে সাথে চলে আসবে। মেয়েটি ছিল বিবাহিত তার হাজবেন্ড বাইরের দেশে থাকত প্রবাসে। মেয়েটি পরবর্তীতে ওই গ্রামের কারো কোন সমস্যা হলে অনেকেই সমাধান এর জন্য আসতো। যার কারণে বারবার মেয়েটির গায়ের মধ্যে জ্বীন ভর করত এ কারণে মেয়েটি অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।

এভাবে এই বিষয়গুলি গ্রামে ছড়িয়ে যাওয়ার পর অনেক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক মানুষ আসতো সমস্যার সমাধানের জন্য। জ্বীন বর করার কারণে মেয়েটি যখন একটা পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে গেল আর এই বিষয়গুলো তার হাসবেন্ড জানতে পারল তখনই তার হাজবেন্ড নিষেধ করে দিয়েছিল এভাবে নিজের গায়ে জ্বীন বর করে সবার সমস্যা সমাধান করতে। এরপর থেকে মেয়েটির গায়ে জিন বর করা বন্ধ তার হাসবেন্ড দেশে আসার পর বিষয়গুলি সব শুনলে এবং সব বিষয় সম্পর্কে অবগত হল।

পরবর্তীতে সে অনেক বড় একজন হুজুর নিয়ে আসলো জ্বীন তাড়ানোর জন্য। পরবর্তীতে তিনি হুজুরের মাধ্যমে জ্বীন ডাকলো এবং বলল যাতে আর কখনো এই মেয়েটার কাছে না আসে। ওই জ্বীন মেয়েটিকে ছাড়তে চাইল না কিন্তু ওই হুজুর অনেক কৌশলের মাধ্যমে ঐ জ্বীন ওই মেয়েটি থেকে তাড়িয়ে দিল। পরবর্তী থেকে আর গ্রামের মানুষ তার কাছে আসতো না সমস্যা সমাধানের জন্য এবং ওই মেয়েটি আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে গেল।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীজেনারেল
ফটোগ্রাফার@fasoniya
ডিভাইসVivo Y15s
লোকেশনবাংলাদেশ


আমার পরিচয়

1664774022741.jpg

আমার নাম ফারজানা আক্তার সোনিয়া। আমি বাংলাদেশী।আমি বর্তমানে লেখাপড়া করি আমি একজন স্টুডেন্ট। আমি আর্ট করতে ভালোবাসি আর যখনই সময় পাই তখনই আর্ট করি।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুবই ভালোবাসি । যখনই কোথাও খুব সুন্দর কিছু আমার চোখে পড়ে আমি ফটোগ্রাফি করে ফেলি। এছাড়াও আমি ক্রাফট তৈরি করে থাকি । বিভিন্ন ধরনের রান্না করে থাকি রান্না করতে অনেক পছন্দ করি। আমি আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় মেয়ে । আমার ছোট ছোট দুইটা ভাই আছে। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে যেগুলো স্টিমিট এ কাজ করে পূরণ করতে চাই।


1 (1).png

IMG-20221013-WA0015.jpg

Sort:  
 3 years ago 

এ ধরনের জীন ভূতের কাহিনী গুলো শুনতে ভালোই লাগে।আমিও ছোটবেলায় দেখেছি যখন কারো ঘাড়ে জীন ভর করে তখন সে মানুষটি ভিন্ন রকম আচরণ করে । আর এই জীনটি মনে হচ্ছে ভালোই ছিল মেয়েটির ডাকে সাড়া দিত। মেয়েটির ভয় লাগত না? আর এরকম হলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ারই কথা।
আপু কিছু মনে করবেন না আপনার পোস্টের ভিতরে ছোটখাটো অনেক ভুল আছে ভুলগুলি একটু শুধরে পোস্ট করার চেষ্টা করুন।

 3 years ago 

আমার এই গল্প পড়ে খুবই সুন্দর একটি মন্তব্য করেছেন আপনি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আমার ভুলটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য। এইভাবে যদি সবাই সবার ভুলটি ধরিয়ে দেয় তাহলে সবাই অনেক ভালো কাজ করতে পারবে।

 3 years ago 

আমাদের গ্রাম অঞ্চলে এর আগে জ্বীনে ধরার গল্প খুবই শুনতে পেতাম। তবে বর্তমানে আর জ্বীনে ধরার গল্প কিংবা কাহিনী তেমন একটা শোনা যায় না। আমার কাছে মেয়েদের জ্বীনে ধরার বিষয়টা নিয়ে কেমন যেন একটা সন্দেহ রয়েছে। যাহোক, মেয়েটিকে জ্বীনে ধরার পরে সেই জীন গ্রামের মানুষের উপকার করতো, এটা জেনে বেশ ভালো লাগলো। আরো বেশি ভালো লাগলো আমার, পরবর্তীতে বড় হুজুরের কল্যাণী মেয়েটি জীনমুক্ত হয়ে আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে ওঠার কথাগুলো জানতে পেরে।

 3 years ago 

একদম ঠিক কথা বলেছেন আগে এরকম জ্বীন ধরার গল্প অনেক বেশি শোনা যেত এখন যদি অনেকটাই কম। ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।

 3 years ago 

আসলে গ্রাম অঞ্চলে এরকম জীন ভুতের কথা প্রচুর পরিমাণে শোনা যায়। আমার কাছে কিন্তু এরকম গল্প গুলো পড়তে ভীষণ ভালোই লাগে। যে মেয়েটির গায়ে জীন ভর করত সেই মেয়েটিকে জীন টি ছাড়তে চায়নি। কিন্তু হুজুর অনেক কৌশলের মাধ্যমে তাকে মেয়েটির শরীর থেকে আলাদা করে। এরপর মেয়েটি আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে ওঠে। এরকম একটা চীনের গল্প পড়ে ভালোই লাগলো আমার কাছে। খুব সুন্দর ভাবে লিখেছেন আপনি গল্পটি।

 3 years ago 

এই ধরনের গল্প আপনাকে খুব কাছে পড়তে ভালো লাগে যেন খুবই ভালো লাগলো। ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago 

একটি মেয়ে ও জীনের গল্পটি আপনি খুবই সুন্দর ভাবে লিখেছেন। বিবাহিত মেয়েটির শরীরে জীন টি ভর করেছিল। যদিও হুজুর জীন টিকে মেয়েটির শরীর থেকে আলাদা করেছিল। কিন্তু জীন টি চলে যাওয়ার সময় মেয়েটিকে বলেছিল তার কোন প্রয়োজন হলে জীন টিকে ডাকার জন্য। এরপর মেয়েটির কোন সমস্যা হলে বা গ্রামের মানুষের কোন সমস্যা হলে মেয়েটি জীন টিকে ডেকে সব সমস্যার সমাধান করত। এবং কি তখন জীন টি মেয়েটির শরীরে ভর করতো। যার ফলে মেয়েটি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ছিল দিন দিন। এরপর এই কথাগুলো মেয়েটির হাজবেন্ড শোনার পরে হুজুর এর কাছে গিয়ে জীন টিকে চলে যেতে বাধ্য করে হুজুরের অনেক কৌশলের মাধ্যমে। এরপরে মেয়েটি ও আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যায় পুরো গল্পটা পড়ে ভালো লেগেছে। খুবই সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন।

 3 years ago 

অনেক অনেক ভালো লেগেছে আপনার এই কমেন্টটি পড়ে কারণ আপনি আমার পুরো গল্পটি পড়ে সুন্দর একটি মন্তব্য করেছেন।

 3 years ago 

এরকম অনেক জ্বীন আছে আপু যারা মেয়েদের শরীরে বর করে। তবে আপনি যে গল্পটি লিখেছেন মেয়েটির শরীরে যে জ্বীন বর করেছে জ্বীনটি ভাল ছিল। তবে মেয়েটি এলাকার মানুষের উপকার করতেন শুনে ভালই লাগলো। তবে আপন মানুষ কখনো চায় না নিজের কোন লোক অসুস্থ হোক বা বিপদে পড়ুক। আপনাদের পাশের গ্রামের সত্য ঘটনা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

একদম ঠিক কথা বলেছেন আপু মানুষ কখনো চায় না নিজের লোকদের ক্ষতি হোক । কমেন্ট করার জন্য।

 3 years ago 

আপনার পোস্ট পড়ে এবং জ্বীনের কথা শুনে আমার একটু ভয় লেগে গেল। আমার মনে হয় জ্বীন মেয়েটির উপর ভর করে মানুষের উপকার করতে চেয়েছিল। এবং জ্বীনটি যাওয়ার সময় বলে গেল সে যদি কোন কাজে ডাকে তাহলে সে আসবে। কারণ জ্বীন মেয়েটির উপর ভর করে যখন কোন কাজ করে তাহলে মেয়েটি এমনিতে দুর্বল হয়ে পড়বে। এবং ফ্যামিলির লোকগুলো মেয়েটির কথা চিন্তা করে হয়তোবা হুজুর ডেকে জ্বীনটি না আসার জন্য ব্যবস্থা করলেন। আপনার পোষ্টের মধ্যে বাস্তব একটি ঘটনা জানতে পারলাম ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

আপনি আমার লেখা গল্পটি পড়ে খুবই সুন্দরভাবে গুছিয়ে একটি মন্তব্য করেছেন।

 3 years ago 

আমি ইতো পূর্বে শুনেছি অনেক জিন রয়েছে যারা মানুষের উপকার করে থাকে। কারণ জিনের মধ্যে দুই রকমের রয়েছে এক জিন উপকারি,অন্য জিন ক্ষতিকারক। যাইহোক আপনার কাহিনী পড়ে একটু ভালো লাগলো। হয়তো অনেকেই এমন অনেক প্রকার ঘটনা জানে যেগুলো শেয়ার করে না, তবে এভাবে শেয়ার করলে হয়তো পড়তে বেশি ভালো লাগবে

 3 years ago 

আপনিও এরকম জ্বীন ঘটনা জানেন তাহলে একদিন আমাদের মাঝে শেয়ার করবেন। এ ধরনের গল্প করতে আমার কাছেও বেশ ভালো লাগে। ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago (edited)

একটি ভুল ক্রমে হাতে টাচ লেগে এখানে ডাউনভোট পড়ে গেছিল। জানিনা থাকছে কিনা, যদি ডাউনভোট থেকেও যায় তবে মাফ করবেন। আমি স্বেচ্ছায় ডাউনভোট দেই নি আপু। চেষ্টা করেছি অবশ্য তুলে নেওয়ার।

 3 years ago 

সমস্যা নেই ভাইয়া এ ধরনের ভুল প্রায় সময় সবারই হয়ে থাকে। আপনি তো ডাউনভোট তুলে নিয়েছেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.31
JST 0.074
BTC 63337.80
ETH 1663.24
USDT 1.00
SBD 0.41