শীতের রাতে খেজুরের রস চুরি করে খাওয়ার গল্প//পর্ব-১
আসসালামুআলাইকুম/আদাব
শীতকালে প্রকৃতির সৌন্দর্যময় পরিবেশ আমার খুবই ভালো লাগে। বিশেষ করে শীতকালে বিভিন্ন রকমের পিঠার আয়োজন করা হয়। আর এই পিঠাগুলো খেতে অনেক বেশি মজা লাগে। যার কারণে আমি শীতকাল খুবই পছন্দ করি। কারণ শীতকালে বাড়ি বাড়ি পিঠার আয়োজন আর আত্মীয়-স্বজনদের আসা যাওয়া শুরু হয়ে যায়। যার কারণে তাদের সাথে সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করা যায়। আর শীতকালে জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে । যার কারণে শীতকালে আমি মামার বাড়িতে যেতাম। সেই দিনগুলো অনেক আনন্দময় ছিল। তো বন্ধুরা আজকে আপনাদের মাঝে শীতকালে খেজুরের রস চুরি করে খাওয়ার আনন্দময় মুহূর্তের গল্প শেয়ার করতে আসলাম। আসলে এই শীতকাল আসলেই সেই স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। তাই আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
শীতকালে সবচাইতে আনন্দময় মুহূর্ত হল খেজুরের রস খাওয়া। আর রাস্তার চারপাশে খেজুড়ের গাছ দেখে খুবি ভালো লেগে। সেই খেজুরের হাছে হাঁড়ি বেঁধে দেওয়া হয়।আর রস পেড়ে খাওয়ার মধ্যে অনেক আনন্দ রয়েছে। তো আমাদের বাড়ির পাশে এক মাস্টার ছিল, তার বাড়ির বাগানে অনেকগুলোই খেজুরের গাছ রয়েছে। প্রত্যেকটা খেজুরের গাছে খুবই সুন্দরভাবে হাঁড়ব বেঁধে দিয়েছে। একদিন সকালবেলা আমরা স্কুল থেকে বন্ধুরা মিলে তার বাড়িতে আসলাম। সে বলল যে তোমাদের পড়াশোনা কিরকম চলছে। বললাম আমরা অনেক ভালই পড়াশোনা করছি, তবে সে বলল যে আচ্ছা তোমারা সকালবেলা এসো, তোমাদের আমার গাছে খেজুর রস খাওয়াবো। যার কারণে আমরা বন্ধুরা মিলে সকালবেলা তার বাড়িতে গিয়েছিলাম, কিন্তু সে খেজুরের রস দিতে চাইলো কিন্তু তার মেয়ে এবং তার বউ আমাদের এই খেজুর রস খেতে দিল না। সে বলল যে এমনি এমনি খেজুর রস ওদের ক্যানো দেবো। তুমি বাজারে গিয়ে বিক্রি করলে আমরা টাকা পাব। সে বারবার বলতেছিল এরা আমার প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র ছিল, এদেরকে দাও কিন্তু তার বউ আর মেয়ের কারণে আমাদের খেজুর রস দিল না যার কারণে আমরা অপমানিত হলাম।
তখন অনেক বেশি মন খারাপ হয়েছিলো,আসলে এভাবে অপমানিত হব বুঝতেই পারিনি। আমার বন্ধুদেরও খেজুরের গাছ রয়েছে। বন্ধু বলে যে চল আমাদের গাছেরও খেজুরের রস আছে। বাবা হাড়ি বঁধে দিয়েছে। তবে আমাদের খেজুর গাছের রস খুব একটা মিষ্টি হবে না। কিন্তু তাও তোদের ভালো লাগবে। যার কারণে বন্ধুর সাথে ওদের খেজুরের গাছের কাছে আসলাম। দেখলাম হাড়ি বেঁধে দিয়েছে, ওর বাবা বলল যে আমি তো খেজুর গাছে উঠতে পারি না। তোমরা কেউ উঠতে পারো নাকি, তখন আমার বন্ধু সিয়াম রয়েছে।সিয়াম বলল যে আমি খেজুর গাছে উঠতে পারি। তখন সিয়ামকে খেজুর গাছে উঠানো হলো এবং যে গাছ থেকে হাড়িটি পারলো। বলল যে এই খেজুরের রস খুব একটা মিষ্টি হবে না। তবে ওরা একদম খারাপ হবে না, একটু জ্বাল দিয়ে খেতে হবে। তখন আংকেল বলল যে খেজুর রস আমি জ্বাল দিয়ে দিব, তোমার আন্টিকে বলে। আমরা তখন আঙ্কেলকে ওই ঘটনা বললাম। আঙ্কেল খুবই কষ্ট পেল কারণ স্যারের বউ এভাবে আমাদের খেজুরের রস খেতে দেয়নি, এটা তার কাছে অনেক বেশি খারাপ লেগেছে।
তারপর সিয়াম গাছ থেকে খেজুর রস পাড়লো, আর আঙ্কেল বন্ধুকে বললো যে তোমার আম্মাকে বলে একটু জ্বাল দিয়ে নিয়ে আসো। তখন বন্ধুর আম্মা এই খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে আমাদের খেতে দিল। জ্বাল দেওয়া খেজুর রস আমি সেবার প্রথম খেয়েছিলাম। আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। গাছ থেকে ঠান্ডা খেজুর রস আমি অনেকবার খেয়েছি। তবে জ্বাল দিয়ে প্রথম খেলাম। যার কারণে অনেক বেশি ভালো লাগলো এবং বন্ধু তখন তার মাকে স্যারের বউ আর মেয়ের কথা বললো, যে আমাদের এভাবে অপমান করেছে। খেজুর রস খেতে দেয়নি তখন বন্ধুর মা বলল যে এইরকম মন মানসিকতার মানুষ কিভাবে হয়। তোমরা যেন আর কোনদিন ওই বাড়ির আশেপাশে না যাও।
তারপরে বন্ধুর বাড়ি থেকে আমরা এই খেজুর রস খেয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। তখন সিয়াম বলল বন্ধু একটা বুদ্ধি পেয়েছি, আমি তো খেজুর গাছে উঠতেই পারি। স্যারের বউ আমাদের অপমান করেছে। এই অপমানের প্রতিশোধ নেব। আমরা একদিন তার খেজুর গাছের সব খেজুরের রসের হাড়ি পারবো। আর না হয় রসগুলো নষ্ট করে দিয়ে আসবো। তার বউ আমাদের খেতে দেয়নি। উচিত শিক্ষা হবে। তখন আমার আর এক বন্ধু বলল এখনই যদি আমরা এই কাজ করি তাহলে আমাদের সন্দেহ করবে। দুই তিন দিন পরে আমরা এই কাজটি করব। তো আমরা সকল বন্ধুরা বললাম ঠিক আছে। একটা শিক্ষা তাদের দিতেই হবে। তো বন্ধুরা পরবর্তীতে আমরা কি করেছিলাম সেই অংশটুকু আগামী পর্বে আপনাদের সাথে শেয়ার করব ইনশাআল্লাহ।
আমার নাম মোঃআলিফ আহমেদ।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের একজন ছাত্র। আমি ছোট বেলা থেকেই আর্ট করতে পছন্দ করি।তাই অংকন করতে আমার খুব ভালো লাগে।তাই আমি সময় পেলেই বিভিন্ন চিত্র অংকন করি।বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমন করতে ও ফটোগ্রাফি করতে আমার খুবি ভালো লাগে।🌼💖🌼
🖤✨।
ধন্যবাদ সকলকে✨💖
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | রাইটিং ✨ |
| মডেল | এম-৩১ |
| ক্যাপচার | @alif111 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ -রাজশাহী- বাংলাদেশ। |
আমার পরিচয়
সবার প্রতি শুভেচ্ছা রইল এবং আমার পোস্টটি
সমর্থনকারী সকল বন্ধুদের বিশেষ ধন্যবাদ।🌹🌻
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://twitter.com/AhmedAlif135308/status/1869052251580616821?t=FktDwAcSfmszHHC3n6w7bw&s=19
শীতের সকালে খেজুরের রস খাওয়ার মজাই আলাদা। আমার মনে হয় সবার কাছেই এটা পছন্দনিয়।
আপনাদেরকে খেজুরের রস খেতে না দেয়ায় বিষয় টা ঠিক করে নাই। তবে এ জন্যে রস চুরি বা নষ্ট করার বিষয় টাও সাপোর্ট করছি না।
যাহোক। ভাল থাকুন।
পাকস্থলীতে ঘা/আলসার/ক্ষত (stomach ulcer) এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রান্তে ঘা/ক্ষত (duodenal ulcer) এর জন্যে ধুমপান (smoking) একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসাবে বিবেচিত হয়।
যাদের অলরেডি ঘা/ক্ষত আছে, তারা যদি ধুমপান চালিয়েই যায়, তাহলে সেই ঘা/ক্ষত/আলসার সঠিক ভাবে সারে না, বরং বিভিন্ন জটিলতা (complications) হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়!
ভালোলাগার একটা গল্প আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন আপনি। আসলে শীতের সময় আসলে পারে আমাদের দেশে অনেক জায়গায় খেজুরের রস পাওয়া যায়। একে ধরে রস খাওয়ার জন্য অনেকেই রাতে বন্ধুরা মিলে চুরি করে খাওয়ার চেষ্টা করে। তবে এ চুরি করে খাওয়ার মধ্যে কিন্তু বন্ধুদের আনন্দ থাকে। এই বিষয়টা আমাদের সময় বন্ধুদের মুখে শুনতাম।
আপনার এই পোস্ট দেখে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল ভাইয়া। ছোটবেলায় যে কতদিন বন্ধুদের সাথে এভাবে রাতের বেলায় খেজুরের রস চুরি করে খেয়েছি সেটা বলে বোঝাতে পারবো না। যেহেতু আমাদের এলাকাতে প্রচুর পরিমাণে খেজুরের গাছ রয়েছে তাই চুরি করে খাওয়াটা আমাদের জন্য অনেকটাই সহজ ব্যাপার।
ভাই আপনি আজকে আমাদের মাঝে বেশ দারুন একটি গল্প লিখে শেয়ার করেছেন। আসলে আমি যখন ম্যাচে থাকতাম আমার নানীদের গ্রামে তখন প্রায় শীতের সময় এ ধরনের কাজে অংশগ্রহণ করতাম। আপনাদের মধ্য থেকে সিয়াম নামের ছেলেটি খেজুরের গাছ থেকে রস পেড়েছিল জানতে পারলাম। আমিও প্রায় এভাবে অনেকদিন খেজুরের রস চুরি করে খেয়েছি বেশ দারুন অভিজ্ঞতা আছে আমার। ধন্যবাদ এত সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য।