ছোটগল্প ( বৃষ্টির গান- তৃতীয় পর্ব )।
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
আমি সবটাই শুনেছি। তবে আপনার সাথে ঐভাবে যোগাযোগ না থাকায় কোন কথা বলা হয়নি। ভেবেছিলাম আফিসে আসলে কথা বলব। কিন্তু হঠাৎ জানতে পারি আপনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। এখন কী নতুন কোথাও জয়েন করেছেন। জিজ্ঞেস করে অরুনা।
না আমি আপাতত কোন চাকরি করছি না। আর ইচ্ছাও নেই। আপাতত এভাবেই আছি। আপনি কী অফিস থেকে ফিরছেন?
হ্যা আজ বৃষ্টির জন্য একটু তাড়াতাড়ি বের হয়েছি। কোন কিছু না পেয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম এবং সাথে দেখা হয়ে গেল। ভালোই হলো।
অরুনা এবং আদিত্যের বয়স প্রায় এক। দুজন একই সঙ্গে জয়েন করেছিল। একইদিনে ইন্টারভিউ হয়েছিল। একে অন্যকে চিনলেও ডিপার্টমেন্ট আলাদা হওয়ার জন্য কখনও ঐভাবে কথা হয়নি ওদের। শুধুমাত্র কয়েকবার সৌজন্য সাক্ষাৎ।
আচ্ছা আপনাকে একটা কথা বলি। আপনার কন্ট্যাক্ট নাম্বার টা দেওয়া যাবে আদিত্য কে বলে অরুনা। হ্যা অবশ্যই। বেশ কিছুক্ষণ কেউ কোন কথা বলল না। কিছুক্ষণ পরে অরুনা নেমে গেল তার এলাকা চলে এসেছে। অরুনা সিএনজির ভাড়া অর্ধেক টা শেয়ার করতে চাইলেও আদিত্য সেটা নেয় না। আরে কী করছেন আমি দিয়ে দিব দরকার নেই। তখন বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে গিয়েছে। আদিত্য যখন বাড়িতে পৌছালো ঘড়িতে তখন ছ'টা। অন্য দিনের তুলনায় রাতের অন্ধকার যেন দ্রুতই ঘনিয়ে এসেছে আজকে বুঝতে পারলো আদিত্য। আজ সারাদিন অনেক পরিশ্রম হয়েছে। অনেক দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। এখন অনেক ক্লান্ত আদিত্য।
নিজের ঘরে গিয়ে কোনরকম আধভেজা জামা কাপড় পাল্টিয়ে শুয়ে পড়লো আদিত্য। বাইরে ঝুম বৃষ্টি চলছে। এই বৃষ্টির ধারা যেন থামার না। ঘুম থেকে উঠে আদিত্য দেখে ঘড়িতে প্রায় দশটা। অচেনা নাম্বার থেকে কয়েকটা মিসডকল। ঐ নাম্বারের ওয়্যাটসঅ্যাপ থেকে আরও কিছু টেক্সট।
বাসায় গিয়েছেন?? ফোন দিলাম ধরলেন না যে।
টেক্সট দেখে কিছু বুঝতে পারলো না আদিত্য। অরুনার কথাটা সে বেমালুম ভুলে বসেছে। সে ভাবতেও পারেনি অরুনা নাম্বার নিয়েই ফোন দেবে। কৌতূহল কল দিয়ে জিজ্ঞেস করে কে??
আমি অরুনা। বাসায় পৌছেছেন কীনা জানার জন্য ফোন দিয়েছিলাম।
বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম এইজন্যই ফোনটা ধরতে পারিনি। ওয়াটসঅ্যাপে কী আপনি টেক্সট করেছেন?
হ্যা। ঠিক আছে ফ্রেশ হয়ে নেন পরে কথা হবে।
কথা শেষ করে ফোনটা রেখে নিজের রুমের লাগোয়া ব্যানকনিতে গিয়ে দাঁড়ায় আদিত্য। ঠান্ডা শীতল হাওয়া এসে তার পুরো দেহ শীতল করে দিয়ে যায়। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি চলছে। বেশ কিছুক্ষণ ব্যালকনিতে থেকে আবার রুমে ফিরে আসে আদিত্য।
এমন সুন্দর ওয়েদারে কী করা যায় ভাবতে ভাবতে আদিত্য মহীনের ঘোড়াগুলি ব্রান্ডের গান বাজিয়ে দেয়। মহীনের ঘোড়াগুলি আদিত্যের পছন্দের একটা ব্রান্ড। প্রথমেই বেজে উঠে তোমায় দিলাম গানটা
শহরের উষ্ণতম দিনে
পিচগলা রোদ্দুরে
বৃষ্টির বিশ্বাস
তোমায় দিলাম আজ
বাইরে ঝুম বৃষ্টির সাথে এমন ধীর গতির গান। মহীনের ঘোড়াগুলি ব্রান্ড বাংলাকে রক মিউজিকের সাথে পরিচয় করায়। তবে তাদের অধিকাংশ গানগুলো slow মিউজিক বলা যায়। বৃষ্টি মহীনের ঘোড়াগুলি এর সাথে আরেকটা জিনিস হলে একেবারে জমে যাবে চিন্তা করে আদিত্য। হ্যা জীবনানন্দের কবিতা । জীবনানন্দ দাশের ধূসর পান্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ টা নিজের বুকশেলফ থেকে বের করে আদিত্য। এরপর জীবনানন্দের লেখা "তোমাকে" কবিতা টা পড়তে শুরু করে
তুমি তা জানো না কিছু—না জানিলে,
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে;
যখন ঝরিয়া যাবো হেমন্তের ঝড়ে’—
পথের পাতার মতো তুমিও তখন
আমার বুকের ’পরে শুয়ে রবে?
বৃষ্টি -মহীনের ঘোড়াগুলি এবং জীবনানন্দ দাশ। সত্যি এর তুলনা আর হয় না। মহীনের ঘোড়াগুলির সাথে জীবনানন্দের কবিতার সম্পর্ক অনেক গভীর। মহীনের ঘোড়াগুলি ব্রান্ডের নামটাই এসেছে জীবনান্দের কবিতা "ঘোড়া" থেকে। এদের ফিলোসোফি এক। জীবনানন্দ প্রথম বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কবিতা লেখে অন্যদিকে বাংলাকে প্রথম রক মিউজিকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় মহীনের ঘোড়াগুলি। এদের কে একসূএে তো গাঁথায় যায়। এভাবেই রাতটা গভীর হতে থাকলো। সেই সাথে বাড়তে থাকলো বৃষ্টির তীব্রতা।
চলবে....
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.