গল্প:- রক্তের সম্পর্কের চেয়ে আত্মার সম্পর্ক হচ্ছে বড়।
হ্যালো সবাইকে
কেমন আছেন সবাই ?আশা করি ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আল্লাহর রহমতে। আজকে আরও একটি নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। রক্তের সম্পর্কের চেয়ে আত্মার সম্পর্ক হচ্ছে বড় গল্প আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশা করি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্টটি ভালো লাগবে।
আজকে আর একটি নতুন গল্প নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হলাম। গল্প পড়তে এবং গল্প লিখতে দুটোই আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে। তবে ভূতের গল্প পড়তে সব থেকে বেশি ভালো লাগে কারণ সে ধরনের গল্প গুলোর মধ্যে অনেক বেশি কৌতূহল জাগে। তাছাড়া সবাই গল্প শেয়ার করে সেই গল্পগুলো পড়েও খুবই ভালো লাগে। আজকে আমি নতুন আরেকটি গল্প নিয়ে হাজির হয়েছি। আমার আজকের গল্পটি হচ্ছে রক্তের সম্পর্কের চেয়ে আত্মার সম্পর্ক হচ্ছে বড়। আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ রয়েছে তাদের সাথে আমাদের কোন রকম রক্তের সম্পর্ক নেই কিন্তু তারা আমাদের অনেক আপন। আমাদের জন্য অনেক বেশি ভাবে এবং আমাদের রক্তের সম্পর্কে সে অনেক বেশি করে থাকে। সেরকমই একটি গল্প আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য এসেছি।
গল্পটি হচ্ছে একটা দরিদ্র সংগ্রামী মহিলার। যে সংসার বাচ্চা নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য অনেক বেশি সংগ্রাম করে জীবন কাটাচ্ছে। মহিলাটির স্বামী রিক্সা চালাত। রিক্সা চালালেও তিনি সেরকম ভাবে পরিশ্রম নিয়ে কাজ করতেন না এবং সংসার চালানোর জন্য ভালো আয়োজন করতেন না। ওই মহিলাটিকে সংসারের হাল ধরতে হয় এবং তিনি মানুষের বাড়িতে গিয়ে কাজ করতেন। ছোট বাচ্চা ছেলেও রয়েছে। তিনি যে এই বাড়িতে কাজ করেন সেই বাড়ি তে একটা মহিলা রয়েছে।বেশ কিছুদিন আগে একদিন অসুস্থ হয়ে যায়। যেদিন বাড়িতে কেউ ছিলনা। তিনি গিয়েছিলেন কাজ করতে। হঠাৎ করে ওই বাড়ির মালকের বৌ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর ওই মহিলাটি তাড়াতাড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং তার হাতে সেরকম কোন টাকা ছিল না। তারপরও তিনি এক হাজার টাকা দিয়ে নিজে থেকে ওই মহিলাটিকে হসপিটালে ভর্তি করান।
এরপর মহিলাটি স্বামী এবং সবাই এসে তাকে সুস্থ করে নিয়ে যায়। এরপর আবার আগের মতই তাদের বাড়িতে কাজ করতে থাকে। হঠাৎ করেই তার ছেলে অসুস্থ হয়ে যায়। তার ছেলে অনেক বেশি অসুস্থ থাকার কারণে সেদিন তিনি কাজেই যায়নি। আর সেদিন তিনি কাজে না যাওয়াতে সেই মহিলার অনেক বেশি সমস্যা হয়ে যায়। তার মা এসেছিল আর তাদের বাড়ির কাজ করার মহিলাটি না যাওয়াতে সব কাজ তাকে করতে হয়। এদিকে যে বাড়ির কর্তা ও সকাল থেকেই ওই মহিলাটিকে বারবার চা দিতে বলছে পরে তার বউ ডেকে বলে যে আজকে তো সেই আসেনি। তখন লোককে জিজ্ঞেস করেছে কেন আসেনি তখন ওই মহিলাটি বলল যে তার ছেলে অসুস্থ সেজন্য সে আজকে ছুটি নিয়েছে।
এই কথা শোনার পর লোকটির সাথে সাথেই মহিলাটির মোবাইলে কিছু টাকা পাঠিয়ে দেয় তার ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর জন্য এবং সুস্থ করার জন্য। আর লোকটির থেকে পাওয়াটা কার মেসেজ দেখি মহিলাটি অনেক বেশি খুশি হয়ে যায়। এটা যেন তার জন্য মেঘ না চাইতে জল। মাসের মাঝখানে কেউই তাকে টাকা দিত না আর ছেলে অসুস্থ হওয়ায় তাকে ডাক্তারের কাছেও নিয়ে যেতে পারছে না কিন্তু তার মালিক না চাইতেই থাকি টাকা পাঠিয়ে দেয় এদেশে অনেক বেশি। কিন্তু সেই বাড়ির মালিকের বউ যখন এই বিষয়টি জানতে পারে তখন সে অনেক বেশি রেগে যায়। এবং তার স্বামীর সাথে অনেক ঝগড়া করে মহিলাটিকে টাকা পাঠানোর কারনে।
তখন সেই লোকটি তার বউকে মনে করিয়ে দেয় যে কিভাবে সে অসুস্থ হওয়ার পর সেই কাজের লোকটি তাকে সবকিছু না ভেবে গরিব হওয়ার পরেও তার সাধ্যের বাইরে গিয়ে বিপদের সময় উপকার করেছিল। তখন লোকটি বলে যে সে তার জায়গায় দাঁড়িয়ে যে উপকার করেছিল সেটা কোন রক্তের সম্পর্কের মানুষও হয়তো করতে পারবে না। আবার সেই মহিলাটি ও নিজের বাড়িতে বসে ভাবতে থাকে যে বাড়িতে সে কাজ করে সে বাড়ির মানুষগুলো তার জন্য যতোটুকু করছে তার ছেলের বিপদে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে কোন রক্তের সম্পর্কের মানুষও এই উপকার হয়তো করতো না। মানুষের সাথে রক্তের সম্পর্ক আমি মনে করি সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আত্মার সম্পর্ক। আশা করছি আমার আজকের গল্পটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
| শ্রেণী | জেনারেল |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @fasoniya |
| ডিভাইস | Vivo Y15s |
| লোকেশন | বাংলাদেশ |
আমার পরিচয়
আমার নাম ফারজানা আক্তার সোনিয়া। আমি বাংলাদেশী।আমি বর্তমানে লেখাপড়া করি আমি একজন স্টুডেন্ট। আমি আর্ট করতে ভালোবাসি আর যখনই সময় পাই তখনই আর্ট করি।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুবই ভালোবাসি । যখনই কোথাও খুব সুন্দর কিছু আমার চোখে পড়ে আমি ফটোগ্রাফি করে ফেলি। এছাড়াও আমি ক্রাফট তৈরি করে থাকি । বিভিন্ন ধরনের রান্না করে থাকি রান্না করতে অনেক পছন্দ করি। আমি আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় মেয়ে । আমার ছোট ছোট দুইটা ভাই আছে। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে যেগুলো স্টিমিট এ কাজ করে পূরণ করতে চাই।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/APatwary88409/status/1865783265321435509?t=bM0TyRR0dxulTGIjx5g5gg&s=19
অনেক সুন্দর ঘটনার মধ্য দিয়ে আপনি রক্তের সম্পর্ক আত্মার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন। আসলে মানুষের মনের টান বড় জিনিস। এখানে রক্তের সম্পর্ককে হার মানায়। বেশ অনেক কিছু জানার সুযোগ করে দিয়েছেন পাশাপাশি সুন্দর একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন দেখে ভালো লাগলো।
গল্প পড়তে ও লিখতে আমিও খুব পছন্দ করি। ঠিক তেমনি আপনার এই গল্প পড়তে উপস্থিত হয়ে গেলাম এবং এর মধ্য দিয়ে বেশ অনেক কিছু জানার সুযোগ পেলাম। খুব সুন্দরভাবে আপনি উপস্থাপন করেছেন গল্পের সম্পূর্ণ বিষয়গুলো। তাহলে উপকারির উপকার করতে নেই। আর মানুষের মধ্যে যদি এমন বিবেক থাকে তাহলে অবশ্যই একদিন সেও কাজে আসবে। এখানে ঠিক তেমনি লক্ষ্য করলাম। শুধু বুঝতে পারল না মালিকের স্ত্রী। যাই হোক গল্পটা দারুন ছিল।
একদম সত্যি কথা।আপনি আজ খুব চমৎকার একটি গল্পের মধ্যে দিয়ে এই বিষয়টিকে খুব সুন্দরভাবে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করলেন।অনেক ধন্যবাদ আপু সুন্দর ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য।
আপনি আজকে অনেক সুন্দর করে একটা গল্প আমাদের মাঝে লিখে শেয়ার করেছেন। আপনার লেখা এই গল্প পড়তে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। আসলে আত্মার সম্পর্ক অনেক বেশি এবং বড় হয়ে থাকে। কারণ এখন তো রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলো আমাদের পাশে খুব কম থাকে। মানুষের মধ্যে বিবেক থাকা সব থেকে বেশি প্রয়োজন। যাইহোক আপনার পুরো পোস্ট অনেক সুন্দর ছিল।
আপনার এই টাইটেলের সাথে আমি নিজেও পুরোপুরিভাবে একমত। আসলে এখন রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলোর থেকে আত্মার সম্পর্কের মানুষগুলো অনেক ভালো। আর এই সম্পর্কটা অনেক বড়। এই বিষয়টাকে তুলে ধরে অনেক সুন্দর একটা গল্প লিখলেন। অনেক ধরনা নিতে পারলাম এই গল্পটার থেকে।