ক্রিয়েটিভ রাইটিংঃ সোনালী শৈশব

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago

আজ - শনিবার

০১৪, অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নভেম্বর ৩০, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ

🌺 চলুন শুরু করি 🌺

হিন্দু ভাইদের নমস্কার এবং মুসলমান ভাইদের কে সালাম জানিয়ে আজকের নতুন আরেকটি ব্লগ শুরু করতে যাচ্ছি..! আশা করি সবাই শেষ পর্যন্ত পাশে থাকবেন

সবাইকে সুস্বাগতম জানিয়ে আজকে আমি আবার নতুন একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করার চেষ্টা করছি। আশা করি মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আপনারা সবাই সুস্থ আছেন এবং ভালো আছেন আলহামদুলিল্লাহ আমি অনেক ভালো আছি। আজকে আমি এই পোস্টের মাধ্যমে আমার সোনালী শৈশবের কিছু সুন্দর সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করব। আশা করি আপনারা শেষ পর্যন্ত পাশেই থাকবেন। এইতো গরম শেষ হয়ে শীতের মৌসুমে আমরা পা দিচ্ছি তাই আজকে ছোটবেলার সেই স্মৃতিগুলো মনের ভিতরে যেন আনচান করে উঠছিল। তাই ভাবলাম যে ছোটবেলার সেই স্মৃতিগুলো নিয়ে আপনাদের মাঝে একটা সুন্দর পোস্ট উপহার দেই। তাহলে হয়তো বা আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। ছোটবেলা থেকেই আমি গ্রামাঞ্চলে বেড়ে উঠেছি গ্রামের সুন্দর হাওয়া প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং মৌসুম এর পরিবর্তন সেইসাথে বৃষ্টির ফোঁটা সবকিছুই সবসময় আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মানুষের মুখ থেকে শুনি যে শহর অঞ্চলে গেলে নাকি জীবনের মান বাড়ে এবং অন্যরকম একটা ভালোলাগে কাজ করে।

kids-4303359_1280.jpg

source

কিন্তু সত্যি বলতে আমি শহর অঞ্চল ও গ্রাম অঞ্চলের সব রকমের স্বাদ গ্রহণ করেছি কিন্তু আমার মনটা যে সেই মাটির মেঠো পথের দিকে তাকিয়ে থাকে। এই বিষয়টা আমি অনেকবার লক্ষ্য করেছি। অর্থাৎ আমি আমার ওই সুন্দর গ্রাম থেকে যতটা ভালোবাসা পেয়েছি এটা আমার জীবনের কোন অংশেই ভোলার নয়। সব সময় যেন আমি সেই গ্রামেই পড়ে থাকি বিশেষ করে কোকিলের কুহ ডাক শীতে সকালে আম্মুর হাতে গরম গরম পিঠা এবং স্কুল কলেজ ছুটি দিলেই যেই মামার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া এই মুহূর্তগুলো আসলেই সোনালী সময় ছিল এখন আমার মনে হয় কারণ হয়তোবা সে ছোটবেলাতে আর ফিরে যেতে পারবো না কিন্তু ছোটবেলা সেই স্মৃতিগুলো মনের ভিতরে যখন আনচান করে উঠে তখন ওগুলো ভেবেই অনেক ভালো লাগা কাজ করে। আসলে ছেলেবেলাটা আমাদের এভাবেই কেটে গেল হয়তোবা আমরাই শেষ জেনারেশন ছিলাম যারা ঢং খেলা, গোল্লাছুট থেকে শুরু করে হাডুডু খেলা সবরকম খেলা উপভোগ করেছি কিন্তু বর্তমান যে জেনারেশন আসছে তারা ছোটবেলা থেকেই মোবাইল কম্পিউটার হাতে পেয়ে যাচ্ছে এবং সেই নেশাতেই আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে তাদেরকে আর হাজার বকেও বাইরে বের করা যায় না।

children-8082256_1280.webp

source

তারা সবসময়ই ঘরের ভিতরে থেকে এইসব মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের সময়টা একদমই আলাদা ছিল আমরা সবসময়ই ফুটবল ক্রিকেট ব্যাডমিন্টন এগুলো খেলতাম এবং যদি ভালো না লাগতো তাহলে সবাই মিলে ঢং খেলা খেলতাম বৃষ্টির দিনে ফুটবল খেলা খেলতাম এছাড়াও অনেক কিছু ছিল আমাদের সেই ছোটবেলার সোনালী দিনগুলোতে বিশেষ করে যখন গরমের কাল আসত তখন আমরা সবাই মিলে আম কুড়াতে যেতাম পাকা আতা এবং পাকা কাঁঠাল একসঙ্গে মিলে গাছ থেকে পেরে সবাই মিলে ভেঙ্গে খেতাম এমন অনেক সুন্দর সুন্দর স্মৃতি আমার জীবনের রয়েছে। আর বৃষ্টির দিন আসলে তো কোন কথাই নেই সবাই মিলে ছিপ নিয়ে মাছ ধরতে যেতাম। আমার মনে হচ্ছে আমাদের ওদিকে আবার কৈ মাছ অনেক বেশি পাওয়া যেত যদি কোন খাল বিল ডোবা থাকতো তাহলে খুব অল্পদিনের মধ্যেই সেখানে কৈ মাছ লক্ষ্য করা যেত। আর মাছ ধরতে তো আমার এমনিতেই অনেক বেশি ভালো লাগে কারণ অনেকক্ষণ ছিপ ধরে রাখার পরে যখন কোন একটা মাছ ছিপে এসে টান মারে তখন মনের ভিতরে যেন কেমন আনচান করে উঠে এবং যখন মাছগুলো শিকার করতে পারতাম তখন তো আর কোন কথাই নাই নিজেকে যেন ধন্য মনে হয়।

boy-8235025_1280.webp

source

তবে আমার মনে হয় মাছ ধরার সময় একটা কঠিন পরীক্ষা দেওয়া লাগে সেটা হচ্ছে ধৈর্যের পরীক্ষা। আর ছোটবেলা থেকেই আমার ধৈর্য খুবই কম তাই মাছ ধরতে গিয়ে আমি অনেক সময় অনেক কম মাছ ধরতে পারতাম এবং অন্যদিকে আমার যে বন্ধুগুলো ছিল তারা অনেক বেশি বেশি মাছ ছিপ দিয়ে ধরে আনতো কারণ আমার বেশি একটা ধৈর্য ছিল না যে অনেকক্ষণ যাবত বসে থেকে মাছগুলো ধরবো কিন্তু যাই হোক সব মিলিয়ে যখন বন্ধুরা মাছ ধরে বাড়িতে আসতাম তখন বেশ ভালোই লাগলো ব্যাপারটা। পরবর্তীতে যদি খুব বেশি পরিমাণে মাছ পেতাম তখন ওই মাছগুলো আমরা খুচরা দামে পাড়ার মানুষের কাছে বিক্রয় করে দিতাম এবং পরবর্তীতে ওগুলো দিয়ে আমরা হয়তোবা নতুন জামা কাপড় কিনতাম না হলে কোন খেলনা। তখন ২০ টাকা পেলেই যেন মহা খুশি হয়ে যেতাম আর এখন সে জায়গায় বিশ হাজার টাকা পেলেও ওই পরিমাণ খুশি আর হতে পারি না। কেন জানিনা মনে হয় যে আগের দিন গুলোই ভাল ছিল। যদি ফিরে যেতে পারতাম সেই সোনালী দিনগুলোতে তাহলে হয়তোবা আরো বেশি আনন্দিত হতাম। তবে যাই হোক সেই সময় গুলোর কথা ভেবেই আজকে আমার এই পোস্ট সমাপ্তি করছি। আপনাদের জীবনের সুন্দর কিছু মুহূর্ত থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানিয়ে যাবেন আশা করি।

ক্রোমব্লগার@emonv
ডিভাইসTecno camon 20

🔚 সমাপ্তি

Screenshot_20240511-225100.jpg

আমার নাম মোঃ ইউনুস আলী ইমন। বর্তমানে আমি সিরাজগঞ্জ মৎস ইনস্টিটিউট এর একজন ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করছি। এছাড়া পরিচয় দেওয়ার মতো এখনো কিছু করে উঠতে পারেনি তবে নিজের ব্যক্তিত্ব এবং ক্যারিয়ারের উপরে কাজ চলমান......। আমি নিজেকে ভেঙে চুড়ে নতুন করে আবিষ্কার করতে অনেক পছন্দ করি এবং আমি মানুষকে সাহায্য করতে অনেক ভালোবাসি। আমি প্রায়শই নিজেকে আবিস্কার করি। কেননা এটা আমার কথায় এবং লিখাতে নতুন স্বাদ যুক্ত করে, যার ফলে আমি নিজের সবথেকে ভালো টুকু আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে পারি। আমি প্রতিদিন একবার নিজের সাথে কথা বলি, কারণ এটা আমার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেয়। আমি ভ্রমণ করতে এবং ফটোগ্রাফি করতে অনেক পছন্দ করি। আমি প্রতিনিয়ত নতুন ,নতুন মানুষদের সাথে মিশে তাদের জীবনের অভিজ্ঞতার ভালোটুকু আমার জীবনে বাস্তবায়িত করতে পছন্দ করি। আপনাকে স্বাগতম আমার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হওয়ার জন্য। ভালোবাসা রইলো অবিরাম সবাইকে 💝।

3YjRMKgsieLsXiWgm2BURfogkWe5CerTXVyUc6H4gicdRPjVagCKakAuSTsQyj2bkd5a1qGy627tazWyRR8KvSGF5XUzUYGAJxbEm1Wagp...Lv2At2mGmrfEMg6f1U32Fbx5AMXoYvtwxPoGN64iEBA4Rv1YhRRuUftAwRmKthwLZXLSTwWxtFD7Sj1QyBBErTgPny6vsjAKSJvXy9ovR9TDNhx7vqPZQ8nKqg.png


VOTE @bangla.witness as witness

witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy


witness_proxy_vote.png

1000004142.png

Sort:  
 2 years ago 

সোনালী দিনের স্মৃতি গুলো এখনো অনেক মনে পড়ে। সত্যি অনেক দারুন ছিল সময়গুলো। শৈশবের প্রত্যেকটা দিন অনেক আনন্দে কেটেছে। খেলাধুলা থেকে শুরু করে সবকিছুই অনেক আনন্দের ছিল। ভালো লাগলো ভাইয়া আপনার এই পোস্ট পড়ে।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 2 years ago 

ছেলেবেলায় গ্রামের সোনালী স্মৃতি দারুন সুন্দর করে শেয়ার করলেন। সত্যি কথা বলতে শৈশবের স্মৃতি কখনো ভোলা যায় না। জীবনের প্রতিটি সময়ে সেই স্মৃতি হাতছানি দিতে থাকে। আর আপনার গ্রামের স্মৃতি ভীষণ মিষ্টি। তাই বর্তমান জীবনে দাঁড়িয়ে আপনি সেই দিনগুলোকে খুব মিস করেন বোঝা যাচ্ছে।

 2 years ago 

শৈশবের সেই দিনগুলো যত বয়স বাড়তে থাকে তত বেশি মনে পড়ে। প্রতিটি মানুষের কাছে শৈশবের স্মৃতিগুলো খুবই মধুর। যখন আমাদের বয়স বেড়ে যায় তখন সেই স্মৃতিগুলো প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়ে। আপনি এত সুন্দর স্মৃতি আমাদের সাথে শেয়ার করলেন ভালো লাগলো পড়ে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 2 years ago 

আপনার আজকের এই পোস্ট পড়ে আমার তো ছোটবেলার সেই মধুর দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গিয়েছে। কতই না সুন্দর ছিল আমাদের সেই শৈশবকাল। কিন্তু বর্তমানে ছোট ছোট বাচ্চারা সেই সব কিছুর থেকেই অনেক দূরে। কারণ এখন সবাই শুধু মোবাইলের প্রতি আসক্ত। আমাদের শৈশবের দিনগুলো অনেক আনন্দে কেটেছিল। ভালো লাগলো আপনার আজকের পোস্ট পড়তে।

 last year 

আসলে শৈশবের যে স্মৃতি রয়েছে সেটি আমরা যত বড় হই ততই আমাদের মনে পড়ে৷ আমরা যত বড় হতে থাকে এবং এই স্মৃতিগুলো আমাদের মনে পড়তে থাকে৷ তখন সেই স্মৃতিগুলোতে যেন আবারো হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে৷ আর সকলের স্মৃতিগুলো অনেক মধুর হয়ে থাকে৷ ধন্যবাদ আজকের সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য৷

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.33
JST 0.075
BTC 65675.87
ETH 1844.54
USDT 1.00
SBD 0.47