বন্ধুদের সাথে হাজার গল্প রয়েছে।এই গল্পগুলো যেন স্মৃতি হয়ে এখন জমা হয়ে রয়েছে। তাহলে বন্ধুদের সাথে কাটানো সেই দিনগুলো অনেক আনন্দময় ছিল। সেই দিনগুলো আর কখনো ফিরে পাবোনা। তবে বন্ধুদের সাথে কাটানো সেই দিনের কথা ভাবতেই এখন অনেক বেশি ভালো লাগে। পুরোনো দিনগুলো কতই না আনন্দের ছিল। বন্ধু-বান্ধবের সাথে ঘোরাফেরা সেই মুহূর্তগুলো এখন খুবই মনে পড়ে। যদি ফিরে পেতাম সেই দিনগুলো কতগুলো আনন্দ হতো। তাই স্মৃতিময় একটি গল্প আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে আসলাম। আশা করছি এই গল্পটি পড়ে আপনাদের ভাল লাগবে।
আসলে হাই স্কুল জীবনের সেই স্মৃতিময় বন্ধুদের সাথে কাটানো দিনগুলোর মত আনন্দময় দিন আর কখনোই আসবে না। স্কুল জীবনের যে দিনগুলো পার করেছি এই দিনগুলোই এখন শ্রেষ্ঠ দিন মনে হয়। কলেজ জীবনের বন্ধুত্ব চাইতে স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব গুলো বেশি আপন এবং বন্ধনটা শক্তিশালী ছিল বলে আমি মনে করি। কারণ স্কুল জীবনের যে বন্ধুগুলো ছিল সেই বন্ধুদের সাথে এখনো দেখা হলে খুবি ভালো লাগে। এবং সেই বন্ধুদের সাথে কাটানো দিনগুলোর কথা বেশি মনে পড়ে। তাই তো স্মৃতিময় এই স্কুল জীবনের গল্প গুলো আমরা কখনোই ভুলতে পারি না।আমার জীবনে স্কুল জীবনের এই বন্ধুত্বের বন্ধন গুলো সত্যিকারের বন্ধন ছিলো।
স্কুল জীবনে আমাদের পাঁচজন বন্ধুর একটা টিম ছিলাম। এই পাঁচজন বন্ধু সবসময় একই জায়গায় থাকতাম। একই বেঞ্চে বসতাম। একই স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তাম। কেউ কাউকে ছেড়ে অন্য কিছু করতাম না। যার কারণে এই পাঁচজনের মধ্যে অন্যরকম একটা বন্ধনে থাকতাম আর এই বন্ধনের কারণে সকলেই আমাদের নিয়ে অনেক আলোচনা করতো। তবে আমরা কারো আলোচনাকে পাত্তা দিতাম না। আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে মিশে থাকতাম। আর এই পাঁচ বন্ধুর মধ্যে স্কুল জীবনের কখনোই আমাদের ঝগড়া মারামারি হয়নি। তবে স্কুল জীবন পার করে যখন কলেজে উঠলাম তখন দুই বন্ধু ঢাকায় চলে গেল। আর আমরা তিন বন্ধু মিলে সিরাজগঞ্জ শহরে পড়াশোনা শুরু করে দিলাম।
তো আমরা পাঁচ বন্ধু সবসময় একই জায়গায় থাকতাম। একই স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তাম। তাই রতন স্যারের কাছে আমরা গণিত পাইভেট পড়তাম। সেই স্যারের সাথে আমাদের ক্লাসের আরো অনেকেই পড়তো। তবে আমরা পাঁচ বন্ধু স্যারের সাথে বেশি সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলাম। আমাদের ছাড়া স্যার আর কিছু বুঝতোই না। কারণ স্যারের যে ব্যাস ছিল সেই ব্যাচের প্রধানই ছিলাম আমরা পাঁচজন। আমরাই টাকা উঠিয়ে স্যারকে দিতাম এবং স্যার আমাদের কাছ থেকে টাকা হাফ নিতো। স্যারকে আমরা বললাম স্যার আমরা একদিন পিকনিক করবো যমুনা নদীর বালুচরে। স্যার রাজি হয়ে গেল এবং টাকা তোলার দায়িত্ব আমাদেরই দিল। আমরা সকল আয়োজন করার জন্য প্রোগ্রামের সকল পরিকল্পনা করলাম।
একসাথে মিলেমিশে পাঁচ বন্ধু সবসময় থাকতাম। যার কারণে কোন কঠিন কাজই কঠিন মনে হতো না। কারণ আমরা খুব সহজেই সেই কাজগুলো করে নিতাম। তখন আমরা ক্লাস টেনে পড়াশোনা করি। আর টেনে আমরা ছিলাম সবার বড়। যার কারণে আমাদের উপরে অনেক দায়িত্ব থাকতো। তো স্যার যখন পিকনিকের আয়োজনের কথা বলল, তখন আমরা সকল কিছু প্রোগ্রাম ঠিকঠাক করলাম এবং আমরা টাকা উঠালাম। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম একদিন শুক্রবার অর্থাৎ ছুটির দিনে সকালবেলা আমরা এই আয়োজন তৈরি করব এবং আনন্দের সাথে সেই মুহূর্তগুলো কাঁটাব।
তো পিকনিকের আয়োজনে সকল কিছু আমরা করলাম এবং সকল রান্নাবান্না আমরা এই স্কুল মাঠে করলাম। আর এই রান্না গুলোই নিয়ে আমরা নৌকায় করে যমুনা নদীর চরে যাব। আমাদের স্কুলের সামনে নদী ছিল, এই নদীতে নৌকা চলাচল করতো। আমরা সকাল থেকে রান্নাবান্না করেছিলাম এবং সাড়ে দশটার দিকে আমাদের রান্না কমপ্লিট হয়ে গেল। আরো কিছু রান্না রয়েছে সেগুলো আমরা চরে গিয়েই করবো। যার কারণে রান্নার সকল জিনিসপতি নিয়ে আমরা ১৫ জনের মত একটি নৌকা ভাড়া করেছিলাম।তারপর সবাই মিলে নৌকায় করে চরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। তো বন্ধুরা পরবর্তী অংশ আগামী পর্বের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করবে ইনশাআল্লাহ।🖤✨।

ধন্যবাদ সকলকে✨💖

ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
| ধরণ | রাইটিং ✨ |
| মডেল | এম-৩১ |
| ক্যাপচার | @alif111 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ -রাজশাহী- বাংলাদেশ। |

আমার পরিচয়
আমার নাম মোঃআলিফ আহমেদ।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের একজন ছাত্র। আমি ছোট বেলা থেকেই আর্ট করতে পছন্দ করি।তাই অংকন করতে আমার খুব ভালো লাগে।তাই আমি সময় পেলেই বিভিন্ন চিত্র অংকন করি।বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমন করতে ও ফটোগ্রাফি করতে আমার খুবি ভালো লাগে।🌼💖🌼
https://twitter.com/AhmedAlif135308/status/1895914803979567121?t=-d_c-Zo0Aq9pxl_wNCWy4g&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
স্কুল জীবনের বন্ধুত্বের এই গল্প যেন এক মুহূর্তের জন্য পুরোনো দিনে ফিরিয়ে নিয়ে গেল। পাঁচ বন্ধুর সেই অবিচ্ছেদ্য বন্ধন, একসাথে হাসি-ঠাট্টা, পরিকল্পনা, আর সেই বিশেষ পিকনিকের আয়োজন সবকিছুতেই যেন এক নিখাদ আনন্দের ছবি ফুটে উঠেছে। সত্যিই, স্কুল জীবনের বন্ধুত্বের মতো নিঃস্বার্থ আর মজার সম্পর্ক আর কোথায় পাওয়া যায় ।গল্পের পরবর্তী অংশের অপেক্ষায় রইলাম, নিশ্চয়ই আরও দারুণ কিছু স্মৃতি ভাগ করে নেবেন।