বৃষ্টির দিনগুলো ( পর্ব ৫ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "বৃষ্টির দিনগুলো" গল্পের পঞ্চম পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো এরপরে প্রথম দিকে তারা শুধু গল্প করত। এখন তারা একে অপরের জীবনের অংশ হয়ে উঠছিল। কোনো ভালো খবর হলে প্রথমে তাকে জানাতে ইচ্ছে করত। কোনো খারাপ লাগা হলে তার সঙ্গেই ভাগ করে নিতে মন চাইত। একদিন সকালে কলেজে যাওয়ার আগে হঠাৎ তার জ্বর এলো। শরীর খুব একটা ভালো লাগছিল না, কিন্তু সে কাউকে কিছু বলেনি, এমনকি মেঘলাকেও না। সারাদিন ফোন ধরেনি। বিকেলের দিকে হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো। মা দরজা খুলতেই বাইরে থেকে একটি মেয়ের কণ্ঠস্বর শোনা গেল। বললো-কাকিমা, ও কেমন আছে? আমি অবাক হয়ে ঘর থেকে বের হলাম।
বেরিয়ে দেখি, দরজার সামনে মেঘলা দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে ফল আর কিছু ওষুধ দেখলাম, আর এগুলো দেখে সে পুরো হতভম্ব। এরপর সে জিজ্ঞাসা করলো- তুমি এখানে? বলতেই মেঘলা বলে উঠলো- কেন? আসতে নেই? কিন্তু তুমি জানলে কীভাবে? সারাদিন ফোন বন্ধ, মেসেজের উত্তর নেই, তাই চিন্তা হচ্ছিল। সে আর তাকে কিছু বলতে পারল না। কেউ একজন তার জন্য এতটা চিন্তা করছে- এই অনুভূতিটা তার কাছে নতুন ছিল। মেঘলা ঘরে ঢুকে বসল। তারপর একটু রাগী গলায় বলল- অসুস্থ হলে জানাতে হয়। এত চিন্তার কী আছে? আছে। এরপর সে জিজ্ঞাসা করলো- কেন? সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে বলল- কারণ কিছু মানুষকে হারানোর ভয় থাকে।কথাটা শুনে বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেমন যেন হয়ে গেল। সে তার চোখের দিকে তাকাল।
সেখানে এমন এক আন্তরিকতা ছিল, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সেদিন মেঘলা আবার বেশিক্ষণ থাকেনি। কিন্তু চলে যাওয়ার পরও তার কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল। অর্থাৎ- “কিছু মানুষকে হারানোর ভয় থাকে।” সে জানত না, সেই মানুষগুলোর তালিকায় সে কতটা জায়গা পেয়েছে। তবে এটুকু বুঝতে পারছিল, মেঘলা তার জীবনে এমন একটা জায়গা দখল করে ফেলেছে, যেটা অন্য কারও জন্য কখনও খালি ছিল না। বর্ষা তখন পুরোপুরি নেমে এসেছে, প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হতে লাগে। কখনও ঝিরঝির, কখনও মুষলধারে।একদিন বিকেলে তারা শহরের নদীর পাড়ে গিয়েছিল। সেখানে বসে বৃষ্টি দেখা তাদের দুজনেরই খুব পছন্দ ছিল। আকাশ সেদিন ঘন মেঘে ঢাকা ছিল। নদীর জল কালচে হয়ে উঠেছিল।
বাতাসে কাঁচা মাটির গন্ধ। তারা সেখানে পাশাপাশি বসেছিল। অনেকক্ষণ কেউ কোনো কথা বলছিল না। মাঝে মাঝে নীরবতাও অনেক কিছু বলে। হঠাৎ মেঘলা বলল- তুমি কি কখনও কাউকে ভালোবেসেছ? প্রশ্নটা শুনে সে একটু চমকে গেল। এরপর বললো- না। মেঘলা বললো- একদম না? সেটা কেন? সে হেসে বলল- সুযোগ হয়নি। মেঘলা মাথা নাড়ল আর বললো- মিথ্যা। কিন্তু কীভাবে বুঝলে? সে বললো তোমার চোখ দেখে। আমার চোখে কী লেখা আছে? সে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল- তোমার চোখে অনেক গল্প লুকিয়ে আছে। শুধু তুমি কাউকে পড়তে দাও না। সে কোনো উত্তর দিল না। কারণ মেঘলার কথাটা পুরোপুরি ভুল ছিল না। জীবনে অনেক কিছুই নিজের মধ্যে আটকে রাখার অভ্যাস ছিল তার। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই অভ্যাস ভাঙছিল।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


