শান্তিনিকেতন ভ্রমণ ( পর্ব ৯ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Photo by @winkles
![]() |
|---|
Photo by @winkles
![]() |
|---|
Photo by @winkles
আজকে আপনাদের সাথে শান্তিনিকেতন ভ্রমণ এর আরো কিছু আলোকচিত্র শেয়ার করে নেবো। আমরা মোটামুটি ভিতরে বেশ কিছু ভাস্কর্য দেখতে দেখতে সামনে একটা নৃত্যানুষ্ঠানের দিকে চলে গিয়েছিলাম। যদিও এটা তাদের রোজকার একটা কাজ। শান্তিনিকেতনে এটা একটা ঐতিহ্য তাদের। এটা সাধারণত আদিবাসীরা করে থাকে। তাদের সাথে আবার অনেকেই তাল দিয়ে নৃত্য করে থাকে। এটা একটা আলাদা আনন্দ বা অনুভূতির বিষয়। তবে তারা যে কলস বা ঘটি মাথায় নিয়ে নৃত্য করে, এটা সহজ না। তবে তাদের এটা অভ্যাস বা এতটাই রপ্ত হয়েছে যে, তাদের কাছে ইজি অনেক। এরপরে আমরা হাঁটতে হাঁটতে পুকুরের এক পাশে চলে গিয়েছিলাম। সেখানে একজন দেখি আবার মুখোশের মাধ্যমে একটা ভয়ংকর রাক্ষসী রূপে সেজে দাঁড়িয়ে আছে।
![]() |
|---|
Photo by @winkles
![]() |
|---|
Photo by @winkles
এটা আসলেই কিন্তু সামনের থেকে সরাসরি দেখতে একটু অদ্ভুত ধরণের। বাচ্চারা দেখলে তো অবশ্যই ভয় পাবে। এছাড়া আরো ওখানে বিভিন্ন ধরণের ঐতিহ্যগত বিষয় রাখা ছিল। এখানে আরো একটা ঐতিহ্যগত বিষয় আছে, যেমন অশোক বাটিকা। এর প্রবেশ পথটা খড়ের একটা ছাউনির মাধ্যমে তুলে ধরেছে। এই অশোক বাটিকার কথা মনে হলে সেই প্রাচীন পৌরাণিক রাবনের কাহিনী মনে পড়ে, যেখানে এই অশোক বাটিকার নিচে সীতাকে হরণ করে বন্দি করে রেখেছিলো। এছাড়া এখানে আরো কিছু বিষয় লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যে, খড়ের বিভিন্ন ছাউনির মধ্যে ঘোড়া বা অন্যান্য কিছু প্রাণীর আদলে বিষয়টাকে কিছুটা পুতুল আকারে তুলে ধরেছে।
![]() |
|---|
Photo by @winkles
![]() |
|---|
Photo by @winkles
![]() |
|---|
Photo by @winkles
কাপড় পড়িয়ে বিষয়টাকে বেশ সুন্দর করে তুলেছে। এরপরে একটা টিনের ছাউনিতে দেখতে পাবেন যে, কিছু নারী মূর্তির মতো সাজিয়ে রেখেছে। এটা শান্তিনিকেতন এর লোকজ সংস্কৃতির একটা ঐতিহ্যগত বিষয়। এখানে যেটা দেখানো হয়েছে, সেটা মূলত ভাদু নামের এক ধরণের উৎসব। এই উৎসবটি মূলত বীরভূম, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ এইসব অঞ্চলের একটি সাংস্কৃতিক ও গানের উৎসব। আর এই উৎসব সাধারণত ভাদ্র মাসের দিকে পালিত হয় আর এতে ভাদু দেবীকে স্মরণ করে গান ও উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই অনুষ্ঠানে এই ভাদু দেবীকে কেন্দ্র করেই গোটা মাস বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেতে ওঠে। এরপরে আরো একটা উৎসবের বিষয় দেখতে পাবেন, যেটাকে টুসু নামে সম্বোধন করা হয়ে থাকে।
![]() |
|---|
Photo by @winkles
![]() |
|---|
Photo by @winkles
![]() |
|---|
Photo by @winkles
এটি বাংলার একটা নামকরা ঐতিহ্যগত অনুষ্ঠান। এটি বিশেষ করে পুরুলিয়া, বীরভূম এবং মেদিনীপুরের দিকে খুবই বিখ্যাত। এটি সাধারণত ওখানকার কৃষিভিত্তিক একটা মেয়েদের লোকউৎসব। এই উৎসবটি পৌষ মাসের শেষ ভাগের দিকে বা মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে করা হয়ে থাকে। এই টুসু বিষয়টা হলো, মেয়েরা ছোট ছোট টুসু প্রতিমা তৈরি করে এবং তারা বিভিন্ন গ্রামীণ গানের মাধ্যমে এই টুসু প্রতিমার বন্দনা করে থাকে। আমাদের সংস্কৃতিতে যেমন বিভিন্ন প্রতিমা পুজোর শেষে বিসর্জন দেওয়া হয়, সেইরকম এই টুসু প্রতিমাও উৎসবের শেষের দিকে নদীতে বা পুকুরেই বিসর্জনের সংস্কার পালন করা হয়ে থাকে। তাছাড়া এটাকে সেখানে নারী শক্তির প্রতীকও বলা হয়ে থাকে।
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |













Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.